আজকের সেরা

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়োগ বাণিজ্য; বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা

By Daily Satkhira

May 09, 2019

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে আউট সোর্সিং পদে জনবল নিয়োগের নামে প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে বরিশাল জেলা বিএনপির বিএনপি নেতা ও ঠিকাদার দুলালের বিরুদ্ধে মামলা পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের পক্ষে সাতক্ষীরা শহরের উত্তর কাটিয়া গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে আশরাফুল ইসলাম বাদী হয়ে সম্প্রতি এনআই এ্যাক্টের ধারা মোতাবেক এই মামলা দায়ের করেন।

দায়েরকৃত মামলার একমাত্র আসামি জনবল সরবরাহকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ‘পিমা এসোসিয়েটস লিমিটেড’ এর স্বত্তাধিকারী বরিশাল জেলার মেহেন্দীগঞ্জ থানার ঘোড়াঘাট গ্রামের আবুল হোসেন ব্যাপারীর ছেলে বিএনপি নেতা দেলোয়ার হোসেন দুলাল। মামলা নং- ১৭৫/১৯। আগামী ৪ আগস্ট এই মামলার পরবর্তী ধার্যদিন। উল্লেখ্য, দেলোয়ার হোসেন দুলাল সর্বশেষ ইউপি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়ে ধানের প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে পরাজিত হন।

প্রাপ্ত তথ্যে জানাযায়, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে আউট সোর্সিং জনবল সরবরাহের জন্য ঠিকাদার নিযুক্ত হন। এরপর উক্ত প্রতিষ্ঠানে জনবল নিয়োগের লক্ষে বিজ্ঞাপন দেন। সে অনুযায়ী বিভিন্ন ব্যক্তিরা চাকুরির জন্য যোগাযোগ করলে জনপ্রতি ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা অগ্রিম গ্রহণ করেন। একই সাথে আসামি দেলোয়ার হোসেন দুলাল তার কোম্পানির নিজস্ব প্যাডে নিয়োগপত্র প্রদান করেন। এভাবে ৫০ থেকে ৬০জন ব্যক্তিকে নিয়োগপত্র প্রদান করেও কাজে যোগদান করাননি। এমনকি তাদের কোন বেতন ভাতাও প্রদান করা হয়নি।

এক পর্যায়ে অগ্রিম জামানত বাবদ প্রদত্ত টাকা ফেরত চাইলে এমামলার বাদী শহরের উত্তর কাটিয়া গ্রামের আশরাফুল ইসলামের নিকট আসামি দেলোয়ার হোসেন দুলাল আল আরাফা ইসলামী ব্যাংক লিঃ এর অনুকুলে এক কোটি ৩ লক্ষ টাকার একটি নগদেও চেক প্রদান করেন। এছাড়াও একই ঘটনায় সংযুক্ত নিয়োগ প্রদানকারী ব্যক্তিদের ৩ মাসের বেতন বাবদ আরও ৭৩ লাখ টাকা প্রাপ্তির দাবিতে আরো একটি মামলা করা হয়েছে।

এর আগে ভুক্তভোগিদের পক্ষে বাদি আশরাফুল ইসলাম সাতক্ষীরা জজ আদালতের আইনজীবী এড. শেখ হুমায়ুন কবিরের মাধ্যমে গত ১১ ফেব্রুয়ারি উক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্তাধিকারী দেলোয়ার হোসেন দুলালকে লিগাল নোটিশ প্রদান করলেও তিনি কোন জবাব দাখিল করেন নাই। এরপর চেক ডিজ অনার করে এই মামলা দায়ের করা হয়। আসামিকে আগামী ৪ আগস্ট সাতক্ষীরা আমলী আদালত-১ এ হাজির হওয়ার দিন রয়েছে।

এদিকে অভিযোগ রয়েছে, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের দুই বছরের চুক্তিভিত্তিক জনবল নিয়োগের জন্য বিগত ২০১৮ সালের ১৩ মে তৎকালীন তথ্য মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এমপির প্যাডে ১২ জনকে চাকরি দেয়ার জন্য সুপারিশ করা হলেও বিতর্কিত ঠিকাদার দেলোয়ার হোসেন দুলাল ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা নিয়ে এসব ব্যক্তিদের একটি ভুয়া নিয়োগপত্র প্রদান করেন। যার স্মারক নং ১৫.০০.০০০.০০০১.১৯.০০১.১৮-৭০৫৪ তারিখ ছাড়াই প্রদত্ত নিয়োগপত্রটি সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালের তত্ত্বধায়ক ডাঃ শেখ শাহাজান আলীর নিকট নিয়ে আসলে তিনি তাদেরকে যোগদান করাননি। এমন নানাভাবে ৪৯ জনের নিকট থেকে বিপুল অংকের টাকা নিয়ে নিয়োগ না দেয়া, প্রতারণার আশ্রয় নেয়ায় ভুক্তভোগিরা মামলাটি করেন।

এদিকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে খোজ খবর নিয়ে জানা গেছে, পিমা এসোসিয়েটস লিঃ এর স্বত্ত্বাধিকারী দেলোয়ার হোসেন দুলালের মাধ্যমে চাকরি দেয়ার নাম করে অনেক কর্মকর্তা ও কর্মচারী সাধারণ মানুষদের নিকট থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে কোটিপতি বনেছেন। এদের মধ্যে প্রথমেই নাম শোনা যায় প্যাথলজিস্ট শুব্রত দাস, হেলথ এডুকেটর মুরাদ হোসেন, মেডিকেলের হিসাব রক্ষক মোস্তাজুল ইসলাম ও ঠিকাদারের প্রতিনিধি জনৈক বাদশা। এভাবে সাধারণ মানুষের নিকট থেকে বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করলেও ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি ভুক্তভোগি দরিদ্র চাকরি প্রত্যাশীদের। অভিযোগ রয়েছে, এখনও যারা চাকরি করছেন তাদের বেতন কয়েকমাস করে বন্ধ।

এদিকে মামলার বিষয়ে কথা বলতে ঠিকাদার দেলোয়ার হোসেন দুলালের নাম্বারে যোগাযোগ করলে তার মুঠো ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায় তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

হাসপাতালের তত্ত্ববধায়ক ডাঃ শেখ শাহাজান আলী জানান, মামলা হয়েছে শুনেছি। জড়িত থাকলে অবশ্যই শাস্তি হোক। তিনি বলেন, আমার হাসপাতালের অনেকেই এই ঘটনায় জড়িত। অনেকেই চাকরি দেয়ার কখা বলে টাকা নিয়েছে শুনেছি।