সর্বশেষ সংবাদ-
সাতক্ষীরা মেডিকেলের শিশু ওয়ার্ডে টাকা ছাড়া মেলে না ছাড়পত্রতালায় জুয়েলারি দোকানে দুর্ধর্ষ চুরি : ২৩ লাখ টাকার মালামাল লুটের দাবিশ্যামনগরে ১৫ পরিবার পেল ছাগল, ১৫ পরিবার পেল সেলাই মেশিনটেকসই বেড়িবাঁধ ও চলাচলের উপযোগী রাস্তা নির্মাণের দাবি এলাকাবাসীর২৪ ঘণ্টা পার হলেও উদ্ধার হয়নি সাতক্ষীরার নিখোঁজ মাদ্রাসা ছাত্র ইব্রাহিমআশাশুনিতে আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে ভেঙেছে ৫টি ঘর, চরম দুর্ভোগে ক্ষতিগ্রস্তরামুন্সিগঞ্জ আ’লীগ নেতার বিরুদ্ধে অসহায় মানুষের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়ায় মানববন্ধনসাতক্ষীরায় ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনাসাতক্ষীরায় কৃষকের ছেলে সহকারী সিভিল জজ, আনন্দে ভাসছে পরিবার ও গ্রামঝাউডাঙ্গা কলেজে একাদশ শ্রেণির নবাগত শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ

সাতক্ষীরা মেডিকেলের শিশু ওয়ার্ডে টাকা ছাড়া মেলে না ছাড়পত্র

গাজী হাবিব :
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে রোগীর ছাড়পত্র নিতে ২০০ টাকা এবং শিশুর হাতে লাগানো ক্যানুলা খুলে দিতে ৫০ টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ছাড়পত্র আটকে রাখার পাশাপাশি রোগীর স্বজনদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগও করেছেন এক শিশুর মা।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কুশখালী ইউনিয়নের ভাদড়া গ্রামের সাড়ে তিন মাস বয়সী শিশু রিফাত শ্বাসকষ্ট ও জ্বর নিয়ে গত ১৯ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি হয়। টানা সাত দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় তার পরিবারের কাছে টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ।

রিফাতের মা অভিযোগ করে বলেন, মামুন নামে এক ব্যক্তি আমাদের কাছে ২০০ টাকা চান। আমরা টাকা দিতে চাইনি। কিন্তু টাকা না দেওয়া পর্যন্ত আমাদের ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। পরে ২০০ টাকা দেওয়ার পর ছাড়পত্র পাই।

এ ছাড়া শিশুটির হাতে লাগানো ক্যানুলা খুলে দেওয়ার জন্যও ৫০ টাকা চাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সংশ্লিষ্টদের আচরণ খারাপ হয়ে যায় বলেও দাবি করেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে শিশু ওয়ার্ডের বিল্লালের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, তাদের কোনো বেতন নেই, তাই টাকা নেই। তখন জানতে চাওয়া হয় বেতন নেই তো হাসপাতালে আপনারা কেন থাকেন, তার স্পষ্ট কোনো উত্তর দিতে পারিনি।

অভিযোগের বিষয়ে মামুনের সঙ্গে কথা হলে তিনিও বলেন, টাকা ছাড়া ছাড়পত্র দেওয়া হবে না। আমাদের কোনো বেতন নেই, তাই এটা আমরা নিই।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. শেখ কুদরত-ই-খুদার সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

পরে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. অজয় কুমার সাহার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, রোগীদের কাছ থেকে এভাবে টাকা নেওয়ার বিষয়টি মাঝেমধ্যে শোনা যায়। তবে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে বহিষ্কার করা হবে বলে জানান তিনি।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অনেক সাধারণ রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ তারা এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে জানানোর সুযোগ বা সাহস পান না, এমন কথাও স্থানীয়ভাবে শোনা যায়। ফলে শিশু ওয়ার্ডে এ ধরনের আরও কেউ ভুক্তভোগী হয়েছেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ থাকলেও অনেকে বিষয়টি প্রকাশ্যে না জানানোর কারণে সব ঘটনা কর্তৃপক্ষের নজরে আসে না বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ ঘটনায় শিশু ওয়ার্ডে রোগীদের কাছ থেকে যারা টাকা নিচ্ছেন, তারা হাসপাতালের কর্মী কি না এবং কার অনুমতিতে সেখানে কাজ করছেন তা নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
তালায় জুয়েলারি দোকানে দুর্ধর্ষ চুরি : ২৩ লাখ টাকার মালামাল লুটের দাবি

তালা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার তালা বাজারের রত্না জুয়েলার্সে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে দোকানের পেছনের দেয়াল ভেঙে চোরেরা ভেতরে প্রবেশ করে স্বর্ণ ও রুপার অলংকারসহ প্রায় ২৩ লাখ ৪ হাজার টাকার মালামাল নিয়ে গেছে বলে দাবি করেছেন দোকান মালিক উত্তম কুমার সিংহ।

শনিবার সকালে দোকান খুলে চুরির বিষয়টি টের পান উত্তম কুমার সিংহ। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

দোকান মালিক উত্তম কুমার সিংহ জানান, সকালে দোকান খুলে ভেতরে গিয়ে তিনি পেছনের দেয়াল ভাঙা দেখতে পান। চোরেরা ওই দেয়াল দিয়ে দোকানে প্রবেশ করে বিভিন্ন স্বর্ণ ও রুপার অলংকার নিয়ে গেছে বলে তাঁর দাবি।

দোকান মালিকের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, চুরি যাওয়া মালামালের মধ্যে রয়েছে ২১ ক্যারেটের ১২৪টি নাকফুল, যার আনুমানিক মূল্য ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা,১৫টি আংটি, যার মূল্য প্রায় ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা,৫০ ভরির বেশি রুপা, যার মূল্য প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এছাড়া রুলি, হাতের বালা ও রুপার চেইনসহ আরও অলংকার, দেড় ভরি ওজনের একটি হার, এক জোড়া দুল, যার আনুমানিক মূল্য ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং ৬ আনা ওজনের একটি আংটি, যার মূল্য প্রায় ৮৪ হাজার টাকা চুরি হয়েছে বলে জানান তিনি।

সব মিলিয়ে চুরি যাওয়া স্বর্ণ ও রুপার অলংকারের আনুমানিক মূল্য ২৩ লাখ ৪ হাজার টাকা বলে দাবি করেছেন দোকান মালিক।

তালা বাজার বণিক সমিতির সভাপতি এস এম নুরুল ইসলাম বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। পুলিশও ঘটনাটি তদন্ত করছে।

তবে চুরি যাওয়া মালামালের পরিমাণ ও আর্থিক মূল্য এখনো পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি।

তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু বক্কার সিদ্দীক বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শ্যামনগরে ১৫ পরিবার পেল ছাগল, ১৫ পরিবার পেল সেলাই মেশিন

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ও গাবুরা ইউনিয়নের দরিদ্র ও অসহায় পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বী করে তুলতে জীবিকা সহায়তা প্রদান করেছে রোকেয়া মাইনুল আল রাহমা ফাউন্ডেশন।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দুই ইউনিয়নের মোট ৩০টি দরিদ্র পরিবারের মাঝে জীবিকা সহায়তা বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে ১৫টি পরিবারকে দুটি করে ছাগল এবং ১৫টি পরিবারকে একটি করে সেলাই মেশিন প্রদান করা হয়।

ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, উপকূলীয় এলাকার দরিদ্র ও অসহায় পরিবারগুলোকে এককালীন সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে আত্মনির্ভরশীল করে তোলাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। ছাগল পালন ও সেলাইয়ের মাধ্যমে উপকারভোগী পরিবারগুলো নিয়মিত আয়ের সুযোগ পাবে বলে আশা করছে ফাউন্ডেশন।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সামাজিক নেতৃবৃন্দ এবং উপকারভোগী পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। রোকেয়া মাইনুল আল রাহমা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান রুহুল আহমেদ ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন। এ সময় তিনি উদ্যোগটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ফাউন্ডেশনের সদস্য শারাফাতুর রহমান।

ফাউন্ডেশনের সংশ্লিষ্টরা জানান, উপকূলীয় জনপদের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনে ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

স্থানীয়রা জানান, এ ধরনের উদ্যোগ দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য শুধু তাৎক্ষণিক সহায়তা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করবে। ফলে পরিবারগুলো ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি তাদের জীবনযাত্রার মানও উন্নত হবে বলে তারা আশা করছেন।##

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
টেকসই বেড়িবাঁধ ও চলাচলের উপযোগী রাস্তা নির্মাণের দাবি এলাকাবাসীর

শ্যামনগর প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ১১নং পদ্মপুকুর ইউনিয়নের চাউলখোলা গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে নদীভাঙন, দুর্বল বেড়িবাঁধ ও বেহাল যোগাযোগব্যবস্থা। বছরের পর বছর ধরে এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় প্রতিনিয়ত ঝুঁকি ও ভোগান্তির মধ্যে জীবনযাপন করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, চাউলখোলা গ্রামে এখনো একটি ইটের রাস্তাও নেই। গ্রামের মানুষের চলাচলের অন্যতম প্রধান ভরসা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধের ওপরের কাঁচা রাস্তা। দীর্ঘদিন প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বিভিন্ন স্থানে রাস্তা সরু, ভাঙাচোরা ও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। বৃষ্টিতে কাঁচা রাস্তা কাদায় পরিণত হওয়ায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী, বৃদ্ধ ও শিশুদের চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। জরুরি প্রয়োজনে যানবাহন চলাচলও কঠিন হয়ে পড়ে।

অন্যদিকে নদীভাঙন ও দুর্বল বেড়িবাঁধ নিয়ে স্থানীয় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। নদীর প্রবল স্রোত ও ভাঙনের কারণে বেড়িবাঁধের বিভিন্ন অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়লে দুর্যোগের সময় বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। উপকূলীয় এই জনপদের মানুষের জানমাল, বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও জীবিকা রক্ষায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

এলাকাবাসী জানান, বিভিন্ন সময়ে জনপ্রতিনিধিদের কাছে রাস্তা ও বেড়িবাঁধ সংস্কারের দাবি জানানো হয়েছে এবং আশ্বাসও পাওয়া গেছে। কিন্তু তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী স্থায়ী ও দৃশ্যমান উন্নয়ন এখনো হয়নি।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, আমরা ব্যক্তিগত ত্রাণ বা সাময়িক সহযোগিতা চাই না। আমরা চাই এমন একটি শক্তিশালী ও টেকসই বেড়িবাঁধ, যা দুর্যোগের সময় আমাদের রক্ষা করবে। পাশাপাশি গ্রামের মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের জন্য স্থায়ী রাস্তা নির্মাণ করা হোক।

আরেক বাসিন্দা বলেন, একটি গ্রামের মৌলিক প্রয়োজনের মধ্যে ভালো যোগাযোগব্যবস্থা অন্যতম। অথচ আমাদের গ্রামে আজও একটি ইটের রাস্তা নেই। বর্ষার সময় চলাচল কতটা কষ্টকর, সেটা এখানে না এলে বোঝা কঠিন।

স্থানীয়দের দাবি, চাউলখোলার নদীভাঙন ও যোগাযোগব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধকে টেকসইভাবে নির্মাণ ও সংস্কারের পাশাপাশি গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ কাঁচা রাস্তাগুলো পাকাকরণের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে সমস্যার স্থায়ী সমাধানে এগিয়ে আসবেন।

চাউলখোলাবাসীর একটাই দাবি—সাময়িক সহায়তা নয়, নদীভাঙন থেকে স্থায়ী সুরক্ষা এবং নিরাপদ চলাচলের জন্য টেকসই বেড়িবাঁধ ও রাস্তা চাই।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
২৪ ঘণ্টা পার হলেও উদ্ধার হয়নি সাতক্ষীরার নিখোঁজ মাদ্রাসা ছাত্র ইব্রাহিম

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো সন্ধান মেলেনি সাতক্ষীরা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সুলতানপুর এলাকার শিশু ইব্রাহিম হোসেনের (১০)। স্বজনদের অব্যাহত খোঁজাখুঁজি সত্ত্বেও তার কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য না পাওয়ায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে পুরো পরিবার।

ইব্রাহিম হোসেন সাতক্ষীরা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সুলতানপুর এলাকার আব্দুল মতিনের পুত্র। সে শহরের ইটাগাছা দারুল উলুম মাদ্রাসার নাজেরা বিভাগের ছাত্র।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে ইব্রাহিম নিজ বাড়ির সামনে সুলতানপুর দক্ষিণপাড়া বায়তুল্লাহ জামে মসজিদ সংলগ্ন ঈদগাহ ময়দান এলাকা থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হয়। এরপর থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজের সময় তার পরনে ছিল নীল (ব্লু) রঙের প্যান্ট ও গেঞ্জি।

ঘটনার পর থেকে পরিবারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সকল স্থান ও আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে খোঁজখবর নেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। যার জিডি নম্বর- ১৭১৭, তারিখ: ২৫/০৯/২০২৬।

সন্ধান দিন:  কোনো সহৃদয় ব্যক্তি শিশু ইব্রাহিমের সন্ধান পেয়ে থাকলে বা কোনো তথ্য জানা থাকলে অনুগ্রহ করে নিম্নোক্ত মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগের জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে আকুল আবেদন জানানো হয়েছে: 01322-675174 অথবা 01939-528786

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আশাশুনিতে আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে ভেঙেছে ৫টি ঘর, চরম দুর্ভোগে ক্ষতিগ্রস্তরা

আশাশুনি প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার আশাশুনিতে আকস্মিক টর্নেডো বা প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পাঁচটি কাঁচা ঘর লন্ডভন্ড হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে খোলা আকাশের নিচে মানবিক ও কষ্টকর দিন কাটাচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।

শনিবার ভোরে উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের উত্তর বাইনতলা গ্রামে হঠাৎ ঝড় শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যেই ডিসিআর জমিতে বসবাসকারী তিন ভাই—সাহেব আলী মোল্লা, দাউদ মোল্লা ও আইয়ুব আলী মোল্লার ৫টি ঘরের টিন ও অ্যাসবেস্টসের চাল উড়ে যায় এবং কাঠামোর বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ে। এতে ঘরগুলো সম্পূর্ণ বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুণ্ডু জানান, “ঘটনাটি শোনার পর প্রজেক্ট ইমপ্লিমেন্টেশন অফিসারকে (পিআইও) খোঁজ নিতে বলা হয়েছে। শনিবার সরকারি ছুটি থাকায় পরিদর্শন সম্ভব হয়নি; তবে রোববার সরজমিনে গিয়ে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করা হবে এবং পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বড়দল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও জামায়াত নেতা আব্দুল গফুর সানা। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন, তাদের সমবেদনা জানান এবং নিজস্ব তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মুন্সিগঞ্জ আ’লীগ নেতার বিরুদ্ধে অসহায় মানুষের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়ায় মানববন্ধন

শ্যামনগর প্রতিনিধি : মুন্সিগঞ্জ আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে অসহায় মানুষের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগের প্রতিবাদ মানববন্ধন করেছে মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষ।

জানা যায়, মোঃ আমিনুর মোল্লা মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন এই প্রভাবে স্থানীয় মানুষের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে আসছেন। সম্প্রতি ইট ভাটার সদ্দার হিসেবে কয়েকজন শ্রমিক কে ভাটায় কাজের জন্যে নিয়ে যাওয়ার পরে তাদের মজুরির টাকা না দিয়ে বিভিন্ন তালবাহানা করতে থাকে। আমিনুর মোল্লার কাছে শ্রমিকরা পাওনা টাকা চাইতে গেলে বিভিন্ন ধরণের হুমকি ধামকি দেয় এবং তাদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জেলায় ইট ভাটার টাকা পাইবে মর্মে মামলা দেয়। বিষয়টা নিয়ে একাধিকবার ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ করলেও আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুর মোল্লা হাজির না হওয়ায় ভুক্তভোগীরা থানায় অভিযোগ করে। অভিযোগের প্রতিকার চেয়ে শুক্রবার বিকাল ৪ টায় হরিনগর বাজারে আমিনুর মোল্লার বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকার চেয়ে মানববন্ধন করেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, ভুক্তভোগী অজিয়ার খাঁ, আব্দুল্লাহ আল মামুন, ইমরান হোসেন, তাইজুল ইসলাম, আব্দুল মজিদ সহ আরো অনেকে।

মানববন্ধনে অজিয়ার খাঁ বলেন, আমি দীর্ঘদিন আমিনুর মোল্লার ভাটায় কাজ করেছি। কিন্তু, আমার টাকা না দেওয়ায় আমি টাকা চাইতে গেলেই হুমকি দেয় এবং আমার বিরুদ্ধে কোর্টে মিথ্যা মামলা করেছে।

ইমরান হোসেন বলেন, আমিনুর মোল্লার ভাটায় পুরা সিজন কাজ করে কোন টাকা দেয়নি। বাড়ি এসে পাওনা টাকা চাইতে গেলে আমাদেরকে মারধর করে এবং আমার মা এবং বাবা টাকা চাইতে গেলে তাদেরসহ মামলা দিয়েছে। এরকম অনেক মানুষের বিরুদ্ধে হয়রানি মূলক মামলা করেছে।

স্থানীয়রা আরো জানান, আমিনুর মোল্লা আওয়ামী লীগ ক্ষমতা থাকার সময় মানুষকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করতো। এখনো তার সেই অভ্যাস যায়নি। অসহায় নিরিহ ভাটা শ্রমিকদের নামে মামলা করে আবারো হয়রানি করছে আমরা এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

নিজস্ব প্রতিনিধি :
‎বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সাতক্ষীরা শহরের উদ্যোগে এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের নিয়ে “মেধা, সততা ও দেশপ্রেমে গড়ি ইনসাফের বাংলাদেশ” শীর্ষক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
‎
‎শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর)  সকাল ৮ টা ৩০ মিনিটে সাতক্ষীরা শহরের মুন্সিপাড়াস্থ অবস্থিত আল আমিন ট্রাস্টের কাজী শামসুর রহমান মিলনায়তনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

‎অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা-১) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ।
‎
‎​অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক সাইদুল ইসলাম।
‎
‎বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল,বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কলেজ কার্যক্রম সম্পাদক হাফেজ ইউসুফ ইসলাহী,জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান,সহকারি সেক্রেটারি প্রভাষক ওমর ফারুক,সদর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা হাবিবুর রহমান,সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের অফিস সেক্রেটারি মাওলানা রুহুল আমিন।
‎‎​বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য ও সাতক্ষীরা শহর সভাপতি মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাতক্ষীরা শহর সেক্রেটারি মোঃ নুরুন্নবী।
‎
‎‎প্রধান অতিথি অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে তিনি বলেন, “আজকের মেধা কেবল জিপিএ-৫ পাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; বরং এই মেধাকে সততা ও দেশপ্রেমের আলোয় আলোকিত করতে হবে। মেধা ও নৈতিকতার সংমিশ্রণ ছাড়া কখনো একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়। আগামীর বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ, বৈষম্যহীন ও দুর্নীতিমুক্ত হিসেবে গড়ে তুলতে আমাদের তরুণ প্রজন্মকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।”
‎
‎​অনুষ্ঠানে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সম্মাননা ও উপহার হিসেবে প্রদান করা হয় স্মারক ক্রেস্ট, ফুল, বিভিন্ন ইসলামী বই, কলম, প্যাড ও দাওয়াতী উপকরণ। এছাড়া শিক্ষার্থীদের স্মৃতিকে ধরে রাখতে ছবি তোলার জন্য ছিল দৃষ্টিনন্দন ও আকর্ষণীয় ফটোফ্রেম। একই সাথে সংগঠন ও সমাজ গঠনে শিক্ষার্থীদের গঠনমূলক মতামত ও দিকনির্দেশনা গ্রহণের জন্য ব্যবস্থা করা হয় একটি বিশেষ ‘পরামর্শ বোর্ড’।
‎
‎‎আলোচনা ও উপহার প্রদান পর্বে ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘কপোতাক্ষ শিল্পীগোষ্ঠী সাতক্ষীরা’-এর শিল্পীদের পরিবেশনায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
‎
‎​অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা শহর ছাত্রশিবিরের অফিস সম্পাদক আরিফ বিল্লাহ,ভর্তি কার্যক্রম সম্পাদক আবু সালেহ সাদ্দাম, অর্থ সম্পাদক হাফেজ আনিসুর রহমান,মিডিয়া ও তথ্য সম্পাদক মোঃ মাসুদ রানা, সাহিত্য সম্পাদক ইমরান হোসেন আফজাল, সমাজসেবা  সম্পাদক হাফেজ এবাদুল ইসলাম, মাদ্রাসা কার্যক্রম সম্পাদক মোঃ শাহনেওয়াজ,প্রচার সম্পাদক মোঃ ওয়ালীউল্লাহ, প্রকাশনা সম্পাদক মোঃ মাসুদুজ্জামান, এইচআরডি সম্পাদক মোঃ রফিকুল ইসলাম, আইন সম্পাদক মোঃ আকবর হোসেন, ক্রীড়া সম্পাদক মোঃ হাসানুল বান্না, সহকারী সমাজসেবা সম্পাদক বিল্লাল হোসেন, সহকারী এইচআরডি সম্পাদক হাঃ রাসেল হুসাইন,সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ সভাপতি জিয়াউর রহমান ফাহিম,সিটি কলেজ সভাপতি মোল্ল্যা ইব্রাহীম খলিলুল্লাহ এবং আগরদাঁড়ী মাদ্রাসা থানা সভাপতি মোঃ মুহিব্বুল্লাহ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest