দুর্নতির দায়ে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের পরিচালক ডা. উত্তম বড়ুয়ার বিরুদ্ধে মামলা

অনলাইন ডেস্ক : দুর্নীতির অভিযোগে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়ার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে এ মামলা করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের স্বাস্থ্য সচিব মো. আবদুল মান্নান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এছাড়া অসদাচারণ ও দুর্নীতির দায়ে উত্তম কুমার বড়ুয়াকে আগামী ১০ দিনের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে হাসপাতালের ক্রয়কারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে ৮টি ওটি (অপারেশন থিয়েটার) লাইট প্রকৃত মূল্যের চেয়ে অধিক মূল্যে ক্রয় করেছেন এবং এর মাধ্যমে সরকারের চার কোটি ৫৯ লাখ ৬৪ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতি সাধন করেছেন তিনি। একই বছর দুটি কোবলেশন মেশিন প্রকৃত মূল্যের চেয়ে অধিক মূল্যে ক্রয় করে ৭৮ লাখ টাকার ক্ষতি করেছেন। এছাড়া দুটি অ্যানেসথেসিয়া মেশিন বেশি দামে কিনে এক কোটি ১৭ লাখ ২৫ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতি করেছেন উত্তম বড়ুয়া।

তিন ধরনের সরঞ্জাম ক্রয়ের মাধ্যমে তিনি মোট ৬ কোটি ৪০ লাখ ৩১ হাজার ৮০০ টাকার আর্থিক ক্ষতি করেছেন। প্রাথমিক তদন্তে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বাড়ির উঠানে মাটিচাপা দেয়া স্বামী-স্ত্রী ও ছেলের লাশ

অনলাইন ডেস্ক : কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর মাটিতে পোঁতা অবস্থায় আসাদ মিয়া (৬০), তার স্ত্রী পারভীন খাতুন (৪০) ও ছেলে লিয়নের (১২) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে উপজেলার বনগ্রাম ইউনিযনের জামষাইট কান্দাপাড়া গ্রামে থেকে একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, উপজেলার জামষাইট গ্রামের মির হোসেনের ছেলে আসাদ ও স্ত্রী-ছেলেকে হত্যা করে লাশ বাড়ির পাশে মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে আসদের বড় ছেলে মোফাজ্জল কটিয়াদী থানায় তার বাবা-মা ও ভাইকে খুঁজে না পেয়ে থানায় জিডি করতে যান। পরে পুলিশ ছায়া তদন্ত করতে এসে দেখে বাড়ির পাশে নতুন কবর। সেখানে একটু খোঁড়াখুড়ি করলে একটি ছোট ছেলের হাত পাওয়া যায়। পরে রাতে পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদের নেতৃত্বে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের লাশ উদ্বার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায় পুলিশ।

আসাদ ও পারভীনের বড় ছেলে তোফাজ্জল ঢাকায় থাকেন। তাদের মেঝ ছেলে মোফাজ্জল ঘটনার দিন নানাবাড়িতে ছিলেন। মোফাজ্জল জানিয়েছেন, তার বাবার সঙ্গে চাচাদের জমি সংক্রান্ত বিরোধ ছিল।

স্থানীয় সাবেক মেম্বার কামাল হোসেন বলেন, জমি নিয়ে ভাই বোনদের বিরোধ ছিলো। শনিবার (৩১ অক্টোবর) এ ব্যাপারে সালিশ হওয়ার কথা ছিলো।

পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ বলেন, নিখোঁজের সংবাদ পেয়ে আমরা তদন্ত শুরু করি। পরে বাড়ির পাশে মাটিচাপা দেয়া তিনটি লাশ উদ্বার করা হয়েছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন চারজনকে আটক করা হয়েছে। তারা হলেন নিহত আসাদের ছোট ভাই দীন ইসলাম, বোনজামাই ফজলুর রহমান, বোন তাসলিমা ও নাজমা।

হোসেনপুর সার্কেলের (হোসেনপুর-কটিয়াদী) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সোনাহর আলী শরীফ জানান, একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চারজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
লালমনিরহাটে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা, মৃতদেহে আগুন

অনলাইন ডেস্ক : লালমনিরহাট জেলার পুলিশ জানিয়েছে, পাটগ্রাম এলাকায় শত শত মানুষ একজন ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার পর তার মৃতদেহ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলেছেন, এক মসজিদে আছরের নামাজের পর ঐ ব্যক্তি ধর্মের অবমাননা করেছেন, এমন গুজব ছড়িয়ে পড়লে শত শত মানুষ জড়ো হয়ে তাকে পিটিয়ে হত্যা করে।

এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

শত শত মানুষ জড়ো হয়ে পিটিয়ে ঐ ব্যক্তিকে হত্যা করে তার মৃতদেহে আগুন দেয়ার ঘটনাটি ঘটেছে পাটগ্রামের বুড়িমারি ইউনিয়নে।

পিটিয়ে একজনকে হত্যা এবং রক্তাক্ত একটি মৃতদেহ আগুন দিয়ে পোড়ানোর ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

লালমনিরহাট জেলার পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা বলছেন, “যতটুকু শুনেছি দু’জন লোক মসজিদে হোন্ডা (মোটরসাইকেল) নিয়ে নামাজ পড়তে এসেছিল। আসরের নামাজ। তো নামাজ পড়া শেষে, যে কোনো কারণেই হোক তাদের সঙ্গে মসজিদে যারা ছিল, তাদের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। ওনারা নাকি একটা শেলফে পা দিয়েছিলেন। তো সেটা নিয়ে কেউ বলছেন কোরআন শরীফের ওপর পা পড়েছে- এরকম একটা গুজব হয়তো ছড়িয়ে পড়েছে।”

পুলিশ সুপার আরও বলেন, “তখন অনেক লোকজন জড়ো হয়ে যায়। সেসময় পুলিশ আসে। এর মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদের একজন মেম্বার তাকে নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের একটা রুমের মধ্যে আটকে রাখে। পরে পুলিশ আসলে হ্যান্ডওভার করবে এরকম। পুলিশ আসার মধ্যেই অনেক লোক জড়ো হয়ে ইউনিয়ন পরিষদের গ্রিল ভেঙে বিভিন্ন দিক দিয়ে লোকজন ঢোকে।

”দুজন ছিল। তাদের একজনকে জোর করে নিয়ে যায়। ওসি একজনকে রেসকিউ করে সরিয়েছে। আরেকজনকে তারা ওইখানে পিটিয়ে মেরেছে। লাশটা তারা নিয়ে গেছে এবং আগুন দিয়েছে,” বিবিসিকে বলেন পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা।

তিনি আরও জানান, সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন।

যে ব্যক্তিকে সেখানে হত্যা করা হয়েছে, তার পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু তারা এখনও জানতে পারেন নি।

তবে সেই ব্যক্তির সাথে থাকা একজন, পুলিশ যাকে রক্ষা করতে পেরেছে, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

তৌহিদুন্নবী বলে এক ব্যক্তি নিজেকে নিহতের ভাই বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, তার ভাইকে পিটিয়ে হত্যার খবর তারা প্রথমে লোকমুখে শুনেছেন। তারা বিস্তারিত জানতে পারেননি। তবে ঘটনাটি তাদের হতবাক করেছে।

তিনি জানিয়েছেন, তাদের বাড়ি রংপুরে, কিন্তু তার ভাই কীভাবে লালমনিরহাটের পাটগ্রামে গিয়েছে, সেটা তাদের কাছে বোধগম্য নয়। এই খবরে তাদের পুরো পরিবার বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বলে তিনি বলেছেন।

