কালীগঞ্জে ২৬টি বিদ্যালয়ের  ভবন নিলাম দূর্ণীতি ;কোটি টাকা লুটপাট

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার ২৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরতন ভবন নিলাম প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও দূর্ণীতির অভিযোগ উঠেছে। এতে উপজেলা টেন্ডার কমিটি একটি সিন্ডিকেটের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে কোটি টাকা লুটপাট করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
কালীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ২৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবন নিলামের জন্য গত বছরের ডিসেম্বর মাসে বিদ্যালয়ের ভবন প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সভাপতি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে সদস্য করে চার সদস্য বিশিষ্ঠ কমিটি গঠণ করা হয়। নিলামের জন্য গত ১৭ জানুয়ারি দৈনিক যুগের বার্তা পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। ১৩০টি দরপত্র বিক্রি করা হয়। উপজেলা নিলাম কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক ২২ জানুয়ারি নিলাম প্রক্রিয়া শেষে পরদিন নিলাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামসুন্নাহার স্বাক্ষরিত সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ২৬ জন নিলাম গ্রহীতাদের তালিকা নোটিশ বোর্ডে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। মোট নিলামের টাকা ধরা হয়েছে তিন লাখ ৮৮ হাজার ৩০০ টাকা। নিলামে সর্বোচ্চ ডাককৃত মূল্যের উপর ১০ শতাংশ ভ্যাট ও ২ শতাংশ আয়করের টাকা সোনালী ব্যাংকে চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে তিন কার্র্যদিবসের মধ্যে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অফিস থেকে কার্যাদেশ গ্রহণের জন্য বলা হয়।
পুরাতন ভবন ক্রেতা কালীগঞ্জের চরদা গ্রামের আল মামুন, সাতক্ষীরা শহরের কাটিয়ার মাসুদুর রহমান, হাসান, সুলতানপুরের কর্ণেল বাবু, ও ভাঙড়ি মিঠু ও পলাশপোলের আবুল হোসেন জানান, কালীগঞ্জের ২৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবন নিলামে যুগের বার্তায় যে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয় তা কালীগঞ্জের একটি সিন্ডিকেডের কয়েকজন ছাড়া আর কেউ জানে না। জানলে জেলার বেশ কয়েকজন পুরাতন ভবন ক্রেতারা দরপত্র কিনতে পারতো। সেক্ষেত্রে ১৩০টির পরিবর্তে ৮০০ থেকে এক হাজার দরপত্র বিক্রি হতো। প্রতিটি ২০০ টাকা করে দেড় থেকে দু’ লাখ টাকার দরপত্র বিক্রি হতো। দূর্ণীতির মাধ্যমে এ দরপত্র আহবান করায় সরকার এ থেকে দেড় লাখ বা পৌনে দু’ লাখ টাকা রাজস্ব হারিয়েছে।
তারা আরো জানান, পানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যে পুরাতন ভবন তা ভ্যাট বাদে নিলাম দেখানো হয়েছে ৩৭ হাজার টাকায়। স্বচ্ছতার মাধ্যমে নিলাম হলে ওই ভবনের ৩০ হাজার ভাল ইট , দু’ টন লোহার রড ও বিপুল পরিমান রাবিশ মিলতো। সেক্ষেত্রে প্রতি হাজার ইট ৫ হাজার টাকা করে দেড় লাখ, ২০ টাকা কেজি দরে দু’ টন লোহার রড চার লাখ টাকা ও ৩৫ হাজার টাকার রাবিশ বিক্রি হতো। অর্থাৎ সরকারের সাড়ে পাঁচ লাখ টাকার রাজস্ব লুটপাট করা হয়েছে। একইভাবে মহৎপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবন নিলাম দেখানো হয়েছে ১৯ হাজার ৩০০ টাকায়। এ ভবনে ২০ হাজার ভাল ইট ও দেড় টনের বেশি পুরাতন রড ছাড়াও ২০ হাজার টাকার রাবিশ মিলত। মালামালা বিক্রি হতো চাল লাখ ২০ হাজার টাকায়। সেক্ষেত্রে টেন্ডার কমিটি সিন্ডিকেট করে চার লাখ টাকা লুটপাট করেছে। একইভাবে চাঁচাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবন ১৩ হাজার টাকায় নিলাম বিক্রি হয়েছে। যা’ ভাঙার পর কমপক্ষে ১৫ হাজার ভাল ইট, এক টন রড ও ১৫ হাজার টাকার মত রাবিশ মিলবে। নিলাম কমিটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পৌনে তিন লাখ টাকা লুটপাট করা হয়েছে। সবমিলিয়ে ২৬ টি বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবন নিলাম করে নিলাম কমিটি ও একটি বিশেষ সিন্ডিকেট কোটি টাকা লুটপাট করেছে।
স্থানীয়রা জানান, ২৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পুরাতন ভবনের দর নির্ধারণের জন্য উপজেলা উপসহকারি প্রকৌশলী সামসুল আলম উপজেলা চেয়ারম্যানের সঙ্গে সমঝোতা করে প্রতিটি ভবন যথেষ্ট কম দর নির্ধারণ করেছেন। এ ছাড়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শামসুন্নাহার উপজেলা চেয়ারম্যানের দক্ষিণহস্ত বলে পরিচিত সাজিদুল হক সাজুর মাধ্যমে দৈনিক যুগের বার্তা পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে দু’ চারটি ছাড়া প্রকাশিত সকল পত্রিকা গোপন করে বিজ্ঞপ্তি সম্পর্কে প্রচার হতে দেননি। সেক্ষেত্রে সাজু একাই ১৩০টি দরপত্র কিনে তাদের কাছের লোক কেরামত আলী, নাসিরউদ্দিন, শিমুল হোসেন, আতিকুর রহমান ও রাজু আহম্মেদের নামে জমা দিয়েছেন। সাজুর সহায়তায় কেরামত আলী ১০, নাসিরউদ্দিন ৮, শিমুল হোসেন তিন, আতিকুর রহমান তিনও রাজু আহম্মেদ দু’টি ভবন নিলাম কিনেছেন। ২৬টি ভবন ভাঙার জন্য শীতলপুরের আলাউদ্দিন চার লাখ টাকায় চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। এমনকি সোনালী ব্যাংকে ১০ শতাংশ রাজস্ব ও দু’ শতাংশ আয়কর জমা না দিয়েই আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আলাউদ্দিনকে দিয়ে ২৪ জানুয়ারি থেকে পানিয়া, মহৎপুর ও চাঁচাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবন ভাঙার কাজ শুরু করা হয়েছে।
কালীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যানের বোন নিলাম কমিটির সদস্য পানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা পারভিন আক্তার খুকুর কাছে সোমবার বিকেলে ভবন নিলামের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, আপনাদের কাছে কোন জবাব দেবনা। তবে ওই বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মশিয়ার রহমান বলেন, তাদেরকে না জানিয়ে এ দর নির্ধারণ করা হয়েছে। তাদের ভবনটি কমপক্ষে সাড়ে চার লাখ টাকায় বিক্রি হতো। শুক্রবার থেকে ভবন ভাঙা হচ্ছে।
মহৎপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিনা জামান বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। যা’ জানে টিইও ম্যাডাম। তবে ওই বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা খাঁন আহছানুর রহমান বলেন, এ যে পুকুর চুরি। পারলে নিলাম বন্ধ করার জন্য সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, শুক্রবার থেকে ভবন ভাঙা হচ্ছে। একইভাবে চাঁচাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি রেজাউল করিম বলেন, মাত্র ১৩ হাজার টাকায় ভবন বিক্রি। এ ভবনের দাম তো কমপক্ষে দেড় লাখ টাকা। শনিবার থেকে ভবন ভাঙা হচ্ছে। এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক তাকে কিছু জানায়নি। তবে প্রধান শিক্ষক দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে পানিয়া ও মহৎপুর বিদ্যালয়ের ভবন নিলাম ক্রেতা কেরামত আলী মোবাইলে সাংবাদিক পরিচয় জেনে বলেন তিনি নয়টি ভবন পেয়েছেন। এরপরপরই তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। কথা বলতে চাননি চাঁচাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নিলাম ক্রেতা নাসিরউদ্দিন। তবে নিলাম ক্রেতা শিমুল হোসেন ও আতিকুর রহমান বলেন, তারা কিছুই জানেন না। সাজু যেখানে সই করতে বলেছে তারা সেখানে সই করেছেন মাত্র।
তবে সোমবার বিকেলে সাজিদুল হক সাজুর সঙ্গে তার মোবাইলে বার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি তা রিসিভ করেননি।
কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাঈতদ মেহেদী বলেন বিষয়টি তিনি রোববার শুনেছেন। সব প্রতিষ্ঠানের ইট ও রড ভাল নেই। তবে বিষয়টি নিয়ে তিনি আলোচনা করবেন সংশ্লিষ্টদের সাথে। তবে তিনি কোন অনিয়মের সঙ্গেযুক্ত নন বলে দাবি করেন।
কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের উপসহকারি প্রকৌশলী সামছুল আলম তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সহকারিদের পাঠিয়ে ভবনগুলোর দর নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে সামান্য ত্রুটি বিচ্যুতি হতে পারে। বাকী কাজ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার।
উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, দু’ একটি ভবনের দাম নির্ধারণে ভুল হতে পারে। তবে ঢালাওভাবে এটা বলা যাবে না।
নিলাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সামছুন্নাহার তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত কোন নিলাম গ্রহীতা ভ্যাট ও আয়করের কাগজপত্র তার দপ্তরে জমা দেয়নি। সোমবার একজন জমা দিয়েছেন। সেক্ষেত্রে ২৪ জানুয়ারি থেকে ভবন ভাঙার কাজ শুরু করাটা সম্পূর্ণ অবৈধ। তবে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন, ওয়ার্ক ওয়ার্ডার, দরপত্র বিক্রয়সহ সব কিছুই হয়েছে নিলাম কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক রাসেল সোমবার বিকেলে সাংবাদিকদের বলেন, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি, দরপত্র বিক্রি, ভবনের দাম নির্ধারণ, ভ্যাট ও আয়করের কাগজ জমা দেওয়ার আগে ভাঙার কাজ শুরু ও বিশেষ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিলাম বিক্রির বিষয়টি তিনি জানেন না। বিষয়টি জানানোর জন্য তিনি এ প্রতিবেদককে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ঢাকায় প্রশিক্ষণ শেষে কালীগঞ্জে ফিরে ব্যবস্থা নেবেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সিনহার বিএনপি থেকে পদত্যাগ

ন্যাশনাল ডেস্ক: বিএনপি থেকে এবার পদত্যাগ করেছেন দলটির কোষাধ্যক্ষ ও সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহা। দলের প্রাথমিক সদস্যপদ প্রত্যাহারের পাশাপাশি রাজনীতি থেকেও অবসরে যাচ্ছেন তিনি।

২২ জানুয়ারি দলের সব পদ ও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বরাবর একটি পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। সেখানে সিনহা উল্লেখ করেন, গত কয়েক বছরে আমার ব্যবসায়িক ব্যস্ততা বাড়ার পাশাপাশি শারীরিক নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে।

তাই আমার রাজনৈতিক কোনো কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করা সম্ভব নয়। সেহেতু আমি রাজনীতি থেকে সম্পূর্ণরূপে অবসর নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সিনহা বর্তমানে সিঙ্গাপুরে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন বলে তার ব্যক্তিগত সহকারী মুন্না যুগান্তরকে জানান।

মিজানুর রহমান সিনহা ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে মুন্সীগঞ্জ-২ আসন থেকে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে জোট সরকারের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি। দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি থেকে এর আগেও বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা পদত্যাগ করেন।

গত বছরের ৫ নভেম্বর বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খান। ২০১৫ সালের ২৯ অক্টোবর বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী দল থেকে পদত্যাগ করেন।

আর কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার পরপরই ২০১৬ সালের ৬ আগস্ট বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেন আরেক ভাইস চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক আলী ফালু। এ ছাড়াও বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেছেন পারটেক্স গ্রুপের কর্ণধার এমএ হাসেম।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মাওলানা আজহারীর কাছে মুসলমান হওয়া ১১ জনকে বেনাপোল দিয়ে ভারতে ফেরত

মোঃ রাসেল ইসলাম, বেনাপোল(যশোর) প্রতিনিধি: বেনাপোল চেকপোষ্ট দিয়ে বাংলাদেশের রামগঞ্জ উপজেলায় মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারীর কাছে কালেমা পাঠ করে মুসলমান হওয়া ১১ জন ভারতীয় সনাতন ধর্মের মানুষকে ফেরত দিল ভারতে।

সোমবার সকাল ৮ টার সময় বিশেষ নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে লক্ষীপুর জেলার রামগঞ্জ থানার পুলিশ তাদের বেনাপোল চেকপোষ্ট দিয়ে ফেরত পাঠিয়েছে।

ফেরত যাওয়া ভারতীয় নাগরীকরা হলেনঃ- সুজাতা, শেফালি, রাজা, সমা, রেখা সুর্য, শ্যামলী, কোয়েল, মিতালী ও শঙ্কর অধিকারী। এদের মধ্যে ২ জন শিশু ও ৪ জন কিশোর কিশোরী রয়েছে।

ফেরত আসাদের সাথে লক্ষীপুর থেকে আসা পুলিশ সদস্যদের কাছে তাদের এত নিরপত্তার ভিতর দিয়ে কেন ভারত পঠানো হচ্ছে এ প্রশ্নে তারা কোন কথা বলতে রাজী নয়। নেমপ্লেড বিহীন একজন পুলিশের এসআই বলেন এদের উপরেরর নির্দেশ মোতাবকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

তাদের সাথে আসা পুলিশ সাংবাদিকদের সাথে কোন কথা না বলে জোর করে ওই যাত্রীদের নোম্যান্সল্যান্ডে নিয়ে গেলে সেখানে সাংবাদিকদের ধর্মান্তরিত যাত্রী শঙ্কর অধিকারী ওরফে মনির হোসেন বলেন, আমরা গত ২০১৯ সালের আগষ্ট মাসে ২ মাসের ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করি। এরপর আমরা আমাদের পৈতৃক বাড়ি লক্ষীপুর জেলার রামগঞ্জ থানার ইছাপুর গ্রামে থেকে যাই। আমার মা সংরক্ষিত মহিলা আসনের চন্ডীপুর ইউনিয়নের একজন মেম্বার। তার নাম ফাতেমা। তিনি বলেন, আমরা মুসলমান হয়েছি। ভারত আর ফেরত যেতে চাইনা। পুলিশ আমাদের ঢাকা নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বেনাপোল দিয়ে ভারত পাঠাল। আমরা সেদেশে যেয়ে কি করব। সবকিছু বিক্রি করে আমরা বাংলাদেশে এসে মুসলমান হয়েছি।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন ওসি মাসুম বিল্লাহ বলেন এরা পাসপোর্ট যাত্রী এরা নিয়ম অনুযায়ী নিজ দেশে ইমিগ্রেশন এর আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে ফিরে গেছে। যদি তেমন কোন সমস্যা থাকত আমরা সে বিষয়টি দেখতাম। যাত্রীদের ভাষ্যমতে তাদের পাসপোর্টের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছে বলে জানা যায়। তারা কিভাবে ভিসা ছাড়া সেদেশে গেল তাও জানা যায়নি। সুত্র মতে ভিসা শেষ হলে দিন হিসাবে সরকারী নিয়ম অনুযায়ী একটি জরিমানা দিয়ে নিজ দেশে প্রত্যবর্তন করতে হয়। এ ক্ষেত্রে তারা জরিমানা দিয়েছে কি না তাও জানা যায়নি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দুই সাংবাদিককে মারপিট করা এএসআই প্রত্যাহার

দেশের খবর: দুই সাংবাদিককে মারধর করা ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) শাহবাগ থানার সহকারি উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মামুন হোসনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

ঘটনা তদন্তে রমনা বিভাগের উপকমিশনার সাজ্জাদুর রহমানকে নির্দেশ দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মোহা: শফিকুল ইসলাম।

সোমবার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে ডিএমপির উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বলেন, অভিযুক্ত এএসআই মামুনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে।

বৃহস্পতিবার ডিএমপির কমিশনার বরাবর মামুনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দেন বাংলা ট্রিবিউনের সাংবাদিক শেখ জাহাঙ্গীর আলম।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, গত ২০ জানুয়ারি (সোমবার) সন্ধ্যায় মিন্টো রোডের ডিএমপি মিডিয়া সেন্টার থেকে মোটরসাইকেলযোগে পান্থপথে কর্মস্থল বাংলা ট্রিবিউন অফিসে যাচ্ছিলেন। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ- এর স্টাফ রিপোর্টার (ক্রাইম) সাজ্জাদ মাহমুদ খান ওরফে সাজ্জাদ হোসেন। তারা পরীবাগ লিংক রোড দিয়ে যাওয়ার সময় যানজটের মধ্যে আটকা পড়েন। বিপরীত দিক থেকে মোটরসাইকেলযোগে শাহবাগ থানার এএসআই মামুন হোসেন দ্রুতগতিতে জাহাঙ্গীরের ডান পায়ে চাপা দেয়। জাহাঙ্গীর ও সাজ্জাদ এর প্রতিবাদ করলে এএসআই মামুন ইচ্ছাকৃতভাবে আরও দুই-তিনবার মোটরসাইকেলের পিকআপ বাড়িয়ে আমার পায়ে চাপা দিতে থাকে এবং মুখে গালাগালি করতে থাকে। তারা পুলিশ সদস্যের এই অপেশাদার আচরণের প্রদিবাদ করলে তাদের হত্যার হুমকি দেন।

জাহাঙ্গীর ও সাজ্জাদ জানান, ‘প্রতিবাদ করায় এএসআই মামুন অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে হুমকি দিয়ে বলতে থাকেন, ‘আমি নামলে কিন্তু মারবো। তোকে পিষে ফেলবো। তাড়াতাড়ি গাড়ি সরা, নাইলে মারবো।’ এই বলে, ইংরেজিতে ‘বাস্টার্ড’বলে গালিও দেন। এসময় পথচারী এবং আশপাশের দোকানদাররা ঘটনাস্থলে জড়ো হয়। পরে তিনি জাহাঙ্গীরকে লাথি মেরে ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়েন।

পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার সাজ্জাদুর রহমান জানান, এ ঘটনায় একট তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী অভিযুক্ত এএসআই মামুনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ভুয়া নম্বর প্লেট ব্যবহার করতেন তিনি
এদিকে এএসআই মামুনের বিষয়ে খোঁজ করতে গিয়ে জানা গেছে ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলে জালিয়াতি করে ডিএমপি কমিশনারের নামে রেজিস্ট্রেশনকৃত মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেট ব্যবহার করতেন তিনি। ঘটনার পর ওই নম্বর প্লেটের (ঢাকা মেট্রো হ-১২-৭৫০৫) সূত্র ধরে বিআরটিএ তে অনুসন্ধান করেও জানা যায়, গাড়িটি ডিএমপি কমিশনারের নামে নিবন্ধন করা। ডিএমপির ট্রাফিক পূর্ব বিভাগের এটিএসআই আলী আফজাল ওই মোটরসাইকেলটি ব্যবহার করতেন। পরবর্তীতে যোগাযোগ করা হলে আলী আফজালের গাড়িটি রাজারবাগ ট্রাফিক ব্যারাকে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।

এএসআই মামুনের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এটিএসআই আলী আফজালের সরকারি মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেটটি জালিয়াতি করে নিজের ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলে ব্যবহারের কথা স্বীকার করেছেন।
ভুক্তভোগী দুই সাংবাদিক শেখ জাহাঙ্গীর আলম ও সাজ্জাদ মাহমুদ খান বলেন, ‘আমরা ন্যায় বিচারের জন্য কমিশনারের কাছে অভিযোগ দিয়েছি। একটি শৃঙ্খল বাহিনীর সদস্য হয়ে এএসআই মামুন যে ব্যবহার করেছে তা অপেশাদার। আমরা তার শাস্তির দাবি জানাই। যাতে ভবিষ্যতে কোন পুলিশ সাধারণ মানুষের সঙ্গে এ ধরণের অপেশাদার আচরণ করতে না পারে।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
অভিনয় ও মডেলিংয়ে সাতক্ষীরার মেয়ে মৌসুমী হামিদের এক দশক

বিনোদন সংবাদ: জনপ্রিয় মডেল-অভিনেত্রী মৌসুমী হামিদ। ‘লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার ২০১০’ প্রতিযোগিতার মধ্যদিয়ে শোবিজে যাত্রা শুরু করেন তিনি। সে হিসেবে এ বছর ক্যারিয়ারের এক দশক পূর্ণ করেছেন। সাতক্ষীরার এই মেয়েটি প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান প্রয়াত নির্মাতা খালিদ মাহমুদ মিঠুর ‘বাংলা আমার মাতৃভাষা’ নাটকে। তবে তার অভিনীত প্রথম প্রচারিত নাটক ছিল মুহম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের ‘বিয়োগ ফল’। ২০১২ সালকেই বলা চলে তার সর্বোচ্চ সফলতার বছর। কারণ, এই বছরে বেশ কয়েকটি ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন তিনি। এক দশক পূর্ণ নিয়ে এ অভিনেত্রী বলেন, আমার সৌভাগ্য এই সময়টুকুতে সহকর্মীদের কাছ থেকে অনেক সহযোগিতা ও ভালোবাসা পেয়েছি। এ ছাড়া নির্মাতারা আমার ওপর আস্থা রাখেন এটাও বড় পাওয়া। তবে একজন শিল্পী টিকে থাকেন দর্শকের ভালোবাসায়। দর্শক পছন্দ করেন বলেই নির্মাতারা আমাকে নিয়ে ভাবেন। আগামী সময়গুলো এভাবে আমি নিয়মিত কাজ করতে চাই। এ গ্ল্যামারকন্যা বর্তমানে দুই পর্দাতে কাজ করছেন। সম্প্রতি তিনি শেষ করেছেন ‘নীড় ভাঙ্গা ঢেউ’ শিরোনামের একটি টেলিছবির শুটিং। এটি নির্মাণ করেছেন আলী সুজন। চ্যানেল আইয়ের জন্য এটি নির্মাণ করা হয়েছে। একক নাটকের বাইরে ধারাবাহিক নাটকেও সমানতালে অভিনয় করছেন মৌসুমী হামিদ। বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচার হচ্ছে তার অভিনীত মীর সাব্বিরের পরিচালনায় ‘চোরাকাটা’, এসএ হক অলিকের ‘জায়গীর মাস্টার’, নজরুল ইসলাম রাজুর ‘ঘরে বাইরে’ শিরোনামের তিনটি ধারাবাহিক। প্রচারের অপেক্ষায় আছে ইমরাউল রাফাতের পরিচালনায় ‘বিষয়টি পারিবারিক’ ও মুসাফির রনির ‘তোলপাড়’ ধারাবাহিক দুটি। এদিকে মুক্তির অপেক্ষায় আছে তার অভিনীত গাজী রাকায়েত পরিচালিত ‘গোর’ নামের একটি চলচ্চিত্র। এ ছবিটি বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই মুক্তি পাবে বলে জানান এ অভিনেত্রী। এতে তাকে দেখা যাবে একজন বিধবার চরিত্রে। এটি ছাড়াও ‘কাঠগড়ায় শরৎচন্দ্র’ সিনেমায় অভিনয় করছেন তিনি। এটি নির্মাণ করছেন আরিফুর জামান। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জনপ্রিয় চরিত্রগুলো নিয়ে নির্মাণ হচ্ছে সিনেমাটি। এই সিনেমায় ‘রাজলক্ষ্মী’ চরিত্রে অভিনয় করছেন এ পর্দাকন্যা। প্রসঙ্গত, মৌসুমী হামিদ অভিনীত ‘জালালের গল্প’, ‘ব্ল্যাকমেইল’, ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেমকাহিনী ২’ সহ কয়েকটি ছবি দর্শকের কাছে প্রশংসিত হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আড়ংয়ের ‘চেঞ্জ রুমে’র গোপন ১২০টি ভিডিও সাবেক কর্মীর কাছে!

ভিন্ন স্বাদের খবর: একটি দুটি নয়, ১২০টি ভিডিও তার কাছে। আড়ংয়ের নারীকর্মীদের চেঞ্জ রুমে পোশাক পরিবর্তন করার সময় এসব ভিডিও করেছিল সে। এরপর যাদের ভিডিও করা হয়েছে, তাদের কাছে সেই ভিডিও পাঠাতো ফেসবুকের মেসেঞ্জারে। কখনও অর্থ দাবি কখনও বিকৃত চাহিদার কথা জানাতো তাদের। কিন্তু, শেষ রক্ষা হয়নি। এক বিক্রয়কর্মীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগ ওই তরুণকে গ্রেফতার করেছে। তার নাম সিরাজুল ইসলাম সজীব (২২)। শনিবার (২৫ জানুয়ারি) কাফরুল থানার পূর্ব শেওড়াপাড়া থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগের উপ-পরিদর্শক ফারুক হোসেন বাদি হয়ে বনানী থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা (নম্বর ৩৫) দায়ের করেন। এসআই ফারুক হোসেন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘আড়ংয়ের একজন অফিসার আমাদের কাছে এসেছিল। তাদের দেওয়া তথ্য মতেই আমরা সজীবকে শনাক্তের পর গ্রেফতার করি। সজীবকে এক দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, আড়ংয়ের বনানী শাখায় কর্মরত এক নারী ১৬ জানুয়ারি একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নম্বর ৯৫৫) করেন। ওই জিডিতে তিনি অভিযোগ করেন, ১১ জানুয়ারি রাত ১২টা ৩৭ মিনিটে সিরাজুল ইসলাম সজীব তার ফেসবুক মেসেঞ্জারে সীমান্ত সৈকত নামে আরেকটি ফেসবুক আইডি থেকে পাঠানো একটি ভিডিও দেখতে বলে। ওই নারী ভিডিওতে দেখেন, আড়ংয়ের বনানী শাখার চতুর্থ তলার কর্মচারীদের জন্য পোশাক পরিবর্তন রুমে পোশাক পরিবর্তন করার সময় তার ভিডিও ধারণ করে পাঠিয়েছে। এসময় সজীব তাকে ভিডিও করে শরীর দেখাতে বলে এবং তার কথা মতো কাজ না করলে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করার হুমকি দেয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ওই নারী বিষয়টি উল্লেখ করে ডিএমপির সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগে একটি অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগের সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং টিমের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে শনিবার দুপুরে কাফরুল থানার পূর্ব শেওড়াপাড়ার মনিপুর স্কুলের সামনে থেকে সিরাজুল ইসলাম সজীবকে গ্রেফতার করে।

মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গ্রেফতার হওয়া সজীব আড়ংয়ের বনানী শাখার সাবেক কর্মী। তার বাবার নাম মৃত নূরে আলম স্বপন মুন্সী। গ্রামের বাড়ি ভোলার চরফ্যাশন থানার আমিনাবাদে। ১০৯৮ নম্বর পূর্ব শেওড়াপাড়ার একটি বাসায় সে থাকতো। তার কাছ থেকে একটি রেডমি ৫ প্লাস ফোনসেট জব্দ করা হয়। ওই মোবাইলে তার নিজের ফেসবুক আইডি লগইন অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে আড়ংয়ের ওই নারীকর্মীর ভিডিও করা এবং হুমকি দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছে।

তদন্ত সূত্র জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সজীব জানিয়েছে, সে আড়ংয়ে চাকরি করতো। চাকরিরত অবস্থায় সে চতুর্থ তলার কর্মচারী চেঞ্জরুমের বাইরের সানসেট-এ দাঁড়িয়ে সেলফি স্টিক দিয়ে মোবাইল ক্যামেরার মাধ্যমে আড়ংয়ের নারী কর্মচারীদের অজান্তে তাদের নিজস্ব ইউনিফর্ম পরিবর্তন করার সময় ভিডিও ধারণ করতো। তার কাছ থেকে ১৩ জন নারীকর্মীর ১২০টি ভিডিও উদ্ধার করা হয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, ২০১৯ সালের অক্টোবরে এক নারীকর্মীর ভিডিও করার অভিযোগে ডিসেম্বর মাসে সজীবকে চাকরিচ্যুত করা হয়। তবে তার কাছে আগের করা সব ভিডিওগুলো সংরক্ষিত ছিল। তাকে এক দিনের রিমান্ডে আনা হয়েছে। তার কাছ থেকে আরও তথ্য উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

আড়ংয়ের চিফ অপারেটিং অফিসার আশরাফুল আলম জানান, সিরাজুল ইসলাম সজীবের বিরুদ্ধে বনানী আউটলেটের একজন বিক্রয় প্রতিনিধি ১৬ জানুয়ারি বনানী থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা মামলার ব্যাপারে আমরা অবহিত আছি। এই মামলাটি দায়ের করার ব্যাপারে অভিযোগকারীকে শুরু থেকেই সর্বাত্মক সহায়তা দিয়ে আসছি। আড়ং যৌন হয়রানিমূলক যেকোনও কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নীতিগতভাবে সর্বদা কঠোর অবস্থানে থাকে। এই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত আড়ং সংশ্লিষ্ট যেকোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে কঠোর হস্তে দমনের জন্য তখনই পদক্ষেপ নিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বনানী আউটলেটের সাবেক বিক্রয় প্রতিনিধি সিরাজুল ইসলাম সজীবের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে একজন সহকর্মীর যৌন হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভ্যন্তরীণ তদন্তের পর ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় চাকরিচ্যুত করা হয়। বর্তমানে চলমান মামলাটির কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষকে আমাদের পক্ষ থেকে সার্বিক সহায়তা করা হচ্ছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
করোনা ভাইরাস; সারা দেশে আইসোলেশন ইউনিট খোলার নির্দেশ

দেশের খবর: চীনে শনাক্ত হওয়া নতুন নভেল করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে আগাম প্রস্তুতি হিসেবে সারা দেশের সরকারি হাসপাতালে অনতিবিলম্বে আইসোলেশন ইউনিট খোলার নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আপাতত; দেশের আটটি বিভাগের সকল জেলাসদর ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ ইউনিট খোলা হবে। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে স্বাস্থ্য মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বিভাগীয় পরিচালক ও সিভিল সার্জনদের সঙ্গে করোনা ভাইরাস নিয়ে ভিডিও কনফারেন্স চলাকালে এ নির্দেশনা দেন।

একইসঙ্গে দেশের সকল স্থল ও নৌবন্দরে বিভিন্ন দেশ থেকে আগত যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষাসহ সতর্ক দৃষ্টি রাখার নির্দেশনা প্রদান করা হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ গণমাধ্যমকে বলেন, এখনও পর্যন্ত দেশে নোবেল করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়া না গেলেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সম্ভাব্য সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন বিমানবন্দরে স্ক্যানার মেশিন দিয়ে চীনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আগত যাত্রীদের শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। এর আগে রোববার স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে জেলাসদর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড খোলার সিদ্ধান্তের পাশাপাশি দেশের ২৪টি স্থল ও নৌবন্দরে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয় এবং তা চিঠি দিয়ে বিভাগীয় পরিচালক ও সিভিল সার্জনদের জানিয়ে দেয়া হয়।

অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ জানান, ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বিভিন্ন স্থলবন্দরে আপাতত বিদেশ থেকে আগত যাত্রীদেও হেলথ কার্ডের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ ও থার্মোমিটার দিয়ে জ্বর মেপে মনিটরিং করা হবে।
গতকাল পর্যন্ত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্ক্যানার মেশিন ও হ্যান্ড স্ক্যানিং মেশিনের মাধ্যমে দুই হাজার ৪৭০ জন যাত্রীর শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয় বলে বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছেন। তবে এখনও পর্যন্ত দেশে কোনো করোনা ভাইরাস রোগী পাওয়া যায়নি বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছেন।
চীনে নতুন করোনা ভাইরাসের কারণে দেশিটিতে ভ্রমণে বাংলাদেশিদের নিরুৎসাহিত করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিরবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক। একারণে আজ ২৮শে জানুয়ারি আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে চীনে ও চীন থেকে বাংলাদেশে সকল ধরণের ভ্রমণ সাময়িকভাবে স্থগিত করার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। গত রোববার স্বাস্থ্যমন্ত্রী তার একটি আলাদা বিবৃতিতে দেশবাসীকে কোনো রকম আতংকিত না হতে অনুরোধ করেছেন এবং করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয় সম্ভাব্য সব ধরণের প্রস্তুতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় হাতে নিয়ে রেখেছে বলে জানিয়েছেন।বিশেষজ্ঞরা জানান, হেলথ কার্ডের মাধ্যমে আগত যাত্রীদের তথ্য-উপাত্ত রাখা হচ্ছে। কোনো যাত্রী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার এ রোগের উপসর্গ দেখা নাও দিতে পারে। দুই থেকে ১৪ দিনের মধ্যে রোগ দেখা দিতে পারে। এ কারণে যাত্রীদের বলা হচ্ছে, এ সময়ের মধ্যে যদি কেউ অসুস্থতা অনুভব করে তাহলে যেন আইইডিসিআরে যোগাযোগ করে। গত ৩১শে ডিসেম্বর চীনের মধ্যাঞ্চলের উহান শহরে প্রথমবারের মতো প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর আসে। এরপর এই ভাইরাস চীনের বিভিন্ন শহরের পাশাপাশি ইতিমধ্যে বিশ্বের এক ডজনের বেশি দেশে রোগটি ছড়িয়ে পড়েছে। চীনে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছেই। এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসে ৮০ জন প্রাণ হারিয়েছে। এছাড়া আরো দুই হাজার ৭৪৪ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আশাশুনিতে জাসদের প্রস্তুতি সভা

নিজস্ব প্রতিনিধি : জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ এর সাতক্ষীরা জেলা শাখার সম্মেলন সফল করার লক্ষ্যে আশাশুনিতে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৭ জানুয়ারি) বিকালে উপজেলার তোয়ারডাঙ্গায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রস্তুতি সভায় উপজেলা জাসদের আহবায়ক ফজলুল হকের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক ওবায়দুস সুলতান বাবলু।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাসদের সাতক্ষীরা জেলা শাখার কাউন্সিল অত্যান্ত গুরুত্ব বহন করে। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১ টায় সাতক্ষীরা শিল্পকলা একাডেমিতে এ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে।বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় কৃষক জোটের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) ও দৈনিক দক্ষিণের মশাল সম্পাদক অধ্যক্ষ আশেক-ই-এলাহী, সাতক্ষীরা জেলা জাসদের শ্রম ও শিল্প বিষয়ক সম্পাদক আমির হোসেন খান চৌধুরী, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (জাসদ) জেলা শাখার সভািপতি অনুপম কুমার অনুপ, সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) এস এম আব্দুল আলীম প্রমুখ। প্রতিনিধি সভা সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (জাসদ) জেলা শাখার সদস্য শহিদুল ইসলাম রুবেল।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest