জাতীয়

‘৩০০ আস‌নে প্রার্থী দি‌তে না পারা লজ্জার’

By daily satkhira

November 22, 2018

দেশের খবর: জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ গত কয়েক মাসে একাধিকবার বলেছেন, তার দল একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেবে। দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কিন্তু জোটগতভাবে ভোটে আসলে জাপার সামনে সেই সুযোগ নেই। এমতাবস্থায় দলটির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা মনে করছেন, ৩০০ আসনে প্রার্থী দেয়ার প্রচারণা চালিয়ে এখন না দি‌তে পার‌লে সেটা জাতীয় পার্টি জন্য লজ্জার কারণ হবে। তারা ম‌নে কর‌ছেন, বর্তমানে জোটের রাজনীতিতে ৪০ আসনেও লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে লড়াই করার সুযোগ নেই জাপার। মনোনয়ন প্রত্যাশীরা বলছেন, পার্টির চেয়ারম্যানের এটাই শেষ নির্বাচন। সে লক্ষ্যে তৃণমূলকে ওইভাবেই প্রস্তুত করা হয়েছে। কিন্তু জোটগতভাবে আসন বিন্যাসের কারণে তৃণমূলকে লজ্জার সম্মুখীন হতে হবে। এমন পরিস্থিতি তৃণমূল নেতারাও স্বাভাবিকভাবে ‌কি মেনে নেবেন?

পিরোজপুর-৩ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী রুস্তুম আলী ফরাজী। তিনি ওই আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য। ২০১৪ সালের নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াই করে জয়লাভ করেছেন। তিনি বলেন, ‘তৃণমূলের আবেগকে বেশি জাগ্রত করা হয়েছিলো কেন্দ্রের নির্দেশে। কারণ পার্টির চেয়ারম্যানের শেষ নির্বাচনে তাঁকে সম্মানের স্থানে রাখতে হবে।’ ‌রুস্তুম আলী আরও ব‌লেন, ‘কেন্দ্রের দীর্ঘদিনের নির্দেশের ঠিক উল্টো পরিস্থিতি মোকাবিলা কঠিন। স্থানীয় রাজনীতিতে নানা কটূ কথার সম্মুখীন হতে হবে। তবে জোটের রাজনীতিতে এটা মেনে নিতে হবে।’

শরীয়তপুর-৩, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫, দিনাজপুর-১, দিনাজপুর-২, দিনাজপুর-৫, বাগেরহাট-১, ঢাকা-১, পিরোজপুর-৩। এসব আসনগুলোতে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে লড়াই করার সকল প্রস্তুতি নিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা এখন বলছেন, জাতীয় পার্টির একক নির্বাচন করা উচিৎ।

শরীয়তপুর-৩ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী মো. আবদুল হান্নান বলেন, ‘৩০০ আসনে প্রার্থী দেয়ার কথা বলে সেখান থেকে সরে দাঁড়ানো পার্টির জন্য লজ্জার।’ কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘জাতীয় পার্টি ৯ বছর দেশ পরিচালনা করেছে। সেই দল দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করে পূর্বের থেকে ভালো অবস্থানে রয়েছে। এই অবস্থান ধরে রাখার জন্য ৩০০ আসনে প্রার্থী দেয়া উচিৎ।’

একই কথা বলছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী মো মামুন। তিনি বলেন, ‘দেশে জাপার অবস্থান কতোখানি শক্তিশালী তা বোঝার সুযোগ চলছে। এই মুহূর্তে জাপার শক্তি প্রদর্শন না হলে চাঙ্গা হওয়া তৃণমূল হারিয়ে যাবে।’ তিনি বলেন, ‘৩০০ আসনে প্রার্থী দেয়ার ঘোষণার ফলে অনেক ব্যবসায়ী আমাদের কাছে এসেছে। এখন যদি নতুন সিদ্ধান্ত নেয়া হয় তাহলে সব হারাতে হবে। যা আমাদের জন্য সত্যিই লজ্জার।’ তিনি জানান, এই আসনে ৪ বার লাঙ্গল জয়লাভ করেছে। ১৯৮৬, ৮৮, ৯১ ও সবশেষ ২০০১ সালের নির্বাচনে লাঙ্গলের জয় কেউ আটকাতে পারে নাই।

প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে চাওয়া এই প্রার্থী বলেন, ‘জাতীয় পার্টির জন্য দেশে এমন অনেক আসন আছে, যেখানে লাঙ্গল প্রতীক দিলে প্রার্থী জয়লাভ করবেই। কিন্তু সুযোগ দেয়া হচ্ছে না।’ দিনাজপুর-১, দিনাজপুর-২, দিনাজপুর-৫, বাগেরহাট-১ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা ৩০০ আসনে লড়াই করার পরামর্শ দিয়েছেন। তারা বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলকে উজ্জীবিত করা হয়েছে ৩০০ আসনের কথা বলে। একই সাথে পার্টির চেয়ারম্যানের শেষ নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রার্থী না দিলে পার্টির অবস্থান বোঝা যাবে না।

দিনাজপুর-৫ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী সোলেয়মান সামী। তিনি ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করেছিলান। সামী বলেন, ‘দলের অবস্থান স্পষ্ট হওয়া উচিৎ। সারা বছর এক কথা নির্বাচনের পূর্বে আরেক কথা পার্টির জন্য ভালো ফল বহন করবে না। এতো দিন তৃণমূলে ৩০০ আসনের কথা বলে এসেছি। এখন যদি জানাই ৫০ আসনেও লাঙ্গল প্রতীক পাবে না- এটা সবার জন্য লজ্জার।’

দিনাজপুর-১ আসন থেকে লাঙ্গলের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন মো. মাহাবুব আলম। ওই আসন থেকে তিনি একক প্রার্থী। দিনাজপুর-২ আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী অ্যাডভোকেট মো. জুলফিকার হোসেন। এই আসনেও তিনি জাপার একক প্রার্থী।

বাগেরহাট-১ আসন থেকে জাতীয় পার্টির অনেক প্রার্থী মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন। জাপার অঙ্গসংগঠন ওলামা পার্টির সাধারণ সম্পাদক এস এম আল জুবায়ের জানান, ওই আসনে জাপার হয়ে লড়াই করার সকল প্রস্তুতি তার রয়েছে।

তবে তিনি মনে করেন, মহাজোটের কারণে ৩০০ আসনে প্রার্থী দিতে না পারা লজ্জার নয়। তার কারণ হিসেবে বলছেন, জোটের রাজনীতিতে সকল আসনে নেতাকর্মীরা কোন না কোন দলের প্রার্থী পাবেন। তাই নির্বাচনী মাঠে থাকা নিয়ে কোনও চিন্তা থাকবে না।

একই কথা বলছেন ঢাকা-১ আসনে জাপার মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়া সালমা ইসলাম। তিনি বলেছেন, জোটের রাজনীতির কারণে অনেক পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয় পার্টিকে। এর জন্য লজ্জা পাবার কিছু নেই। তিনি বলেন, ‘তবে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেয়ার কথা বলার পরেও যদি জাতীয় সংসদে জোটের মাধ্যমে অনেক এমপি নিয়ে প্রবেশ করতে না পারা যায়, সেক্ষেত্রে সেটা হবে লজ্জার।’

এদিকে গত ২০ নভেম্বর জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেন পার্টির চেয়ারম্যান হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ। ওই সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে এরশাদের বক্তব্যের সময় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা একটু পর পর ৩০০ আসনে প্রার্থী দেয়ার স্লোগান দেন। এরশাদের ১০ মিনিটের বক্তব্যের মধ্যে ৬ মিনিটের অধিক সময় ৩০০ আসনে প্রার্থী দেয়ার দাবি জানান মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। এরশাদের পরে পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদের বক্তব্যের সময় একই দাবি জানানো হয়। সেইসঙ্গে তৃণমূলের কাছে উত্তর কী দেবে তারও জবাব জানতে চাওয়া হয়।