সর্বশেষ সংবাদ-
এসএসসির খাতা পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ, জিপিএ-৫ পেল ৩০৭৯ শিক্ষার্থীমাদক ও অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে: ওসি শাহিনদুটি মামলায় দেবহাটার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুজিবর কারাগারেকাঁধে কফির ফ্লাস্ক, চোখে স্বপ্ন—রূপসী ম্যানগ্রোভে আকাশের জীবনসংগ্রামশ্যামনগরে খোলপেটুয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন : ৫০ হাজার টাকা জরিমানাদেবহাটায় বিভিন্ন বাজার ও স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা প্রচারাভিযানবিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সাতক্ষীরায় ঝালমুড়ি বিক্রেতার মৃত্যু৩ মাস ২৫ দিন পর দেশে ফিরল লেবাননে নিহত শুভ দাসের মরদেহসাতক্ষীরায় ৯৬ বছরের বাকপ্রতিবন্ধী বৃদ্ধ নিখোঁজআশাশুনির মহিষকুড় মৎস সেট সংলগ্ন সংযোগ সড়কের সংস্কার কাজের উদ্বোধন

এসএসসির খাতা পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ, জিপিএ-৫ পেল ৩০৭৯ শিক্ষার্থী

অনলাইন ডেস্ক : এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষণসহ মূল্যায়নের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। ফলাফলে নতুন করে জিপিএ-৫ পেল ৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী। ফেল থেকে পাস করেছে ৪৫৮৫ জন শিক্ষার্থী। জিপিএ বা গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে ২৭ হাজার ৮৩৬ জনের।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে পুনঃনিরীক্ষণসহ মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হয়।

শিক্ষার্থীরা ওয়েবসাইটে তথ্য দিয়ে ফল সংগ্রহ করতে পারছে। পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে সব শিক্ষার্থীকে তাদের নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে ফল পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার মূল ফল প্রকাশ করা হয়েছিল। সে হিসাবে মূল ফল প্রকাশের ৩১ দিন পর পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ করা হলো।

এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের জন্য এবার বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট প্রায় পৌনে ১৩ লাখ খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছেন শিক্ষার্থীরা।

চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১১ লাখের বেশি শিক্ষার্থী পাস করেছে। তাদের মধ্যে ৪ লাখেরও বেশি পরীক্ষার্থী ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছে। একজন পরীক্ষার্থী একাধিক বিষয়ের উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে পারায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যার তুলনায় আবেদনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হয়েছে।

গত ১১ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন শুরু হয়। ১৭ আগস্ট রাত পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা আবেদন করার সুযোগ পায়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ জন পরীক্ষার্থী পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করে।

এর মধ্যে লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন জমা পড়ে ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৫টি। আর ব্যবহারিক পরীক্ষার উত্তরপত্রের জন্য আবেদন করা হয় ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭১টি।

বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এই বোর্ডে ৯৪ হাজার ২৩৬ জন পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষার ২ লাখ ৭৭ হাজার ৬৬৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার ৫৮ হাজার ১২টি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছে।

এ ছাড়া কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে ৩৫ হাজারের বেশি, রাজশাহীতে ৩৯ হাজারের বেশি, যশোরে ২৮ হাজারের বেশি, চট্টগ্রামে ৩৯ হাজারের বেশি, বরিশালে ১৭ হাজারের বেশি, সিলেটে ২০ হাজারের বেশি, দিনাজপুরে ৩৭ হাজারের বেশি এবং ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে ২৭ হাজার ৬৭৬ জন পরীক্ষার্থী পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছে।

অন্যদিকে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে ৪০ হাজারের বেশি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ২০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মাদক ও অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে: ওসি শাহিন
 দেবহাটা প্রতিনিধি : মাদক ও অনলাইন জুয়ার ভয়াবহ বিস্তার ঠেকাতে শুধু পুলিশের ওপর নির্ভর না করে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এইচ এম শাহিন।
তিনি বলেন, “মাদক ও অনলাইন জুয়া একটি পরিবার, সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংস করে দিতে পারে। পুলিশ নিয়মিতভাবে মাদকবিরোধী অভিযান ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। তবে শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। পুলিশের পাশাপাশি জনগণকেও সচেতন হতে হবে এবং মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।”
ওসি এইচ এম শাহিন বলেন, বর্তমানে মাদকের পাশাপাশি অনলাইন জুয়াও তরুণ সমাজের জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপ ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সহজে অর্থ উপার্জনের প্রলোভন দেখিয়ে তরুণদের জুয়ার দিকে আকৃষ্ট করা হচ্ছে। এতে অনেকে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন। একপর্যায়ে পারিবারিক অশান্তি, ঋণগ্রস্ততা ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “অভিভাবকদের সন্তানদের চলাফেরা ও অনলাইন কার্যক্রমের বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। সন্তান কার সঙ্গে মিশছে, কী ধরনের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে—এসব বিষয়ে অভিভাবকদের খোঁজ রাখতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ সমাজের দায়িত্বশীল সবাইকে মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।”
দেবহাটা থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাদক নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি মাদক ব্যবসা ও সেবনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে তরুণ ও শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সীমান্তবর্তী উপজেলা হওয়ায় দেবহাটায় মাদক প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো এলাকায় মাদক কেনাবেচা, সেবন কিংবা অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া গেলে তা দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না; এর পাশাপাশি পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক সচেতনতা বৃদ্ধি, তরুণদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি।
ওসি এইচ এম শাহিন বলেন, “আমরা চাই দেবহাটার প্রতিটি পরিবার মাদকমুক্ত ও নিরাপদ থাকুক। একটি সুন্দর সমাজ গড়তে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতা অপরিহার্য। সবাই যদি নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন, তাহলে মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিস্তার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।”
তিনি মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে দেবহাটার সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আহ্বান জানান।
0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দুটি মামলায় দেবহাটার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুজিবর কারাগারে

নিজস্ব প্রতিনিধি : ২০১৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর ভোরে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার দক্ষিণ পারুলিয়ার বিএনপি কর্মী আব্দুর রউফকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে সখীপুর কলেজ মাঠে পায়ে গুলি করে পঙ্গু করে দেওয়া ও ২০১৪ সালের ১৪ জানুয়ারি সকালে একই উপজেলার দক্ষিণ নাংলা গ্রামের জামায়াত নেতা আনারুল ইসলামকে ঘের থেকে তুলে নিয়ে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত পৃথক দুটি মামলায় দেবহাটা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মোঃ মুজিবর রহমানের জামিন আবেদন না’মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার সাতক্ষীরার ভারপ্রাপ্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম বিলাস মণ্ডল এ আদেশ দেন। মোঃ মুজিবর রহমান(৭৫) দেবহাটা উপজেলার সাংবাড়িয়া গ্রামের মাদার আলীর ছেলে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, দেবহাটা উপজেলার দক্ষিণ পারুলিয়া গ্রামের আব্দুল মাজেদ মোল্লার ছেলে বিএনপি কর্মী আব্দুর রউফকে ২০১৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর ভোর সাড়ে তিনটার দিকে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীরা বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে হাতে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে চোঁখ বেঁধে মারপিট করে পুলিশ ভ্যানে করে সখীপুর কলেজ মাঠে নিয়ে ডান পায়ে দুটি গুলি করে। পরে তার হাঁটু ও হাঁটুর নীচ থেকে কেটে বাদ দিতে হয়। এ ঘটনায় ভিকটিম আব্দুর রউফ ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর আদালতে মামলা দায়ের করেন।

মামলায় দেবহাটা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মুজিবর রহমানকে প্রধান আসামী করে ৪৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৩০ জনকে আসামী করা হয়। আদালতের নির্দেশে ওই সালের পহেলা নভেম্বর মামলাটি রেকর্ড করে দেবহাটা থানা।

অপরদিকে দক্ষিণ নাংলা গ্রামের আব্দুল হান্নানের ছেলে আনারুল ইসলামকে ২০১৪ সালের ১৪ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা ঘের থেকে ধাওয়া করে ৪০০ গজ দূরে আটকের পর দুই হাতে হাতকড়া পরিয়ে বাম পায়ের হাঁটুতে গুলি করে পুলিশ ভ্যানে করে তুলে নিয়ে যায়।

স্বজনরা পরদিন সকালে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে আনারুলের লাশ খুঁজে পায়। এ ঘটনায় রাতেই পুলিশ বাদি হয়ে থানায় ১২ নং মামলা করে। ২৭ জানুয়ারি পুলিশ হত্যা ও বিষ্ফোরক দ্রব্য আইনে পৃথক দুটি চুড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করে। তবে ২০২৪ সালের ২২ আগষ্ট নিহতের ভাই রবিউল ইসলাম বাদি হয়ে সাতক্ষীরা আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে মামলাটি দেবহাটা থানায় রেকর্ড করা হয়। দেবহাটা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ মুজিবর রহমানসহ ৫৪ জনের নামে উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ১৬ জনকে আসামী করা হয়।

সাতক্ষীরা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মঈনউদ্দিন জানান, উপরোক্ত মামলা দুটিতে আসামী মুজিবর রহমান হাইকোর্টের বিচারপতি কেএম জাহিদ সরোয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের বেঞ্চ থেকে গত ৮ জুলাই আট সপ্তাহের পৃথক অন্তবর্তীকালিন জামিন পান। একই আদেশে তাকে সোমবারের মধ্যেই সাতক্ষীরার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করতে বলা হয়। সে অনুযায়ি মুজিবর রহমান তার আইনজীবীদের মাধ্যমে সোমবার সাতক্ষীরার ভারপ্রাপ্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। বিচারক বিলাস মণ্ডল শুনানী শেষে তার জামিন আবেদন না’মঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আসামীপক্ষের আইনজীবী হিসেবে শুনানীতে অংশ নেন সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির আহবায়ক অ্যাড. মিজানুর রহমান পিন্টু, অ্যাড. অজয় সরকার, অ্যাড. ওসমান গণি প্রমুখ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কাঁধে কফির ফ্লাস্ক, চোখে স্বপ্ন—রূপসী ম্যানগ্রোভে আকাশের জীবনসংগ্রাম

দেবহাটা প্রতিনিধি :  কারও কাছে রূপসী ম্যানগ্রোভ মানে প্রকৃতির সৌন্দর্য, নির্মল বাতাস আর একটু প্রশান্তির খোঁজ। কেউ আসেন পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে, কেউবা প্রিয়জনের হাত ধরে। কিন্তু এই সৌন্দর্যের আড়ালেই প্রতিদিন জীবনের সঙ্গে লড়াই করে চলেন কিছু মানুষ। তাদেরই একজন আকাশ হোসেন

কাঁধে একটি কফির ফ্লাস্ক ঝুলিয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রূপসী দেবহাটা ম্যানগ্রোভের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঘুরে বেড়ান আকাশ। কখনো প্রচণ্ড রোদ, কখনো বৃষ্টি—কোনো কিছুই তাকে থামাতে পারে না। পর্যটকদের কাছে ঘুরে ঘুরে কফি বিক্রি করেই জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি।

আকাশ হোসেন দেবহাটা উপজেলার সুশীলগাতি গ্রামের আফছার আলীর ছেলে। বাবা-মাকে নিয়ে তার ছোট্ট সংসার। পরিবারের আয়ের প্রধান, বরং একমাত্র অবলম্বন এই কফি বিক্রি। প্রতিদিন কফির ফ্লাস্ক কাঁধে নিয়ে বেরিয়ে পড়েন তিনি। পর্যটকদের কাছে এক কাপ এক কাপ করে কফি বিক্রি করেন, আর দিন শেষে সেই সামান্য উপার্জনেই চলে পরিবারের প্রয়োজন।

এক কাপ কফির দাম হয়তো একজন পর্যটকের কাছে খুবই সামান্য। কিন্তু সেই এক কাপ কফির পেছনে লুকিয়ে থাকে আকাশের ঘাম, ক্লান্তি আর পরিবারের প্রতি দায়িত্ববোধ। প্রতিটি বিক্রির সঙ্গে জড়িয়ে থাকে তার বাবা-মায়ের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার স্বপ্ন।

রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে সংগ্রাম

জীবন তাকে খুব বেশি সুযোগ দেয়নি। তাই সুযোগের অপেক্ষায় বসে না থেকে নিজের কর্মসংস্থান নিজেই তৈরি করেছেন আকাশ। কাঁধে কফির ফ্লাস্ক তুলে নিয়েছেন। রোদে শরীর পুড়লেও, বৃষ্টিতে ভিজলেও তার পথচলা থামে না।

পর্যটকদের ভিড় দেখলেই তার চোখে যেন নতুন আশার আলো জ্বলে ওঠে। কারণ দর্শনার্থী যত বেশি, তার কফি বিক্রির সম্ভাবনাও তত বেশি। তাই ছুটির দিনগুলো তার কাছে শুধু অন্যদের আনন্দের দিন নয়—এগুলো তার পরিবারের জন্য একটু বেশি উপার্জনের আশার দিন।

প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে রূপসী ম্যানগ্রোভ

সবুজের গভীরতা, নদীর নির্মল বাতাস, পাখির কলকাকলি আর চোখজুড়ানো প্রাকৃতিক সৌন্দর্য—সব মিলিয়ে রূপসী দেবহাটা ম্যানগ্রোভ যেন প্রকৃতির নিজ হাতে আঁকা এক অপূর্ব ছবি।

একদিকে বাংলাদেশ, অন্যদিকে ভারত; মাঝখানে সীমান্ত নদী ইছামতী। নদীর কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা ‘রূপসী দেবহাটা ম্যানগ্রোভ পর্যটন কেন্দ্র’ এখন সাতক্ষীরার অন্যতম আকর্ষণীয় বিনোদনকেন্দ্র। ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি ভুলে একটু স্বস্তি আর প্রশান্তির খোঁজে প্রতিদিনই এখানে ছুটে আসছেন নানা বয়সী মানুষ।

দেবহাটা উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত পর্যটনকেন্দ্রটি বর্তমানে নতুন সাজে সেজেছে। ছুটির দিন, বিভিন্ন উৎসব ও পর্যটন মৌসুমে দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে ‘মিনি সুন্দরবন’খ্যাত রূপসী ম্যানগ্রোভ।

আর এই পর্যটকদের ঘিরেই আকাশের মতো অনেক শ্রমজীবী মানুষের জীবনে তৈরি হয়েছে আয়ের সুযোগ।

আকাশের গল্প শুধু কফি বিক্রির গল্প নয়

আকাশের কাঁধে ঝুলছে শুধু একটি কফির ফ্লাস্ক নয়—ঝুলছে একটি পরিবারের দায়িত্ব। তার প্রতিটি পদক্ষেপে আছে সংগ্রাম, প্রতিটি কাপে আছে পরিশ্রম, আর প্রতিটি দিনের শেষে আছে বাবা-মাকে নিয়ে বেঁচে থাকার ছোট্ট স্বপ্ন।

হয়তো তার হাতে দামি মোবাইল নেই, নেই বড় কোনো ব্যবসা কিংবা চাকরির পরিচয়। কিন্তু আছে পরিশ্রম করার সাহস, বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং হাল না ছাড়ার মানসিকতা।

রূপসী ম্যানগ্রোভে যারা বেড়াতে আসেন, তারা হয়তো প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হয়ে ফিরে যান। কিন্তু আকাশের মতো মানুষগুলো প্রতিদিন সেই সৌন্দর্যের মাঝেই নিজেদের জীবনের কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকেন।

তার গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়—
জীবনে বড় হতে বড় কিছু প্রয়োজন হয় না; প্রয়োজন হয় সৎভাবে বেঁচে থাকার চেষ্টা আর পরিবারের জন্য নিরলস পরিশ্রম করার মানসিকতা।

আকাশ হয়তো কফি বিক্রি করেন, কিন্তু তার প্রতিটি কফির কাপে মিশে থাকে একজন সন্তানের দায়িত্ব, একজন মানুষের আত্মসম্মান এবং একটি পরিবারের বেঁচে থাকার স্বপ্ন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শ্যামনগরে খোলপেটুয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন : ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নে খোলপেটুয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অপরাধে মোকছেদ গাজী নামে এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের চকবারা এলাকায় খোলপেটুয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসন। শ্যামনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাশেদ হোসাইনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে বালুভর্তি একটি বোট জব্দ করা হয়। এ সময় বালু উত্তোলনের অভিযোগে মোকছেদ গাজীকে আটক করা হয়।

পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে ‘বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০’-এর ১৫(১) ধারায় তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নদী ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। সরকারি বিধিনিষেধ অমান্য করে কেউ নদী থেকে বালু উত্তোলন করলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দেবহাটায় বিভিন্ন বাজার ও স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা প্রচারাভিযান

দেবহাটা প্রতিনিধি : দেবহাটা উপজেলার দেবহাটা সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রচারাভিযান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার  দুপুর সাড়ে ১২টায় দেবহাটা সদর ইউনিয়ন পরিষদ চত্বর থেকে এ প্রচারাভিযানের উদ্বোধন করা হয়। দেবহাটা সদর ইউনিয়ন পরিষদের আয়োজনে এবং সুশীলন ও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের সহযোগিতায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেবহাটা সদর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন বকুল, দেবহাটা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি আর.কে. বাপ্পা, সাংগঠনিক সম্পাদক কে.এম. রেজাউল করিম, ইউপি সদস্য আজগার আলী, ইউপি সদস্যা রেহেনা পারভিন, সুশীলনের কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অফিসার মিজানুর রহমান, গ্রাম কমিটির সভাপতি ফিরোজ হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
পরে ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণ, টাউনশ্রীপুর বাজারসহ ইউনিয়নের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে প্রচারাভিযান পরিচালনা করা হয়।
এসময় আয়োজকরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখতে জনসাধারণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি বাজার ও জনসমাগমস্থলে ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা এবং নিজ নিজ এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সাতক্ষীরায় ঝালমুড়ি বিক্রেতার মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ইউনুছ আলী (৪২) নামের এক ঝালমুড়ি বিক্রেতার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রোববার সকালে শহরের কামালনগর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ইউনুছ আলী ওই এলাকার মৃত রহমত আলীর ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো রোববার সকালেও জীবিকার তাগিদে ঝালমুড়ি বিক্রির উদ্দেশ্যে ভ্যানগাড়ি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হচ্ছিলেন ইউনুছ আলী। বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় পাশের একটি মুরগির খামারের টিনের চালের সাথে তার ভ্যানগাড়ির স্পর্শ লাগে। টিনের চালটি আগে থেকেই অসাবধানতাবশত বিদ্যুতায়িত হয়ে থাকায় ভ্যানগাড়িটি স্পর্শ করার সাথে সাথেই তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

নিহত ইউনুছ আলী দীর্ঘদিন ধরে শহরের সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে ঝালমুড়ি বিক্রি করে সংসার চালিয়ে আসছিলেন। তার এই আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্থানীয়দের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুর রহমান জানান, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
৩ মাস ২৫ দিন পর দেশে ফিরল লেবাননে নিহত শুভ দাসের মরদেহ

নিজস্ব প্রতিনিধি:

ভাগ্য বদলের আশায় স্বজনদের মুখে হাসি ফোটাতে সুদূর লেবাননে পাড়ি জমিয়েছিলেন তরুণ শুভ দাস। কিন্তু প্রিয় সন্তান আর জীবিত ফিরলেন না; দীর্ঘ ৩ মাস ২৫ দিন পর কফিনবন্দি হয়ে নিথর দেহে ফিরতে হলো তাঁকে।

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত সাতক্ষীরার তিন প্রবাসীর মধ্যে কলারোয়ার শুভ দাসের (২৩) মরদেহ অবশেষে দেশে পৌঁছেছে।

রোববার সকালে মরদেহ তাঁর নিজ গ্রাম কলারোয়া উপজেলার কয়লা ইউনিয়নের শ্রীপতিপুরে পৌঁছালে স্বজন ও স্থানীয়দের কান্নায় বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া। শুভ দাস ওই গ্রামের দরিদ্র ভ্যানচালক সুরঞ্জন দাস ও ধানচাতাল শ্রমিক শিখা দাসের মেজো ছেলে। চার ভাই-বোনের মধ্যে শুভকে নিয়েই পরিবারটির ছিল সবচেয়ে বড় আশা।

গত ১২ মে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের নাবাতিয়েহ জেলার জেবদিন এলাকায় একটি রুটি বহনকারী গাড়িতে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান একই এলাকায় কর্মরত তিন বাংলাদেশি কর্মী—সাতক্ষীরা সদর উপজেলার শফিকুল ইসলাম, আশাশুনি উপজেলার নাহিদুল ইসলাম নাহিদ এবং কলারোয়ার শুভ দাস।

অন্য দুই প্রবাসীর মরদেহ গত ২৭ জুন দেশে আনা সম্ভব হলেও নানা প্রশাসনিক জটিলতায় শুভ দাসের মরদেহ ফেরানো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। দীর্ঘ তিন মাস ২৫ দিন পর অবশেষে তাঁর মরদেহ নিজ মাতৃভূমিতে আনা হলো।

স্বজনরা জানান, প্রায় তিন বছর আগে পরিবারের অভাব-অনটন দূর করতে জমি ও গবাদিপশু বিক্রি এবং ধারদেনা করে শুভকে লেবাননে পাঠায় তাঁর পরিবার। বাবার ভ্যান চালানোর টানাপোড়েনের সংসার আর মায়ের ধানচাতালের হাড়ভাঙা খাটুনি থেকে মুক্তি দেওয়াই ছিল শুভর একমাত্র লক্ষ্য। কিন্তু ভাগ্য বদলের সেই স্বপ্ন তছনছ করে দিল যুদ্ধবিধ্বস্ত লেবাননের একটি মর্মান্তিক ড্রোন হামলা।

শুভ দাসের মৃত্যুতে শ্রীপতিপুর গ্রামে এখন শুধু কান্নার রোল। ধারদেনা পরিশোধের চিন্তা আর উপার্জনক্ষম একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে তাঁর নিঃস্ব পরিবারটি।

কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলাম বলেন, লাশ বহনের জন্য ৩৫ হাজার টাকা এবং যুদ্ধের মারা যাওয়ার কারনে ৫০ হাজার টাকা সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest