সর্বশেষ সংবাদ-
৬ লাখ মানুষের জলাবদ্ধতা নিরসনে টিআরএম চান সাতক্ষীরার যুবরাসাতক্ষীরায় এবি পার্টির আহ্বায়ক কমিটি গঠন: আহ্বায়ক শাকিল, সদস্য সচিব শাহীনসাতক্ষীরায় রিইবের সিএসও’র ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিতসাতক্ষীরায় চাঁদা না পেয়ে নির্মাণাধীন বাড়ি ভাংচুর ও মারপিট: গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলনআশাশুনিতে পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে ইজিবাইকের ওপর: অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন পথচারীসাতক্ষীরায় উপজেলা পর্যায়ে তৃণমূল জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি সমাবেশশ্যামনগরে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সরকারি সেবা প্রাপ্তির মানোন্নয়নে পাবলিক হেয়ারিংগভীর রাতে গাবুরায় গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর ‌দাফন সম্পন্নগাজী নজরুলের ফাঁ*সির দাবিতে উত্তাল শ্যামনগরসাতক্ষীরায় যুবদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা, আনন্দ মিছিল

৬ লাখ মানুষের জলাবদ্ধতা নিরসনে টিআরএম চান সাতক্ষীরার যুবরা
নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার বেতনা ও মরিচ্চাপ অববাহিকায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট (টিআরএম) বা জোয়ারাধার কার্যক্রম দ্রুত চালুর দাবি জানিয়েছে যুব পানি কমিটি।
সংগঠনটির নেতারা বলছেন, নদী সচল থাকা অবস্থায় টিআরএম চালু করা না হলে আগামী এক-দুইটি শুষ্ক মৌসুমের মধ্যেই নদীতে আবারও পলি জমে নাব্যতা কমে যেতে পারে। এতে সম্প্রতি ৪৭৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত প্রকল্পের সুফলও দীর্ঘস্থায়ী না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সাতক্ষীরা শহরে উত্তরণের আঞ্চলিক কার্যালয় চত্বরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন যুব পানি কমিটির সভাপতি মো. হোসেন আলী।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ১৯৯০-এর দশক থেকে সাতক্ষীরা সদর, কলারোয়া, তালা, আশাশুনি ও দেবহাটা উপজেলার ২৫টি ইউনিয়নের প্রায় ৪৮ হাজার ৭৬৫ হেক্টর এলাকা দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার কবলে রয়েছে। এতে অববাহিকার ৬ লাখের বেশি মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিভিন্ন সময়ে নদী-খাল খনন, স্লুইসগেট নির্মাণ ও উপকূলীয় বাঁধ সংস্কারে সরকারি উদ্যোগ নেওয়া হলেও জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান হয়নি। প্রতি বছর বেতনা ও মরিচ্চাপ নদীতে ৪ থেকে ৬ ফুট পর্যন্ত পলি জমছে।
এতে উজানের অংশ ভরাট হয়ে নদীগুলো নাব্যতা হারাচ্ছে। এর সঙ্গে নদী-খাল দখল, অনিয়ন্ত্রিত চিংড়ি চাষ এবং স্লুইসগেট ব্যবস্থাপনায় নানা সমস্যার কারণে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও কৃষিজমি প্লাবিত হচ্ছে। এতে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান ব্যাহত হয়ে অনেক পরিবার বাস্তুচ্যুত হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে ওয়াটার রিসোর্স প্ল্যানিং ইনস্টিটিউটের আওতাভুক্ত আইডব্লিউএমের সমীক্ষা এবং বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০-এর প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, পলিবহুল এ অঞ্চলে শুধু নদী খনন করে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। টিআরএমের মাধ্যমে জোয়ারের পানি নির্দিষ্ট বিলে প্রবেশ করিয়ে পলি জমার সুযোগ তৈরি করতে হবে। এতে বিলের উচ্চতা বাড়বে এবং নদীতে পলি জমার চাপ কমবে।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০-এ বেতনা-মরিচ্চাপ অববাহিকার সুখদেবপুর, টিকেট, ঝিলমারী, দুর্গাপুর, শ্রীরামপুর, বাগমারা, গোবিন্দপুর, হাজীখালী, আমোদখালী, চাপড়া ও মাটিয়াডাঙ্গা এই ১১টি বিলে টিআরএম বাস্তবায়নের নির্দেশনা রয়েছে। আইডব্লিউএমের সমীক্ষা অনুযায়ী, শুষ্ক মৌসুমে নদীর পুনঃভরাটের হার ৬০ দশমিক ৮৮ শতাংশ বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।
তবে যুব পানি কমিটির নেতারা বলেন, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় পোল্ডার নম্বর ১, ২, ৬-৮ ও ৬-৮ (সম্প্রসারণ)-এর জন্য ৪৭৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে চার বছর মেয়াদি যে প্রকল্প সম্প্রতি শেষ হয়েছে, তাতে টিআরএম রাখা হয়নি। ফলে নদী সচল রাখার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, স্থানীয় মৎস্যঘের ও ভেড়ির কারণে অনেক জায়গায় পানি চলাচলের পথ বন্ধ রয়েছে। ফলে নদী-খাল খনন বা বাঁধ সংস্কার করলেও পানি দ্রুত নিষ্কাশন সম্ভব হচ্ছে না। তাই জলাবদ্ধতা নিরসনে অবকাঠামোগত প্রকল্পের পাশাপাশি পানি চলাচলের সব বাধা দূর করা জরুরি।
সংবাদ সম্মেলন থেকে বেতনা ও মরিচ্চাপ অববাহিকার নির্ধারিত বিলে দ্রুত টিআরএম চালু, পানি নিষ্কাশনের সব প্রতিবন্ধকতা দূর, নদী-খাল দখলমুক্ত করা এবং মৎস্যঘেরের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া পানি চলাচলের পথ খুলে দেওয়ার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে জলাবদ্ধতা নিরসনের কাজে স্থানীয় জনগণসহ সরকারি-বেসরকারি সব অংশীজনের কার্যকর অংশগ্রহণ ও সমন্বয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে যুব পানি কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম খলিল, প্রচার সম্পাদক মো. মোকাররাম বিল্লাহ ইমন, সদস্য সাজিদুল ইসলাম, করিমুন নেছা শান্তা, লামিয়া সুলতানা, রাবিয়া খাতুন, আজমিরা খাতুন, আবু তাহের ও মিলন কুমার উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া উত্তরণের কর্মকর্তা অ্যাডভোকেট মনির উদ্দিন, কেন্দ্র পানি কমিটির সদস্য মীর জিল্লুর রহমান, সদর উপজেলা পানি কমিটির সভাপতি মফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফ বাবু, উত্তরণের নাজমা আক্তার ও প্রতিনিধি গোলাম হোসেনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় এবি পার্টির আহ্বায়ক কমিটি গঠন: আহ্বায়ক শাকিল, সদস্য সচিব শাহীন

জিএম সালাহউদ্দিন (শাকিল)-কে আহ্বায়ক এবং প্রভাষক শাহীন আলমকে সদস্য সচিব করে ‘আমার বাংলাদেশ পার্টি’ (এবি পার্টি)-র সাতক্ষীরা জেলা শাখার ৪১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

গতকাল ২২ সেপ্টেম্বর (২০২৬) দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (দপ্তর) অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল মামুন রানা স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে সাতক্ষীরা জেলা কমিটি গঠন উপলক্ষে রাজধানীর বিজয়নগরস্থ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির কেন্দ্রীয় সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) প্রফেসর ওহাব মিনার, কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার খান আযম এবং খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ ড. ইয়ামিনুর রহমান।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দকে জেলাজুড়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করা, তৃণমূল পর্যায়ে দলের ভিত্তি সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় জনগণের সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার আদায়ে নিবিড়ভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।  প্রেস বিজ্ঞপ্তি

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় রিইবের সিএসও’র ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি :  সাতক্ষীরায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে নারী ও কিশোরীদের মানবাধিকার উন্নয়ন ও সামাজিক অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে রিসার্চ ইনিশিয়েটিভস বাংলাদেশ (রিইব)-এর বাস্তবায়নে এবং নেটজ বাংলাদেশ ও বিএমজেডের সহায়তায় পরিচালিত ‘হোপ’ প্রকল্পের জেলা মানবাধিকার সুরক্ষা দল (সিএসও)-এর ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় জেলা মানবাধিকার সুরক্ষা দলের সদস্যরা অংশ নিয়ে জেলার সার্বিক সামাজিক সমস্যা, সাম্প্রতিক মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং এসব সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

সভার শুরুতেই প্রকল্পের চলমান কার্যক্রম ও অর্জিত অগ্রগতি তুলে ধরেন রিইব-এর প্রকল্প সমন্বয়কারী খালিদ হাসান।

তিনি স্থানীয় পর্যায়ে মানবাধিকার সুরক্ষা জোরদার করা, বিদ্যমান সামাজিক সমস্যা নিরসন এবং সিএসও সদস্যদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।

আলোচনা পর্বে সিএসও সদস্য বেলাল হোসেন ও আসাদুজ্জামান মধু বলেন, সমাজে সহিংসতা প্রতিরোধ, নারী ও শিশুর নিরাপত্তা বিধান, শিশু অপহরণ ও ধর্ষণ রোধসহ মানবাধিকার নিশ্চিত করতে ব্যাপক জনসচেতনতা প্রয়োজন। তারা তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতামূলক উদ্যোগ বৃদ্ধি এবং যেকোনো ঝুঁকি মোকাবিলায় সম্মিলিত ও সমন্বিত প্রয়াস গ্রহণের জোর দাবি জানান।

সভায় সম্প্রতি সাতক্ষীরা সদরে যৌন সহিংসতার শিকার এক প্রতিবন্ধী শিশুর পরিবারকে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ও সহায়তা প্রদানের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে উঠে আসে।

এ বিষয়ে নির্যাতিত শিশুটির পরিবারের পাশে থেকে সার্বিক সহযোগিতা ও প্রশাসনিক সমন্বয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার সম্মতি ব্যক্ত করেন উপজেলা সিএসও সদস্য হাজী আইয়ূব আলী ও মাহফুজা পারভীন লিপি।

মাহফুজা খাতুন লিপির সঞ্চালনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন রিইবের টেকনিক্যাল অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি কোঅর্ডিনেটর তাহেরা সিদ্দিকা এবং এরিয়া সমন্বয়কারী রেখা খাতুনসহ জেলা সিএসও-এর অন্যান্য সদস্যরা। অংশগ্রহণকারীরা পর্যায়ক্রমে তাঁদের মতামত ব্যক্ত করেন এবং আগামী দিনে স্থানীয় পর্যায়ে মানবাধিকার সুরক্ষায় সমন্বিত রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করেন।##

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় চাঁদা না পেয়ে নির্মাণাধীন বাড়ি ভাংচুর ও মারপিট: গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : সাতক্ষীরা পৌর এলাকায় চাঁদা না পেয়ে দিনদুপুরে নির্মাণাধীন বাড়ি ভাঙচুর ও মারপিটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আসামীদের গ্রেফতার পূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী নারী।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এ অভিযোগ করেন সাতক্ষীরা পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের কামালনগর এলাকার বাসিন্দা মোছা. আরিফা খাতুন (৩৯)।
লিখিত বক্তব্যে আরিফা খাতুন বলেন, তিনি ও তাঁর বোন ২০১৩ এবং ২০২২ সালে কামালনগর বউ বাজারের পাশে ৮.২৫ শতক জমি খরিদ করে ভোগদখল করে আসছিলেন।

তাঁর স্বামী ব্যাংকে চাকরির সুবাদে অধিকাংশ সময় বাইরে থাকেন। এ সুযোগে এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যু মোঃ রফিকুল ইসলাম (মন্টু), মহাসিন আলী, মুজিবর রহমান, আক্তার হোসেন (চঞ্চল) ও আব্দুস সবুরসহ একদল অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসী তাঁর জমি দখলের অপচেষ্টা চালিয়ে আসছিল। আসামীরা দীর্ঘদিন ধরে তাঁর কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং চাঁদা না দিলে বাড়ি নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দিয়ে আসছিল।
গত ৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে তিনি তাঁর নির্মাণাধীন বাড়িতে থাকাকালে আসামীরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অনধিকার প্রবেশ করে ছাদের সেন্টারিংয়ের বাঁশ ও কাঠ ভাঙচুর করতে থাকে। প্রতিবাদ করলে আসামীরা ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে অন্যথায় হত্যার হুমকি দেয়। আতঙ্কিত হয়ে ছাদের রড কেনার জন্য ব্যাগে রাখা ৮০ হাজার টাকা রফিকুল ইসলাম মন্টুর হাতে দিয়ে আকুতি জানালেও তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।

আরিফা খাতুন অভিযোগ করেন, আসামীরা তাঁকে বেধড়ক মারধর করে রাস্তায় ফেলে দেয়। তাঁকে রক্ষায় ভাই মনিরুজ্জামান এগিয়ে এলে তাকেও রড ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়। এছাড়া তারা আরিফা খাতুনের বুকের ওপর উঠে দাঁড়ায়, এবং গলায় পা দিয়ে চেপে ধরে এবং শ্লীলতাহানি ঘটায়। সন্ত্রাসীরা তাঁর গলা থেকে ১ ভরি ওজনের সোনার চেইন ও কানের ৮ আনার দুল ছিনিয়ে নেয় এবং হাত-পা বেঁধে মুখ চেপে ধরে। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বাকি ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা চাঁদা না দিলে মা ও সন্তানকে খুনের পর লাশ গুমের হুমকি দিয়ে স্থান ত্যাগ করে সন্ত্রাসীরা।

ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁদের সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর মেরুদণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এক্স-রে এবং ব্রেনের সিটি স্ক্যান করানো হয়। চিকিৎসাধীন থাকার পর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়ে তিনি বিজ্ঞ আমলী ১নং আদালত, সাতক্ষীরায় সংশ্লিষ্ট ধারায় সি.আর. মামলা দায়ের করেছেন

সংবাদ সম্মেলনে আরিফা খাতুন উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “মামলা দায়েরের পর আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং মামলা তুলে নেওয়ার জন্য আমাদের পরিবারকে ক্রমাগত প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। আজ আমি ও আমার সন্তান চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এসব চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ গ্রেফতার পূর্বক কঠোর শাস্তির দাবিতে পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আশাশুনিতে পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে ইজিবাইকের ওপর: অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন পথচারী

আশাশুনি প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার আশাশুনিতে মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে পল্লী বিদ্যুতের একটি সিমেন্টের খুঁটি আকস্মিকভাবে ভেঙে পড়ে একটি ইজিবাইকের ওপর। এতে অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি থেকে রক্ষা পেয়েছেন পথচারী, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও হোটেলে অবস্থানরত লোকজন। তবে খুঁটির নিচে চাপা পড়ে ইজিবাইকটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এ ঘটনায় আশাশুনি বাজার ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকার ডিস ও ওয়াইফাই লাইনসহ বিভিন্ন সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বেলা আড়াইটার দিকে আশাশুনি সদরের জনতা ব্যাংক মোড়ে আজহারুলের হোটেলের পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ বিকট শব্দে পল্লী বিদ্যুতের খুঁটিটি ভেঙে রাস্তার ওপর পড়ে যায়। এ সময় খুঁটির সঙ্গে থাকা বিপুলসংখ্যক বৈদ্যুতিক, ডিস ও ইন্টারনেটের তার ছড়িয়ে পড়ে পুরো সড়কে। খুঁটিটি ধান্যহাটি গ্রামের গণেশ মণ্ডলের ছেলে ঝন্টু মণ্ডলের একটি ইজিবাইকের ওপর পড়লেও সৌভাগ্যক্রমে ওই সময় ইজিবাইকে কোনো যাত্রী বা চালক ছিলেন না। ফলে অল্পের জন্য বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়। পাশের হোটেল ও সড়কে থাকা লোকজনও দৌড়ে নিরাপদে সরে গিয়ে রক্ষা পান।

স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনার পর সড়কের ওপর অসংখ্য বৈদ্যুতিক ও ইন্টারনেটের তার ছড়িয়ে পড়ায় জনসাধারণের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে আশাশুনি বাজার ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় ডিস ও ওয়াইফাই সেবা বন্ধ হয়ে যায়।
খবর পেয়ে আশাশুনি পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিদ্যুৎ সংযোগ ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ভেঙে পড়া খুঁটি অপসারণ এবং সংস্কারের কাজ শুরু করেন।
আশাশুনি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রকৌশলী মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, “লবণাক্ততার কারণে সিমেন্টের পোলটিতে লোনা ধরে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছিল। এরই মধ্যে মুষলধারে বৃষ্টির কারণে পোলটি ভেঙে পড়ে। দ্রুত সংস্কারের কাজ চলছে।”

স্থানীয়দের দাবি, জনবহুল আশাশুনি বাজার এলাকায় দীর্ঘদিনের পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক খুঁটি এবং তারগুলো দ্রুত পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় উপজেলা পর্যায়ে তৃণমূল জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি সমাবেশ

নিজস্ব প্রতিনিধি :  সাতক্ষীরায় উপজেলা পর্যায়ে তৃণমূল জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় সোনার বাংলা কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন, সদর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার শরিফুল ইসলাম।

সম্প্রীতি এইড ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সভার রঞ্জন শিকদারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন, হেড এর নির্বাহী পরিচালক লুইস রানা গাইন, ডিবিসি নিউজের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি এম. বেলাল হোসাইন, ব্রেকিং দ্যা সাইলেন্স এর এইচ আর অ্যান্ড এডমিন অফিসার ক্লেমেন্ট সেতু মন্ডল।

অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সম্প্রীতি এইড এর সহকারী পরিচালক মলি শিকদার, সম্প্রীতি বাক শ্রবণ প্রতিবন্ধী কল্যাণ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আছাদুল ইসলাম।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু ও বা ব্যক্তিরা সমাজের বোঝা নন, সম্পদ। যথাযথ যত্ন নিতে পারলে তারা বিশ্ব জয় করতে পারবে। সুতরাং তাদেরকে অবহেলা করা যাবে না, তাদের বেশি বেশি গুরুত্ব দিতে হবে, সময় দিতে হবে। তাহলেই বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিরা এগিয়ে যাবে। ##

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শ্যামনগরে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সরকারি সেবা প্রাপ্তির মানোন্নয়নে পাবলিক হেয়ারিং

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : সাতক্ষীরা’র শ্যামনগর উপজেলায় সোমবার সকাল ১০ টায় ডিজএ্যাবল্ড রিহ্যাবিলিটেশন এন্ড রিসার্চ এসোসিয়েশন (ডিআরআরএ)এর পিএসিই প্রকল্পের আয়োজনে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ও ক্রিশ্চিয়ান এইড এর সহযোগিতায়
প্রতিবন্ধী ব্যাক্তিদের জন্য সরকারি সেবার প্রাপ্যতা, সহজপ্রাপ্যতা মান ও জবাবদিহি আরও শক্তিশালী করার লক্ষে সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে পাবলিক হেয়ারিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা অফিসার জনাব এস এম দেলোয়ার হোসেন ,সভাপতিত্ব করেন আটুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব আবু সালেহ বাবু,
এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শারিদ বিন শফিক,বিশেষ অতিথি হিসাবে আরো ছিলেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা কার্তিক চন্দ্র মন্ডল সহ ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বারগন ওপিডি লিডার গন সহ গণ্যমান্য ব্যক্তিগন
ডিআরআর থেকে ছিলেন মি: দেবেশ দাস, পিএসিই প্রকল্পের ফিল্ড অর্গানাইজার লিপিকা মন্ডল প্রমুখ।

পাবলিক হেয়ারিং এ কমিউনিটি স্কোর কার্ডের ফলাফল ও সুপারিশ উপস্থাপন করেন মি দেবেশ দাস টেকনিক্যাল কোঅডিনেটর,উম্নক্ত আলোচনায় প্রতিবন্ধী ব্যাক্তিরা বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। সেগুলো নিয়ে উপজেলা সমাজসেবা অফিসার ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা বিশদ ভাবে আলোচনা করেন। পাবলিক হেয়ারিং এ বক্তারা প্রতিবন্ধী ব্যাক্তিদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকারি সেবাগুলোকে আরো সহজপ্রাপ্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক,বৈষম্যহীন ও জবাবদিহি মূলক করার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ডিআরআরএ এর প্রকল্প সমন্বয়কারী জি এম নূরুন্নবী হাসান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
গভীর রাতে গাবুরায় গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর ‌দাফন সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিনিধি :  প্রায় এক দশক আগে পরিবারের সঙ্গে সাতক্ষীরার শ্যামনগরের গাবুরা ইউনিয়নের চৌদ্দরশি গ্রাম ছেড়ে ঢাকায় চলে গিয়েছিলেন মরিয়ম খাতুন। জীবনের শেষ যাত্রায় আবারও সেই গ্রামের মাটিতেই ফিরলেন তিনি। তবে জীবিত নয়, নিথর মরদেহ হয়ে।

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১টার দিকে গাবুরা ইউনিয়নের সরদারপাড়ায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। দাফনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিউল আলম পাটোয়ারী।

এর আগে রাত প্রায় ১১টার দিকে কপোতাক্ষ নদ পেরিয়ে ট্রলারে করে মরিয়মের মরদেহ গাবুরার সরদারপাড়ায় পৌঁছায়। ঢাকায় ময়নাতদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ সাতক্ষীরায় আনা হয়। পরে সড়কপথে ও নদীপথ পেরিয়ে মরদেহ পৌঁছায় তার জন্মভূমিতে। সঙ্গে ছিলেন মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ, মা, দাদি, নানি, ফুপা, ফুপি ও ছোট চাচা মোতাসিম বিল্লাহসহ স্বজনরা।

মরদেহ পৌঁছানোর পর গাবুরা পশ্চিমপাড়া সরদারবাড়ি জামে মসজিদের পাশে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা নুরুল হুদা জানাজায় ইমামতি করেন। এতে স্বজনদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা, ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফা এবং শ্যামনগর থানার এসআই অনিরুদ্ধ রায় ও বদিউজ্জামান উপস্থিত ছিলেন। জানাজা শেষে রাত ১টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে মরিয়মকে দাফন করা হয়।

জানাজায় ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফা মরিয়মের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন এবং তার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া করতে উপস্থিতদের প্রতি আহ্বান জানান।

মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেছেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম ও ওবায়দুল্লাহকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকসুদা বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে।

এর আগে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ময়নাতদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মরিয়মের পরিবারের অভিযোগ, তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। একই সঙ্গে ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় আইলায় বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ পরিবার নিয়ে চৌদ্দরশি গ্রাম ছেড়ে প্রথমে শ্যামনগরের ঈশ্বরীপুর এলাকায় এবং পরে যশোরের নওয়াপাড়ায় বসবাস করেন। প্রায় ৮ থেকে ১০ বছর আগে পরিবারটি ঢাকায় চলে যায়। এরপর মগবাজার ও পল্লবী-কালশী এলাকায় বসবাস করছিল তারা।

দীর্ঘদিন পর সেই চৌদ্দরশির মাটিতেই শেষ ঠিকানা হলো মরিয়মের। জীবনের শেষ যাত্রায় নিজের শেকড়ের কাছে ফিরলেন তিনি—নিথর মরদেহ হয়ে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest