প্রিন্স মুসার বিরুদ্ধে দুদকের আরও এক মামলা

দেশের খবর: ভুয়া কাগজপত্রে নিষিদ্ধ রেঞ্জ রোভার জিপ গাড়ি আমদানি ও ভুয়া কাগজপত্রে নিবন্ধনের অভিযোগে বিতর্কিত ব্যবসায়ী প্রিন্স মুসা বিন শমসেরসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

গাড়িটি আমদানির ক্ষেত্রে কার্নেট ডি প্যাসেজ সুবিধা নেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার দুদক পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী বাদী হয়ে কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১-এ মামলাটি দায়ের করেন।

এর আগে ২০১৬ সালে সম্পদ সম্পর্কে মিথ্যা, ভিত্তিহীন তথ্য দেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করেছিল দুদক। এবার নিষিদ্ধ গাড়ি আমদানি ও ভুয়া কাগজপত্রে নিবন্ধনের অভিযোগে আরেকটি মামলা করা হলো। প্রিন্স মুসা ড্যাটকো গ্রুপের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ভোলা জেলা সার্কেলের সহকারী পরিচালক মো. আইয়ুব আনছারী (বর্তমানে ঝালকাঠিতে কর্মরত), গাড়ি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান অটো ডিফাইন ও ফিয়াজ এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. ওয়াহিদুর রহমান, মুসা বিন শমসেরের শ্যালক মো. ফারুক-উজ-জামান ও ‘কার্নেট ডি প্যাসেজ’ সুবিধায় গাড়ি আনা ব্রিটিশ পাসপোর্টধারী ব্যক্তি ফরিদ নাবির।

এজাহারে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ভুয়া রেকর্ডপত্র সৃজন করে তা বিআরটিএ ভোলা অফিসে দাখিল করে কার্নেট ডি প্যাসেজ সুবিধায় আনা বিক্রি নিষিদ্ধ রেঞ্জ রোভার গাড়ি নিবন্ধন করা হয়। নিবন্ধন নম্বর- ভোলা-ঘ-১১-০০৩৫। আসামিরা ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রতারণা, জালিয়াতি করে ফৌজদারি অপরাধ করেছেন।

দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, কার্নেট ডি প্যাসেজ সুবিধায় ব্রিটিশ পাসপোর্টধারী ফরিদ নাবির গাড়িটি বাংলাদেশে এনছেন। বিআরটিএর নিবন্ধন তথ্য অনুযায়ী গাড়ির মালিক মো. ফারুক-উজ-জামান চৌধুরী। গাড়িটি ২০১০ সালের ১২ মার্চ দেশে আনা হয়। পরে গাড়িটি শুল্ক্ক গোয়েন্দারা আটক করেন ২০১৭ সালের ২১ মার্চ।

এরপর শুল্ক আইন-১৯৬৯ ও মানি লন্ডারিং অনুযায়ী দুই কোটি ১৫ লাখ ৬৫ হাজার ৮৩৩ টাকা শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে শুল্ক্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাকির হোসেন বাদী হয়ে ঢাকার গুলশান থানায় মামলা করেন ২০১৭ সালের ৩১ জুলাই।

এজাহারে বলা হয়, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর শুল্ক কর ফাঁকির অভিযোগে মামলা করলেও ভুয়া কাগজপত্রে বিআরটিএ কর্মকর্তা নিবন্ধন করার অপরাধের বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এ ক্ষেত্রে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে এনবিআর থেকে দুদকে অভিযোগটি পাঠানো হলে দুদক তা অনুসন্ধান করে। অনুসন্ধানে দেশে বিক্রি নিষিদ্ধ ওই গাড়ি আমিদানি ও ভুয়া কাগজপত্রে নিবন্ধনের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়। ওইসব তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার মামলাটি হয়।

এজাহারে আরও বলা হয়, ব্রিটিশ পাসপোর্টধারী ফরিদ নাবির কর্তৃক কার্নেট ডি প্যাসেজ সুবিধায় বিনা শুল্কে আনা গাড়িটি প্রিন্স মুসা বিন শমসেরের দখল থেকে শুল্ক গোয়েন্দারা আটক করেছিলেন। ভুয়া রেকর্ডপত্রের মাধ্যমে ড. মুসা বিন শমসের তার শ্যালক ফারুক-উজ-জামান চৌধুরীর নামে গাড়িটি রেজিস্ট্রেশন করিয়েছেন।

ফারুক-উজ-জামান চৌধুরী দুদককে বলেছেন, তিনি শুধু নিবন্ধনের সময় ভোলায় গিয়েছিলেন। এতে আরও বলা হয়, ফরিদ নাবির কার্নেট ডি প্যাসেজ সুবিধায় বিনা শুল্কে আনা গাড়িটি ড. মুসা বিন শমসের মেসার্স অটো ডিফাইন থেকে ফারুক-উজ-জামান চৌধুরীর নামে ক্রয় করে ভোলা বিআরটিএ অফিস থেকে নিবন্ধন করেন। ২০১০ সালের ১২ মার্চ থেকে ২০১৭ সালের ২১ মার্চ পর্যন্ত সময়ে ওই জালিয়াতির ঘটনা ঘটে। আসামিরা ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা ও দণ্ডবিধির ৪২০/১০৯ ধারা লঙ্ঘন করেছেন, যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

Related posts