সর্বশেষ সংবাদ-
ঈদ উল আযহা উপলক্ষে সাতক্ষীরায় রোড শো, ও পরিবহণ কাউন্টারে মনিটারিংকালিগঞ্জে শিশু ধর্ষণ মামলার আসামি সোহরাব হোসেনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড তালায় গাঁজা সেবনের সময় আটক দিদার মোড়ল : ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ডসাতক্ষীরায় পানি সম্পদ ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে অবহিতকরণসাতক্ষীরা পৌরসভা কর্তৃক শহরের ফুটপাত থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া ফল ও নগদ টাকা ফেরত পাওয়ার দাবিতে সংবাদ সম্মেলনদেবহাটায় ঘূর্ণিঝড়ে লণ্ডভণ্ড বিধবা নারীর মাটির ঘর: মানবেতর জীবনজাতীয় প্রতিভা অন্বেষণে মূকাভিনয়ে দেশসেরা সাতক্ষীরার জান্নাতনারী ও যুব নেতৃত্বের অংশগ্রহণে জলবায়ু সহনশীলতা ও সুরক্ষা বিষয়ক গোলটেবিল বৈঠকপদোন্নতি পেয়ে যমুনা টিভির স্টাফ রিপোর্টার হলেন আকরামুলচিকিৎসকের উপর বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন

ঈদ উল আযহা উপলক্ষে সাতক্ষীরায় রোড শো, ও পরিবহণ কাউন্টারে মনিটারিং

নিজস্ব প্রতিনিধি : “আসন্ন ঈদ উল আযহা ২০২৬” উদযাপন উপলক্ষে সড়ক দুর্ঘটনা রোধকল্পে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সাতক্ষীরা সার্কেলের উদ্যোগে ঢাকাগামী পরিবহণ কাউন্টার গুলোতে মনিটারিং এবং রোড শো অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে ‘২৬) বিকালে শহরের সঙ্গীতার মোড়ে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ ও বিআরটিএ সাতক্ষীরার যৌথ আয়োজনে ঘরেফেরা/ঘরমুখো মানুষদের সচেতনতা বৃদ্ধি করতে ঢাকাগামী বিভিন্ন পরিবহণ কাউন্টারে মনিটারিং এবং রোড শো’র আয়োজন করা হয়।

বিআরটিএ খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোঃ জিয়াউর রহমান এর দিক নির্দেশনায় অনুষ্ঠিত পরিবহণ কাউন্টারে মনিটারিং ও রোড শোতে পথচারী, চালকদের মাঝে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।

রোড শো’তে সকলের উদ্দেশ্যে সচেতনতামূলক সঞ্চালনা করেন বিআরটিএ সাতক্ষীরা সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি) উসমান সরওয়ার আলম।

কাউন্টার মনিটারিং ও রোড শো’ তে এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বিআরটিএ’র সাতক্ষীরার সার্কেলের মোটরযান পরিদর্শক মোঃ ওমর ফারুক, মেকানিক্যাল এ্যাসিস্ট্যান্ট মোঃ ওবায়দুর রহমান, উচ্চমান সহকারী মোঃ নাসির উদ্দিন, ট্রাফিক বিভাগের সদস্য, পরিবহণ মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধি।

পরিবহণ কাউন্টারে মনিটারিং ও রোড শোতে স্থানীয় জনগণ ও পথচারীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া পরিলক্ষিত হয়েছে। বিআরটিএ এধরনের উদ্যোগকে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, স্থানীয় মানুষ ও সাধারণ জনগণ এই কার্যক্রমকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কালিগঞ্জে শিশু ধর্ষণ মামলার আসামি সোহরাব হোসেনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড 
নিজস্ব প্রতিনিধি:  চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে সোহরাব হোসেন সরদার নামের এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদ-,৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদ- দেওয়া হয়েছে।
২১ মে বৃহষ্পতিবার সাতক্ষীরার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোঃ আবু বক্কর ছিদ্দিক এক জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষনা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামী সোহরাব হোসেন আদালতের কাঠগোড়ায় হাজির ছিলেন।
আসামী সোহরাব হোসেন সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার তারালী গ্রামের মৃত মহব্বত আলী সরদারের ছেলে।
মামলার বিবরনে জানা যায়, সম্পর্কে দাদা হওয়ায় কালিগঞ্জ উপজেলার তারালী গ্রামের সোহরাব হোসেন চার বছর বয়সী ভিকটিমের সাথে মাঝে মাঝে খেলাধুলা করতেন। ২০২৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৩টা ২০ মিনিট পর্যন্ত নিজেদের উঠানে খেলা করার একপর্যায়ে আসামী ভিকটিমকে কৌশলে তার ঘরের মধ্যে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে গলা চেপে হত্যার ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করে সোহরাব।
বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য আবারো ভয় দেখায় সোহরাব।  সন্ধ্যায় যৌনাঙ্গে যন্ত্রণা শুরু হলে জানতে চাইলে ওই ভিকটিম বিষয়টি তার মাকে জানায়। একপর্যায়ে তাকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ওই বছরের  ৪ মার্চ ভিকটিমের মা বাদি হয়ে সোহরাব হোসেনকে আসামী শ্রেণীভুক্ত করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২০০০ সালের সংশোধিত ২০০৩ এর ৯(১) ধারায় কালিগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। একই দিনে সাতক্ষীরার বিচারিক হাকিম মাসুমা আক্তার ভিকটিমের জবানবন্দি গ্রহণ করেন।
একই দিনে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা কালিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক জাহিদুল আলম এজাহারভুক্ত আসামীর নাম উল্লেখ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। তবে আসামী গ্রেপ্তারের পর থেকে জামিনে মুক্তি পাননি।
 ১৩ জন সাক্ষীর জেরা ও জবানবন্দি এবং মামলার নথি পর্যালোচনা শেষে আসামী সোহরাব হোসেনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদ-, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা , অনাদায়ে আরো তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদ- দেন।
আসামী মামলার রায় শোনার পর তার কাছে জানতে চাইলে তিনি আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করে উচ্চ আদালতে যাবেন বলে জানান।
0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
তালায় গাঁজা সেবনের সময় আটক দিদার মোড়ল : ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড

তালা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার তালায় আলোচিত মোঃ দিদার আলী মোড়লকে গাঁজা সেবনের সময় আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। তিনি উপজেলার দেওয়ানীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
বুধবার (২০ মে) দুপুরে পাটকেলঘাটা ওভারব্রিজের নিচ থেকে তাকে আটক করা হয়।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, বুধবার দুপুরে দিদার মোড়ল পাটকেলঘাটা ওভারব্রিজের নিচে কয়েকজনকে নিয়ে গাঁজা সেবন করছিলেন। এ সময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও মাদক নিয়ন্ত্রণ টাস্কফোর্সের যৌথ অভিযানে তাকে আটক করা হয়।
পরে অভিযানে নেতৃত্বদানকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাকে ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

এর আগে দিদার মোড়ল তার মৎস্য ঘেরে গাঁজা চাষের অভিযোগে তালা থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বলেও জানা গেছে।
দ্রষ্টব্য: আপনার লেখায় এক জায়গায় ২ বছর এবং অন্য জায়গায় ২ মাস কারাদণ্ড লেখা আছে। সঠিক তথ্যটি নিশ্চিত করে নিলে ভালো হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় পানি সম্পদ ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে অবহিতকরণ

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ সাতক্ষীরায় “সমন্বিত পানি সম্পদ ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ অবহিতকরণ কর্মশালা” অনুষ্ঠিত হয়েছে। শহরের কামালনগর লেক ভিউ রিসোর্টে বুধবার সকালে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা রূপান্তরের আয়োজনে ওয়াটার এইড বাংলাদেশ ও সুইসকন্টাক্ট বাংলাদেশের সহযোগিতায় গোফরইমপ্যাক্ট’ প্রোগ্রামের আওতায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন।

সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন,পৌরসভা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত আলী,মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহার, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর উপ-পরিচালক সঞ্জিত কুমার দাস,উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.ফরাদ জামিল,নির্বাহী প্রকৌশলী এম এম নূর আহম্মদ, সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান, রুপান্তরের প্রকল্প ব্যবস্থাপক সৈয়দ আসাদুল হকসহ আরো অনেকে।

কর্মশালায় পানি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার, নিরাপদ পানি নিশ্চিতকরণ, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব এবং পরিবেশ সুরক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরা পৌরসভা কর্তৃক শহরের ফুটপাত থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া ফল ও নগদ টাকা ফেরত পাওয়ার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

প্রেস বিজ্ঞপ্তি :
সাতক্ষীরা পৌরসভা কর্তৃক শহরের ফুটপাত থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া ফল ও নগদ টাকা ফেরত পাওয়ার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান শহরের মুন্সিপাড়া গ্রামের নুর ইসলাম গাজীর পুত্র মাহমুদ হাসান বাবু।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে পাকাপুল(ব্রীজের) ফুটপাতে বিভিন্ন ধরনের ফল বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছি। সারা দিন ফল বিক্রি করে যা পাই তা দিয়ে কোন রকমে পরিবারের সদস্যদের মুখে খাবার তুলে দেই। থানা মোড় থেকে লাবনী মোড় পর্যন্ত প্রায় শতাধিক ব্যক্তি ফুটপথে এভাবে ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। সম্প্রতি সাতক্ষীরা পৌরসভার পর পক্ষ থেকে সকল কে উঠে যাওয়ার জন্য বলে। সে নির্দেশ মোতাবেক আমিও ফুটপথে দোকান পাতানো বন্ধ করে দেই। কিন্তু অন্য কেউ দোকান পাতানো বন্ধ করেনি। কয়েকদিন অপেক্ষা করার পর সকলের দেখাদেখি আমিও অন্যের মত দোকান পাতানো শুরু করি। গত মঙ্গলবার দুপুরে আমি যখন যোহরের নামাজ পড়তে মসজিদে যায় তখন পৌরসভার কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে আমাকে না পেয়ে ফল এবং বিক্রির টাকা পয়সা নিয়ে চলে যায়। নামাজ শেষে বিষয় এসে দেখি আমার মালামাল নেই। অথচ পাশেই অনেকেই দোকান পরিচালনা করছে। তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলে পৌরসভা থেকে এসে তোমার দোকান তুলে নিয়ে গেছে। আমি পৌরসভায় গেলে বর্তমান সিইও বলেন “তোমার মালামাল আমরা এতিম খানায় দিয়ে দিছি। দরখাস্ত করে ছাতা এবং দাড়ীপাল্লাটা নিয়ে যাও।” মালামাল সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে এতিম এখানায় দিলেন কেন? এটার কোন উত্তর দেননি।

তিনি বলেন, আমি অসহায় দরিদ্র মানুষ বলেই তো রাস্তার ফুটপাতে বসে ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনা করে জীবিকা নির্বাহ। আমার অপরাধ হয়ে থাকলে জরিমানা করবে, কিন্তু মালামাল তুলে নিয়ে এতিম খানায় দেওয়ার আইন কোথায় পেলো পৌরসভা। এছাড়া ফুটপথে শতাধিক ব্যক্তি ব্যবসা পরিচালনা করলেও তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেই। আমার উপর পৌরসভার ক্ষোভ কি কারনে। আমার দোকানে প্রায় ৩০ হাজার টাকার মালামাল ছিল এবং বিক্রির টাকা ছিল ৫ হাজার টাকা। এছাড়া প্রয়োজনীয় কিছু কাগজপত্রও ছিলো। যদি ফুটপাত থেকে উচ্ছেদ করতেই হয় তাহলে সবাইকে করুন শুধু আমাকে কেন। আমার ফলসহ নগদ টাকা ফেরতের দাবিতে পৌরসভার সিইও’র কাছে ধর্না দিয়েও লাভ হচ্ছে না। তিনি তার ফলসহ টাকা টাকা ফেরত পেতে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এবিষয়ে সাতক্ষীরা পৌরসভার সিইও আসাদুজ্জামান বলেন, শহরের যানজট নিরসের জন্য তাকে বার বার ব্রীজের উপর দোকান না বসানোর জন্য বলা হলেও তিনি শোনেনি। যে কারনে অভিযান পরিচালনা করে জব্দ করা ফল গুলো জরিমানা হিসেবে এতিম খানায় দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাকী মালপত্র আর সেখানে বসবে না এমন শর্তে ফেরত পেতে আবেদন করতে বলা হয়েছে।##

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দেবহাটায় ঘূর্ণিঝড়ে লণ্ডভণ্ড বিধবা নারীর মাটির ঘর: মানবেতর জীবন

দেবহাটা প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার সখিপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ঘূর্ণিঝড় ও কালবৈশাখীর তাণ্ডবে এক অসহায় বিধবা নারীর মাটির ঘর সম্পূর্ণভাবে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। স্বামীর মৃত্যুর পর অনেক কষ্টে বসবাস করা ছোট্ট সেই ঘরটুকুও এখন আর নেই। ফলে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন ওই নারী।

জানা গেছে, সখিপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত বুটচারের স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে একটি জরাজীর্ণ মাটির ঘরে বসবাস করছিলেন। সংসারে উপার্জনক্ষম কেউ না থাকায় অভাব-অনটনের মধ্যেই দিন কাটছিল তার। এরই মধ্যে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও দমকা হাওয়ায় তার বসতঘরটি মুহূর্তেই মাটির সঙ্গে মিশে যায়। ঘরের টিন উড়ে যায়, দেয়াল ভেঙে পড়ে এবং ঘরের ভেতরে থাকা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও নষ্ট হয়ে যায়।

স্থানীয়রা জানান, ঝড় শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বিধবা নারীর ঘরটি ভেঙে পড়ে। পরে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। বর্তমানে তিনি খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন। মাথা গোঁজার ঠাঁই না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তিনি।
এলাকাবাসী বলেন, “অসহায় এই নারী খুবই কষ্টে জীবনযাপন করেন। ঝড়ে তার শেষ সম্বলটুকুও শেষ হয়ে গেছে। দ্রুত সরকারি কিংবা বিত্তবানদের সহযোগিতা প্রয়োজন।”

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো সহায়তা পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবান মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন, যাতে অসহায় ওই বিধবা নারী আবারও মাথা গোঁজার একটি নিরাপদ আশ্রয় ফিরে পান।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে দেবহাটা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গাছপালা উপড়ে পড়া, বসতঘরের চাল উড়ে যাওয়া ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। তবে অসহায় বিধবা নারীর ঘর বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনাটি এলাকায় মানবিক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
জাতীয় প্রতিভা অন্বেষণে মূকাভিনয়ে দেশসেরা সাতক্ষীরার জান্নাত

নিজস্ব প্রতিনিধি: বাংলাদেশ স্কাউটস আয়োজিত ‘জাতীয় প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা–২০২৬’-এ মূকাভিনয় (মাইম) বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন সাতক্ষীরার কৃতী শিক্ষার্থী জান্নাত আলম। তিনি সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) মানবিক বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

বুধবার (২০ মে) জান্নাত আলমের এই গৌরবোজ্জ্বল সাফল্যের খবর সাতক্ষীরায় পৌঁছালে স্থানীয় শিক্ষাঙ্গন ও সামাজিক মহলে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। সকাল থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষক, সহপাঠী ও জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছায় সিক্ত করছেন।

এর আগে, গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার কাকরাইলে বাংলাদেশ স্কাউটসের জাতীয় সদর দফতরে দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দেশের সব অঞ্চল থেকে আসা প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে মূকাভিনয়ে দেশসেরা হন জান্নাত।

বাংলাদেশ স্কাউটস সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাছাইকৃত প্রায় ২৫০ জন প্রতিযোগী চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেন। গান, নৃত্য, মূকাভিনয়, আবৃত্তি, কেরাত, আজান, বাংলা উপস্থাপনা ও চিত্রাঙ্কন—এই আটটি বিষয়ে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে তুমুল প্রতিযোগিতাপূর্ণ মূকাভিনয় বিভাগে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে দেশসেরা হন জান্নাত।

প্রতিযোগিতা শেষে এক অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। জান্নাত আলমের হাতে শ্রেষ্ঠত্বের পুরস্কার তুলে দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মঞ্জুর মোরশেদ, বাংলাদেশ স্কাউটস জাতীয় সদর দফতরের উপপ্রধান জাতীয় কমিশনার মীর মাহবুবুর রহমান (স্নিগ্ধ), যুগ্ম নির্বাহী পরিচালক (প্রশিক্ষণ) মোঃ শামসুল হক এবং যুগ্ম নির্বাহী পরিচালক (প্রোগ্রাম) আবুল হাসনাত মোঃ মুহসিনুল ইসলাম।

জান্নাত আলম সাতক্ষীরা শহরের ইটাগাছা এলাকার বাসিন্দা শেখ জুলফিকার আলম ও রাফিয়া পারভীন দম্পতির সন্তান।

এমন গৌরবোজ্জ্বল সাফল্যে উচ্ছ্বসিত জান্নাত অনুভূতি জানাতে গিয়ে বলেন, এই অর্জনটি আমার জন্য অত্যন্ত গৌরবের। স্কাউটের মাধ্যমে একটি জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার দীর্ঘদিনের একটা স্বপ্ন ছিল, যা আলহামদুলিল্লাহ এবার পূরণ হয়েছে। ভবিষ্যতে একজন দক্ষ আইনজীবী হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে আমি এগিয়ে যেতে চাই। সকলের দোয়া ও সহযোগিতা আমার পথচলাকে আরও শক্তিশালী করবে।

জান্নাত অবশ্য এবারই প্রথম জাতীয় পর্যায়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেননি। এর আগে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির আয়োজনে দেশব্যাপী ‘উপস্থিত অভিনয়’ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েও জাতীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জনের গৌরব রয়েছে তার ঝুলিতে।

জান্নাত আলমের এই সাফল্যে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের শিক্ষক ও সহপাঠীদের মাঝে আনন্দের বন্যা বইছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁকে ভাসানো হচ্ছে অভিনন্দনের জোয়ারে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
নারী ও যুব নেতৃত্বের অংশগ্রহণে জলবায়ু সহনশীলতা ও সুরক্ষা বিষয়ক গোলটেবিল বৈঠক

নিজস্ব প্রতিনিধি: নারী ও যুব নেতৃত্বের অংশগ্রহণে জলবায়ু সহনশীলতা, অভিযোজন, সুরক্ষা ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন বিষয়ক একটি গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার উপজেলা ডিজিটাল হলরুমে এই সভার আয়োজন করা হয়।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড এনভারমেন্টাল অ্যাকশন ডেভেলপমেন্ট (হেড)’-এর উদ্যোগে, ‘ক্লাইমেট জাস্টিস রেজিলিয়েন্স ফান্ড’ এবং ‘সম্প্রীতি এইড ফাউন্ডেশন’-এর সহযোগিতায় এই রাউন্ড টেবিল সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সুশীলদের সহকারী পরিচালক জিএম মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার অর্ণব দত্ত ও অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নাজমুন নাহার এবং শহর সমাজসেবা অফিসার মোর্শেদুল হক, সাতক্ষীরা পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র শফি-উদ-দৌলা সাগর, স্বদেশের নির্বাহী পরিচালক মাধব দত্ত, ক্রিসেন্ট-এর নির্বাহী পরিচালক আবু জাফর সিদ্দিকী, সিনিয়র সাংবাদিক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন, সুন্দরবন ফাউন্ডেশন-এর পরিচালক শেখ আফজাল হোসেন, প্রোভা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক কুমকুম খাতুন এবং সাংবাদিক আসাদুজ্জামান সরদার।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় যুব প্রতিনিধি হিসেবে উপকূলীয় এলাকায় জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট সুনির্দিষ্ট ও চিহ্নিত সমস্যাগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন অলিভিয়া লাওড়া, রাবেয়া খাতুন, শিহাব সিদ্দিকী, আদ্রিকা সাবা খানম এবং মোহাইমিন হোসেন।
সমগ্র প্রোগ্রামটি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সঞ্চালনা করেন প্রোগ্রাম সমন্বয়কারী রেহেনা পারভীন এবং মূল প্রবন্ধ (কী-নোট পেপার) উপস্থাপন করেন অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রাম অফিসার সোনিয়া পারভিন। বক্তারা উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নারী ও যুব সমাজকে সম্পৃক্ত করে একটি জেন্ডার সংবেদনশীল ও টেকসই কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা সবচেয়ে বেশি আসে নারী ও শিশুদের ওপর। এই সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন, এনজিও সমন্বিত প্রচেষ্টায় যুব সমাজ ও নারীদের নেতৃত্বকে সামনে এনে একটি টেকসই, জেন্ডার সংবেদনশীল সুরক্ষা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা এখন সময়ের দাবি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest