জাতীয়

আজ থেকে নির্বাচনী ক্ষণ গণনা শুরু

By daily satkhira

October 31, 2018

দেশের খবর: আজ বুধবার থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ক্ষণ গণনা শুরু হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী আগামী বছরের ২৮ জানুয়ারির মধ্যে জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। কেননা বর্তমান দশম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসেছিল ২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি। সংবিধান অনুযায়ী সংসদের মেয়াদ শেষের ৯০ দিন পূর্বে এই ক্ষণ গণনা শুরু হবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১লা নভেম্বর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মধ্যকার সংলাপের দিকে নজর রাখছে ইসি। এদিকে, সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) মন্ত্রিপরিষদে অনুমোদিত হওয়ায় বিধিমালায় বিভিন্ন ধারা-উপধারা সংযোজন ও নির্বাচন প্রস্তুতি নিয়ে ৩রা নভেম্বর তফসিলের আগে সবশেষ বৈঠকে বসছে ইসি।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, সংবিধান অনুযায়ী ৩১ অক্টোবর থেকে ক্ষণ গণনা শুরু হচ্ছে। কমিশনও প্রস্তুতি অনেকটা গুছিয়ে এনেছে। আগামী ৩ নভেম্বর কমিশন সভা আহ্বান করা হয়েছে। সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদে সংশোধিত আরপিও অনুমোদন পেয়েছে। শিগগিরি আইন আকারে পেয়ে যাবো। এ কারণে ওই সভায় বিভিন্ন বিধিমালায় কোন কোন ধারায় পরিবর্তন আনা হতে পারে তা নিয়ে আলোচনা হবে। রাজনৈতিক সমঝোতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিবেন জানিয়ে রফিকুল ইসলাম আরো বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপে রাজনৈতিক সমঝোতা হলে ভালো। যদি সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে কোন রাজনৈতিক সমঝোতা হয় তাহলে সংবিধান ও আইনের মধ্যে থেকে সর্বোচ্চ সমন্বয় করা হবে।

আজ থেকে নির্বাচনী ক্ষণ গণনা শুরু হলেও নির্বাচন কমিশনের কর্তৃত্ব স্থাপিত হবে তফসিল ঘোষণার পর থেকে ফলাফলের গেজেট প্রকাশ পর্যন্ত। সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা-২০০৮ অনুযায়ী নির্বাচনের পূর্ব সময় বলতে বোঝানো হয়েছে, জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন কিংবা কোন শূন্য আসনে নির্বাচনের ক্ষেত্রে কমিশন কর্তৃক নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর দিন থেকে নির্বাচনের ফলাফল সরকারি গেজেটে তারিখ পর্যন্ত সময়কাল। নির্বাচন আয়োজনকারী সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশনও (ইসি) তফসিল ঘোষণার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে। আগামী সপ্তাহের যে কোনদিন তফসিল ঘোষণা করতে পারে ইসি। ভোট হতে পারে ১৮ থেকে ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে।

৩রা নভেম্বর কমিশন সভা আগামী ৩রা নভেম্বর বিকাল ৩টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে তফসিল ঘোষণার আগে শেষ কমিশন সভা আহ্বান করা হয়েছে। এই সভায় দু’টি বিষয় এজেন্ডাভুক্ত করা হয়েছে। প্রথমত-সংশোধিত আরপিও ও বিধিমালা পর্যালোচনা ও সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি। মন্ত্রিপরিষদ সংশোধিত আরপিওর তিনটি সংশোধনী অনুমোদন দেয়। এর মধ্যে জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার, অনলাইনে মনোনয়ন দাখিল এবং ঋণখেলাপির শর্ত শিথিলের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিধিমালায় এই বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

প্রাক প্রস্তুতি প্রায় শেষ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে প্রাক-প্রস্তুতির প্রায় সবই সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। তিনি বলেন, এরই মধ্যে ভোটার তালিকা প্রস্তুত, তিনশ আসনের সীমানা নির্ধারণ, ৪০ হাজার ১৯৯টি ভোটকেন্দ্র এবং ২ লাখের বেশি ভোট কক্ষের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করবেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৭শ কোটি টাকা। খাতভিত্তিক ব্যয়ের জন্য নির্বাচন কমিশন অনুমোদন দিয়েছে।

আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক আজ আজ বুধবার আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক ডেকেছে কমিশন। প্রস্তুতিমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ বিষয়ক এ সভায় জাতীয় নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিকল্পনা গ্রহণসহ ১১টি এজেন্ডা নিয়ে আলোচনার কথা রয়েছে। ইসি সচিবের সভাপতিত্বে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক ও জনপ্রশাসন, শিক্ষাসহ ২৩ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

ভোটে থাকবে ইভিএম ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) সংযুক্ত করে সংশোধিত আরপিও গত সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ অনুমোদন করেছে। এর ফলে আগামী নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। কমিশনও ইভিএম ব্যবহারের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। নির্বাচন কমিশনার মোঃ রফিকুল ইসলামের মতে, ১০ শতাংশ আসনে ইভিএম ব্যবহার করার মতো আপাতত সক্ষমতা আছে ইসির।

জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার অংশ হিসাবে আগামীকাল বিকাল ৪টায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে পাঁচ সদস্যর কমিশন। ইসির সর্বশেষ প্রকাশিত ভোটার তালিকা অনুযায়ী মোট ভোটার ১০ কোটি ৪১ লাখ ৯০ হাজার ৪৮০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৫ কোটি ২৫ লাখ ৪৭ হাজার ৩২৯ জন ও নারী ৫ কোটি ১৬ লাখ ৪৩ হাজার ১৫১ জন। তবে তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত যারা ভোটার হবেন তারাও ভোট দিতে পারবেন।