সর্বশেষ সংবাদ-
সরকার গণতন্ত্রের পরিবর্তে জবরদখল ও দলীয়করণ শুরু করেছে: এমপি ইজ্জত উল্লাহআ.লীগ ও ভারতের সঙ্গে সমঝোতা করে দেশ চালাচ্ছে সরকার: নাহিদএনসিপির কমিটি পুনর্গঠন: পাটওয়ারী-হাসনাত-সারজিস-আসিফের পদোন্নতি৮১ বছরে জাতিসংঘ: বিশ্ব চায় প্রতিশ্রুতির কার্যকর বাস্তবায়ন – নিকোলাস বিশ্বাসএরশাদের ৯ বছরের শাসন আমলে দেশের মানুষ সবচেয়ে ভালো ছিল: সাবেক এমপি আশুসাতক্ষীরায় জামায়াতে যোগ দিলেন ইসলামী আন্দোলনের নেতা ফারুক হোসেনসাতক্ষীরায় পৌর ও সদর উপজেলা তাঁতীদল এর সাংগঠনিক আলোচনা সভাকলারোয়া রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি মোস্তাক- সম্পাদক ফারুকীসাতক্ষীরা সদরের ৫ নং শিবপুর ইউনিয়নে কৃষক দলের কর্মীসভা অনুষ্ঠিতশ্যামনগরে চেয়ারম্যান প্রার্থী গাজী শাহ আলমের ব্যানার কেটে নষ্ট করার অভিযোগ

সরকার গণতন্ত্রের পরিবর্তে জবরদখল ও দলীয়করণ শুরু করেছে: এমপি ইজ্জত উল্লাহ

নিজস্ব প্রতিনিধি : যারা জনগণের সাথে প্রতারণা করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়, তারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একসময় ক্ষমতা থেকেও ছিটকে পড়ে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের সংসদ সদস্য মুহা. ইজ্জতউল্লাহ এ কথা বলেছেন।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় সাতক্ষীরা আল-আমিন ট্রাস্টের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত জেলা জামায়াতে ইসলামীর এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সরকার ও রাজনৈতিক দলের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরে জামায়াতের এই নেতা বলেন, “সরকার এবং রাজনৈতিক দল এক নয়। বিএনপি নেতারা মনে করতে পারেন সরকার মানেই তাঁদের দল, কিন্তু রাষ্ট্রব্যবস্থায় রাষ্ট্রযন্ত্র ও রাজনৈতিক দল কখনো এক হতে পারে না।” তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যে রাষ্ট্রে দল ও সরকার একাকার হয়ে যায়, সেখানে গণতন্ত্রের পরিবর্তে কর্তৃত্ববাদ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং জবরদখল ও জুলুমের পরিবেশ তৈরি হয়। রাষ্ট্র ও সরকারকে একাকার করে ফেলা হলে বর্তমান সরকারকেও বিদায়ী আওয়ামী লীগের চেয়েও করুণ পরিণতির মুখে পড়তে হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জেলা প্রশাসনসহ নানা স্তরে অনির্বাচিত ব্যক্তিদের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ দিয়ে জনগণের অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। এভাবে জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বন্ধ না হলে এবং দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা চললে, সাধারণ জনগণকে সাথে নিয়ে আবারও সরকারের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুলের সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারী মাওলানা আজিজুর রহমানের সঞ্চালনায় বৈঠকে জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর, সহকারী সেক্রেটারী, কর্মপরিষদের সদস্য এবং বিভিন্ন উপজেলার আমীর-সেক্রেটারিসহ স্থানীয় শীর্ষ দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।#

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আ.লীগ ও ভারতের সঙ্গে সমঝোতা করে দেশ চালাচ্ছে সরকার: নাহিদ

অনলাইন ডেস্ক : আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং জ্বালানি খাতের সংকট মোকাবিলায় ‘ব্যর্থতার দায়ে’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে রাজধানীতে আগামী ৩০ অক্টোবর গণবিক্ষোভের ডাক দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। অন্য দুই দফা হলো—একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি বিলুপ্ত করে গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং সাইবার আইনসহ সব কর্তৃত্ববাদী আইন বাতিল।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সিএ ভবনসংলগ্ন এলাকায় এক সমাবেশ থেকে এ গণবিক্ষোভের ডাক দেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

সমাবেশে তিন দফা দাবিতে ৩০ অক্টোবর বেলা ৩টায় রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে গণবিক্ষোভে ঢাকাবাসীকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন।

এই গণবিক্ষোভ সফল করতে সপ্তাহব্যাপী গণসংযোগ কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে এদিন। সমাবেশ শেষে কারওয়ান বাজারে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে লিফলেট বিতরণসহ গণসংযোগ করেন এনসিপির নেতাকর্মীরা।

সমাবেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমাদের দাবি সুস্পষ্ট। আমরা মনে করি এই যে ব্যর্থতা, সার্বিকভাবে এই ব্যর্থতার দায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জ্বালানিমন্ত্রীকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। গত সাত মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি সংবিধান নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও জনগণের অধিকার রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছেন না। বরং সংবিধান কাটাছেঁড়া করে ফ্যাসিবাদী কায়দায় জনগণের অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের দায়িত্বে থাকার নৈতিক অধিকার নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, জ্বালানি খাতেও গত সাত মাসে সরকার কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিতে পারেনি। জ্বালানিমন্ত্রীকে কথা বলতেও দেওয়া হয় না, তিনিও এখন কথা বলেন না। এ অবস্থায় তারও মন্ত্রিসভায় থাকার অধিকার নেই।

মন্ত্রিসভায় আরও অনেকের ব্যর্থতার তালিকা দীর্ঘ হতে পারে উল্লেখ করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, আপাতত এই দুই মন্ত্রীকে সরিয়ে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন করা উচিত। এর আগে তথ্যমন্ত্রীকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং কয়েক দিন আগে একজন প্রতিমন্ত্রীকেও দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে। কিন্তু যাঁদের দায়িত্বে সবচেয়ে বেশি অবহেলার অভিযোগ রয়েছে, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা হচ্ছে না।

আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির আঁতাতের অভিযোগ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি ও সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতার অনেক খবর এসেছে। আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক নিজেদের দিকে টানতে নিরীহ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া, মামলা-বাণিজ্য ও ব্ল্যাকমেল করার মতো ঘটনা ঘটেছে। এখনো আওয়ামী লীগ ও ভারতের সঙ্গে একধরনের সমঝোতার ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করা হচ্ছে। গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নবায়নের বিষয়েও সরকার কী করবে, তা স্পষ্ট করতে পারেনি।

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার পরিবর্তন হলেও রাষ্ট্র পরিচালনার বন্দোবস্তের পরিবর্তন হয়নি। শুধু সরকার বা ব্যক্তির পরিবর্তন যথেষ্ট নয়, রাষ্ট্রের বিদ্যমান বন্দোবস্তের পরিবর্তন করতে হবে। তিনি সরকারকে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।

সমাবেশে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “অনেকে হাল ছেড়ে দিলেও জনগণের অধিকার আদায় এবং সরকারকে জবাবদিহির কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে এনসিপি আবারও রাজপথে নেমেছে। আমরা গণ-অভ্যুত্থানের আগেও যেভাবে মাঠে নেমেছিলাম, এবারও ঠিক সেভাবে নেমেছি। এই সময়ে অনেক রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি হাল ছেড়ে দিয়েছেন। তারা মনে করছেন, এই সরকারকে কিছু বলা যাবে না, ধরা যাবে না, ছোঁয়া যাবে না। কিন্তু আমরা বলছি—এই সরকারকে অবশ্যই সবকিছুর জবাবদিহির আওতায় আনা যাবে, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বাধ্য করা যাবে।”

সমাবেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজধানীবাসীসহ সারা দেশের মানুষকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
এনসিপির কমিটি পুনর্গঠন: পাটওয়ারী-হাসনাত-সারজিস-আসিফের পদোন্নতি

অনলাইন ডেস্ক : জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ১৯৫ সদস্যের পুনর্গঠিত কমিটি প্রকাশ করা হয়েছে৷ কমিটিতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও হাসনাত আবদুল্লাহকে পদোন্নতি দিয়ে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে। আর সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াকে পদোন্নতি দিয়ে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব করা হয়েছে৷

অন্যদিকে আগের কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, আরিফুল ইসলাম আদীব ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ নতুন কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব নাহিদা সারোয়ার নিভা হয়েছেন যুগ্ম সদস্যসচিব৷

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে এনসিপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পুনর্গঠিত কমিটি প্রকাশ করা হয়৷

এই পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে এনসিপির সাংগঠনিক কাঠামো থেকে সাতটি পদ কার্যত বিলুপ্ত হলো। এগুলো হলো: মুখ্য সমন্বয়ক, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক, মুখপাত্র, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক, সংগঠক ও যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক৷

তবে পুনর্গঠিত কমিটিতেও আগের মতো দুইজন করে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব থাকছেন। আগের কমিটিতে মুখ্য সমন্বয়ক পদে নাসীরুদ্দীন, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক পদে সারজিস, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক পদে হাসনাত, মুখপাত্র পদে আসিফ ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক পদে হান্নান দায়িত্ব পালন করেছেন। আর উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক পদে ৪২ জন এবং যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক পদে ২৩ জন দায়িত্বপালন করেন।

কমিটিতে ২৪ জনকে যুগ্ম আহ্বায়ক ও ছয়জনকে যুগ্ম সদস্যসচিব করা হয়েছে। আগের কমিটিতে কোনো সম্পাদকীয় পদ ছিল না, তবে পুনর্গঠিত কমিটিতে ৩২টি সম্পাদকীয় পদে ৩২ জনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের সঙ্গে এক-দুইজন করে সহসম্পাদক আছেন।

এর বাইরেও কমিটিতে ১৯ জন সহসম্পাদক রয়েছেন। ৫৮ জনকে কমিটিতে সদস্য করা হয়েছে। এ ছাড়া কমিটিতে ১১ জনকে সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ২১৭ সদস্যের কমিটি নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল এনসিপি। পরে কমিটিতে কিছু সংযোজন-বিয়োজন হয়েছে। এখন এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে নতুন করে যুক্ত হয়েছেন গত এপ্রিলে দলটিতে যোগ দেওয়া অবিভক্ত বাংলার প্রথম প্রধানমন্ত্রী শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি এ কে ফ্লোরা এবং বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ইসহাক সরকার (তিনি এনসিপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণেরও আহ্বায়ক)। দুজনই যুগ্ম আহ্বায়কের পদ পেয়েছেন। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির সাবেক উপদেষ্টা তারেক এ আদেলকেও এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে।

পুনর্গঠিত কমিটিতে শীর্ষ ছয়ে এনসিপির আট সংসদ সদস্যের মধ্যে তিনজন রয়েছেন। তারা হলেন আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ। দলের অন্য পাঁচ সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন, আতিকুর রহমান মোজাহিদ, আবদুল হান্নান মাসউদ, মাহমুদা আলম মিতু ও নুসরাত তাবাসসুম কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রয়েছেন।

এনসিপির এর আগের কমিটির ১১টি শীর্ষ পদ দলটির নেতৃত্বের ‘সুপার ইলেভেন’ হিসেবে পরিচিত ছিল। পুনর্গঠনের পর তা ‘সুপার সিক্সে’ রূপ নিল।

দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম রাজনৈতিক পর্ষদে দলের শীর্ষ ছয় নেতা ছাড়া অন্য ১০ জন হলেন- আবদুল্লাহ আল আমিন, আরিফুল ইসলাম আদীব, আতিকুর রহমান মোজাহিদ, আবদুল হান্নান মাসউদ, আলী আহসান জুনায়েদ, সারোয়ার তুষার, আকরাম হুসাইন, সালেহউদ্দিন সিফাত, মাহমুদা আলম মিতু ও নুসরাত তাবাসসুম।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
৮১ বছরে জাতিসংঘ: বিশ্ব চায় প্রতিশ্রুতির কার্যকর বাস্তবায়ন – নিকোলাস বিশ্বাস

২৪ অক্টোবর “জাতিসংঘ দিবস”। ২০২৬ সালে গোটা বিশ্ব এ দিবসটি পালন করবে এমন এক সময়ে, যখন আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গভীর সংকটের মুখে। যুদ্ধ বেসামরিক মানুষের জীবন বিপন্ন করছে, ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা সম্মিলিত পদক্ষেপ অচল করে দিচ্ছে, মানবাধিকার সুরক্ষায় দেখা যাচ্ছে দ্বৈতনীতি এবং জলবায়ু সংকটের সবচেয়ে বড় বোঝা বহন করছে বিশ্বের ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী। অর্থনৈতিক বৈষম্য ও আর্থিক চাপও বাধাগ্রস্ত করছে টেকসই উন্নয়ন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রতিষ্ঠিত জাতিসংঘের লক্ষ্য ছিল ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ থেকে রক্ষা করা এবং সংলাপের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করা। ১৯৪৫ সালে জাতিসংঘ সনদ কার্যকর হওয়ার ৮১ বছর পরও এই লক্ষ্য অপরিহার্য। তবে প্রতিষ্ঠাকালীন আদর্শ ও মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতার ব্যবধান প্রশ্ন তুলছে: জাতিসংঘ কি তার প্রতিশ্রুতি পূরণে সক্ষম?

প্রতিনিধিত্ব ও কার্যকারিতার সংকট
বর্তমানে জাতিসংঘের সদস্যরাষ্ট্র ১৯৩টি। ভ্যাটিকান ও ফিলিস্তিন রাষ্ট্র সদস্য না হলেও পর্যবেক্ষক রাষ্ট্রের মর্যাদায় রয়েছে। ১৯৪৫ সালে ৫১টি প্রতিষ্ঠাতা সদস্য নিয়ে যাত্রা শুরু করা সংস্থাটিতে বাংলাদেশ যোগ দেয় ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর। সর্বশেষ সদস্যরাষ্ট্র দক্ষিণ সুদান, যার সদস্যপদ লাভের তারিখ ২০১১ সালের ১৪ জুলাই।

সাধারণ পরিষদে প্রতিটি সদস্যরাষ্ট্রের একটি করে ভোট থাকলেও বৈশ্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সবার প্রভাব সমান নয়। বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামোয় ক্ষমতার অসম বণ্টন স্পষ্ট। তাই প্রশ্নটি জাতিসংঘের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নয়; বরং সংস্থাটি কতটা কার্যকর, প্রতিনিধিত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক হতে পারে, সেটিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বিশ্বে যুদ্ধ প্রতিরোধের লক্ষ্যে। অথচ ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের ভেটো ক্ষমতা প্রায়ই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করে। যখন সম্মিলিত দায়িত্বের চেয়ে জাতীয় কৌশলগত স্বার্থ প্রাধান্য পায়, তখন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মূল্য দিতে হয় সাধারণ মানুষকেপরিবার হারায় ঘরবাড়ি, শিশুরা হারায় শিক্ষার সুযোগ এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়।

শান্তি মানে শুধু যুদ্ধ বন্ধ হওয়া নয়; এর অর্থ নিরাপদে ঘরে ফেরা, ভয়মুক্ত জীবনযাপন এবং মর্যাদার সঙ্গে নতুন করে জীবন গড়ে তোলা। সংঘাত প্রতিরোধে আগাম সতর্কতা, কূটনৈতিক উদ্যোগ ও মধ্যস্থতা জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা পরিষদে অনু-প্রতিনিধিত্বশীল অঞ্চলগুলোর অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং ব্যাপক নৃশংসতার ক্ষেত্রে ভেটো ব্যবহারে সংযম প্রতিষ্ঠা জরুরি। এজন্য প্রয়োজন প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোর রাজনৈতিক সদিচ্ছা।

বহুপাক্ষিকতায় আস্থা ফেরানো
জাতীয়তাবাদ, রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থার অবক্ষয় বৈশ্বিক সহযোগিতাকে দুর্বল করছে। কিছু সরকার আন্তর্জাতিক চুক্তিকে জাতীয় সার্বভৌমত্বের সীমাবদ্ধতা হিসেবে দেখে; অন্যরা মনে করে, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো সব ক্ষেত্রে একই নীতি অনুসরণ করে না। আস্থা পুনরুদ্ধারে প্রয়োজন ন্যায্যতা, স্বচ্ছতা ও দৃশ্যমান ফলাফল। অন্যদের কাছে জবাবদিহি দাবি করা ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলোকেও নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহি করতে হবে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে এই বিতর্ক স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ২০২৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মাইলেই জাতিসংঘকে ‘অকার্যকর সংস্থা’ এবং এর কর্মকর্তাদের ‘অহংকারী পরজীবী’ বলে আখ্যায়িত করেন বলে দ্য টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, সংস্থাটি সম্মিলিত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। বিপরীতে, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ নিরাপত্তা পরিষদে সব অঞ্চলের ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে সংস্কারের আহ্বান জানান এবং ভেটো ক্ষমতা বিলুপ্ত করার পক্ষে মত দেন বলে আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মহামারি, জলবায়ু পরিবর্তন ও সাইবার হুমকি প্রমাণ করে, স্বার্থের পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতা অপরিহার্য। দায়িত্বশীল বহুপাক্ষিকতা জাতীয় স্বার্থকে অস্বীকার করে না; বরং তা সুরক্ষায় সহায়তা করে। এজন্য আন্তর্জাতিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, প্রতিশ্রুতি রক্ষা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জাতিসংঘের অন্যতম দায়িত্ব হওয়া উচিৎ।

মানবাধিকার হতে হবে সর্বজনীন
মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র মানুষের মর্যাদা, স্বাধীনতা ও সমতার অভিন্ন মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে। কিন্তু এর বাস্তবায়ন এখনো অসম। কোনো কোনো সরকার সমালোচনা এড়াতে সার্বভৌমত্বের যুক্তি তুলে ধরে। অন্যদিকে নজরদারি, অনলাইন সেন্সরশিপ ও ডিজিটাল দমন-পীড়ন ব্যক্তি-স্বাধীনতার জন্য নতুন হুমকি তৈরি করছে।

রাজনৈতিক সুবিধা অনুযায়ী নয়, সর্বক্ষেত্রে মানবাধিকার রক্ষা করতে পারলেই জাতিসংঘের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়বে। বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও আইনের দৃষ্টিতে সমতা কোনো রাজনৈতিক সমঝোতার হাতিয়ার হতে পারে না। গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিরপেক্ষ তদন্ত, জবাবদিহি এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সুরক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

টেকসই উন্নয়নে বৈশ্বিক সংহতি
জাতিসংঘের ২০৩০ সালের এজেন্ডা ও ১৭টি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা দারিদ্র্য, বৈষম্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবেশ সুরক্ষায় অভিন্ন কাঠামো তৈরি করেছে। কিন্তু অর্থনৈতিক অভিঘাত, ঋণসংকট, অপর্যাপ্ত অর্থায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তন অগ্রগতিকে মন্থর করছে। পরিবেশগত সংকটে যাদের অবদান সবচেয়ে কম, অনেক ক্ষেত্রে তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সবচেয়ে বেশি।

বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য সহজলভ্য জলবায়ু অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ন্যায্য অর্থনৈতিক ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কার, স্বল্পসুদে উন্নয়ন অর্থায়ন এবং অসহনীয় ঋণের বোঝা কমানো জরুরি। উন্নত দেশগুলোকে জলবায়ু প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বাস্তব আর্থিক সহায়তার সমন্বয় ঘটাতে হবে।

তবে শুধু বৈদেশিক সহায়তা যথেষ্ট নয়। জাতীয় নেতৃত্ব, সুশাসন ও জবাবদিহিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। জাতিসংঘের দায়িত্ব হলো অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা এবং উন্নয়নের সুফল যেন ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছেও পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করা।

ঘোষণার চেয়ে বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ
জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের প্রতিপাদ্য – ‘আস্থা পুনরুদ্ধার, পরিবর্তন মোকাবিলা: সবার জন্য কার্যকর জাতিসংঘ’ – বর্তমান চ্যালেঞ্জের সারকথা তুলে ধরে। মানুষের জীবনে দৃশ্যমান অগ্রগতিই আস্থা ফেরানোর প্রধান শর্ত। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়, ফলাফলের জবাবদিহি এবং প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার বাড়াতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা জনসেবা উন্নত করতে পারে, তবে এর ব্যবহার মানবাধিকার ও স্বচ্ছতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া জরুরি।

সদস্যরাষ্ট্রগুলোর পাশাপাশি নাগরিক সমাজ, তরুণ প্রজন্ম, গবেষক ও সাংবাদিকদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোকে শুধু আন্তর্জাতিক বৈঠকে অংশ নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ন্যায্য বৈশ্বিক নিয়ম প্রতিষ্ঠা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর স্বার্থ তুলে ধরে তা আদায় করতে হবে।

মানবতার প্রতি নতুন অঙ্গীকার
জাতিসংঘ দিবস কেবল বার্ষিকী উদ্‌যাপনের দিন নয়; বরং প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার ব্যবধান পর্যালোচনার উপলক্ষ্য। জাতিসংঘ নিখুঁত প্রতিষ্ঠান নয়, কিন্তু রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আলোচনা ও সমঝোতার জন্য একটি অভিন্ন বৈশ্বিক মঞ্চের প্রয়োজন অনস্বীকার্য। বহুপাক্ষিক সহযোগিতা পরিত্যাগ করলে বৈশ্বিক সংকট দূর হবে না; বরং সেগুলো মোকাবিলা আরও কঠিন হবে।

৮১ বছরে পদার্পণ করা জাতিসংঘের প্রয়োজন প্রতিষ্ঠাকালীন আদর্শের প্রতি নতুন অঙ্গীকার, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, নির্ভরযোগ্য অর্থায়ন এবং সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে মানবতাকে স্থান দেওয়ার মানসিকতা। এর সাফল্য নির্ধারিত হবে শুধু গৃহীত প্রস্তাব দিয়ে নয়; বরং যুদ্ধের দুর্ভোগ কমছে কি না, মানবাধিকার সুরক্ষিত হচ্ছে কি না, উন্নয়নশীল দেশগুলো ন্যায্য সুযোগ পাচ্ছে কি না এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পৃথিবী নিশ্চিত হচ্ছে কি না, তার ভিত্তিতে।

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহ যথার্থই বলেছেন, ‘শান্তির পরিমাপ শুধু স্বাক্ষরিত চুক্তির মাধ্যমে নয়, বরং মানুষের জীবনে আসা পরিবর্তনের মাধ্যমেও করতে হবে।’ বিশ্বের প্রয়োজন এমন এক জাতিসংঘ, যে শুধু কিছু মুষ্টিমেয়দের পক্ষে কাজ করবে না, বরং সবার জন্য কাজ করবে এবং বাস্তব ফলাফল নিশ্চিত করবে।

লেখক পরিচিতি: নিকোলাস বিশ্বাস একজন ফ্রীল্যান্স গণমাধ্যমকর্মী এবং জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (UNFPA) মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত। যোগাযোগের ই-মেইল: gonomaddzam@gmail.com

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
এরশাদের ৯ বছরের শাসন আমলে দেশের মানুষ সবচেয়ে ভালো ছিল: সাবেক এমপি আশু

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাতক্ষীরা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. আশরাফুজ্জামান আশু বলেছেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ৯ বছরের শাসনামলে দেশের মানুষ সবচেয়ে ভালো ছিল। ওই সময়ে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়ন হয়েছে। উপজেলা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা ও শক্তিশালী করার মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হয়েছিল।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলা দিবস উপলক্ষে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা জাতীয় পার্টির আয়োজনে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শহরের কাটিয়া মাস্টারপাড়ায় জেলা জাতীয় পার্টির অস্থায়ী কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আশরাফুজ্জামান আশু বলেন, উপজেলা ব্যবস্থা চালু হলেও বর্তমানে উপজেলা চেয়ারম্যানদের হাতে আগের মতো ক্ষমতা নেই। আগে উপজেলা চেয়ারম্যানদের হাতে অধিক ক্ষমতা ছিল এবং প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ ছিল। কিন্তু বর্তমানে উপজেলা প্রশাসনে ইউএনওর কর্তৃত্ব বেড়েছে।

এরশাদের শাসনামলের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে তিনি বলেন, এরশাদ সাহেব উপজেলা পর্যায়ে উন্নয়ন করেছেন। রেডিও-টেলিভিশনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আজানের ব্যবস্থা করেছিলেন। রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ঘোষণা করেছিলেন। মসজিদ, মাদ্রাসা ও হিন্দুদের উপাসনালয়ের পানির বিল ও বিদ্যুৎ বিল মওকুফ করেছিলেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্যে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক ও সাতক্ষীরা সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মো. মশিউর রহমান বাবু বলেন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অধিকাংশ দল ও প্রার্থী প্রতীক ছাড়া নির্বাচন করেছেন। একমাত্র জাতীয় পার্টি প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। অতীতে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনগুলোর মধ্যে আমরা যে নির্বাচন দেখেছি, তা ছিল অত্যন্ত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ। কোথাও কারচুপির অভিযোগও তুলে ধরা যায়নি। অথচ সেই চেয়ারে আমরা থাকতে পারলাম না। এটাই কি বৈষম্য? তাহলে আমরা কী ধরনের পরিবর্তন চেয়েছিলাম?

সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক দুরবস্থার কথা তুলে ধরে মশিউর রহমান বাবু বলেন, আজ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে, আয় কমেছে এবং অর্থনৈতিক অবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে। যারা ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত, তারাও নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।

দেশের সংকট মোকাবিলায় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারের প্রতি আমার আহ্বান, সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ে একসঙ্গে বসুন। আলোচনার মাধ্যমে দেশের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করুন এবং সমাধানের পথ বের করুন। দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হলে সবার অংশগ্রহণ প্রয়োজন। কোনো একটি দল বা গোষ্ঠী দিয়ে দেশের সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।

আলোচনা সভায় সদর উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আনোয়ার জাহিদ তপনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শেখ শরিফুজ্জামান বিপুলের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, জাতীয় পার্টি সাতক্ষীরা পৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক শেখ আব্দুস ছাদেক, জেলা জাতীয় পার্টির সহসাংগঠনিক সম্পাদক শেখ শাখাওয়াতুল করিম পিটুল, কোষাধ্যক্ষ মো. আশরাফ কন্টাক্টর, পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও জেলা ছাত্রসমাজের সভাপতি মো. কায়সারুজ্জামান হিমেল, জেলা জাতীয় তরুণ পার্টির আহ্বায়ক আবু ইয়াছিন, সদর উপজেলা জাতীয় ছাত্রসমাজের সাধারণ সম্পাদক মো. কাইমুজ্জামান পাভেল এবং সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ শাখা জাতীয় ছাত্রসমাজের সভাপতি সাকিব জামান দীপ্তসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

সভায় জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয়, জেলা, উপজেলা ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। শেষে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন কাটিয়া শাহী মসজিদের ইমাম মুফতি হাফিজুর রহমান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় জামায়াতে যোগ দিলেন ইসলামী আন্দোলনের নেতা ফারুক হোসেন

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (চরমোনাই) ছেড়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন আলহাজ্ব মোঃ ফারুক হোসেন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে সাতক্ষীরা-২ (সদর ও দেবহাটা) আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেকের হাতে হাত রেখে তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন।

আলহাজ্ব মোঃ ফারুক হোসেন সাতক্ষীরা জেলার বকচরা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি এর আগে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (চরমোনাই)-এর কার্ডধারী সদস্য ছিলেন। দলটির পক্ষ থেকে তিনি মেম্বর পদেও প্রার্থী হয়েছিলেন।

শুক্রবার দেবহাটা উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে তাঁর যোগদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাতক্ষীরা জেলা শাখার সহকারী সেক্রেটারি মাহবুবুল আলম, দেবহাটা উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা অলিউল ইসলাম, সেক্রেটারি এইচ এম ইমদাদুল হক, সহকারী সেক্রেটারি সোলায়মান হোসাইন, সখিপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর ইয়াকুব আলী সরদার, সখিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মঈনউদ্দীন ময়না এবং নওয়াপাড়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাওলানা হাবিবুল্লাহ বাশারসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় পৌর ও সদর উপজেলা তাঁতীদল এর সাংগঠনিক আলোচনা সভা

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : সাতক্ষীরায় পৌর ও সদর উপজেলা তাঁতীদল এর আয়োজনে সাংগঠনিক আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয়েছে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম ও সাবেক ০৩ বারের প্রধানমন্ত্রী, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং আরাফাত রহমান কোকোর মাগফিরাত কামনায় জিয়া উদ্যানে তাদের মাজার জিয়ারত এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী তাঁতীদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ ভাই ও সদস্য সচিব হাজী মজিবুর রহমান ভাইসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথে ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় প্রোগ্রাম সফল করার জন্য ২২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ রোজ বৃহস্পতিবার বিকাল ৫ টায় সাতক্ষীরা শহরের রয়েল প্লাস কনভেনশন হলে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা ও পৌর তাঁতীদলের আয়োজনে সদর উপজেলা তাঁতীদল এর আহবায়ক (ভারপ্রাপ্ত) ও জেলা তাঁতীদল এর সহ-সভাপতি শেখ আবু তুহিন এর সভাপতিত্বে এবং পৌর তাঁতীদল এর আহবায়ক ও জেলা তাঁতীদলের সহ-সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন লাল্টুর সঞ্চালনায় প্রস্তুতি সভা অনুষ্টিত হয়েছে।
উক্ত প্রস্তুতি সভায় প্রধানমন্ত্রী অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা তাঁতীদল এর সভাপতি হাসান শাহরিয়ার রিপন, সিনিয়র সহ-সভাপতি সাবিনা ইয়াসমিন, সহ-সভাপতি জিয়াউর রহমান জিয়া, সহ-সভাপতি যথাক্রমে মোঃ সাইদুর রহমান পলাশ, মোঃ আব্দুল্লাহ মাষ্টার, অধ্যক্ষ শাহানুর ইসলাম সবুজ, সাধারণ সম্পাদক এস এম সাহেব আলী, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মাহমুদুল ইসলাম বুলবুল, দপ্তর সম্পাদক মোঃ ফজলুল হক, প্রচার সম্পাদক মোঃ ওয়েজ কুরুনী শুভ।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা তাঁতীদল এর সহ-সভাপতি আব্দুস সাত্তার, জেলা তাঁতীদল এর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ গোরা ও মোঃ শরিফুল ইসলাম, জেলা তাঁতীদল এর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পৌর তাঁতীদল এর সদস্য সচিব নাহিদ হাসান টিপু, জেলা তাঁতীদল এর সহ সাধারণ সম্পাদক যথাক্রমে এড. আবু তাছিন বাবলু, সার্জেন্ট(অব) মইনুল ইসলাম, মতিনুর রহমান, জেলা তাঁতীদল এর সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ও পৌর তাঁতীদল এর সদস্য সচিব নাজমুল হুদা, ওমর ফারুক শাহিন, জেলা তাঁতীদল নেতা রেজাউল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম ভোমরা, জাহাঙ্গীর আলম সজিব, মনিরুল ইসলাম, আবু রায়হান, ছিয়ারুল, আরিজুল সরদার, মোঃ ফারুক, শেখ সিরাজুল ইসলাম, আবু বকর সিদ্দিক, ফিরোজ হোসেন প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবু জাহিদ ডাবলু বলেন; সাতক্ষীরায় জাতীয়তাবাদীর শক্তি শক্তিশালী করতে হলে জাতীয়তাবাদী তাঁতীদলসহ সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কমিটি প্রতিটা ইউনিয়নের ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত গঠন করতে হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কলারোয়া রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি মোস্তাক- সম্পাদক ফারুকী

কলারোয়া প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার কলারোয়া রিপোর্টার্স ক্লাবের নির্বাচনে সভাপতি পদে মো. মোস্তাক আহমেদ বিজয়ী হয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন মুহাঃ আসাদুজ্জামান ফারুকী। সহ-সভাপতি পদে সমান ভোট পাওয়ায় শামসুর রহমান লালটু ও এসএম জাকির হোসেন দুজনকেই বিজয়ী ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত ক্লাবের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন তালা সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু বকর সিদ্দিক। সদস্য সচিব ছিলেন সাতক্ষীরা জজকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহিল হাবিব।

সভাপতি পদে মো. মোস্তাক আহমেদ ও এমএ আজিজ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ভোটগ্রহণ শেষে মোস্তাক আহমেদ বিজয়ী হন। সাধারণ সম্পাদক পদে মুহাঃ আসাদুজ্জামান ফারুকী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

সহ সভাপতি পদে শামসুর রহমান লালটু ও এসএম জাকির সমান ভোট পান। পরে নির্বাচন কমিশনার উপস্থিত সবার সম্মতি নিয়ে দুজনকেই বিজয়ী ঘোষণা করেন।

যুগ্ম সম্পাদক পদে মোজাফফর হোসেন পলাশ বিজয়ী হয়েছেন। এ পদে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ফারুক হোসেন রাজ ও গোলাম রসূল। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বিজয়ী হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন তাজ উদ্দীন আহমেদ রিপন।

প্রচার ও সাহিত্য-সংস্কৃতি সম্পাদক পদে মিল্টন কবীর বিজয়ী হয়েছেন। এ পদে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন রেজওয়ান উল্লাহ।

এ ছাড়া বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কোষাধ্যক্ষ পদে মোস্তফা হোসেন বাবলু এবং দপ্তর সম্পাদক পদে মোর্তজা হাসান নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাহী সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন এসএম ফারুক, আসাদুজ্জামান আসাদ ও আহসানুল্লাহ।

নির্বাচনের মাধ্যমে ক্লাবের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হওয়ায় সদস্যদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। নতুন কমিটির নেতৃত্বে কলারোয়ার সাংবাদিকদের পেশাগত ঐক্য, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদার হবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest