সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরার বিল থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে শাপলা-শালুক

By daily satkhira

August 31, 2016

জি.এম আবুল হোসাইন: বিলের অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রধান কয়েকটি জলজ উদ্ভিদের মধ্যে একটি হল শাপলা-শালুক। সদর উপজেলার গড়িয়াডাঙ্গা, দাতভাঙ্গা, কয়ারবিল, বেলেঘাটা, নলকুড়া, খলসিচোখা, কুমোরঘাটা, ঘরভাঙা বিল সহ ছোট বড় অসংখ্য বিলের বুকজুড়ে শাপলা ফুলের দৃষ্টিনন্দন সৌন্দর্য ছিল চোখে পড়ার মতো। জলের উপরে ফুটে থাকা শাপলা ফুলের দৃষ্টিকাড়া সৌন্দর্য সত্যিই যেকোনো মানুষকে মুগ্ধ করে তুলতো। শাপলা আমাদের জাতীয় ফুল। সাদামাটা সবার পিুয় এফুল শুধু বিলেই নয়, যেকোনো ডোবা-নালায় জন্ম নিয়ে সবার দৃষ্টি আকৃষ্ট করে। কিন্তু প্রকৃতির বিরূপ প্রভাবে শাপলা ফুলের সেই সমারোহ আর নেই। দিনে দিনে শাপলা-শালুক যেন একেবারেই বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। অথচ আজ থেকে ১৫-২০ বছর আগেও প্রায় সকল বিলের বুকজুড়ে শাপলা ফুলের দৃষ্টিনন্দন সৌন্দর্য ছিল চোখে পড়ার মতো। সে সময় শরৎকালে বিলের প্রকৃতি অন্য রকম সাজে সেজে উঠত। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখা যেত চারদিকে ফুটন্ত সাদা শাপলা ফুলের সমারোহ। মনে হতো এ যেন শাপলা ফুলের জগৎ। শাপলা ফুল শুধু পরিবেশ ও প্রকৃতির সৌন্দর্যই বৃদ্ধি করে তা নয়; এর রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ। এছাড়া এফুলের গাছ, গোড়া ও মাথা কিছুই ফেলে দেওয়ার মতো নয়। শাপলার নরম ডাঁটা, মাথা ও গোড়ায় জন্ম নেওয়া ড্যাপ এবং শালুক সবই মুখরোচক ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য উপাদান। শাপলার ডাঁটা পানির গভীরতায় পাঁচ থেকে প্রায় ২০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। নরম কচি আর মচমচে ডাঁটা মুখরোচক সবজি হিসেবে খাওয়ার মজাই আলাদা। এছাড়া মাছ-মাংস রান্নার উৎকৃষ্ট তরকারি হিসেবে এর ডাঁটা বেশ জনপ্রিয়। শালুক আগুনে পুড়িয়ে কিংবা সেদ্ধ করে খাওয়া হয়। আগের দিনে শরতের শেষে পানি কমে যাওয়ার সাথে সাথে বিলজুড়ে শালুক তোলার ধুম পড়ে যেত। শালুক পোড়া গন্ধ এখনো প্রবীণদের শৈশবের কথা মনে করিয়ে দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু ব্যাপক পরিবর্তনে আগের মতো সঠিক সময়ে বৃষ্টিপাত হচ্ছে না। এছাড়া আবাদি জমিতে অপরিমিত কীটনাশক ও রাসায়নিক সার প্রয়োগে অনেক শাপলা বীজ বা মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা মা-শালুক বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে নতুন করে শাপলার গাছ জন্ম হচ্ছে না। এখন শরৎকাল শেষ হলেও দেশের কোথাও সেই আগের মতো শাপলা-শালুকের দেখা নেই। এজলজ উদ্ভিদ আজ বিলুপ্তির পথে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে আগামী কয়ক বছরে শাপলার অস্তিত কতটুকু টিকে থাকবে সেটাই এখন চিন্তার বিষয়। এবিষয়ে একজন সচেতন পরিবেশ কর্মি হিসেবে মো. আলী হায়দার বলেন, শাপলা-শালুক সহ বিভিন্ন বিলুপ্তপ্রায় এসব জলজ উদ্ভিদ রক্ষার্থে পরিবেশবান্ধব সংগঠন, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ এবং তা যথাযথ বাস্তবায়ন জরুরি।