জাতীয়

উন্নয়নের স্বার্থে আ’লীগের আবার ক্ষমতায় যাওয়া প্রয়োজন: শেখ হাসিনা

By Daily Satkhira

December 17, 2018

দেশের খবর: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে আবারও ক্ষমতায় আনার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা যাতে কেউ থামিয়ে দিতে না পারে- সে জন্যই আরও পাঁচ বছর আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় থাকা প্রয়োজন। তিনি বলেন, দেশে যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড শুরু করেছি তা শেষ করতে চাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসনে নেমেছে। ঐক্যফ্রন্ট নেতারা অপরাধীদের উদ্ধার করতে চান। তাদের আদর্শহীনতা কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে! তারা কিসের লোভে দুর্নীতিবাজদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন? এই নীতিভ্রষ্ট ও আদর্শহীনরা কখনও মানুষকে কিছু দিতে পারেন না।

সোমবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় গেলে ঐক্যফ্রন্টের প্রধানমন্ত্রী কে হবেন- তা জাতির সামনে পরিষ্কার করার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ঐক্যফ্রন্ট সরকার গঠন করলে তাদের প্রধান কে হবেন- সেটা এখনও জাতির সামনে বলতে পারেননি। সেটা জানেনও না তারা। তাই দেশের মানুষকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তার বিশ্বাস, দেশের মানুষ ভুল সিদ্ধান্ত নেবেন না। তারা সঠিক জায়গায় ভোট দিতে ভুল করবেন না।

তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধী, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় সাজাপ্রাপ্ত ও দুর্নীতিবাজদের উদ্ধার করতে নেমেছেন আমাদের কিছু জ্ঞানী-গুণী এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবী। যুদ্ধাপরাধী হিসেবে যাদের সাজা হয়েছে- তাদেরই ছেলেরা মনোনয়ন পান এদের কাছ থেকে। পৃথিবীর কোনো দেশে যুদ্ধাপরাধী ও সাজাপ্রাপ্তদের কেউ কখনও স্থান করে দেয় না। কী দুর্ভাগ্য আমাদের, যারা জ্ঞানগর্ভ ভাষণ দেন, বড় বড় কথা বলেন, আজ তাদের আদর্শ ও সবধরনের উচ্চবাচ্য সবকিছু যেন কোথায় হারিয়ে গেছে। তারা এখন হাত মিলিয়েছেন যুদ্ধাপরাধী ও দুর্নীতিবাজদের সঙ্গে। কিসের স্বার্থে, কেন?

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঐক্যফ্রন্ট হয়েছে, তারা নাকি সরকার গঠন করবে! কিন্তু ওই সরকারের প্রধান কে হবেন- সেটা আজ পর্যন্ত জাতির সামনে দেখাতে পারেননি। তাদের সরকারপ্রধান কে হবেন? এতিমের টাকা আত্মসাৎকারী; নাকি ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আইভী রহমানের হত্যাকারী, সাজাপ্রাপ্ত আসামি হবে? না, যাদের যুদ্ধাপরাধী হিসেবে সাজা দিয়েছি- তাদের কাউকে করবে? সেটা তো তারা স্পষ্ট করে বলেননি।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, মানুষ ভালো থাকলে তাদের ভালো লাগে না। ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহারে কোন পরিবর্তনের কথা বলছেন তারা? জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাটের মাধ্যমে দেশকে পিছিয়ে দিয়ে পরিবর্তন? তারা ১০ বছরে সরকারের স্বৈরাচারী অবস্থানের কথা বলেছেন। সরকারের কোথায় স্বৈরাচারী অবস্থান দেখেন তারা?

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষের ওপর আমার আস্থা ও বিশ্বাস আছে। এদেশের মানুষ কখনও ভুল করে না। তাদের সাংবিধানিক অধিকার ও ভোটের অধিকার আর কাউকে কেড়ে নিতে দেওয়া হবে না। সে সাহসও কেউ পাবে না। দেশের সেবা করে দেশকে আমরা উন্নত ও সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে চাই। উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্যই বর্তমান সরকারের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে। এ জন্যই নৌকা মার্কায় ভোট চাই।

তিনি আরও বলেন, দেশবাসীকে বেছে নিতে হবে তারা কী ধরনের সরকার চায়? জনগণের ওপরই আমি এই দায়িত্ব ছেড়ে দিলাম। আমি একটা কথাই বলব, নৌকা মার্কায় ভোট চাই। নৌকা মার্কা জনগণের মার্কা। আমার বিশ্বাস আছে, বাংলাদেশের জনগণ আমাদের ভোট দেবে।

এ প্রসঙ্গে টানা দুই মেয়াদে তার সরকারের উন্নয়ন ও সাফল্যের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ দেশের সত্যিকারের পরিবর্তন হয়েছে। দেশের সবক্ষেত্রেই আজ উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। মানুষের যে সত্যিকারের উন্নয়ন, তা তো আওয়ামী লীগই এনে দিয়েছে। আমাদের লক্ষ্যই হচ্ছে দেশকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যাওয়া। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলাদেশ দারিদ্র্যমুক্ত হবে- সেটাই আওয়ামী লীগের লক্ষ্য। আওয়ামী লীগ চায় দেশের হতদরিদ্র মানুষ স্বাবলম্বী হোক। এই সরকারের সময় তৃণমূলের মানুষ আজ সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বিএনপি-জামায়াত জোট ও স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তির ক্ষমতায় আসার কুফল সম্পর্কে দেশবাসীকে সতর্ক করে দেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, যারা মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছে তারা আজ কোন মুখে জনগণের কাছে ভোট চাইবে? মানুষ পুড়িয়ে হত্যাকারী রাজনীতিবিদদের ভোট চাওয়ার কোনো অধিকার নেই। আর ক্ষমতায় থাকতেও তারা দেশের সম্পদ লুট, আর ক্ষমতার বাইরে থাকতে জ্বালাও-পোড়াও আর দেশের সম্পদ ধ্বংস করেছে। তারা কী করে দেশের মানুষের কাছে ভোট চাইবে? যারা বাংলাদেশই চায়নি, তারা কীভাবে ভোট চায়?

শেখ হাসিনা বলেন, এই স্বাধীনতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধীরা সরকার গঠন করলে দেশকে এগিয়ে যেতে দেবে না। খুনি, বুদ্ধিজীবী হত্যাকারী, গ্রেনেড হামলাকারী, দুর্নীতিবাজ, অস্ত্র চোরাকারবারি এবং সাজাপ্রাপ্ত খুনি আসামিরা কখনও এই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে দেবেও না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোটের সময় জনগণের কাছে কোনো জবাবদিহি ছিল না। খুন-হত্যা-লুট-সন্ত্রাস করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করেছিল তারা। একাত্তরে ছিল পাকিস্তানি খান সেনাদের অত্যাচার। ২০০১ সালে বিএনপির অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করেছে এদেশের মানুষ।

সরকারপ্রধান বলেন, বাংলাদেশের কপালে যে দুর্নীতিগ্রস্তের তকমা ছিল তা আওয়ামী লীগের দশ বছরের শাসনামলে দূর করা হয়েছে। মানুষের জীবনমানে আজ পরিবর্তন এসেছে, তারা আস্থার ঠিকানা খুঁজে পেয়েছে। মানুষ আজ আশাবাদী হতে পারে। সাধারণ মানুষ আর তৃণমূলের উন্নয়নই ছিল আমাদের মূল লক্ষ্য। হাওয়া ভবনের মতো কোনো দুর্নীতির কারখানা আওয়ামী লীগ করেনি। ঘরে ঘরে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকার গৃহহারাদের ঘর ও চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছে। ক্ষমতায় এলে আগামীতেও এসব সুবিধা অব্যাহত রাখা হবে।

প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়কণ্ঠে বলেন, যে চেতনা নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে, সেই চেতনা নিয়েই বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। কেউ বাংলাদেশকে পেছনে ফেলতে পারবে না।

সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি এ কে এম রহমতউল্লাহ, দক্ষিণের সভাপতি হাজী আবুল হাসনাত প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন দলের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ ও উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।