সর্বশেষ সংবাদ-
সাতক্ষীরায় যৌতুকের বলি মা-মেয়ে : হত্যার দায়ে আসামির মৃত্যুদণ্ডসাতক্ষীরায় নগর দিবস উপলক্ষে মানববন্ধন: বস্তিবাসীকে পরিকল্পিত আবাসনের আওতায় আনার দাবিসাতক্ষীরায় হেভী ইকুইপমেন্ট অপারেটর শ্রমিক ইউনিয়নের মতবিনিময় সভাস্বাস্থ্যকর্মকর্তা  ও আব্বাসী কর্তৃক সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য : নেত্রকোনায় সাংবাদিককে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় মানবন্ধনপ্রতাপনগরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক রহমাতুল্লাহর মৃত্যুসাতক্ষীরায় প্রকৃতি ও জীবন ক্লাবের সাধারণ সভা: সভাপতি মুনির- সম্পাদক সামাদসাতক্ষীরায় ঘোড়ার মাংস গরু বলে বিক্রির অভিযোগে এক ব্যক্তি আটকসরকার গণতন্ত্রের পরিবর্তে জবরদখল ও দলীয়করণ শুরু করেছে: এমপি ইজ্জত উল্লাহআ.লীগ ও ভারতের সঙ্গে সমঝোতা করে দেশ চালাচ্ছে সরকার: নাহিদএনসিপির কমিটি পুনর্গঠন: পাটওয়ারী-হাসনাত-সারজিস-আসিফের পদোন্নতি

সাতক্ষীরায় যৌতুকের বলি মা-মেয়ে : হত্যার দায়ে আসামির মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিনিধি :  যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন ও পারিবারিক বিরোধের জেরে মা ও শিশুকন্যাকে হত্যার দায়ে আব্দুর রউফ সরদারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেন জোনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) শেখ আলমগীর আশরাফ।

দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুর রউফ সরদার সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ঘোনা গ্রামের আব্দুল্লাহ সরদারের ছেলে। মামলার বাদী জাহানারা খাতুন (৫৬)। তিনি কালিগঞ্জ উপজেলার তারালি সরদার পাড়ার বাসিন্দা বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী জাহানারা খাতুনের মেয়ে সাবিনা ইসলাম (২৬) প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে কালিগঞ্জের ঘোনা গ্রামের আব্দুর রউফ সরদারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর তাঁদের সংসারে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। পরে পারিবারিক বিরোধ ও যৌতুকের দাবিকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে অশান্তি দেখা দেয় বলে অভিযোগ করেন বাদী।

এজাহারে বলা হয়, আসামির মায়ের চিকিৎসার খরচের জন্য ৫০ হাজার টাকা এবং মোটরসাইকেল কেনার জন্য চাপ দেওয়া হয়। এ নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে সাবিনা ইসলাম তাঁর সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর রাতে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় সাইকেলের শব্দ শুনে বাদী জেগে ওঠেন। পরে ঘরের ভেতরে গিয়ে তিনি মেয়ে সাবিনা ইসলাম ও নাতনি আয়েশা সিদ্দিকাকে খাটের ওপর নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁদের বাঁচানোর চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হয়নি বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

এ ঘটনায় জাহানারা খাতুন থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পরে পুলিশ তদন্ত করে মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় চিকিৎসক, তদন্ত কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেটসহ মোট ১২ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। মামলায় আসামির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও ছিল বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত আসামি আব্দুর রউফ সরদারকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামি জামিনে মুক্ত হওয়ার পর পলাতক হয়ে যান।
যৌতুকের মতো সামাজিক ব্যাধির কারণে মা ও শিশুকন্যার প্রাণহানির এ ঘটনা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল। আদালতের এ রায়ের মধ্য দিয়ে নিহতদের পরিবারের ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় নগর দিবস উপলক্ষে মানববন্ধন: বস্তিবাসীকে পরিকল্পিত আবাসনের আওতায় আনার দাবি

নিজস্ব প্রতিনিধি: নগরকে সুন্দর ও পুনরুজ্জীবিত করতে যারা নিরন্তর পরিশ্রম করেন, সেই মানুষদের বস্তিবাসী হিসেবে অবহেলায় না রেখে পরিকল্পিত আবাসন ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরার শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কের প্রধান ফটকের সামনে বিশ্ব নগর দিবস ২০২৬ উপলক্ষে গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক এবং শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্য রক্ষা টিম আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা এই দাবি জানান।

দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘শহরের পুনরুজ্জীবন: সবার জন্য পর্যাপ্ত আবাসন।’

মানবাধিকার কর্মী মাধব চন্দ্র দত্তের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক আজাদ হোসেন বেলাল, সিনিয়র সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জি, জেলা নাগরিক কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব আলী নূর খান বাবুল, লেখক সিদ্দিকুর রহমান, ভূমিহীন নেতা আব্দুস সামাদ, গ্রীন কোয়ালিশনের যুগ্ম সম্পাদক এম বেলাল হোসাইন, বারসিকের প্রোগ্রাম অফিসার গাজী মাহিদা মিজান, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্য রক্ষা টিমের সদস্য জ্যোতি সরকার, ইমতি জামিল প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে মাধব চন্দ্র দত্ত বলেন, সাতক্ষীরা পৌরসভা প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও এখানকার অনেক মানুষ এখনো নগরসুবিধা থেকে বঞ্চিত। নগরের উন্নয়ন পরিকল্পনায় সুবিধাবঞ্চিত মানুষের অধিকার ও আবাসনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। নগরকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলার পাশাপাশি বস্তিবাসীর জন্য পর্যাপ্ত আবাসন নিশ্চিত করতে হবে।

জেলা নাগরিক কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব আলী নূর খান বাবুল বলেন, সাতক্ষীরা পৌরসভাকে আরও সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে চাইলে আমাদের এখনই ১০০ বছরের একটি পরিকল্পনা নিতে হবে। সাতক্ষীরা শহরে একটি বাঞ্ছনীয় পরিবেশ তৈরি করতে এবং পৌরসভাকে একটি সুন্দর ও আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তুলতে পরিকল্পিত আবাসন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যতে সাতক্ষীরার পরিস্থিতি এর চেয়েও ভয়াবহ হয়ে উঠবে। #

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় হেভী ইকুইপমেন্ট অপারেটর শ্রমিক ইউনিয়নের মতবিনিময় সভা

প্রেস বিজ্ঞপ্তি :

“দুনিয়ার মজদুর এক হও, শ্রমিক ঐক্য জিন্দাবাদ”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে শ্রমিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সাতক্ষীরায় এক বিশেষ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন-এর অন্তর্ভুক্ত (রেজি: নং-বি-১৭২৪) এবং ঢাকা-৬৩৫২ রেজিস্টার্ড ‘হেভী ইকুইপমেন্ট অপারেটর শ্রমিক ইউনিয়ন’-এর সাতক্ষীরা জেলা শাখা এই সভার আয়োজন করে।

​সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সিনিয়র অপারেটর রুবেল হোসেন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র অপারেটর মুজাফফর হোসেন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শেখ গোলাম মোস্তফা।

​সভায় বক্তারা শ্রমিকদের আইনি সুরক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা, কর্মক্ষেত্রের মর্যাদা, চিকিৎসা সহায়তা এবং একটি উন্নত ভবিষ্যৎ গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়াও দেশের উন্নয়নমূলক কাজে (রাস্তা, সেতু, অবকাঠামো) জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা হেভী ইকুইপমেন্ট শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে মালিকপক্ষের প্রতি ন্যায্য

তাদের উত্থাপিত ৫দফাদাবি গুলোর মধ্যে রয়েছে, গাড়ির অপারেটরদের মজুরি বৃদ্ধি: ঘণ্টাপ্রতি বর্তমান ৩০০ টাকার পরিবর্তে কাজের ঝুঁকি ও দক্ষতা বিবেচনায় ২৩০ টাকা নির্ধারণ করা। ঘণ্টাপ্রতি বর্তমান ১৫০ টাকার পরিবর্তে ১৭৫ টাকা করার দাবি। ​কাজের মৌসুমে হেলপারদের সর্বনিম্ন ৩,০০০ টাকা মাসিক বেতন প্রদান করা। কাজের সিজন শেষে গ্যারেজে রক্ষণাবেক্ষণের সময় অপারেটর ও হেলপারদের যাতায়াত, খাবার ও দৈনিক হাতখরচের সুব্যবস্থা করা। শ্রমিক-মালিক পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় রাখা এবং কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা ছাড়া আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজা।

​বক্তারা উল্লেখ করেন, “শ্রমিক বাঁচলে শিল্প বাঁচবে, শ্রমিকের সম্মান বাড়লে কাজের মানও বাড়বে।” তাঁরা ইউনিয়নের আওতায় জেলার সকল হেভী ইকুইপমেন্ট অপারেটর ও হেলপারদের দ্রুত সঠিক সদস্যপদ গ্রহণ করে ঐক্যবদ্ধ থাকার বিশেষ আহ্বান জানান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
স্বাস্থ্যকর্মকর্তা  ও আব্বাসী কর্তৃক সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য : নেত্রকোনায় সাংবাদিককে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় মানবন্ধন

নিজস্ব প্রতিনিধি :  সাতক্ষীরায় তালার স্বাস্থ্যকর্মকর্তা ডা: মিজানুর রহমান ও এনায়েত উল্লাহ আব্বাসী কর্তৃক সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য এবং নেত্রকোনায় সাংবাদিককে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে মানবন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার বেলা ১১টায় সাতক্ষীরা নিউ মাকের্ট চত্বরে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন,সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ।
বক্তব্য রাখেন, ডেইলি স্টারের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি কল্যাণ ব্যানার্জি, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মমতাজ আহমেদ বাপী, প্র্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান, সাংবাদিক মহিদার রহমান, আসাদুজ্জামান সরদার, আবু সাঈদসহ অন্যরা। সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম. বেলাল হোসাইন।

বক্তারা বলেন, তালার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সকল সাংবাদিকদের ‘জাহান্নামী’ বলে যে ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সাংবাদিকরা সমাজের আয়না ও জাতির বিবেক। তারা সর্বদা নির্যাতিত ও নিষ্পেষিত মানুষের পক্ষে সাহসিকতার সাথে কাজ করেন। তাদের বিরুদ্ধে এমন ঢালাও ও দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য অত্যন্ত নিন্দনীয় ও দুঃখজনক। চিকিৎসাসেবার চিত্র তুলে ধরে বক্তারা আরও বলেন, অথচ আজ চিকিৎসকদের একটি বড় অংশ চিকিৎসাসেবার নামে অবাধ ব্যবসা ও মানুষের জীবন নিয়ে খেলা করছেন। যার ফলে দেশের স্বাস্থ্য খাত আজ সবচেয়ে অবহেলিত ও দুর্নীতিগ্রস্ত খাতে পরিণত হয়েছে।”

একইসাথে আয়াতুল্লাহ আব্বাসীর বিতর্কিত মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান বক্তারা।

এছাড়া, সম্প্রতি নেত্রকোনায় দুর্বৃত্তের গুলিতে সাংবাদিক নিহতের নির্মম ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। বক্তারা অবিলম্বে এ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
প্রতাপনগরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক রহমাতুল্লাহর মৃত্যু

বিএম আলাউদ্দীন, আশাশুনি প্রতিনিধি:
আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাওলানা রহমাতুল্লাহ নামে এক মাদ্রাসার আরবি প্রভাষকের মৃত্যু হয়েছে।  শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নিজ বাড়িতে ধানখেতে পানি দেওয়ার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মাওলানা রহমাতুল্লাহ প্রতাপনগর গ্রামের সুলতান আহমেদ ময়রার একমাত্র ছেলে। তিনি আনুলিয়া মদিনাতুল উলুম সিনিয়র মাদ্রাসায় আরবি বিষয়ের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেলে নিজ বাড়িতে মোটরের মাধ্যমে ধানখেতে পানি দেওয়ার সময় তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার-পরিজন, সহকর্মী ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মৃত্যুকালে তিনি মা-বাবা, স্ত্রী ও দুই ছেলেসন্তান রেখে গেছেন।
পারিবারিক সূত্রে আরও জানা গেছে, রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল ৯টায় মরহুমের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় প্রকৃতি ও জীবন ক্লাবের সাধারণ সভা: সভাপতি মুনির- সম্পাদক সামাদ

ঋতু পরিবর্তনের বারতায় মৃদু হাওয়ায় যখন চারপাশের রূপ বদলে যায়, তখনই মাটির টানে যেন জেগে ওঠে মানুষের সুকোমল মন। প্রকৃতির সেই অপার সৌন্দর্য, রূপ ও ছন্দকে জীবনের পরম পাথেয় করে সাতক্ষীরায় আয়োজিত হলো এক ব্যতিক্রমী প্রীতি মিলনমেলা। ‘সুন্দর প্রকৃতিতে গড়ি সুস্থ জীবন’Ñএই মর্মবাণীকে অন্তরে ধারণ করে শনিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘প্রকৃতি ও জীবন ক্লাব, সাতক্ষীরা’-র সাধারণ সভা।

ঋতুর ঘূর্ণাবর্তে রূপসী বাংলা একেক সময় একেক নতুন সাজে ধরা দেয়। কখনো বর্ষার অবিরল জলধারা ধুয়ে দেয় শ্রান্তি, কখনো শরতের শুভ্র কাশফুল ও মেঘমুক্ত নীল আকাশ মনে করিয়ে দেয় পরম বিশুদ্ধতার কথা। প্রকৃতির এই চিরন্তন নিয়মের সঙ্গেই যেন একাকার হয়ে উঠেছিল ক্লাব সদস্যদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি।

সবুজে ঘেরা বনাঞ্চল ও জলরাশিবেষ্টিত সুন্দরবনের উপকূলীয় এই জনপদের প্রকৃতি বাঁচানোর এক সুকোমল আকুতি ধ্বনিত হয়েছে অনুষ্ঠানে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পরিচালনায় এই সভা কেবল এক প্রাতিষ্ঠানিক আয়োজন হয়ে থাকেনি; বরং তা হয়ে উঠেছিল পরিবেশ রক্ষা, সুষম জীবনযাপন এবং ঋতুভিত্তিক প্রাকৃতিক সামঞ্জস্য রক্ষার এক অনন্য অঙ্গীকারনামা।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বিশ্বব্রহ্মা-ে পৃথিবীই একমাত্র প্রাণের ভালোবাসার ঘর। তাই এর পরিবেশ ও প্রকৃতিকে আগলে রাখার দায়িত্বও আমাদের। হৃদয়ের মমতা ও সংবেদনশীলতা দিয়ে প্রকৃতিকে ভালোবাসতে হবে। সুন্দরবন আমাদের ফুসফুস; একে রক্ষায় আমাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের পাশাপাশি নদ-নদী রক্ষা, দূষণ প্রতিরোধ এবং নিয়মিত বৃক্ষরোপণ করে তার যতœ নিতে হবে।
সংগঠনের সাতক্ষীরা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট মুনির উদ্দীনের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন সমন্বয়কারী ও সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি বিশিষ্ট সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদ। সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন উপদেষ্টা প্রাক্তন অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল হামিদ, ডাক্তার সুশান্ত কুমার ঘোষ, অধ্যাপক পবিত্র মোহন দাশ, শেখ সিদ্দিকুর রহমান, মাধব চন্দ্র দত্ত, আলী নূর খান বাবুল; সহসভাপতি জ্যোৎস্না দত্ত, প্রবীর চন্দ্র দত্ত, সত্যপ্রকাশ দত্ত; কোষাধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ; সদস্য বরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আবু আফফান রোজবাবু, শেখ হারুন উর রশিদ, এসএম শহীদুল ইসলাম, অধ্যাপক পাল শুভাশীষ, নাজমুল হক, উম্মে ফুয়ারা, এসএম হাবিবুল হাসান, জিএম আমিনুল হক, মোস্তাকিম হোসেন, গাজী আসাদ, সালাউদ্দীন রানা, মিলন বিশ্বাস, হাবিবুর রহমান সোহাগ, মৃত্যুঞ্জয় রায় অপূর্ব, মোঃ আব্দুর রহিম, সুধাংশু কুমার রাহা, জাহিদ হাসান, মোঃ ওলিউর রহমান, তানজির আহমেদ, গাজী মাহিদা মিজান, ফাহিম হাসনাত ইমন, মেহেদী হাসান (শিমুল), মো. হোসেন আলী ও সাখাওয়াতউল্যাহ।

প্রকৃতির স্নিগ্ধতা রক্ষা ও টেকসই পরিবেশ গড়ে তুলতে সংগঠনের পক্ষ থেকে নানামুখী কর্মসূচির রূপরেখা ঘোষণা করা হয়। তা হলোÑ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি: আগামী জুন-জুলাই মাসে উপযুক্ত স্থান নির্বাচন করে প্রতিটি শাখা অন্তত ৩০০টি (১০০টি ফলদ, ১০০টি বনজ ও ১০০টি ঔষধি) চারা রোপণ করবে। সফলতম ৩টি শাখাকে কেন্দ্রীয়ভাবে পুরস্কৃত করা হবে। এ ছাড়া সদস্যরা বছরজুড়ে ব্যক্তিগত পর্যায় থেকেও বৃক্ষরোপণ চালিয়ে যাবেন।

ভিডিওচিত্র ও আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা: পরিবেশ, প্রকৃতি ও জলবায়ু বিষয়ে ২-৩ মিনিটের ভিডিওচিত্র এবং স্থিরচিত্র প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। নির্বাচিত সেরা চিত্রগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের পাশাপাশি বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হবে।
‘প্রকৃতিবার্তা’ ও প্রকাশনা: সদস্যদের পরিবেশবিষয়ক সেরা লেখা ও ছবি ‘প্রকৃতিবার্তা’ ম্যাগাজিনে স্থান পাবে। পাশাপাশি শাখাগুলো নিজস্ব উদ্যোগেও প্রকাশনা বের করতে পারবে।

স্কুলপর্যায়ে বিতর্ক, চিত্রাঙ্কন ও কুইজ: পরিবেশ সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে বিদ্যালয় পর্যায়ে বিতর্ক, প্রাথমিকে চিত্রাঙ্কন ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।
সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভিডিও প্রদর্শনীর মাধ্যমে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতি মাসে নদী তীর, পার্ক, সড়ক, বনাঞ্চল, শহীদ মিনার ও পাঠাগারের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হবে।
পাঠচক্র ও পাঠাগার স্থাপন: প্রকৃতিবিষয়ক বই নিয়ে নিয়মিত মাসভিত্তিক পাঠচক্রের আয়োজন এবং স্থানীয়ভাবে পাঠাগার গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
দিবস পালন ও সেবামূলক কাজ: জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবসের পাশাপাশি রক্তদান, চিকিৎসাসেবা, শীতবস্ত্র ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণের মতো আর্তমানবতার সেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
ইকো ট্যুরিজম ও বৈঠক: সদস্যদের সৌহার্দ্য বাড়াতে প্রাকৃতিক পরিবেশে আনন্দঘন ‘ইকো ট্যুরিজম’-এর আয়োজন করা হবে। সংগঠনের কার্যকারিতা বজায় রাখতে প্রতি মাসে কার্যনির্বাহী বৈঠক ও প্রতি তিন মাস পর পর সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে। উল্লেখ্য, প্রতিটি কর্মসূচির তথ্য ও ফুটেজ কেন্দ্রীয় পর্ষদে পাঠানো হবে এবং সারা বছরের কাজের ভিত্তিতে সেরা ১০টি ক্লাবকে ‘বর্ষসেরা অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হবে।

আলোচনা পর্বের শেষাংশে প্রকৃতি ও জীবন ক্লাব সাতক্ষীরা শাখার আগামী ২ বছরের জন্য ১১ সদস্যবিশিষ্ট পরিচালনা কমিটি গঠিত হয়। নবগঠিত কমিটিতে জায়গা পেয়েছেনÑসভাপতি: অ্যাডভোকেট মুনির উদ্দীন, সহ-সভাপতি: মো. ওলিউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক: মো. আব্দুস সামাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক: মো. নাজমুল হক, অর্থ সম্পাদক: মো. আসাদুল ইসলাম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক: মো. হোসেন আলী, দপ্তর সম্পাদক: মাশকুরা পারভীন মৌ, নারী বিষয়ক সম্পাদক: উম্মে ফুয়ারা রানী, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক: এস এম শহীদুল ইসলাম, স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া সম্পাদক: এসএম সাজেদুল ইসলাম, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক: অর্পণ বসু। প্রকৃতির ছন্দে পা মিলিয়ে মানুষের এই সম্মিলিত পথচলা যেন ঋতুচক্রের প্রতিটি বাঁকে হারিয়ে যাওয়া স্নিগ্ধতা ও প্রাণপ্রবাহ ফিরিয়ে আনার এক নতুন দীপশিখা হয়ে জ্বলছে।##

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় ঘোড়ার মাংস গরু বলে বিক্রির অভিযোগে এক ব্যক্তি আটক

নিজস্ব প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরা ও খুলনার সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘোড়া জবাই করে মাংস বিক্রির সঙ্গে জড়িত চক্রের মূল হোতাকে আটক করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাকে তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

এর আগে সাতক্ষীরার তালা উপজেলা ও খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী ১৮ মাইল এলাকায় এসআরবি-৬ সিপিসি-১ সাতক্ষীরার একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে তাকে হাতেনাতে ধরে।

অভিযান পরিচালনাকালে ওই স্থান থেকে তিনটি জবাই করা ঘোড়ার মাংস এবং একটি জীবিত ঘোড়া উদ্ধার করা হয়। আটক ব্যক্তির নাম আনিছুর রহমান পলাশ, যিনি এই চক্রের মূল হোতা বলে জানা গেছে।

এসআরবি-৬, সিপিসি-১-এর কোম্পানি কমান্ডার জাইন উদ্দিন মোহাম্মদ যিয়াদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “আমাদের কাছে তথ্য ছিল যে তালা সীমান্ত ও ডুমুরিয়া সংলগ্ন এলাকায় একটি চক্র বিভিন্ন জায়গা থেকে ঘোড়া এখানে নিয়ে আসে, ঘোড়া জবাই করে সেই মাংস গরুর মাংস হিসাবে বিভিন্ন হোটেল ও রেস্তোরাঁয় বিক্রি করা হচ্ছে । খবর পাওয়ার পর থেকে আমরা এলাকাটিতে নজরদারি বাড়াই এবং গতকাল রাত থেকে ধারাবাহিক অভিযান শুরু করি।

আমরা এখানে তিনটি জবাই করা ঘোড়ার মাথা ও মাংস জব্দ করি এবং আরও একটি ঘোড়া জীবিত অবস্থায় জব্দ করা হয় এবং এর মূল হোতা আনিসুর রহমান পলাশ কে ধরতে সক্ষম হয়।

অভিযান শেষে আজ শনিবার দুপুর ১টার দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পরিচালনায় পরিচালিত মোবাইল কোর্ট আটক আনিছুর রহমান পলাশকে তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। উদ্ধার করা জীবিত ঘোড়াটিকে সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং এ ধরনের প্রতারণামূলক অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে এসআরবি।##

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সরকার গণতন্ত্রের পরিবর্তে জবরদখল ও দলীয়করণ শুরু করেছে: এমপি ইজ্জত উল্লাহ

নিজস্ব প্রতিনিধি : যারা জনগণের সাথে প্রতারণা করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়, তারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একসময় ক্ষমতা থেকেও ছিটকে পড়ে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের সংসদ সদস্য মুহা. ইজ্জতউল্লাহ এ কথা বলেছেন।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় সাতক্ষীরা আল-আমিন ট্রাস্টের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত জেলা জামায়াতে ইসলামীর এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সরকার ও রাজনৈতিক দলের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরে জামায়াতের এই নেতা বলেন, “সরকার এবং রাজনৈতিক দল এক নয়। বিএনপি নেতারা মনে করতে পারেন সরকার মানেই তাঁদের দল, কিন্তু রাষ্ট্রব্যবস্থায় রাষ্ট্রযন্ত্র ও রাজনৈতিক দল কখনো এক হতে পারে না।” তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যে রাষ্ট্রে দল ও সরকার একাকার হয়ে যায়, সেখানে গণতন্ত্রের পরিবর্তে কর্তৃত্ববাদ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং জবরদখল ও জুলুমের পরিবেশ তৈরি হয়। রাষ্ট্র ও সরকারকে একাকার করে ফেলা হলে বর্তমান সরকারকেও বিদায়ী আওয়ামী লীগের চেয়েও করুণ পরিণতির মুখে পড়তে হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জেলা প্রশাসনসহ নানা স্তরে অনির্বাচিত ব্যক্তিদের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ দিয়ে জনগণের অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। এভাবে জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বন্ধ না হলে এবং দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা চললে, সাধারণ জনগণকে সাথে নিয়ে আবারও সরকারের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুলের সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারী মাওলানা আজিজুর রহমানের সঞ্চালনায় বৈঠকে জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর, সহকারী সেক্রেটারী, কর্মপরিষদের সদস্য এবং বিভিন্ন উপজেলার আমীর-সেক্রেটারিসহ স্থানীয় শীর্ষ দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।#

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest