সর্বশেষ সংবাদ-
সাতক্ষীরায় কৃষকের ছেলে সহকারী সিভিল জজ, আনন্দে ভাসছে পরিবার ও গ্রামঝাউডাঙ্গা কলেজে একাদশ শ্রেণির নবাগত শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ৫০তম জাতীয় দাবা ‘বি’ বাছাই না করিয়ে খেলোয়াড় পাঠানোর পায়তারা: সাতক্ষীরায় সংবাদ সম্মেলনসাতক্ষীরায় প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দের সাথে জেলা যুবদলের নবগঠিত কমিটির শুভেচ্ছা বিনিময়৬ লাখ মানুষের জলাবদ্ধতা নিরসনে টিআরএম চান সাতক্ষীরার যুবরাসাতক্ষীরায় এবি পার্টির আহ্বায়ক কমিটি গঠন: আহ্বায়ক শাকিল, সদস্য সচিব শাহীনসাতক্ষীরায় রিইবের সিএসও’র ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিতসাতক্ষীরায় চাঁদা না পেয়ে নির্মাণাধীন বাড়ি ভাংচুর ও মারপিট: গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলনআশাশুনিতে পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে ইজিবাইকের ওপর: অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন পথচারীসাতক্ষীরায় উপজেলা পর্যায়ে তৃণমূল জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি সমাবেশ

সাতক্ষীরায় কৃষকের ছেলে সহকারী সিভিল জজ, আনন্দে ভাসছে পরিবার ও গ্রাম

নিজস্ব প্রতিনিধি : বাবা পেশায় সাধারণ কৃষক, মা গৃহিণী। নিজেরা খুব দূর পড়াশোনার সুযোগ পাননি, কিন্তু বুকভরা স্বপ্ন ছিল—সন্তানদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করবেন। সেই স্বপ্ন সত্যি করতে জীবনের সব কষ্ট, ত্যাগ আর পরিশ্রমকে হাসিমুখে বরণ করে নিয়েছেন এই দম্পতি। অবশেষে বাবা-মায়ের সেই নিঃস্বার্থ ত্যাগের সেরা প্রতিদান দিলেন সন্তান।

১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় সহকারী সিভিল জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন কৃষক পরিবারের সন্তান শেখ আসিফ হোসেন। তাঁর এই অনন্য অর্জনে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ভাসছে পরিবার, স্বজন, শিক্ষক ও পুরো গ্রামবাসী।

শেখ আসিফ হোসেন সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা থানার প্রত্যন্ত গ্রাম বড় কাশিপুরের সন্তান। তাঁর বাবা শেখ জিল্লুর রহমান একজন মেহনতী কৃষক এবং মা ফরিদা খাতুন গৃহিণী। পরিবারের সীমিত সামর্থ্য সত্ত্বেও সন্তানদের পড়াশোনার ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও নিরলস প্রয়াশই ছিল আসিফের এগিয়ে যাওয়ার মূল প্রেরণা।

আসিফ স্থানীয় কাশিপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে এসএসসি এবং পাটকেলঘাটা হারুণ-অর-রশিদ মহাবিদ্যালয় থেকে এইচএসসি পাশ করেন। এরপর তিনি কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে এলএলবি ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন। দীর্ঘ ও কঠিন পথপরিক্রমা শেষে ১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় সহকারী সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে তিনি পিতা-মাতার স্বপ্নকে পৌঁছে দিয়েছেন এক নতুন উচ্চতায়।

এই অর্জনে মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি গভীর শুকরিয়া জ্ঞাপন করে শেখ আসিফ হোসেন বলেন, “আমার এই সাফল্যের মূল কারিগর আমার বাবা-মা। পাশাপাশি আমার শিক্ষক, ভাই-বোন, বন্ধু-বান্ধব ও গ্রামবাসীর ভালোবাসা ও দোয়া না থাকলে আজকের এই স্থানে পৌঁছানো সম্ভব হতো না।” তিনি তাঁর ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য সকলের কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছেন।

একজন মেহনতী কৃষকের ঘর থেকে উঠে এসে সহকারী সিভিল জজ হওয়ার এই গল্প কেবল শেখ আসিফের ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; এটি অদম্য মেধা, কঠোর পরিশ্রম আর পিতা-মায়ের অসীম ত্যাগের এক জয়গাথা। সন্তানের এমন গৌরবময় অর্জনে বাবা-মায়ের চোখে আজ যে আনন্দের অশ্রু, তা যেন জানান দিচ্ছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ঝাউডাঙ্গা কলেজে একাদশ শ্রেণির নবাগত শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ

জুলফিকার আলী : সাতক্ষীরা সদরের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ ঝাউডাঙ্গা কলেজের উদ্যোগে একাদশ শ্রেণির ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তিকৃত নবাগত শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় অত্র কলেজের হলরুমে অধ্যক্ষ খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে ভর্তিকৃত নবাগত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আলোচনা রাখেন, উপাধাক্ষ নুরুল আমিন, সহ. অধ্যাপক পরিমল কুমার ঘোষ, সহ. অধ্যাপক জেসমিন নাহার, সহ.অধ্যাপক আব্দুল মান্নান।

এ ছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সহকারী অধ্যাপক ননী গোপাল, সহ. অধ্যাপক পরমেশ চন্দ্র ভড়ামি, সহ. অধ্যাপক অহিদুল ইসলাম, সহ. অধ্যাপক শওকত আলী বাবু, সহ. অধ্যাপক আনারুল ইসলাম, সহ. অধ্যাপক মমতাজ আহমেদ, প্রভাষক ওহিদুজ্জামান লাভলু, প্রভাষক আল মাসুদ, প্রভাষক লিটন হোসেন, প্রভাষক মাহাবুবুর রহমানসহ অন্যান্য শিক্ষক কর্মচারী ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।

সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সহ. অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
৫০তম জাতীয় দাবা ‘বি’ বাছাই না করিয়ে খেলোয়াড় পাঠানোর পায়তারা: সাতক্ষীরায় সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিনিধি:

সারাদেশে ৫০তম জাতীয় দাবা ‘বি’ বাছাই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হলেও সাতক্ষীরায় উন্মুক্ত বাছাই ছাড়াই খেলোয়াড় পাঠানোর অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কোনো প্রকার দল নির্বাচন বা বাছাই প্রতিযোগিতা না আয়োজন করে গত ১০ আগস্ট অনুষ্ঠিত একটি ‘অন্তকক্ষ দাবা ক্লাব কাপ’ খেলার ওপর ভিত্তি করে খেলোয়াড় চূড়ান্ত করার এ পায়তারার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন জেলার দাবা খেলোয়াড়রা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে খেলোয়াড়দের পক্ষে বক্তব্য রাখেন ৪৯তম জাতীয় দাবা প্রতিযোগিতার সাতক্ষীরা জেলা চ্যাম্পিয়ন মোঃ জাহিদ হাসান।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা ব্রাদার্স ইউনিয়নের ক্রীড়া সম্পাদক কামরুল ইসলাম বকুল, অ্যাসোসিয়েশন অব চেস প্লেয়ার্স বাংলাদেশ (এসিপিবি) সাতক্ষীরা শাখার সাধারণ সম্পাদক রিয়াদ মাহমুদ প্লে এবং জেলায় দীর্ঘ ২০ বছর ধরে বিজয়ী চ্যাম্পিয়ন দাবাড়ু জনাব মোঃ সিরাজুর রহমানসহ অন্যান্য স্থানীয় খেলোয়াড়বৃন্দ।

সংবাদ সম্মেলনে মোঃ জাহিদ হাসান বলেন, “দেশের ৬৩টি জেলায় ৫০তম দাবা ‘বি’ বাছাই প্রতিযোগিতা যথাযথ নিয়মে পরিচালিত হচ্ছে। অথচ সাতক্ষীরা জেলায় কোনো উন্মুক্ত বাছাই ছাড়াই খেলোয়াড় পাঠানোর চেষ্টা চলছে, যা জেলার উঠতি ও অভিজ্ঞ দাবাড়ু ও ক্রীড়াপ্রেমীদের চরম বঞ্চিত করার শামিল। আমরা এহেন সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”

সংবাদ সম্মেলনে দাবা বিচারক (আর্বিটার) মোঃ রিপন হোসাইনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বলেন, খেলা আয়োজন না করে তিনি জেলা ক্রীড়া সংস্থায় বড় অঙ্কের ভূয়া ভাউচার ও খরচ দেখিয়ে আসছেন। তিনি নিজেকে রাজনৈতিক দলের পদধারী দাবি করে ক্ষমতার প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছেন বলেও দাবি করেন খেলোয়াড়রা। এ সময় মোঃ রিপন হোসাইনকে সাতক্ষীরার দাবা বিচারকের দায়িত্ব থেকে নিষিদ্ধ করার জোরালো দাবি জানান বক্তারা। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে এসিপিবি ও বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনে লিখিত অভিযোগ দায়ের করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

বক্তারা বলেন, “দাবা হলো বুদ্ধিদীপ্ত ও মর্যাদাপূর্ণ খেলা। এখানে স্বজনপ্রীতি কিংবা অনিয়মের কোনো সুযোগ থাকা উচিত নয়।”

সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জেলা প্রশাসক ও সাতক্ষীরা জেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তাদের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে, যাতে অবিলম্বে সব খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণে নিরপেক্ষভাবে ৫০তম দাবা ‘বি’ বাছাই প্রতিযোগিতা সম্পন্ন করা হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দের সাথে জেলা যুবদলের নবগঠিত কমিটির শুভেচ্ছা বিনিময়

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দের সাথে জেলা যুবদলের নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহম্পতিবার সন্ধ্যায় প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত শুভেচ্ছা বিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাশেম।

এসময় বক্তব্য রাখেন, জেলা যুবদলের নবগঠিত কমিটির সভাপতি হাফিজুর রহমান মুকুল, সিনিয়র সহ-সভাপতি শেখ মনিরুজ্জামান প্রিন্স, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক সবুজসহ অন্যরা। সাংবাদিকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন, ডেইলি স্টারের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি কল্যাণ ব্যানার্জি, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সময় টিভির সাতক্ষীরা প্রতিনিধি মমতাজ আহমেদ বাপী, দৈনিক দক্ষিণের মশালের সম্পাদক আশেক ই এলাহী, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মাদ আলী সুজন, রুপালী বাংলাদেশ পত্রিকার সাতক্ষীরা প্রতিনিধি মোমিনুর রহমান, বৈশাখী টিভির সাতক্ষীরা প্রতিনিধি শামীম পারভেজ, মুক্তস্বাধীন পত্রিকার সম্পাদক আবুল কালাম, ডা: মহিদার রহমান, হৃদয় বার্তার সম্পাদক জি এম মোশাররফ হোসেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক আমিনুর রহমান, শেখ ফরিদ আহমেদ ময়না, মাহমুদ হাসান, ফয়জুল হক বাবু, এস এম জুলফিকার আলী জিন্নাহ, গাজী ফরহাদ, সাইদুল বাসার, সরদার আবু সাঈদ, সাইফুল আযম খান মামুন, শেখ মাসুদ আলীসহ অন্যরা। সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ডিবিসি’র সাতক্ষীরা প্রতিনিধি এম.বেলাল হোসাইন।

শুভেচ্ছা বিনিময়কালে গণমাধ্যকর্মীরা নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দের কাছে জেলার সার্বিক উন্নয়ন ভূমিকা রাখা, মাদক, সন্ত্রাস এবং চাঁদাবাজি মুক্ত জেলা গঠনের দাবি জানান। এর জবাবে যুবদলের সভাপতি হাফিজুর রহমান বলেন, “অনলাইন জুয়া, মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আমরা সবসময় সোচ্চার রয়েছি।

আমাদের দলের কোনো নেতা বা কর্মী যদি মাদক কিংবা চাঁদাবাজির সাথে জড়িত থাকে এবং তা প্রমাণিত হয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে সর্বোচ্চ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে বিন্দুমাত্র পিছপা হব না। এছাড়া সার্বিক বিষয়ে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সহযোগিতা ও পরামর্শ কামনা করেন তিনি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
৬ লাখ মানুষের জলাবদ্ধতা নিরসনে টিআরএম চান সাতক্ষীরার যুবরা
নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার বেতনা ও মরিচ্চাপ অববাহিকায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট (টিআরএম) বা জোয়ারাধার কার্যক্রম দ্রুত চালুর দাবি জানিয়েছে যুব পানি কমিটি।
সংগঠনটির নেতারা বলছেন, নদী সচল থাকা অবস্থায় টিআরএম চালু করা না হলে আগামী এক-দুইটি শুষ্ক মৌসুমের মধ্যেই নদীতে আবারও পলি জমে নাব্যতা কমে যেতে পারে। এতে সম্প্রতি ৪৭৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত প্রকল্পের সুফলও দীর্ঘস্থায়ী না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সাতক্ষীরা শহরে উত্তরণের আঞ্চলিক কার্যালয় চত্বরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন যুব পানি কমিটির সভাপতি মো. হোসেন আলী।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ১৯৯০-এর দশক থেকে সাতক্ষীরা সদর, কলারোয়া, তালা, আশাশুনি ও দেবহাটা উপজেলার ২৫টি ইউনিয়নের প্রায় ৪৮ হাজার ৭৬৫ হেক্টর এলাকা দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার কবলে রয়েছে। এতে অববাহিকার ৬ লাখের বেশি মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিভিন্ন সময়ে নদী-খাল খনন, স্লুইসগেট নির্মাণ ও উপকূলীয় বাঁধ সংস্কারে সরকারি উদ্যোগ নেওয়া হলেও জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান হয়নি। প্রতি বছর বেতনা ও মরিচ্চাপ নদীতে ৪ থেকে ৬ ফুট পর্যন্ত পলি জমছে।
এতে উজানের অংশ ভরাট হয়ে নদীগুলো নাব্যতা হারাচ্ছে। এর সঙ্গে নদী-খাল দখল, অনিয়ন্ত্রিত চিংড়ি চাষ এবং স্লুইসগেট ব্যবস্থাপনায় নানা সমস্যার কারণে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও কৃষিজমি প্লাবিত হচ্ছে। এতে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান ব্যাহত হয়ে অনেক পরিবার বাস্তুচ্যুত হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে ওয়াটার রিসোর্স প্ল্যানিং ইনস্টিটিউটের আওতাভুক্ত আইডব্লিউএমের সমীক্ষা এবং বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০-এর প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, পলিবহুল এ অঞ্চলে শুধু নদী খনন করে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। টিআরএমের মাধ্যমে জোয়ারের পানি নির্দিষ্ট বিলে প্রবেশ করিয়ে পলি জমার সুযোগ তৈরি করতে হবে। এতে বিলের উচ্চতা বাড়বে এবং নদীতে পলি জমার চাপ কমবে।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০-এ বেতনা-মরিচ্চাপ অববাহিকার সুখদেবপুর, টিকেট, ঝিলমারী, দুর্গাপুর, শ্রীরামপুর, বাগমারা, গোবিন্দপুর, হাজীখালী, আমোদখালী, চাপড়া ও মাটিয়াডাঙ্গা এই ১১টি বিলে টিআরএম বাস্তবায়নের নির্দেশনা রয়েছে। আইডব্লিউএমের সমীক্ষা অনুযায়ী, শুষ্ক মৌসুমে নদীর পুনঃভরাটের হার ৬০ দশমিক ৮৮ শতাংশ বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।
তবে যুব পানি কমিটির নেতারা বলেন, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় পোল্ডার নম্বর ১, ২, ৬-৮ ও ৬-৮ (সম্প্রসারণ)-এর জন্য ৪৭৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে চার বছর মেয়াদি যে প্রকল্প সম্প্রতি শেষ হয়েছে, তাতে টিআরএম রাখা হয়নি। ফলে নদী সচল রাখার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, স্থানীয় মৎস্যঘের ও ভেড়ির কারণে অনেক জায়গায় পানি চলাচলের পথ বন্ধ রয়েছে। ফলে নদী-খাল খনন বা বাঁধ সংস্কার করলেও পানি দ্রুত নিষ্কাশন সম্ভব হচ্ছে না। তাই জলাবদ্ধতা নিরসনে অবকাঠামোগত প্রকল্পের পাশাপাশি পানি চলাচলের সব বাধা দূর করা জরুরি।
সংবাদ সম্মেলন থেকে বেতনা ও মরিচ্চাপ অববাহিকার নির্ধারিত বিলে দ্রুত টিআরএম চালু, পানি নিষ্কাশনের সব প্রতিবন্ধকতা দূর, নদী-খাল দখলমুক্ত করা এবং মৎস্যঘেরের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া পানি চলাচলের পথ খুলে দেওয়ার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে জলাবদ্ধতা নিরসনের কাজে স্থানীয় জনগণসহ সরকারি-বেসরকারি সব অংশীজনের কার্যকর অংশগ্রহণ ও সমন্বয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে যুব পানি কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম খলিল, প্রচার সম্পাদক মো. মোকাররাম বিল্লাহ ইমন, সদস্য সাজিদুল ইসলাম, করিমুন নেছা শান্তা, লামিয়া সুলতানা, রাবিয়া খাতুন, আজমিরা খাতুন, আবু তাহের ও মিলন কুমার উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া উত্তরণের কর্মকর্তা অ্যাডভোকেট মনির উদ্দিন, কেন্দ্র পানি কমিটির সদস্য মীর জিল্লুর রহমান, সদর উপজেলা পানি কমিটির সভাপতি মফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফ বাবু, উত্তরণের নাজমা আক্তার ও প্রতিনিধি গোলাম হোসেনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় এবি পার্টির আহ্বায়ক কমিটি গঠন: আহ্বায়ক শাকিল, সদস্য সচিব শাহীন

জিএম সালাহউদ্দিন (শাকিল)-কে আহ্বায়ক এবং প্রভাষক শাহীন আলমকে সদস্য সচিব করে ‘আমার বাংলাদেশ পার্টি’ (এবি পার্টি)-র সাতক্ষীরা জেলা শাখার ৪১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

গতকাল ২২ সেপ্টেম্বর (২০২৬) দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (দপ্তর) অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল মামুন রানা স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে সাতক্ষীরা জেলা কমিটি গঠন উপলক্ষে রাজধানীর বিজয়নগরস্থ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির কেন্দ্রীয় সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) প্রফেসর ওহাব মিনার, কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার খান আযম এবং খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ ড. ইয়ামিনুর রহমান।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দকে জেলাজুড়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করা, তৃণমূল পর্যায়ে দলের ভিত্তি সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় জনগণের সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার আদায়ে নিবিড়ভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।  প্রেস বিজ্ঞপ্তি

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় রিইবের সিএসও’র ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি :  সাতক্ষীরায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে নারী ও কিশোরীদের মানবাধিকার উন্নয়ন ও সামাজিক অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে রিসার্চ ইনিশিয়েটিভস বাংলাদেশ (রিইব)-এর বাস্তবায়নে এবং নেটজ বাংলাদেশ ও বিএমজেডের সহায়তায় পরিচালিত ‘হোপ’ প্রকল্পের জেলা মানবাধিকার সুরক্ষা দল (সিএসও)-এর ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় জেলা মানবাধিকার সুরক্ষা দলের সদস্যরা অংশ নিয়ে জেলার সার্বিক সামাজিক সমস্যা, সাম্প্রতিক মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং এসব সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

সভার শুরুতেই প্রকল্পের চলমান কার্যক্রম ও অর্জিত অগ্রগতি তুলে ধরেন রিইব-এর প্রকল্প সমন্বয়কারী খালিদ হাসান।

তিনি স্থানীয় পর্যায়ে মানবাধিকার সুরক্ষা জোরদার করা, বিদ্যমান সামাজিক সমস্যা নিরসন এবং সিএসও সদস্যদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।

আলোচনা পর্বে সিএসও সদস্য বেলাল হোসেন ও আসাদুজ্জামান মধু বলেন, সমাজে সহিংসতা প্রতিরোধ, নারী ও শিশুর নিরাপত্তা বিধান, শিশু অপহরণ ও ধর্ষণ রোধসহ মানবাধিকার নিশ্চিত করতে ব্যাপক জনসচেতনতা প্রয়োজন। তারা তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতামূলক উদ্যোগ বৃদ্ধি এবং যেকোনো ঝুঁকি মোকাবিলায় সম্মিলিত ও সমন্বিত প্রয়াস গ্রহণের জোর দাবি জানান।

সভায় সম্প্রতি সাতক্ষীরা সদরে যৌন সহিংসতার শিকার এক প্রতিবন্ধী শিশুর পরিবারকে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ও সহায়তা প্রদানের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে উঠে আসে।

এ বিষয়ে নির্যাতিত শিশুটির পরিবারের পাশে থেকে সার্বিক সহযোগিতা ও প্রশাসনিক সমন্বয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার সম্মতি ব্যক্ত করেন উপজেলা সিএসও সদস্য হাজী আইয়ূব আলী ও মাহফুজা পারভীন লিপি।

মাহফুজা খাতুন লিপির সঞ্চালনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন রিইবের টেকনিক্যাল অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি কোঅর্ডিনেটর তাহেরা সিদ্দিকা এবং এরিয়া সমন্বয়কারী রেখা খাতুনসহ জেলা সিএসও-এর অন্যান্য সদস্যরা। অংশগ্রহণকারীরা পর্যায়ক্রমে তাঁদের মতামত ব্যক্ত করেন এবং আগামী দিনে স্থানীয় পর্যায়ে মানবাধিকার সুরক্ষায় সমন্বিত রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করেন।##

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় চাঁদা না পেয়ে নির্মাণাধীন বাড়ি ভাংচুর ও মারপিট: গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : সাতক্ষীরা পৌর এলাকায় চাঁদা না পেয়ে দিনদুপুরে নির্মাণাধীন বাড়ি ভাঙচুর ও মারপিটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আসামীদের গ্রেফতার পূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী নারী।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এ অভিযোগ করেন সাতক্ষীরা পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের কামালনগর এলাকার বাসিন্দা মোছা. আরিফা খাতুন (৩৯)।
লিখিত বক্তব্যে আরিফা খাতুন বলেন, তিনি ও তাঁর বোন ২০১৩ এবং ২০২২ সালে কামালনগর বউ বাজারের পাশে ৮.২৫ শতক জমি খরিদ করে ভোগদখল করে আসছিলেন।

তাঁর স্বামী ব্যাংকে চাকরির সুবাদে অধিকাংশ সময় বাইরে থাকেন। এ সুযোগে এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যু মোঃ রফিকুল ইসলাম (মন্টু), মহাসিন আলী, মুজিবর রহমান, আক্তার হোসেন (চঞ্চল) ও আব্দুস সবুরসহ একদল অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসী তাঁর জমি দখলের অপচেষ্টা চালিয়ে আসছিল। আসামীরা দীর্ঘদিন ধরে তাঁর কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং চাঁদা না দিলে বাড়ি নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দিয়ে আসছিল।
গত ৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে তিনি তাঁর নির্মাণাধীন বাড়িতে থাকাকালে আসামীরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অনধিকার প্রবেশ করে ছাদের সেন্টারিংয়ের বাঁশ ও কাঠ ভাঙচুর করতে থাকে। প্রতিবাদ করলে আসামীরা ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে অন্যথায় হত্যার হুমকি দেয়। আতঙ্কিত হয়ে ছাদের রড কেনার জন্য ব্যাগে রাখা ৮০ হাজার টাকা রফিকুল ইসলাম মন্টুর হাতে দিয়ে আকুতি জানালেও তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।

আরিফা খাতুন অভিযোগ করেন, আসামীরা তাঁকে বেধড়ক মারধর করে রাস্তায় ফেলে দেয়। তাঁকে রক্ষায় ভাই মনিরুজ্জামান এগিয়ে এলে তাকেও রড ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়। এছাড়া তারা আরিফা খাতুনের বুকের ওপর উঠে দাঁড়ায়, এবং গলায় পা দিয়ে চেপে ধরে এবং শ্লীলতাহানি ঘটায়। সন্ত্রাসীরা তাঁর গলা থেকে ১ ভরি ওজনের সোনার চেইন ও কানের ৮ আনার দুল ছিনিয়ে নেয় এবং হাত-পা বেঁধে মুখ চেপে ধরে। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বাকি ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা চাঁদা না দিলে মা ও সন্তানকে খুনের পর লাশ গুমের হুমকি দিয়ে স্থান ত্যাগ করে সন্ত্রাসীরা।

ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁদের সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর মেরুদণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এক্স-রে এবং ব্রেনের সিটি স্ক্যান করানো হয়। চিকিৎসাধীন থাকার পর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়ে তিনি বিজ্ঞ আমলী ১নং আদালত, সাতক্ষীরায় সংশ্লিষ্ট ধারায় সি.আর. মামলা দায়ের করেছেন

সংবাদ সম্মেলনে আরিফা খাতুন উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “মামলা দায়েরের পর আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং মামলা তুলে নেওয়ার জন্য আমাদের পরিবারকে ক্রমাগত প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। আজ আমি ও আমার সন্তান চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এসব চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ গ্রেফতার পূর্বক কঠোর শাস্তির দাবিতে পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest