ভিন্ন স্বা‌দের খবর

পরীক্ষায় পাস নম্বর দিতে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব শিক্ষকের! এরপর…

By daily satkhira

December 19, 2018

অনলাইন ডেস্ক: লেখাপড়া শেখার কাজে বাবা মায়ের পর শিক্ষকরাই হচ্ছে ছাত্রছাত্রীদের দ্বিতীয় প্রধান আশ্রয়স্থল বা ভরসার কেন্দ্র। তাই শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সম্পর্ক হওয়া উচিত বন্ধুত্বপূর্ণ ও আন্তরিক।প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে শিক্ষাদানের মহান দায়িত্ব অর্পিত হয় শিক্ষকের ওপর। শিক্ষক তার নিজের অর্জিত শিক্ষা, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দিয়ে গড়ে তোলেন শিক্ষার্থীদের। এ শিক্ষা দান ও গ্রহণের মধ্য দিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে গড়ে ওঠে এক নিবিড় সম্পর্ক। যদিও ইদানিং এ সম্পর্কের অনেক উন্নতি ঘটেছে কিন্তু অনাকাঙ্ক্ষিত ও তিক্ত ঘটনাও অহরহ ঘটছে।

সম্প্রতি এই মধুর সম্পর্ককে কলঙ্কিত করেছেন এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক। তা হলো- এক ছাত্রীকে পরীক্ষায় পাস মার্ক দিতে তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে চান বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক। অবশ্য ছাত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাবে ওই শিক্ষককে কারাদণ্ড দিয়েছে নাইজেরিয়ার আদালত।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, নাইজেরিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসগুলোতে ‘অহরহ’ যৌন হয়রানীর ঘটনা ঘটে বলে মন্তব্য করেছে আদালত। এটা বন্ধ করতে সম্প্রতি একটি ঐতিহাসিক রুল জারি করা হয়েছে, যার প্রেক্ষিতে আদালত গত সোমবার এই রায় দেয়। জানা গেছে, সাজাপ্রাপ্ত ওই শিক্ষক রিচার্ড আকিনডেলে ওবাফেমি আওলোও ইউনিভার্সিটির ম্যানেজমেন্ট ও একাউন্টিংয়ের লেকচারার। দুর্নীতি ও যৌন হয়রানীর দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে ওসোগবোর ফেডারেল হাই কোর্টে বিচারক মরিন ওনিয়েতেনু এই রায় ঘোষণা করেন।

বিচারক ওনিয়েতেনু মন্তব্য করেন, ‘এই ধরনের ঘটনা আমাদের উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলোতে অহরহ ঘটছে। আমরা আমাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাই আর ওরা ফিরে এসে আমাদের জানায় যে শিক্ষকরা তাদের সঙ্গে বিছানায় যেতে চাইছে।’ অভিযুক্ত আকিনডেলে বিরুদ্ধে আনিত ৪টি অভিযোগের ক্ষেত্রেই তিনি দোষী প্রমাণিত হয়েছেন। তাকে ২ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

ওনিয়েতেনু বলেন, ‘এভাবে চলতে পারে না। আমাদের এ বিষয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা উচিত। এমনকি প্রাইমারি স্কুলের বাচ্চারাও এই বিষয়ে অভিযোগ করছে।’ তিনি আরও যোগ করে বলেন, ‘আদালতের উচিত শিশুদের, বিশেষ করে ছাত্রীদের অধিকার সমুন্নত রাখা। এ রকম ঘটনা ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ছে।’ শিক্ষক আকিনডেলের বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগ পাওয়া যায় এপ্রিল মাসে। তার একজন ছাত্রী একটি রেকর্ডিং সহ অভিযোগ করে। অভিযোগকারী ছাত্রীর রেকর্ডিং থেকে জানা যায়, ওই শিক্ষকের সঙ্গে না শুলে ওই ছাত্রীকে ফেল করিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন শিক্ষক আকিনডেলে। পরে জুন মাসে আকিনডেলে গ্রেফতার ও চাকরিচ্যুত করা হয়।

গোটা নাইজেরিয়াতেই ‘মার্কসের জন্য সেক্সের’ এই মামলা ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সেখানে যৌন হয়রানী একটি ব্যাপক সমস্যা, কিন্তু এটি নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও কথা হয় না।