সাতক্ষীরায় ১লাখ বৃক্ষ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিনিধি : সবুজে বাঁচি,সবুজ বাঁচাই, নগর -প্রাণ-প্রকৃতি সাজাই”এই স্লোগানকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত উপকূলীয় এলাকায় সবুজ বেষ্টনী গড়ে তুলতে ১লাখ বৃক্ষ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় সামনে বৃক্ষ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল।
তিনি বলেন, সাতক্ষীরা জেলার মানুষ প্রতিনিয়ত প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে সংগ্রাম করে চলেছেন। উপকূলবর্তী জেলা হওয়ায় প্রতিনিয়ত ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস ও নানা ধরণের প্রাকৃতিক দুর্যোগকে মোকাবেলা করতে হয়। এজন্যে প্রধানমন্ত্রীর কথা অনুযায়ী উপকূলীয় এলাকায় সবুজ বেষ্টনী গড়ে তুলতে হবে। এজন্যে তিনি গ্রীণ এনভায়রনমেন্ট মুভমেন্ট, সাতক্ষীরা জেলার সভাপতি শেখ এজাজ আহমেদ স্বপন কে ধন্যবাদ জানান।তার উদ্যোগে উপকূলীয় এলাকায় ১লাখ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহন করার জন্যে।
গ্রীণ এনভায়রনমেন্ট মুভমেন্টের সভাপতি শেখ এজাজ আহমেদ স্বপন বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কথা বাস্তবায়ন করার জন্যে উপকূলীয় এলাকা সহ সাতক্ষীরা জেলার প্রতিটি উপজেলায় সবুজ বেষ্টনী গড়ে তুলতে আমাদের এ কার্যক্রম চলমান থাকবে ইনশাল্লাহ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সবুজ পরিবেশ আন্দোলনের কর্মি সামসুদ্দিন গজনবী বাবলু, সালাউদ্দিন রানা, মোহাম্মদ কুদ্দুস, জাহিদুর রহমান, মুশফিকুর রহমান মিল্টন, মহাদেব সহ আরো অনেকে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
রবিবার ফেসবুক লাইভে এসএসসির ফলাফল

শিক্ষা ডেস্ক: প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক লাইভে তুলে ধরা হবে। রোববার (৩১ মে) গণভবনে প্রধানমন্ত্রী ফল ঘোষণার পর এর সারসংক্ষেপ তুলে ধরবেন শিক্ষামন্ত্রী ডাক্তার দীপু মনি। শুক্রবার (২৯ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা আবুল খায়ের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী রোববার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করবেন। দুপুর ১২টায় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ফেসবুক লাইভে ফলাফলের বিস্তারিত তুলে ধরবেন।

ফেসবুক আইডি M A khair ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার জন্য বিটিভির মাধ্যমে ভিডিও ফুটেজ প্রেরণ করা হবে। অন্যান্য গণমাধ্যমকেও তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

জানা গেছে, দুপুর ১২টায় শিক্ষামন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনের পর দেশের সকল শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটগুলোতে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি ইতিমধ্যে যে সকল শিক্ষার্থী মোবাইলে ফলাফল পেতে রেজিস্ট্রেশন করেছেন তাদের নির্ধারিত নম্বরে জিপিএ গ্রেডসহ ফলাফল পাঠানো হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
করোনায় ভারতে আক্রান্ত চীনের দ্বিগুণ, মৃত্যুও বেশি

বিদেশের খবর: প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুতে চীনকে ছাড়িয়ে গেল ভারত। মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যায় দেশটি এখন উঠে এসেছে বিশ্ব তালিকায় ৯ নম্বরে।

এনডিটিভি জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ভারতে প্রায় ১ লাখ ৬৬ হাজার জনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যার হিসেবে চীনের (৮৪ হাজার ১০৬) চেয়ে তা প্রায় দ্বিগুণ।

করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা এখন ভারতে ৪ হাজার ৭০৬; আর চীনে ৪ হাজার ৬৩৮।

ভারতে সর্বশেষ হিসেবে ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ৭ হাজার ৪৬৬ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে।

সম্প্রতি বিশেষ ট্রেন ও ফ্লাইটে ভারতজুড়ে নাগরিকদের চলাচল এবং লকডাউনের কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করার পর করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। অনেক রাজ্য আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার কারণ হিসেবে অন্য রাজ্য থেকে মানুষ আসার কথাও বলা হচ্ছে।

ভারতে লকডাউন চলছে গত ২৫ মার্চ থেকে। কয়েকবার সময়সীমা বাড়ানোর পর লকডাউনের চতুর্থ ধাপ শেষ হচ্ছে আগামী ৩১ মে।

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছে রেকর্ড ১ হাজার ২৪ জন রোগী। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত রাজ্য মহারাষ্ট্র নতুন ২ হাজার ৫৯৮ জনকে শনাক্তের কথা জানিয়েছে। আর বাংলাদেশের সীমানা ঘেঁষা রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে একদিনে সর্বোচ্চ ৩৪৪ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

ভারতে এখন পর্যন্ত ৩৩ লাখ মানুষকে পরীক্ষা করা হয়েছে। মোট জনসংখ্যার অনুপাতে করোনাভাইরাসের পরীক্ষায় ভারত শীর্ষ ১০০টি দেশের মধ্যেও নেই বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা পিটিআই।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দেশে ২৪ ঘন্টায় করোনায় রেকর্ড আড়াই হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত

দেশের খবর: দেশে প্রথমবারের মতো ২৪ ঘণ্টায় আড়াই হাজারের বেশি করোনা রোগী আক্রান্ত হয়েছেন। এ সময়ে আরও ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এ নিয়ে দেশে মোট কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হলেন ৪২ হাজার ৮৪৪ জন এবং মারা গেলেন ৫৮২ জন।

এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৫৯০ জন এবং মোট সুস্থ হয়েছেন ৯ হাজার ১৫ জন।

শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক নাসিমা সুলতানা নিয়মিত ব্রিফিংয়ে জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ১১ হাজার ৩০১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৫২৩ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছেন ২৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১৯ জন ও নারী ৪ জন।

তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৫৯০ জন এবং মোট সুস্থ হয়েছেন ৯ হাজার ১৫ জন।

শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ২১.০৪ শতাংশ ও মৃত্যুর হার ১.৩৬ শতাংশ।

ডা. নাসিমা আরও জানা, বয়স বিশ্লেষণে ১১-২০ বছরের মধ্যে একজন, ২১-৩০ বছরের মধ্যে এক জন, ৩১-৪০ বছরের মধ্যে ২ জন, ৪১-৫০ বছরের মধ্যে ৫ জন, ৫১-৬০ বছরের মধ্যে ৫ জন, ৬১-৭০ বছরের মধ্যে ৬ জন এবং ৭১-৮০ বছরের মধ্যে ২ জন এবং ৮১-৯০ বছরের মধ্যে একজন মারা গেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ঢাকা বিভাগে ১০ জন, চট্টগ্রামে ৯ জন, রংপুরে ২ জন, বরিশালে একজন ও সিলেটে একজন মারা গেছেন। এর মধ্যে হাসপাতালে ২১ জন ও বাসায় একজন মারা গেছেন।

এলাকাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ঢাকা সিটিতে ৪ জন, ঢাকা জেলায় একজন, নারায়ণগঞ্জে ২ জন, মুন্সীগঞ্জে একজন, মানিকগঞ্জে একজন, কিশোরগঞ্জে একজন, চট্টগ্রাম সিটিতে ৬ জন, কুমিল্লায় একজন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একজন, ফেনীতে একজন, রংপুরে ২ জন, ভোলায় ২ জন ও সিলেটে ২ জন মৃত্যুবরণ করেছেন।

প্রসঙ্গত গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। দেশে প্রথম কোভিড-১৯ রোগীশনাক্ত হন ৮ মার্চ এবং এ রোগে আক্রান্ত প্রথম রোগীর মৃত্যু হয় ১৮ মার্চ।

২৫ মার্চ প্রথমবারের মতো রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) জানায়, বাংলাদেশে সীমিত পরিসরে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন বা সামাজিকভাবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হচ্ছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
২৬ বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা; অক্ষত ফেরা বাংলাদেশির রোমহর্ষক বয়ান

দেশের খবর: লিবিয়ায় এক মানবপাচারকারীর পরিবারের সদস্যদের গুলিতে ২৬ বাংলাদেশিসহ ৩০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। সেখানে আরো ১১ বাংলাদেশি মারাত্মক আহত হয়েছেন। সেই নরক থেকে অক্ষত অবস্থায় বেঁচে ফিরেছেন একজন বাংলাদেশি। তিনি ত্রিপলীস্থ দূতাবাসকে দিয়েছেন লোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা। বেঁচে ফেরা এই বাংলাদেশিকে নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে এবং তার নাম-পরিচয় গোপন রাখা হয়।

তিনি জানান, প্রায় ১৫ দিন আগে বেনগাজী থেকে মরুভূমি পাড়ি দিয়ে কাজের সন্ধানে যাচ্ছিলেন তারা। সেই পথেই মানবপাচারকারীরা তাদের জিম্মি করে। ঘটনাস্থল ত্রিপলী শহর থেকে ১৮০ কিলোমিটার দক্ষিণে। মানবপাচারকারীরা মোট ৩৮ জনকে জড়ো করে। উদ্দেশ্য তাদের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করা। অপহৃতদের রাজধানী ত্রিপলীতে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে দ্রুত মুক্তিপণ আদায়ের জন্যে মিজদাহ শহরে নিয়েই শুরু হয় বর্বর নির্যাতন। এক পর্যায়ে প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে বন্দিরা রুখে দাঁড়ান। তারা এ ঘটনার মূল হোতা এক লিবায়ান ব্যক্তির ওপর চড়াও হন। ঘটনাক্রমে তার মৃত্যুও ঘটে। এ খবর ছড়িয়ে পড়ে নিহতের স্বজনদের কাছে। পরে তারাসহ পাচারকারী দলের অন্যরা জিন্মিদের ওপর হামলা চালায়। তাদের এলোপাতাড়ি গুলিতে ঘটনাস্থলেই অন্তত ২৬ জন বাংলাদেশি নিহত হন।

ঘটনায় বয়ান শুনে দূতাবাস অনুসন্ধানে নামে। তারাও নিশ্চিত হন যে, লিবিয়ার মিলিশিয়া বাহিনী বাংলাদেশিদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়েছে এবং সেখানে প্রায় সবাই হতাহত হন। কেবল একজন প্রাণে বেঁচে গেছেন। তার সঙ্গে বাংলাদেশ দূতাবাসের টেলিফোন যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়। তিনি বর্তমানে একজন হৃদয়বান লিবিয়ানের আশ্রয়ে আত্মগোপন করে আছেন। দূতাবাস ঢাকাকে জানায়, নিহত ২৬ বাংলাদেশির মরদেহ মিজদাহ হাসপাতালে সংরক্ষিত রয়েছে। অবশিষ্ট ১১ বাংলাদেশিরা হাতে-পায়ে, বুকে-পিঠে গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ত্রিপলীস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস স্থানীয়দের সূত্র থেকে যে বয়ান পেয়েছে তার সঙ্গে বেঁচে ফেরা বাংলাদেশির দেয়া ঘটনার বর্ণনা প্রায় অভিন্ন। ওই বাংলাদেশিসহ স্থানীয় সূত্রের বরাতে ত্রিপলীস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস গতকাল বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাতে ঢাকায় একটি রিপোর্ট পাঠিয়েছে। ইমেইলযোগে পাঠানো সেই রিপোর্টেও বলা হয়, লিবিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিজদাহতে কমপক্ষে ২৬ জন বাংলাদেশিকে লিবিয়ান মিলিশিয়া গুলি করে হত্যা করার তথ্য মিলেছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ভারতে মন্দিরের ভেতর করোনা থেকে মুক্তি পেতে ‘নরবলি’!

বিদেশের/ভিন্নরকম খবর: প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস বিনাশে ভারতে মন্দিরের ভেতরে নরবলির অভিযোগ উঠেছে এক পুরোহিতের বিরুদ্ধে।

বুধবার গভীর রাতে ঘটনাটি ঘটছে ওড়িশার কটকে নরসিংহপুর থানা এলাকায় বাঁধহুদা গ্রামের একটি স্থানীয় মন্দিরে।

আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, মহামারী থেকে মুক্তি পেতে দেবতাকে তুষ্ট করতে নরবলি দিয়েছেন মন্দিরের এক বৃদ্ধ পুরোহিত। বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করার পর তাকে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদে ওই পুরোহিত জানিয়েছেন, করোনার বিনাশে নরবলির আদেশ তিনি নাকি স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন। সেই আদেশ মতো মন্দির ভেতরেই কুড়াল দিয়ে এক ব্যক্তির মাথা কেটে বলি দেন তিনি।

নরবলির শিকার ওই ব্যক্তির নাম সরোজকুমার প্রধান (৫২)।

দেবীর সন্তুষ্টির জন্য নরবলি দিয়েছেন পুরোহিত এমনটা দাবি করলেও তা মানতে নারাজ এলাকার স্থানীয়রা।

তাদের পাল্টা দাবি, সরোজের সঙ্গে ওই গ্রামের একটি আমবাগান নিয়ে দীর্ঘ দিনের বিবাদ চলছিল ওই পুরোহিতের। সেই আক্রোশেই এ কাজ করেছেন তিনি।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ঘটনার রাতে সরোজের সঙ্গে নরবলি নিয়েই ঝগড়া হয় বলে জানিয়েছেন পুরোহিত। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে একটি কুড়াল দিয়ে সরোজের মাথায় আঘাত করেন তিনি। এরপর সেখানেই লুটিয়ে পড়েন সরোজ। এরপর সকালে পুলিশের কাছে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন পুরোহিত।

কটকের ডিআইজি (সেন্ট্রাল রেঞ্জ) আশিসকুমার সিংহ জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বুধবার রাতে ঘটনার সময় মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন পুরোহিত। পরের দিন সকালে তার হুঁশ ফিরলে পুলিশের কাছে এসে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। খুনের কথা স্বীকারও করেছেন তিনি।

এদিকে নরবলির ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আসতেই তুমুল প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে ওড়িশায়। অভিযুক্তের চরম শাস্তির দাবি করেছেন অনেকে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ঢাকার বাসার ৪ কর্মী করোনা আক্রান্ত

দেশের খবর: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের ঢাকার বাসার চারজন কর্মী করোনাভাইরাসে (কভিড-১৯) আক্রান্ত হয়েছেন। তিনিসহ অপর পাঁচজনের করোনা ‘নেগেটিভ’ এসেছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে নিজের ফেইসবুক পেজে এ তথ্য জানিয়ে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি লিখেন, ‘করোনাকালে যতটা সম্ভব সাবধানে থাকার চেষ্টা করেছি। যদিও ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ার প্রথম দিকে মাদ্রিদ আর জেনেভা যেতে হয়েছিল। বিশ্ব তখনো এর ভয়াবহতা বুঝে উঠেনি।’

‘অনেকদিন থেকেই শুনছি পরিচিত মানুষেরা পরীক্ষা করাচ্ছেন। কেউ কেউ বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন, কেউ হাসপাতালে ভর্তি। মৃত্যুবরণ করেছেন একাধিক পরিচিত ব্যক্তি।’

‘তাই আমার বাসার সহকারী মিঠু যখন বললো বাবুর্চি মুসা আর চারজন নিরাপত্তাকর্মীর মধ্যে একজনের জ্বর, তখন দেরি না করে পরীক্ষা করালাম। নিজেরসহ মোট ৯ জনের।’

তিনি বলেন, ‘ফলাফল এসেছে, মুসা এবং সেই নিরাপত্তাকর্মীসহ মোট চারজন পজিটিভ। মানে বাকি দুইজন পজিটিভ হয়েও কোনো লক্ষণ নেই। আমরা বাকিরা নেগেটিভ।’

ফেইসবুক পোস্টে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘গতকাল রাত থেকে শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। বাড়িতে রোগী রেখেই চিকিৎসা করাতে হবে এবং নিজেদের সুস্থ রাখতে হবে। কাজটা সহজ না হলেও করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘সকলকে বিনীতভাবে অনুরোধ করছি, আমাদের সবার জন্য দোয়া করার জন্য। অসুস্থরা যেন তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠেন এবং নতুন কেউ যেন সংক্রমিত না হন।’
শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘গত দুইমাস যেভাবে কাজ করেছি, অবশ্যই চেষ্টা করবো সেভাবে বাসায় থেকে কাজ করতে।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আশাশুনিতে ত্রাণ বিতরণ করে আবার ফেরত নেয়ার অভিযোগ!

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাতক্ষীরার আশাশুনিতে ত্রাণ বিতরণ নিয়ে গাফিলতি ও অমানবিকতার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কাছ থেকে ত্রাণ নিয়ে তা বিতরণ করে ছবি তুলে আবার ফেরত নেয়ার ঘটনাটি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের চাকলা গ্রামের।

আমপান আঘাত হানার পর উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার ৩টি ইউনিয়ন আশাশুনি, শ্রীউলা ও প্রতাপনগর প্লাবিত হয় খোলপেটুয়া নদীর বাঁধ ভেঙে যাওয়ার কারণে। এর মধ্যে প্রতাপনগর ইউনিয়নটি পানির ওপর ভাসছে প্রায়। একটি বেসরকারি টেলিভিশনে খবর প্রচার হয় যে, প্রতাপনগর ইউনিয়নের চাকলা গ্রামে আমপানের আঘাতে ৬ দিন পরও সরকারি ত্রাণ পৌঁছেনি। ঘটনাটি স্থানীয় সংসদ সদস্য সাবেক স্বাস্হ্য মন্ত্রী ডা. আ ফ ম রুহুল হক এমপির নজরে আসলে তিনি তৎক্ষণাত গত ২৬ মে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলেন এবং চাকলাতে আমপান কবলিতদের মধ্যে ত্রাণ পৌছানোর জন্য নির্দেশনা দেন। জেলা প্রশাসক সংসদ সদস্যকে আশ্বস্ত করেন যে, ২৬ মে’র মধ্যেই ওই এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দেয়া হবে।

জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ২৬ মে বিকাল সাড়ে ৩টায় আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর আলিফ রেজা স্থানীয় চেয়ারম্যান জাকির হোসেনকে নিয়ে চাকলাতে যান। ঘটনার সত্যতাও পান তিনি। স্থানীয়রা জানান, আমপানের পর তখনও(৭ম দিন) পর্যন্ত সেখানে সরকারি কোন ত্রাণ পৌঁছায়নি। তখন ইউএনও সেখানে যেখান থেকে হোক কিছু ত্রাণ জোগাড় করে্আনতে হবে বলে চেয়ারম্যানকে বলেন। এসময় সেখানকারর স্থানীয় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্স্থা দেসুচারু’র পক্ষ থেকে দুঃস্থদের মাঝে বিতরণের জন্য কিছু ত্রাণ সামগ্রী পূর্ব পাড়া জামে মসজিদে রাখা আছে মর্মে জানতে পেরে তাদের ১০টি ত্রাণের প্যাকেট ধার নেন ইউএনও এবং চেয়ারম্যান। পরে তা স্থানীয় চাকলা গ্রামের মুনতাজ, রফিকুল মিস্ত্রী, রেফাজউদ্দীন খান, আব্দুল্যাহ ঢালী, আবু সাইদ বিশ্বাস, মহিবুল্লাহ বিশ্বাস, মাওলানা তোহিদুর, নূর মোহাম্মদ, মনিরুজ্জামান ও আমিরুল বিশ্বাসের মধ্যে বিতরনের ছবি তোলেন। ইউএনও এর সাথে যাওয়া একজন সংবাদকর্মী এই ছবি তোলেন। এরপর ওই প্যাকেটগুলো ওই ব্যক্তিদের কাছ থেকে ফেরৎ নিয়ে ধার নেওয়া স্থানীয় সেই সংগঠন দেসুচারু-কে ফেরত দিয়ে দেয়া হয়। অর্থাৎ ছবি তুলেই ফিরে আসেন ইউএনও এবং ইউপি চেয়ারম্যান। নিজেদের ত্রাণ ফিরে পাওয়ার কথা এই প্রতিবেদকের কাছে স্বীকান করেন, দেসুচারু’র সংগঠক তরিকুল ইসলাম।

এদিকে ত্রাণ দিয়ে ফেরৎ নেওয়ার ঘটনা জানাজানি হলে পরদিন ২৭মে বিকাল সাড়ে ৪টায় ইউএনও আলিফ রোজা ও চেয়ারমান জাকির হোসেন ত্রাণের প্যাকেট নিয়ে চাকলা ও সুভদ্রাকাটিতে যান। তিনি চাকলায় মাওলানা তৌহিদুর, নূর মোহাম্মদ বিশ্বাস, মনিরুজ্জামান বিশ্বাস ও আবু সাঈদ বিশ্বাসের মধ্যে ১০ কেজি করে চালের প্যাকেট দেন। কিন্ত ত্রাণ দিয়ে ফেরৎ নেওয়া আমিরুল বিশ্বাসসহ অপর ৬জনকে ২৭ মে তারিখেও কোন ত্রাণ দেওয়া হয়নি।

বিষয়টি চাকলা গ্রামের আমিরুল বিশ্বাসের সাথে কথা বল্লে তিনি প্রতিবেদনটির আদ্যোপান্ত স্বীকার করে বলেন, ২৬ মে আমাদের ১০ জনকে ত্রাণ দিয়ে ছবি তোলার পর তা ফেরৎ নেওয়া হয়। ২৭ মে ইউএনও এসে ১০ জনের মধ্যে ৪ জনকে ১০ কেজি করে চাল দেন। তবে আমিসহ ৬ জনকে এখনও কিছু দেওয়া হয়নি। ২৮ মে সর্বশেষ পরিস্থিতি জানার জন্য আমিরুল বিশ্বাসের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, আপনাকে সত্য কথা বলার জন্য আমি এখন হুমকির মুখে আছি। স্থানীয় মাতব্বররা বলে বেড়াচ্ছেন আমাকে আর কোন ত্রাণ দেওয়া হবে না।

এদিকেধোর নিয়ে ত্রাণ দেয়া ও তা ফেরত নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে আশাশুনি উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা মীর আলিফ রেজা বলেন, ‍”আমাকে যখন এমপি স্যার এবং ডিসি স্যার ফোন করে ত্রাণ পৌঁছে দেয়ার কথা বললে আমি খোঁজ নিয়ে জানতে পারি সেখানে আসলেই কোন ত্রাণ বিতরণ করা হয়নি। এরপর আমি ২৬ মে চেয়ারম্যানকে সাথে নিয়ে সেখানে যাই এবং ১০ জনকে ত্রাণ প্রদান করি। তবে ফেরত নেয়ার বিষয়টি আমি প্রথমে জানতাম না। পরদিন ২৭ মে আমি সেখানে চেয়ারম্যানকে সাথে নিয়ে ত্রাণ দিতে যাই। কয়েকজনের হাতে ত্রাণ তুলে দিলেও সেখানে পূর্বের দিনের ১০ জনের সবাই ত্রাণ পেয়েছেন কিনা আমি জানি না। আমিকেয়েকজনের হাতে ত্রাণ তুলে দিয়ে বাকিগুলো স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের বিতরণের নির্দেশ দিয়ে আসি।” স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কাছ থেকে ধার নেয়া ত্রাণ বিতরণ ও ফেরতের ঘটনা অস্বীকার না করেই তিনি বলেন, “সেখানকার স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এবং সাবেক ও বর্তমান ইউপি সদস্যদের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের করেণেই এমনটা হয়েছে।”

এদিকে স্থানীয় জানান, বুধবার আশাশুনি ইউএনও গিয়ে প্রতাপনগরের সুভদ্রাকাটী পুরা গ্রামে ৩ প্যাকেট শিশুদের গুড়া দুধ, ১০ টা হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও ২৫ টা সাবান দিয়ে গেছে। গ্রামে পরিবার মোট ২৭০টা। সুভদ্রাকাটি গ্রামে ৪৫ টা চাউলের বস্তা দিয়েছে। যেখানে প্রত্যেক বস্তায় ১০ কেজি চাউল ছিল। গ্রামের নেতৃস্থানীয়রা এই চাউল প্রত্যেক পরিবারে ভাগ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেক্ষেত্রে পরিবার পিছু ১ কেজি ৬০০ গ্রাম চাউল পেয়েছে। পাশের চাকলা গ্রাম ইউএনওর এই সাহায্য গ্রহণ করেনি। চাকলায় ১২৩ পরিবারের জন্য ১০ কেজি করে চাল দিয়েছে যা স্থানীয় ইউপি সদস্যের জিম্মায় সাইক্লোন শেল্টারে রাখা আছে।

এদিকে ২৬ মে সকাল ১১ টা ৪৩ মিনিটে স্থানীয় সংসদ সদস্য সাবেক স্বাস্থ্য মন্ত্রী প্রফেসর ডা: আ ফ ম রুহুল হক এমপির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাস দেয়া হয়। স্ট্যাটাসটি পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো-

“প্রিয় সাতক্ষীরাবাসী,

ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত আমার নির্বাচনী এলাকার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগরের কিছু প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কাছে এখনও সরকারি ত্রাণ সহায়তা পৌঁছেনি মর্মে জানতে পেরে আমি জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সরাসরি ফোনে কথা বলেছি এবং তাদেরকে জরুরি ভিত্তিতে আজই সেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বরাদ্দকৃত সরকারি ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছি। তারা আমাকে আশ্বস্ত করেছেন আজই সেখানে সরকারি ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেয়া হবে। আমি আমার জনগণকে আশ্বস্ত করছি যে, যে-কোন বিষয়ে আমাকে অবহিত করলে আমি আমার সাধ্যমত চেষ্টা করব তা সমাধান করার।
মহান আল্লাহ আমাদেরকে এই ভয়াবহ দুর্যোগ মোকাবিলা করার ধৈর্য্য ও সাহস দিন। আমিন।”

জেলা প্রশাসক ও উপজেলা প্রাশাসন ত্রাণ বিতরণের বিষয়ে তাকে আশ্বাস্ত করার পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য সাবেক স্বাস্হ্য মন্ত্রী ডা. আ ফ ম রুহুল হক এমপির ফেসবুক পেজে উপরোক্ত স্ট্যাটাসটি দেয়া হয়। স্ট্যাটাসটিতে বহু মানুষ কমেন্ট করে সাংসদের এধরনের নজরদারি এবং সমস্যাকে আমলে নিয়ে তা সমাধানে উদ্যোগী হওয়ার প্রশংসা করেন। সংসদ সদস্য ঢাকায় থেকেও তার নির্বাচনী এলাকার মানুষের জীবন-সম্পদের নিরাপত্তার জন্য সরকারের উচ্চ পর্যায়ে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে দেন-দরবার করে যাচ্ছেন। এলাকায় ত্রাণ ঠিকমত পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদে নির্দেশনা দিচ্ছেন কিন্তু মাঠে তার বাস্তাবায়নের দায়িত্বে নিয়োজিতরা গাফিলতি করছেন- যা দুঃখজনক।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest