আশাশুনি

আশাশুনিতে বোরো ধানের বহু বীজতলা নষ্ট ॥ ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক

By daily satkhira

January 02, 2019

মোস্তাফিজুর রহমান: আশাশুনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বোরো ধানের বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বহু কৃষি পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সরেজমিন দেখাগেছে, উপজেলায় বুধহাটা, কুল্যা, কাদাকাটি, দরগাহপুর, বড়দল ও শোভনালীসহ অন্যান্য ইউনিয়নে ১৫ থেকে ২০ দিন পূর্বে যারা বীজতলা তৈরী করে ধান ছড়িয়েছিলো তাদের বেশির ভাগ কৃষকেরই বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে এবং যাচ্ছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর অতিরিক্ত ঠান্ডা ও কিছু জমিতে লোনার প্রভাব দেখা দেওয়া বীজতলা নষ্ট হওয়ার কারন হিসাবে দেখছে। ঠান্ডার প্রকোপ থেকে বীজতলা রক্ষার জন্য প্রতিদিন বীজতলার ঠান্ডা পানি নিষ্কাষন করে নতুন পানি দেওয়া, ভোরে রশ্মি দিয়ে ধানের চারার উপরের কুয়াশা ফেলে দেওয়া এবং প্রয়োজনে শতক প্রতি ৪শত গ্রাম জিপসাম প্রয়োগের পরামর্শ দিলেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর। আর বীজতলায় লোনার প্রাদূর্ভার দেখা দিলে ধানের চারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে থাকে। এজন্য বীজতলা তৈরীর পূর্বেই আমাদেরকে বিষয়টা মাথায় রেখেই জমি প্রস্তুত করতে হবে। বীজতলা তৈরীর পরে লোনা কেটে উঠলে জমির প্রকৃতির উপর নির্ভর করে ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। বুধহাটা ইউনিয়নের নওয়াপাড়া গ্রামের দাউদ হোসেন, নৈকাটি গ্রামের আবুল হাসেম মোড়ল, কুল্যা ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামের হারুন সরদার, বড়দল ইউনিয়নের ফকরাবাদ গ্রামের ছাইদুর, বিল্লাল, সহিদ ও জালাল এ প্রতিবেদককে জানান, বিগত বছর গুলো থেকে এ বছর চড়া দামে বীজ কিনে বীজতলা তলা নষ্ট হওয়ায় আমাদের মত বহু কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ। নিরোপায় হয়ে চড়া দামে চারা কিনে রোপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে অনেকেই। চড়া দামের পরেও দুস্প্রাপ্য হয়ে পড়েছে ধানের চারা। এখানেই শেষ নয় এত খরচ করে আমনের মত ধানের দাম কম হলে সেখানেও আমরা দ্বিতীয় দফায় ক্ষতিগ্রস্থ হবো। ঠান্ডার পাশাপাশি নিন্ম মানের বিজ বিভিন্ন ব্যান্ডের প্যাকেট জাত করে বিক্রি হওয়া এবং কৃষকরা অন্ধ বিশ্বাসে সেগুলো নিয়ে উন্নত চারা আশা করাও এ বীজতলা নষ্ট হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ একটি কারন বলে মনে করেন সচেতন মহল। সংশ্লিষ্ট উদ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে বীজ বিক্রির মৌসুমে ডিলার ও খুচরা বীজ বিক্রেতাদের দিকে কড়া নজর রাখার দাবি এলাকার সচেতন মহলের।