লাইফস্টাইল

শীতে শুষ্ক ত্বকের যত্নে ৩ তেল

By daily satkhira

October 23, 2018

অনলাইন ডেস্ক: যদি আপনার ত্বক কি প্রকৃতিগতভাবেই শুষ্ক হয়, তা হলে কিন্তু আগামী কয়েকটা মাস আপনাকে একটু বাড়তি সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে, না হলে ত্বকের শুষ্কতা খুব ভোগাবে৷ মনে রাখবেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শীতের সময় আপনার ত্বক ক্রমশ আর্দ্রতা হারাবে, তাই বিশেষ যত্নআত্তি না পেলেই দেখা দেবে বলিরেখা৷ বয়সের আগেই ত্বকে ভাঁজ পড়বে, তা কুঁচকে যেতেও পারে৷ আশার কথা হচ্ছে, সামান্য একটু সচেতন হলেই কিন্তু এই সমস্যার হাত থেকে নিজেকে বাঁচানো সম্ভব৷ আপনার ঘরে থাকা তিন ধরনের তেল দিয়েই আপনি নিতে পারবেন আপনার ত্বকের যত্ন।

অলিভ অয়েল: অলিভ অয়েল সাধারণত সব ধরনের ত্বকের পক্ষেই খুব কার্যকর৷ এর মধ্যে উপস্থিত ফ্যাটি অ্যাসিড ও অ্যান্টিঅক্সিডান্ট শুধু আপনার মুখ নয়, পুরো শরীরের ত্বকের যত্ন নেয়৷ স্নানের আধ ঘণ্টা আগে মুখে ও পুরো শরীরে অলিভ অয়েল মেখে নিন৷ তার পর হালকা গরমপানিতে স্নান সেরে লাগিয়ে নিন ময়েশ্চরাইজ়ার৷ অলিভ অয়েল, ব্রাউন সুগার, আর মধু এমন অনুপাতে মিশিয়ে নিন যেন ঘন ক্রিমের মতো একটি উপাদান তৈরি হয়, তারপর হালকা হাতে সর্বাঙ্গে মেখে নিন এই মিশ্রণটি৷ অল্প চাপ দিয়ে গোল গোল করে মালিশ করুন, এতে আপনার শরীরের সমস্ত মৃত কোষ উঠে যাবে৷ তার পর স্নান করে হালকা ময়েশ্চরাইজ়ার লাগিয়ে নিন৷

নারকেল তেল: মুখ ও শরীরের ত্বকের পাশাপাশি গোড়ালি, হাঁটু, কনুইয়েরও বিশেষ খেয়াল রাখা প্রয়োজন, বিশেষ করে শীতকালে৷ না হলে এগুলি রুক্ষ ও কালো হয়ে যায়৷ প্রথমে এই অংশের ত্বক ভিজিয়ে রাখুন জলে৷ ত্বক যখন কুঁচকে যাবে, তখন বুঝবেন যা যথেষ্ট আর্দ্রতা পেয়েছে৷ নারকেল তেল সাধারণত শীতকালে জমে যায়৷ জমা তেলের মোটা পরত লাগিয়ে নিন আর্দ্র ত্বকে৷ তার পর মোজা বা লম্বা হাতা টপ বা পাজামা পরে ঘুমোতে যান৷ টানা বেশ কয়েকদিন করলে নিজেই ফারাকটা বুঝতে পারবেন৷

আমন্ড তেল: আমন্ড তেলে প্রচুর ভিটামিন ই থাকে এবং তা আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায় ও ত্বককে করে তোলে মসৃণ৷ ত্বক খুব সহজেই এই তেল শুষে নেয়, কিন্তু চটচটানি অনুভূত হয় না৷ অ্যালো ভেরা জেলের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা আমন্ড তেল আর মধু মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন৷ মুখে লাগিয়ে 15-20 মিনিট অপেক্ষা করে সামান্য গরম পানিতে ধুয়ে ফেলুন৷

যা করবেন না: অতিরিক্ত গরম পানিতে বেশিক্ষণ ধরে গোসল করবেন না, তাতে ত্বকের আর্দ্রতা ক্রমশ হারাতে থাকে৷ গোসলের আগে অয়েল মাসাজ করলেও গোসলের পর অতি অবশ্যই ময়েশ্চরাইজ়ার ব্যবহার করুন৷ তা না হলে শুষ্ক ত্বকের সমস্যা কোনো দিন কমবে না৷ ত্বক অল্প ভিজে থাকা অবস্থাতেই ময়েশ্চরাইজ়ার লাগিয়ে নিন৷

খুব কড়া সাবান আপনার ত্বকের শুষ্কতা কেড়ে নেবে৷ হালকা কোনো সাবান বা সোপ ফ্রি ক্লেনজ়ার ব্যবহার করুন৷ বেসন, মুসুর ডাল বাটা, চালের গুঁড়ো ইত্যাদি দিয়ে ত্বক খুব ভালোভাবে পরিষ্কার করা যায়৷ ক্লেনজ়ার বা স্ক্রাবার ব্যবহারের ক্ষেত্রেও এই সতর্কতা মেনে চলা উচিত৷

অ্যালকোহলযুক্ত টোনার বা যেকোনো স্কিনকেয়ার প্রডাক্ট এড়িয়ে চলুন৷ এগুলো ব্যবহারে ত্বকের আর্দ্রতার ভাঁড়ারে টান পড়ে৷ মিনারেল অয়েল, কৃত্রিম রং বা সুগন্ধিযুক্ত প্রডাক্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন৷

অহেতুক রোদ লাগাবেন না ত্বকে, বিশেষ করে সকাল ন’টার পর৷ সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন৷ ছাতা, টুপি, সানগ্লাসও রোদের হাত থেকে আপনাকে বাঁচাবে৷ লিপ বাম কেনার সময়েও এমন কিছু বাছুন যার মধ্যে এসপিএফ আছে৷

পরিবর্তন আনুন খাদ্যতালিকায়৷ ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন সি, আর ম্যাগনেশিয়াম যেন থাকে খাদ্যতালিকায়৷ তা না হলেই মুষড়ে পড়বে আপনার ত্বক৷ মাছ, আখরোট, ফ্ল্যাক্সসিড বা তিসি, ফল, শাকসবজি রাখুন রোজের খাদ্যতালিকায়৷ খুব তেলমশলাদার বা ভাজাভুজিজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন৷