তিনি বলেছেন, “আমরাও তো শুনছি। আমরা কনফার্ম না। আমরাতো কিছুই জানি না। আমরা অন্ধকারে আছি। এতটুকু শুনছি যে ও নাকি বুড়িমারি গেছে ওখানে নাকি লোকজন ওকে গণধোলাই দিছে। দিয়ে নাকি পিটায়ে মেরে ফেলছে। এই খবরটা পাইছি। ও রংপুর ক্যান্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের টিচার ছিল। একবছর আগে চাকরি থেকে অব্যাহতি পাইছে। মানসিক একটু অ্যাবনরমালিটি হয়ছিল। খুব যে সিভিয়ার তা না। এমনি একটু মানসিক বিপর্যস্ত ছিল এই আরকি। কারো সাথে কোনো রকম ঝামেলা ছিল না,” জানিয়েছেন তৌহিদুন্নবী।

পাটগ্রাম থেকে একজন স্থানীয় সাংবাদিক জানিয়েছেন, সেখানে পরিস্থিতি এখনও থমথমে রয়েছে। সূত্র: বিবিসি বাংলা

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মাদক মামলায় ওসি কামরুল কারাগারে

অনলাইন ডেস্ক : নারায়ণগঞ্জ বন্দরে ৪৯ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের মামলায় সদর মডেল থানার সাবেক ওসি মো. কামরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মাদক মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জেলাকারাগারে এক সপ্তাহ যাবত বন্দী থাকলেও রহস্যজনক কারণে সাংবাদিকদের তথ্য দিতে অনিহা প্রকাশ করেন নারায়ণগঞ্জ কোর্ট ইন্সপেক্টর আসাদজ্জামান।

উল্টো কোর্ট ইন্সপেক্টর আসাদজ্জামান রুল কল ডেকে কোর্টে দায়িত্বে থাকা সকল পুলিশ সদস্যদের সতর্ক করে দেন যাতে কোন অবস্থাতেই যেন ওসি কামরুল ইসলামের কারাগারে পাঠানোর খবর প্রকাশ না হয়। অবশেষে পুলিশের নানা নাটকীয়তার পর বৃহস্পতিবার রাতে ওসি কামরুল ইসলামের কারাগারে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেল সুপার মো. মাহবুবুল আলম।
আদালত সূত্র জানান, কঠোর গোপনীয়তায় গত ২২ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন কামরুল ইসলাম। পরে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। এক সপ্তাহ ধরে ওসি কামরুল নারায়ণগঞ্জ কারাগারে রয়েছেন এমন খবরের গুঞ্জনে গণমাধ্যম কর্মীদের নিশ্চিত করতে নারায়ণগঞ্জ আদালতের পুলিশ ইন্সপেক্টর আসাদুজ্জামানের মুঠোফোনে বারবার চেষ্টা করলেও তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে আদালতের দায়িত্বে থাকা একাধিক পুলিশ অফিসারের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তারা বলেন, এমন ঘটনা আমাদের জানা নাই।

তবে নারায়ণগঞ্জ আদালতের নির্ভরশীল একাধিক সূত্র নিশ্চিত করে বলেন, আদালতের দায়িত্বে থাকা ইন্সপেক্টর আসাদ রুল কল ডেকে সকল পুলিশ সদস্যকে সতর্ক করে দেন যাতে কোন অবস্থাতেই যেন ওসি কামরুল ইসলামের কারাগারে পাঠানোর খবর প্রকাশ না হয়। জানা গেছে, ২০১৮ সালের ৭ মার্চ নারায়ণগঞ্জ বন্দর থানার রুপালি আবাসিক এলাকা থেকে সদর মডেল থানার এএসআই সরোয়ার্দি ও মাদকবহনকারী সাবিনা আক্তার রুনুকে ৪৯ হাজার পিস ইয়াবা ও নগদ ৫ লাখ টাকাসহ গ্রেফতার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

এ ঘটনায় বন্দর থানায় দায়েরকৃত মামলার আসামি পুলিশের এএসআই আলম সরোয়ার্দি আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেন, রুনুকে ইয়াবাসহ আটকের পর ওসি কামরুল ইসলামকে আমি ফোন করি। উনি আমাকে নিরাপদ স্থানে যেতে বলেন। এরপর ঘাটের কাছেই বাসা হওয়ায় আমি আসামিসহ আমার বাসায় চলে যাই। পরে ওসি আলামত (৪৯ হাজার পিস ইয়াবা) ও ৫ লাখ টাকা রেখে রুনুসহ দু’জনকে এসআই মোর্শেদের কাছে দিতে বলে। মোর্শেদ আসামি রুনুকে নিয়ে বাসার নিচে যাওয়ার পর আমাকে ফোন দিয়ে অপর আসামিকে ছেড়ে দিতে বলে। ঐ আলামত থেকে ৫ হাজার পিস ইয়াবা এনে ওসির নির্দেশমতো রাস্তা থেকে জনি নামে একজনকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসি। রাতে ডিবি অভিযান চালিয়ে আলামত ও টাকা জব্দ করে।

কনস্টেবল মো. আসাদুজ্জামান জবানবন্দিতে বলেন, সরোয়ার্দির বাসায় গিয়ে রুনু ও আ. রহমানকে দেখতে পাই। সে দু’জনকে ইয়াবাসহ ধরেছে। মাদকগুলো থানায় না এনে বাসায় আনার কারণ জিজ্ঞাসা করলে সরোয়ার্দি বলেন, ওসি কামরুল স্যার আমাকে আসামিসহ মাদকগুলো বাসায় রাখতে বলেছে। পুলিশের দু’জন সদস্যের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ওসি কামরুলের নাম আসার পরেও তাকে বাদ দিয়ে গত আগস্ট মাসে ১২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজিমউদ্দিন আল আজাদ।

জানা গেছে, মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি কনস্টেবল আসাদুজ্জামানের জামিন আবেদন পর্যালোচনাকালে বিষয়টি হাইকোর্টের দৃষ্টিতে আসে। এরপরই তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব এবং এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। হাইকোর্টে দেওয়া ব্যাখ্যায় তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, দু’জনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ছাড়া পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ না পাওয়ায় ওসিকে আসামি করা হয়নি।

ওই ব্যাখ্যা আইনগতভাবে কতটা সঠিক সে বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী ও এস এম শাহজাহানের মতামত গ্রহণ করে হাইকোর্ট। তারা আদালতে অভিমত দিয়ে বলেন, তদন্ত কর্মকর্তার প্রধান কাজ মামলার তথ্য ও সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ এবং সংরক্ষণ করা। তার কোনো ক্ষমতা নেই মামলার তথ্য ও সাক্ষ্য-প্রমাণের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নে সিদ্ধান্ত দেওয়ার। ফলে তদন্ত কর্মকর্তা ওসিকে আসামি না করার ব্যাপারে যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন সেটা আইনগতভাবে সঠিক নয়।

এই মামলায় ওসি কামরুলের নাম আসায় আদালতের নির্দেশে গত বছরের ৪ মার্চ সদর থানা থেকে তাকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। পরে তাকে মামলার চার্জশিট থেকে অব্যাহতি দেয়া হলে ২ এপ্রিল আবারও সদর থানায় তাকে পুনর্বহাল করা হয়। তিনি পরে ডিবি ও অন্যত্র বদলি হন।

পরে সিআইডি ওসি কামরুলকে সম্পূরক চার্জশীটভুক্ত করেন। গত ২২ অক্টোবর তিনি নারায়ণগঞ্জের একটি আদালতে হাজির হলে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। আগামী ১ নভেম্বর তার জামিন শুনানি হবে। এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শফিউল ইসলাম বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় নিশ্চিত করে জানান, সাবেক ওসি কামরুল ইসলাম মাদক মামলায় জামিন চেয়ে গত ২২ অক্টোবর আদালতে আবেদন করেছিল, আদালত তাকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ছেলেকে আইসক্রিম আনতে পাঠিয়ে মাকে ধর্ষণ, স্কুলশিক্ষক গ্রেফ্তার

অনলাইন ডেস্ক : মানিকগঞ্জে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে শরিফুল ইসলাম সেন্টু (৩৯) নামের এক স্কুলশিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত শরিফুল ইসলাম সেন্টু মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার মৃত মইন উদ্দিনের ছেলে ও দৌলতপুর পিএস সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞানের শিক্ষক।

বৃহস্পতিবার ভোরে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গিলন্ড এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে স্কুলশিক্ষক সেন্টু ওই গৃহবধূর স্বামীকে খুঁজতে তার বাসায় যান। গৃহবধূ নামাজ পড়তে থাকায় তার ছেলেকে সিগারেট ও আইসক্রিম আনতে দোকানে পাঠান সেন্টু। এর পর বাসায় কেউ না থাকায় ওই গৃহবধূকে ধর্ষণ করে সেন্টু। বিষয়টি জানার পর গত বুধবার সন্ধ্যায় গৃহবধূর স্বামী বাদী হয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মানিকগঞ্জ সদর থানার এসআই মনিরুজ্জামান জানান, ওই গৃহবধূ ও অভিযুক্ত শরিফুল ইসলাম সেন্টুর মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আশাশুনিতে অডিটোরিয়াম ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনিতে পাঁচশত আসন বিশিষ্ট অডিটোরিয়াম ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এবিএম মোস্তাকিম। এসময় তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আশাশুনি উপজেলা পরিষদ চত্বরে পাঁচশত আসনের বিলাসবহুল অত্যাধুনিক দুইতলা বিশিষ্ট অডিটোরিয়াম ভবন নির্মিত হচ্ছে। এই অডিটোরিয়াম ভবন নির্মিত হলে আশাশুনি উপজেলা পরিষদের সৌন্দর্য একদিকে যেমন বৃদ্ধি পাবে তেমনি অন্যদিকে শিক্ষা, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক অনুষ্ঠান সহ বিভিন্ন সভা সুন্দর পরিবেশে আয়োজন করা যাবে। উদ্বোধনকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর আলিফ রেজা, উপজেলা প্রকৌশল আক্তার হোসেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সামাদ বাচ্চু, দপ্তর সম্পাদক জগদীশ চন্দ্র সানা, ঠিকাদার কামরুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আশাশুনির গোবিন্দপুর হাফিজীয়া মাদরাসায় বৃক্ষরোপন উদ্বোধন

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার কুল্যা ইউনিয়নের গোবিন্দপুর আরার কাদাকাটি আদর্শ হাফিজীয়া মাদরাসা ও গোবিন্দপুর জামে মসজিদে বৃক্ষরোপন কর্মসূচীর উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে কচুয়া গ্রামের আলোচিত বৃক্ষপ্রেমিক গ্রাম্য ডাক্তার আনিছুর রহমান মাদ্রাসা চত্বরে এ বৃক্ষরোপন কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন। বৃক্ষপ্রেমিক আনিছুর রহমানের নিজস্ব অর্থায়নে বৃক্ষরোপন কর্মসূচীর উদ্বোধনকালে গোবিন্দপুর আরার কাদাকাটি আদর্শ হাফিজীয়া ও গোবিন্দপুর মসজিদ কমিটির সভাপতি আজিজুল ইসলাম সরদার, মসজিদের ইমাম ও মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ শেখ আসলাম আলী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হুমায়ূন কবিরসহ মাদ্রাসার ছাত্রবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, কচুয়া গ্রামের মৃত আবু জাফরের ছেলে বৃক্ষপ্রেমী গ্রাম্য ডাক্তার আনিছুর রহমান বিভিন্নস্থানে নিজস্ব অর্থায়নে গাছের চারা ক্রয় করে বিগত ৪৫ বছর ধরে রোপন করে আসছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কালিগঞ্জে  মাদক বি‌রোধী সমা‌বেশ
কা‌লিগঞ্জ প্রতি‌নি‌ধিঃ কা‌লিগঞ্জ উপ‌জেলা‌কে মাদকমুক্ত কর‌ণের ল‌ক্ষে মাদক বি‌রোধী সমা‌বেশ অনু‌ষ্ঠিত হ‌য়ে‌ছে। বৃহস্প‌তিবার দুপুর ১২টায় উপ‌জেলা প‌রিষদ মিলনায়ত‌নে সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক এসএম, মোস্তফা কামা‌লের সভাপ‌তি‌ত্বে সমা‌বে‌শে স্বাগত বক্তব‌্য রা‌খেন উপ‌জেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোজা‌ম্মেল হক রাসেল। এসময় জেলা প্রশাসক ব‌লেন, সারা বাংলাদেশে মাদকের বিরুদ্ধে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধ ঘোষনা ক‌রে‌ছে। সেই অা‌লো‌কে জেলার ম‌ধ্যে কালিগঞ্জ উপজেলা‌কে বেঁছে নেওয়া হ‌য়ে‌ছে। দেশ সমাজ বা প‌রিবার থে‌কে মাদক নির্মূলে নিজ প‌রিবার থে‌কে ব‌্যবস্থা নি‌তে হ‌বে। মাদকাসক্তরা সত্যিকার অর্থে এক ধরনের রোগী। তা‌দের‌কে অবহেলা বা ফেলে দেয়া যাবে না। এজন‌্য উপ‌জেলা স্বাস্থ‌্য কম‌প্লে‌ক্সে নিরাময় কে‌ন্দ্র স্থাপন করা প্রয়োজন। যারা মাদক সেবন কর‌ছে তারা অাপনার অামার সন্তান বা আত্মীয়। অতএব তাদেরকে অপরা‌ধী ভে‌বে ফেলে দেয়া যাবেনা, সুস্থ করে তুলতে হবে। মাদকাসক্ত একটা পরিবারে যদি থাকে তার অবর্ণনীয় কষ্ট ওই পরিবার ছাড়া অন্য কেউ বুঝতে পারবে না। মাদকাসক্ত একটা ভয়াবহ অভিশাপ অতএব তাকে সুস্থ করে তোলার দায়িত্ব আমাদেরকে নিতে হবে। যারা মাদক সেবন ও ব‌্যবসা ক‌রে তা‌দের বিরু‌দ্ধে গোপনে তা‌লিকা তৈরী ক‌রে ব‌্যবস্থা নি‌তে হ‌বে। মাদক মুক্ত কর‌বো বল‌লেই মাদক মুক্ত করা যায়না। সে জন‌্য সরকার বি‌ভিন্ন ধর‌ণের কার্যক্রম হা‌তে নি‌য়ে‌ছে। সীমান্ত এলাকায় ক‌ঠোর ব‌্যবস্থা নি‌তে না পার‌লে কখ‌নোই মাদক বন্ধ করা যা‌বেনা।
অাইন দি‌য়ে মাদক বন্ধ করা যা‌য় না, মাদক বন্ধ কর‌তে হ‌লে প‌রিবার ও সমাজ‌কে মূখ‌্য ভূ‌মিকা পালন কর‌তে হ‌বে। যুব সমাজ‌কে মাদক থে‌কে দু‌রে রাখ‌তে খেলাধুলার কোন বিকল্প নেই। প্রেসক্লা‌বের সাধারণ সম্পাদক সুকুমার দাশ বাচ্ছু’র সঞ্চালনায় বক্তব‌্য রা‌খেন উপ‌জেলা প‌রিষ‌দের চেয়ারম‌্যান সাঈদ মে‌হেদী, উপ‌জেলা অা’লী‌গের সভাপ‌তি মাস্টার নরিম অালী মু‌ন্সি, ভাইস চেয়ারম‌্যান নাজমুল অাহসান, ম‌হিলা ভাইস চেয়ারম‌্যান দিপালী রানী ঘোষ, উপ‌জেলা অা’লী‌গের সাধারণ সম্পাদক ও ইউ‌পি চেয়ারম‌্যান এনামুৃর হো‌সেন ছোট, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম, বীর মু‌ক্তি‌যোদ্ধা অাব্দুল হা‌কিম, শেখ অা‌নোয়ার হো‌সেন, জাফরুল্লাহ ইব্রা‌হিম, শিক্ষক শ‌ফিকুল ইসলাম, ইউ‌পি সদস‌্য অালাউ‌দ্দিন সো‌হেল প্রমুখ।
0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest