ফিচার

হারিয়ে যাচ্ছে সোনালী শৈশবের রঙিন ঘুড়ি

By daily satkhira

January 21, 2019

মো:আজিজুল ইসলাম(ইমরান) : কর্মব্যস্ত এই ডিজিটাল যুগে মানুষের জীবন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে সোনালী শৈশবের রঙিন ঘুড়ি। ঘুড়ির সাথে পরিচিত না এমন মানুষ পাওয়া ভার। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে ও মফস্বল শহরের শিশু কিশোরদের জীবনের একটি বড় অংশ কেটে যায় ঘুড়ির সাথে। নানা রং বেরং এর রঙিন ঘুড়ি উড়াতে কার না ভাল লাগে। নানা ডিজাইনের ঘুড়ি দেখতে পাওয়া যায় আমাদের শহর সাতক্ষীরাতেও। ডাক ঘুড়ি, মানুষ ঘুড়ি, বেতের ঘুড়ি, প্রজাপতি ঘুড়ি, বাক্স ঘুড়ি, সাপ ঘুড়ি সহ কত না নাম। ঘুড়ি তৈরিতে সাধারণত বাঁশ এর চাছি ও নানা রং বেরং এর বাঁশ পাতা কাগজ ব্যবহার হয়। আকৃতি ভেদে বিভিন্ন নামে ডাকা হয় এসব ঘুড়িকে। মানুষ আকৃতির ঘুড়িকে বলা হয় মানুষ ঘুড়ি, প্রজাপতি আকৃতির ঘুড়িকে বলা হয় প্রজাপতি ঘুঢ়ি, বাক্স আকৃতির ঘুড়িকে বলা হয় বাক্স ঘুড়ি, সাপ আকৃতির ঘুড়িকে বলা হয় সাপ ঘুড়ি এছাড়া ঘুড়িতে বেতের লাঠি ব্যবহার করলে তা ওড়ার সময় এক রকম শব্দ করে তাকে বলা ডাস ঘুড়ি। বাংলা মাস মাঘ ও ফাল্গুন এই দুই মাস সাধারণত ঘুড়ি উড়ানোর উত্তম সময়। ইতিমধ্যে সদরের মাঠে মাঠে বেরিয়ে পড়েছে ঘুড়ি প্রেমি শিশু কিশোরেরা। নানা রং এর ঘুড়ি আকাশে উড়তে শুরু করেছে যেন বাঁধন হারা। শিশুদের এমন ঘুড়ি উড়ানো দৃশ্য দেখে মনে পড়ে যায় সোনালী শৈশবের কথা। সদরের রসুলপুর, সুলতানপুর, কাঠিয়া, মাছখোলা, কদমতলা, বকচরা, কৈখালী এলাকায় ইতিমধ্যে মাঠে মাঠে দেখা যাচ্ছে ঘুড়ি উড়ানোর দৃশ্য। এসব এলাকার খোলা মাঠ গুলো ঘুড়ি প্রেমী শিশুদের পদচারনায় ইতিমধ্যে মুখর হয়ে উঠেছে। সরজমিনে যেয়ে দেখা যায় সদরের রসুলপুর এলাকার পুলিশ লাইন স্কুল মাঠ সংলগ্ন বিলে ঘুড়ি উড়াচ্ছে রসুলপুর এলাকার চয়ন, ইসতিয়াক, সাকিব, নাদিম, মাহিন, শাওন, রেদওয়ান, মেহেদি। তারা জানায় তারা গত ১০ দিন ধরে এখানে ঘুড়ি উড়াচ্ছে। তারা জানায় ধরণ ভেদে এক একটা ঘুড়ির দাম ৬ টাকা থেকে ২০ টাকায় তারা ক্রয় করে। তারা স্কুলের টিফিনের টাকা জমিয়ে এই ঘুড়ি গুলে কেনে । ঘুড়ি কেনার পর ঘুড়িতে যথাক্রমে ভোগ লাগায়ে, লেজ লাগিয়ে, সুতোয় মানজা দিয়ে নাটায়ে সুতে গুটিয়ে তার পর উড়ানো যায় ঘুড়ি। তবে এখন শহরের অধিকাংশ চাষের জামি ঘর-বাড়ি হয়ে যাওয়ায় শিশুরা এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। শহরের বুকে ফাকা বিল নেই বললেই চলে। আর যে মাঠ গুলো আছে তাতে সব সময় শিশুরা নানা কারণে ঘুড়ি উড়াতে পারে না। এই বিষয়ে জানতে চাইলে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ আবু আহমেদ বলেন ঘুড়ি বর্তমান সময়ে বিলুপ্ত প্রায়। ছোট বেলায় কত যে ঘুড়ি উড়িয়েছি তা বলে শেষ করা যায় না। ছোট বেলায় খোলা মাঠে রঙিন ঘুড়ি উড়ানোর মজাই ছিল আলাদা। দুরন্ত শৈশবের সেই দিন গুলো এখনো আমার চোখে ভাসে। তবে সেই দিন গুলো আর ফিরে আসবে না। বর্তমান সময়ের শিশু কিশোর গুলো এই সুযোগ আর পাচ্ছে না। তারা ভিডিও গেমএ সময় নষ্ট করে। তবে এক জন পিতা হিসাবে, সমাজের সচেতন মানুষ হিসাবে আমি চাই সমাজের সকল শিশু কিশোরা ঘুড়ি উড়ানোর এই মজা উপলব্ধি করুক। তারা এই নির্মল বিনোদন গ্রহণ করুক। যা তাদের আগামীর পথ চলায় দারুন সহায়তা করবে।