সর্বশেষ সংবাদ-
আশাশুনিতে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজসাতক্ষীরায় বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করলেন সাবেক মেয়র চিশতিউপকূল পুনরুদ্ধারে ১০ লক্ষ বীজ রোপণ: চারা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগের অঙ্গীকারপ্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত মানতে পারছেন না শ্যামনগরের বিএনপি নেতা আদম আলীএখানে সকল ধর্মের মানুষের সমান অধিকার রয়েছে– এড.সৈয়দ ইফতেখার আলীসাতক্ষীরায় মিষ্টি পানির ছোঁয়া: শ্যামনগরে ঘুচল হাজারো মানুষের পানিকষ্টসাতক্ষীরায় শহরে দুর্গা মন্দির পরিদর্শনে প্রশাসক হাবিবদেবহাটার আলোচিত শামীম হত্যা: দুই আসামি গ্রেপ্তারআশাশুনিতে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় আনসারদের সতর্ক থাকার নির্দেশ ওসি শাহিদুরেরসাতক্ষীরা সদরের বড়খামার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের জমির গাছ কাটার অভিযোগ

আশাশুনিতে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ

বিএম আলাউদ্দীন, আশাশুনি প্রতিনিধি:
শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাষ্টমী উপলক্ষে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত তিনি উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখেন এবং পূজার সার্বিক পরিবেশ, নিরাপত্তাব্যবস্থা ও ভক্ত-দর্শনার্থীদের উপস্থিতির খোঁজখবর নেন।

পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক আশাশুনি উপজেলার নাকতাড়া কালিবাড়ি সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, সব্দালপুর সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, মহেশ্বরকাটি সার্বজনীন দুর্গা মন্দির ও বুধহাটা সার্বজনীন দুর্গা মন্দির পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলেন এবং শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গোৎসব উদ্‌যাপনের বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

এ সময় জেলা প্রশাসক বলেন, আপনারা জানেন বাংলাদেশে এই প্রথমবারের মতো দুর্গাপূজা উপলক্ষে তিন দিন ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। আমরা চাই শুধু সাতক্ষীরা নয় বাংলাদেশ ব্যাপী আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশ শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপন করতে পারে। শারদীয় দুর্গোৎসব বাঙালির ঐতিহ্য, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের এক অনন্য উৎসব। ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখে সবাইকে উৎসব উদ্‌যাপন করতে হবে। পূজামণ্ডপে আগত ভক্ত-দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক রয়েছে।

দুর্গোৎসবের শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। পরিদর্শন কাল আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুন্ডু, আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিদুর রহমান, উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি নীলকণ্ঠ সম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মশিউল হুদা তুহিনসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, পূজা উদ্‌যাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করলেন সাবেক মেয়র চিশতি

প্রেস বিজ্ঞপ্তি: শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে সাতক্ষীরা পৌরসভার বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন সাতক্ষীরা পৌরসভার সাবেক মেয়র তাসকিন আহমেদ চিশতি।

পরিদর্শনকালে তিনি পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ ও সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্তদের সাথে শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন। একই সাথে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপনের জন্য সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং পৌরসভার পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম রবি , সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষক আনারুল ইসলাম , সাতক্ষীরা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান পলাশ , ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন বাবু , সদর উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ন আহবায়ক হুমায়ুন কবির, শিবপুর ইউনিয়ন কিশোর দলের সভাপতি নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল ইসলাম সহ নেতৃবৃন্দ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
উপকূল পুনরুদ্ধারে ১০ লক্ষ বীজ রোপণ: চারা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগের অঙ্গীকার

‎শ্যামনগর প্রতিনিধি :  ‎‎জলবায়ু পরিবর্তন, লবণাক্ততা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকা উপকূলীয় জনপদে প্রাণ-প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধারে ১০ লক্ষ বীজ রোপণের পর এবার রোপিত বীজ ও জন্ম নেওয়া চারাগাছের সুরক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ইউনিয়ন পর্যায়ের তদারকি কমিটির সদস্যদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় রোপিত বীজ থেকে জন্ম নেওয়া চারাগাছ রক্ষা, নতুন করে বৃক্ষরোপণ, বেড়া ও ঘের নির্মাণ, গাছ পাহারা দেওয়া এবং জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
‎‎সোমবার (১৯ অক্টোবর) বেলা ১১টায় সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বারসিকের উপকূলীয় আঞ্চলিক কেন্দ্রে এ সভার আয়োজন করে সংগঠিত জনসংগঠন, শ্যামনগর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবী অ্যাসোসিয়েশন ও গ্রিন কোয়ালিশন। সভায় সভাপতিত্ব করেন ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত ইউপি সদস্য কমলা রানী।
‎‎বারসিকের ক্যাম্পেইন অ্যান্ড নেটওয়ার্ক ফ্যাসিলিটেটর স.ম. ওসমান গনী সোহাগ এর সঞ্চালনায় সভায় স্বাগত বক্তব্যে বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী শাহীন ইসলাম বলেন, উপকূল পুনরুদ্ধারে স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও জনসংগঠনগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এ উদ্যোগ শুধু গাছ লাগানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং উপকূলের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের জীবন-জীবিকার সুরক্ষার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। এ উদ্যোগ দেশের বাইরেও বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, যা স্থানীয় মানুষের পরিবেশ রক্ষার প্রচেষ্টাকে বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরেছে।
‎‎তিনি আরও বলেন, “বীজ রোপণ করেই আমাদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। একটি বীজের অঙ্কুরোদগম থেকে চারাগাছের বেড়ে ওঠা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে যত্ন ও সুরক্ষা প্রয়োজন। ঠিক নিজের গর্ভে লালন করা সন্তানের মতো। আজ যে চারাগাছটি জন্ম নিয়েছে, সেটিই আগামী দিনে পাখির আশ্রয়, জীববৈচিত্র্যের আবাস এবং উপকূলের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার অংশ হয়ে উঠতে পারে। তাই কোনোভাবেই রোপিত বীজ ও চারাগাছ নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও জনসংগঠন এগিয়ে এলে বারসিকও নিজ নিজ অবস্থান থেকে সহযোগিতা করবে।”
‎
‎‎সভায় বক্তব্য দেন ঈশ্বরীপুর ইউনিয়ন গ্রিন কোয়ালিশনের সভাপতি মো. জিল্লুর রহমান, কৈখালী ইউনিয়ন গ্রিন কোয়ালিশনের সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান, পদ্মপুকুর ইউনিয়ন গ্রিন কোয়ালিশনের সভাপতি মো. আশরাফ হোসেন, সর্বোচ্চ বীজদাতা লতা রানী এবং আটুলিয়া এ. কাদের স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক কিশোর কুমার।
‎
‎বক্তারা বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে বৃক্ষরোপণ কেবল সবুজায়নের কর্মসূচি নয়; এটি জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলা, প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক উদ্যোগ। তবে বৃক্ষরোপণের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে রোপিত বীজের অঙ্কুরোদগম, চারাগাছের টিকে থাকা এবং উপযুক্ত পরিচর্যার ওপর। এ জন্য স্থানীয় মানুষের মালিকানাবোধ, নিয়মিত তদারকি ও সামাজিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।
‎
‎সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান ফরিদা পারভীন, ভুরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহানা মোস্তফা, পদ্মপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শুক্করী রানী, মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য পলাশী রানীসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের তদারকি কমিটির সদস্য, গ্রিন কোয়ালিশন নেতৃবৃন্দ ও পরিবেশকর্মীরা।
‎
‎সভায় ১০ লক্ষ বীজ রোপণ উদ্যোগের পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন, জনসম্পৃক্ততা ও অগ্রগতি নিয়ে একটি পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা তুলে ধরেন বারসিকের কমিউনিটি ফ্যাসিলিটেটর এস. এম. জান্নাতুল নাঈম। উপস্থাপনায় উদ্যোগটির শুরু থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
‎
‎মতবিনিময় সভায় উন্মুক্ত আলোচনার ভিত্তিতে রোপিত বীজ ও চারাগাছ রক্ষায় প্রতিটি ইউনিয়নে স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। এর মধ্যে রয়েছে চারাগাছের চারপাশে ঘের ও বেড়া নির্মাণ, নিয়মিত পরিচর্যা ও পাহারার ব্যবস্থা করা। পাশাপাশি প্রতিটি ইউনিয়নের তদারকি কমিটি নিজ নিজ এলাকায় ফিরে গিয়ে শুরু থেকেই এ উদ্যোগের সঙ্গে সংহতি প্রকাশকারী ব্যক্তি, সংগঠন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে পুনরায় আলোচনা করবে। তাঁদের অংশগ্রহণে ক্রাউডফান্ডিং বা সম্মিলিত অর্থসংগ্রহের মাধ্যমে রোপিত বীজ ও চারাগাছের সুরক্ষা এবং পরিচর্যা কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়।
‎
‎সভায় অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, উপকূলের প্রকৃতি পুনরুদ্ধারে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও ধারাবাহিক পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে বীজ রোপণের এ উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত সুফল বয়ে আনতে পারে। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের মধ্যে প্রকৃতিপ্রেম, পরিবেশগত দায়িত্ববোধ ও সামাজিক নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগ তৈরি হবে।
‎
‎উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ২৮ জুলাই শ্যামনগরের আকাশলীনা ইকো ট্যুরিজম সেন্টার-সংলগ্ন এলাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামছুজ্জাহান কনক উপকূল পুনরুদ্ধারে ১০ লক্ষ বীজ রোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এ উদ্যোগের লক্ষ্য উপকূলীয় পরিবেশ পুনরুদ্ধার, স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করা এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সবুজ ও প্রাণবৈচিত্র্যসমৃদ্ধ উপকূল গড়ে তোলার পথ সুগম করা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত মানতে পারছেন না শ্যামনগরের বিএনপি নেতা আদম আলী

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার এক বিএনপি নেতা। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত মানতে না পারার কথা জানিয়ে ফেসবুকে দেওয়া তার একটি পোস্ট ঘিরে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

ওই নেতার নাম আদম আলী। তিনি শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য।

গত শনিবার বিকেলে রাজধানীর গেন্ডারিয়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র হাতে অংশ নেওয়াকে কেন্দ্র করে সমালোচনার মুখে পড়েন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। ওই অভিযানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজনের অস্ত্র প্রদর্শন এবং এক তরুণকে লাথি মারার দৃশ্য নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়।

এ ঘটনায় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে বিতর্ক তৈরি হলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। পরে আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর( দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ইশরাক হোসেন।

এদিকে, ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে অসন্তোষ প্রকাশ করেন আদম আলী। তার পোস্টে লেখা হয়, ‘আমরা আপনাকে ভালোবাসি…. আজকের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারলাম না… সর্বোচ্চ কারণ দর্শানোর নোটিশ করা যেতো। আজকের ঘটনা বলে দিচ্ছে বিএনপির ভবিষ্যৎ…. অন্ধের মত দলের সকল সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারলাম না। আমরা আপনাকে ভালোবাসি……’

আদম আলীর ওই পোস্টে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। পোস্টটির মন্তব্যের ঘরে মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খলিলও নিজের মতামত তুলে ধরেন।

তিনি মন্তব্যে লেখেন, দলের দুর্দিনে সাহসী পুরুষ ভবিষ্যতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে আর আসবে আমার মনে হয় না। কারণ মদ খোরদের প্রতি সহানুভূতি দেখাতে গিয়ে যদি প্রতিমন্ত্রীর পদ হারাতে হয় তাহলে আমার মনে হয় তারা দেশের ভবিষ্যৎ।

ইব্রাহিম খলিলের এই মন্তব্য নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, বিএনপির নেতাকর্মীদের একটি অংশ মনে করছেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যখন দলকে সুশৃঙ্খল করার উদ্যোগ নিচ্ছেন, তখন দলীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে এমন অসন্তোষ প্রকাশ সাংগঠনিক শৃঙ্খলার প্রশ্ন তুলতে পারে।

তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আদম আলীর মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
এখানে সকল ধর্মের মানুষের সমান অধিকার রয়েছে– এড.সৈয়দ ইফতেখার আলী

নিজস্ব প্রতিনিধি : শারদীয় দুর্গোৎসবের মহা সপ্তমী উপলক্ষে শারদ উৎসবে বাংলাদেশ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা মায়ের বাড়িতে অনুষ্ঠিত আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক এড.সৈয়দ ইফতেখার আলী। প্রধান বক্তা ছিলেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ তারিকুল ইসলাম।

জেলা মন্দির কমিটির সভাপতি সোমনাথ ব্যানার্জীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পৌর বিএনপির আহবায়ক মোহা: শের আলী, জেলা মন্দির সমিতির উপদেষ্টা বিশ্বনাথ ঘোষ, জজকোর্টের জিপি অসীম কুমার মন্ডল, জেলা যুবদল নেতা আইনুল ইসলাম নান্টা, বিএনপি নেতা প্রভাষক আতাউর রহমান,আব্দুল্লাহ আল মামুন রাজু, আবু রায়হান।

অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন , আলী হাসান খান হাবলু , মোঃ মনিরুজ্জামান মনি,আশরাফ হোসেন, মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম
মোঃ আব্দুল জলিল, সোহরাব হোসেন বাবু , সৈয়দ আরিফ , আবু রায়হান , মনিরুজ্জামান মনি , নেসারুল ইসলাম , আব্দুল মামুন প্রমূখ।

এসময় ইফতেখার আলী বলেন, বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ, এই দেশে আবহমানকাল থেকেই হিন্দু মুসলমান একই সাথে তাদের নিজস্ব ধর্মীয় অনুষ্ঠান যথাযথভাবেপালন করে আসছে। এখানে সকল ধর্মের মানুষের সমান অধিকার রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ। বিএনপি এই সার্বজনীন নীতিকে সমুন্নত রেখে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের জন্য কাজ করার পাশাপাশি একটি কল্যাণকর রাষ্ট্র গঠনে অঙ্গীকারবদ্ধ। এসময় তিনি মণ্ডপের পূজারী ও ভক্তদের প্রতি শারদীয় শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় মিষ্টি পানির ছোঁয়া: শ্যামনগরে ঘুচল হাজারো মানুষের পানিকষ্ট
নিজস্ব প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরার শ্যামনগর—সুন্দরবনের কোল ঘেঁষা এক উপকূলীয় জনপদ। চারদিকে জলরাশি থাকলেও সেখানে পানের যোগ্য পানির হাহাকার নিত্যদিনের চিত্র। সুপেয় পানির এ সংকট শুধু তৃষ্ণার নয়; এটি উপকূলীয় মানুষের স্বাস্থ্য, সামাজিক মর্যাদা এবং ভবিষ্যতের সংকট। দীর্ঘকাল ধরে অতিরিক্ত লবণাক্ত পানি পান করার ফলে এ অঞ্চলের বাসিন্দারা পেটের পীড়া, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি জটিলতা ও নানাবিধ চর্মরোগে ভুগছিলেন। আর প্রতিদিন মাইলের পর মাইল হেঁটে পানি বয়ে আনার মূল ভার বহন করতে হতো গৃহবধূ ও কোমলমতি মেয়েদের।
শ্যামনগরের খাগড়াঘাট ও কৈখালি গ্রামের মেয়েরা বছরের পর বছর ধরে দূর-দূরান্তের পুকুর বা নলকূপ থেকে পানি সংগ্রহ করতে গিয়ে নিয়মিত স্কুলে যাওয়া থেকে বঞ্চিত হতো। বর্ষাকালে ধরে রাখা বৃষ্টির পানি দিয়ে দু-তিন মাস চললেও বছরের বাকি আট-দশ মাস চলত সীমাহীন দুর্ভোগ। বিশেষ করে ২০০৭ ও ২০০৯ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় সিডর ও আইলার পর এ এলাকার মাটি ও জলাধারের পানির লবণাক্ততা ভয়াবহ রূপ নেয়।
তবে দীর্ঘদিনের এই কষ্টের চিত্রে এখন আশার আলো ফুটতে শুরু করেছে। বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান আবুল খায়ের গ্রুপ-এর অর্থায়নে গ্রাম দুটিতে বসানো হয়েছে দুটি আধুনিক রিভার্স অসমোসিস আরও পানি শোধনাগার। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে চালু হওয়া প্ল্যান্ট দুটির একটি খাগড়াঘাটের নূরউদ্দীনের বাড়ির সামনে এবং অন্যটি কৈখালির আলাউদ্দিন মল্লিকের বাড়ির সামনে স্থাপন করা হয়।

খাগড়াঘাটের গৃহবধূ রহিমা বেগম (৪৫) আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “এখন কল টিপলেই মিষ্টি পানি বের হয়। এই প্রযুক্তি আমাদের জীবন বাঁচিয়ে দিল। আগে শুধু বর্ষার কয়েক মাস বৃষ্টির পানি খেতে পারতাম, বাকি সময় বাধ্য হয়ে লোনা পানি পান করে ছেলেমেয়েদের পেটের রোগ লেগে থাকত।”

কৈখালির ষাটোর্ধ্ব আমেনা খাতুন বলেন, “এক কলস মিষ্টি পানির জন্য দুই-তিন মাইল হাঁটতে হতো। বাড়ির কাছে পানির কল বসায় যেন আমাদের পুনর্জন্ম হয়েছে।” পানি সংগ্রহের জাঁতাকল থেকে মুক্তি মেলায় স্থানীয় মেয়েশিশুরাও এখন নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারছে।

 আবুল খায়ের গ্রুপের করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড লিগ্যাল বিভাগের প্রধান শেখ শাবাব আহমেদ বলেন, “উপকূলের এ করুণ চিত্র আমাদের গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। আমরা এমন এক টেকসই সমাধান চেয়েছিলাম, যা মানুষের জীবন বাঁচানোর পাশাপাশি শিশুদের সুস্থ বৃদ্ধি ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিতে সহায়তা করবে।
শ্যামনগরের চিকিৎসক ডা. আমজাদ হোসেন জানান, আগের লোনা ও আয়রনযুক্ত পানির লালচে ভাব বা তেতো স্বাদ এখন আর নেই। ফলে এ অঞ্চলের মানুষের পরিপাকতন্ত্র সংক্রান্ত জটিলতা ও শারীরিক সমস্যার হার উল্লেখযোগ্য হারে কমছে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের খুলনা আঞ্চলিক ল্যাবরেটরির পরীক্ষায় দেখা গেছে, শোধনের পর পানিতে দ্রবীভূত লবণের পরিমাণ (টিডিএস) সরকার নির্ধারিত সীমার অনেক নিচে নেমে এসেছে। পরীক্ষার তথ্য অনুযায়ী:কৈখালি: সাধারণ নলকূপের পানিতে টিডিএস ছিল ৮,২১৭ মিলিগ্রাম, যা শোধনের পর মাত্র ২৮ মিলিগ্রামে নেমে এসেছে। পাশাপাশি আয়রনের পরিমাণ ১ মিলিগ্রাম থেকে কমে ০.০১ মিলিগ্রামে নেমেছে।
খাগড়াঘাট: পানির টিডিএস ৪,০৮১ মিলিগ্রাম থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৯২ মিলিগ্রামে।

পানির অপচয় রোধে নেওয়া হয়েছে স্মার্ট ব্যবস্থাপনা। প্রতিটি গ্রাহককে দেওয়া হয়েছে ডিজিটাল কার্ড। ঢাকার স্মার্ট ওয়াসা ব্যবস্থার মতো কলের সামনে কার্ড ধরলে পানি পড়ে, সরালেই বন্ধ হয়ে যায়। দরিদ্র মানুষের সুবিধার জন্য এটি সম্পূর্ণ ক্যাশলেস করা হয়েছে। প্রতি লিটার পানির ব্যবস্থাপনা খরচ ধরা হয়েছে নামমাত্র ৫০ পয়সা, যা স্থানীয় বাজারের (৮০ পয়সা/লিটার) চেয়ে অনেক সাশ্রয়ী।

বিদ্যুৎ সংযোগের ওপর চাপ কমাতে প্রতিটি প্ল্যান্টে ১০টি করে সোলার প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। সৌরবিদ্যুতের ব্যবহারে পল্লী বিদ্যুতের বিল এবং লোডশেডিংয়ের নির্ভরতা থেকে মুক্ত থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে পাম্প চালানো সম্ভব হচ্ছে। পুরো প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণ ও কারিগরি সহায়তায় কাজ করছে ‘খান ট্রেডার্স’।

এ প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় তরুণদের কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হওয়ার পথ সুগম হয়েছে। শ্যামনগরের তরুণদের সামাজিক সংগঠন ‘শরুব ইয়ুথ ক্লাব’-এর সদস্যরা এ শোধনাগার দুটি পরিচালনা ও বিতরণ ব্যবস্থা দেখাশোনা করছেন, যা স্থানীয় বেকারত্ব দূর করতে ভূমিকা রাখছে।

 

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় শহরে দুর্গা মন্দির পরিদর্শনে প্রশাসক হাবিব

নিজস্ব প্রতিনিধি :  সাতক্ষীরা জেলায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গোৎসব নিরাপদ ভাবে পালনের উদ্দেশ্যে সদরের ‍দুটি মন্দির পরিদর্শন করেছেন সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিব।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের সার্বজনীন দুর্গামন্দির এবং রাত ৮.৩০ মিনিটে সাতক্ষীরা শহরে মায়ের বাড়ি কেন্দ্রীয় মন্দির পরিদর্শন করেন সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব । এ সময় মন্দিরের সার্বিক পরিবেশ ঘুরে দেখেন এবং মন্দির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

পরিদর্শনকালে হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন, “বিএনপি সরকার গঠনের পর এবারই প্রথম সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে। আমরা চাই, সারা বাংলাদেশে উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এই উৎসব পালিত হোক।”
তিনি আরও বলেন, সাতক্ষীরায় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে দুর্গোৎসব উদযাপন করতে পারেন, সে জন্য জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। জেলার সব স্থানে দুর্গোৎসব সফলভাবে সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, উৎসবের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে।

এ সময় উভয় মন্দিরের কর্তৃপক্ষের হাতে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা-২ আসনে বিএনপির সাবেক প্রার্থী ও সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুর রউফ, ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট নুরুল হক, ধুলিহর ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী তাকদীর আহসান রুবেল, বাংলাভিশনের সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান আসাদ, ডিবিসি নিউজের সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি বেলাল হুসাইনসহ উভয় মন্দিরের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ ও ভক্তবৃন্দ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দেবহাটার আলোচিত শামীম হত্যা: দুই আসামি গ্রেপ্তার

দেবহাটা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার দেবহাটায় ওয়াহিদুজ্জামান শামীম (৩৮) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করে দেবহাটা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার পর এজাহারনামীয় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১৫ অক্টোবর) নিহত শামীমের বড় ভাই আব্দুল জলিল সানা বাদী হয়ে দেবহাটা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলার নম্বর-০৯। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৮, ৪৪৯, ৩২৩, ৩০২, ৩৪ ও ১১৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মামলার ৫ নম্বর আসামি আসাদুল ইসলাম মোল্যা (৪৬), পিতা রহিম বক্স মোল্যা, সাং নাজিরের ঘের এবং ৬ নম্বর আসামি মোক্তার হোসেন খান (৫৩), পিতা মৃত মাহাতাব উদ্দীন খান, সাং সুবর্ণাবাদ।

এজাহারে যা বলা হয়েছে মামলার এজাহার অনুযায়ী, নিহত ওয়াহিদুজ্জামান শামীম কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। গত ১২ অক্টোবর দুপুরে পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় তাদের কথোপকথনের একটি অংশ মোবাইল ফোনে ধারণ করে স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয় এবং ওই কথোপকথনে ধর্মীয় অবমাননাকর বক্তব্য রয়েছে—এমন অভিযোগ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এরপর এজাহারনামীয় আসামিরা শামীমের বাড়িতে গিয়ে তাকে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা ও বাড়িতে ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় প্রাণভয়ে শামীম বাড়ির পেছন দিয়ে বের হয়ে যান। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে ওইদিন রাত আনুমানিক ১০টার দিকে তাকে কুলিয়ার আব্দুস সবুর ডাক্তারের চেম্বারে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়।

এজাহারে আরও বলা হয়, ১৩ অক্টোবর বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে আসামিরা শামীমের অবস্থান জানতে পেরে পশ্চিম কুলিয়ায় চিকিৎসকের চেম্বারের সামনে যায়। সেখানে তাকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে অপবাদ দেওয়া হয় এবং চিকিৎসকের বাধা উপেক্ষা করে তাকে চেম্বার থেকে টেনে-হিঁচড়ে রাস্তায় বের করে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন বাদী।
পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শামীমকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।

এজাহার অনুযায়ী, ওইদিন রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে অভিযুক্তরা মিছিল করে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘেরাও করে। একপর্যায়ে তারা হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ করে শামীমকে বেড থেকে টেনে-হিঁচড়ে নামিয়ে হাসপাতালের বারান্দায় নিয়ে যায় এবং সেখানে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে শামীমের মৃত্যু হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার পর পুলিশের অভিযান
মামলা দায়েরের পর দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এইচ এম শাহীনের নির্দেশনায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আল আমিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল রাতভর অভিযান চালায়। অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারনামীয় ৫ ও ৬ নম্বর আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

দেবহাটা থানার ওসি এইচ এম শাহীন বলেন, “ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় মামলাটি রেকর্ডের পর দ্রুত অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি মামলার তদন্ত কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest