সর্বশেষ সংবাদ-
দুটি মামলায় দেবহাটার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুজিবর কারাগারেকাঁধে কফির ফ্লাস্ক, চোখে স্বপ্ন—রূপসী ম্যানগ্রোভে আকাশের জীবনসংগ্রামশ্যামনগরে খোলপেটুয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন : ৫০ হাজার টাকা জরিমানাদেবহাটায় বিভিন্ন বাজার ও স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা প্রচারাভিযানবিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সাতক্ষীরায় ঝালমুড়ি বিক্রেতার মৃত্যু৩ মাস ২৫ দিন পর দেশে ফিরল লেবাননে নিহত শুভ দাসের মরদেহসাতক্ষীরায় ৯৬ বছরের বাকপ্রতিবন্ধী বৃদ্ধ নিখোঁজআশাশুনির মহিষকুড় মৎস সেট সংলগ্ন সংযোগ সড়কের সংস্কার কাজের উদ্বোধনশ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের নির্বাচন : সভাপতি মনির- সাধারণ সম্পাদক লিটনঅবৈধভাবে বালু উত্তোলন: সাতক্ষীরার গাবুরায় লাখ টাকা জরিমানা

দুটি মামলায় দেবহাটার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুজিবর কারাগারে

নিজস্ব প্রতিনিধি : ২০১৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর ভোরে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার দক্ষিণ পারুলিয়ার বিএনপি কর্মী আব্দুর রউফকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে সখীপুর কলেজ মাঠে পায়ে গুলি করে পঙ্গু করে দেওয়া ও ২০১৪ সালের ১৪ জানুয়ারি সকালে একই উপজেলার দক্ষিণ নাংলা গ্রামের জামায়াত নেতা আনারুল ইসলামকে ঘের থেকে তুলে নিয়ে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত পৃথক দুটি মামলায় দেবহাটা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মোঃ মুজিবর রহমানের জামিন আবেদন না’মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার সাতক্ষীরার ভারপ্রাপ্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম বিলাস মণ্ডল এ আদেশ দেন। মোঃ মুজিবর রহমান(৭৫) দেবহাটা উপজেলার সাংবাড়িয়া গ্রামের মাদার আলীর ছেলে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, দেবহাটা উপজেলার দক্ষিণ পারুলিয়া গ্রামের আব্দুল মাজেদ মোল্লার ছেলে বিএনপি কর্মী আব্দুর রউফকে ২০১৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর ভোর সাড়ে তিনটার দিকে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীরা বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে হাতে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে চোঁখ বেঁধে মারপিট করে পুলিশ ভ্যানে করে সখীপুর কলেজ মাঠে নিয়ে ডান পায়ে দুটি গুলি করে। পরে তার হাঁটু ও হাঁটুর নীচ থেকে কেটে বাদ দিতে হয়। এ ঘটনায় ভিকটিম আব্দুর রউফ ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর আদালতে মামলা দায়ের করেন।

মামলায় দেবহাটা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মুজিবর রহমানকে প্রধান আসামী করে ৪৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৩০ জনকে আসামী করা হয়। আদালতের নির্দেশে ওই সালের পহেলা নভেম্বর মামলাটি রেকর্ড করে দেবহাটা থানা।

অপরদিকে দক্ষিণ নাংলা গ্রামের আব্দুল হান্নানের ছেলে আনারুল ইসলামকে ২০১৪ সালের ১৪ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা ঘের থেকে ধাওয়া করে ৪০০ গজ দূরে আটকের পর দুই হাতে হাতকড়া পরিয়ে বাম পায়ের হাঁটুতে গুলি করে পুলিশ ভ্যানে করে তুলে নিয়ে যায়।

স্বজনরা পরদিন সকালে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে আনারুলের লাশ খুঁজে পায়। এ ঘটনায় রাতেই পুলিশ বাদি হয়ে থানায় ১২ নং মামলা করে। ২৭ জানুয়ারি পুলিশ হত্যা ও বিষ্ফোরক দ্রব্য আইনে পৃথক দুটি চুড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করে। তবে ২০২৪ সালের ২২ আগষ্ট নিহতের ভাই রবিউল ইসলাম বাদি হয়ে সাতক্ষীরা আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে মামলাটি দেবহাটা থানায় রেকর্ড করা হয়। দেবহাটা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ মুজিবর রহমানসহ ৫৪ জনের নামে উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ১৬ জনকে আসামী করা হয়।

সাতক্ষীরা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মঈনউদ্দিন জানান, উপরোক্ত মামলা দুটিতে আসামী মুজিবর রহমান হাইকোর্টের বিচারপতি কেএম জাহিদ সরোয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের বেঞ্চ থেকে গত ৮ জুলাই আট সপ্তাহের পৃথক অন্তবর্তীকালিন জামিন পান। একই আদেশে তাকে সোমবারের মধ্যেই সাতক্ষীরার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করতে বলা হয়। সে অনুযায়ি মুজিবর রহমান তার আইনজীবীদের মাধ্যমে সোমবার সাতক্ষীরার ভারপ্রাপ্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। বিচারক বিলাস মণ্ডল শুনানী শেষে তার জামিন আবেদন না’মঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আসামীপক্ষের আইনজীবী হিসেবে শুনানীতে অংশ নেন সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির আহবায়ক অ্যাড. মিজানুর রহমান পিন্টু, অ্যাড. অজয় সরকার, অ্যাড. ওসমান গণি প্রমুখ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কাঁধে কফির ফ্লাস্ক, চোখে স্বপ্ন—রূপসী ম্যানগ্রোভে আকাশের জীবনসংগ্রাম

দেবহাটা প্রতিনিধি :  কারও কাছে রূপসী ম্যানগ্রোভ মানে প্রকৃতির সৌন্দর্য, নির্মল বাতাস আর একটু প্রশান্তির খোঁজ। কেউ আসেন পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে, কেউবা প্রিয়জনের হাত ধরে। কিন্তু এই সৌন্দর্যের আড়ালেই প্রতিদিন জীবনের সঙ্গে লড়াই করে চলেন কিছু মানুষ। তাদেরই একজন আকাশ হোসেন

কাঁধে একটি কফির ফ্লাস্ক ঝুলিয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রূপসী দেবহাটা ম্যানগ্রোভের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঘুরে বেড়ান আকাশ। কখনো প্রচণ্ড রোদ, কখনো বৃষ্টি—কোনো কিছুই তাকে থামাতে পারে না। পর্যটকদের কাছে ঘুরে ঘুরে কফি বিক্রি করেই জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি।

আকাশ হোসেন দেবহাটা উপজেলার সুশীলগাতি গ্রামের আফছার আলীর ছেলে। বাবা-মাকে নিয়ে তার ছোট্ট সংসার। পরিবারের আয়ের প্রধান, বরং একমাত্র অবলম্বন এই কফি বিক্রি। প্রতিদিন কফির ফ্লাস্ক কাঁধে নিয়ে বেরিয়ে পড়েন তিনি। পর্যটকদের কাছে এক কাপ এক কাপ করে কফি বিক্রি করেন, আর দিন শেষে সেই সামান্য উপার্জনেই চলে পরিবারের প্রয়োজন।

এক কাপ কফির দাম হয়তো একজন পর্যটকের কাছে খুবই সামান্য। কিন্তু সেই এক কাপ কফির পেছনে লুকিয়ে থাকে আকাশের ঘাম, ক্লান্তি আর পরিবারের প্রতি দায়িত্ববোধ। প্রতিটি বিক্রির সঙ্গে জড়িয়ে থাকে তার বাবা-মায়ের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার স্বপ্ন।

রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে সংগ্রাম

জীবন তাকে খুব বেশি সুযোগ দেয়নি। তাই সুযোগের অপেক্ষায় বসে না থেকে নিজের কর্মসংস্থান নিজেই তৈরি করেছেন আকাশ। কাঁধে কফির ফ্লাস্ক তুলে নিয়েছেন। রোদে শরীর পুড়লেও, বৃষ্টিতে ভিজলেও তার পথচলা থামে না।

পর্যটকদের ভিড় দেখলেই তার চোখে যেন নতুন আশার আলো জ্বলে ওঠে। কারণ দর্শনার্থী যত বেশি, তার কফি বিক্রির সম্ভাবনাও তত বেশি। তাই ছুটির দিনগুলো তার কাছে শুধু অন্যদের আনন্দের দিন নয়—এগুলো তার পরিবারের জন্য একটু বেশি উপার্জনের আশার দিন।

প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে রূপসী ম্যানগ্রোভ

সবুজের গভীরতা, নদীর নির্মল বাতাস, পাখির কলকাকলি আর চোখজুড়ানো প্রাকৃতিক সৌন্দর্য—সব মিলিয়ে রূপসী দেবহাটা ম্যানগ্রোভ যেন প্রকৃতির নিজ হাতে আঁকা এক অপূর্ব ছবি।

একদিকে বাংলাদেশ, অন্যদিকে ভারত; মাঝখানে সীমান্ত নদী ইছামতী। নদীর কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা ‘রূপসী দেবহাটা ম্যানগ্রোভ পর্যটন কেন্দ্র’ এখন সাতক্ষীরার অন্যতম আকর্ষণীয় বিনোদনকেন্দ্র। ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি ভুলে একটু স্বস্তি আর প্রশান্তির খোঁজে প্রতিদিনই এখানে ছুটে আসছেন নানা বয়সী মানুষ।

দেবহাটা উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত পর্যটনকেন্দ্রটি বর্তমানে নতুন সাজে সেজেছে। ছুটির দিন, বিভিন্ন উৎসব ও পর্যটন মৌসুমে দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে ‘মিনি সুন্দরবন’খ্যাত রূপসী ম্যানগ্রোভ।

আর এই পর্যটকদের ঘিরেই আকাশের মতো অনেক শ্রমজীবী মানুষের জীবনে তৈরি হয়েছে আয়ের সুযোগ।

আকাশের গল্প শুধু কফি বিক্রির গল্প নয়

আকাশের কাঁধে ঝুলছে শুধু একটি কফির ফ্লাস্ক নয়—ঝুলছে একটি পরিবারের দায়িত্ব। তার প্রতিটি পদক্ষেপে আছে সংগ্রাম, প্রতিটি কাপে আছে পরিশ্রম, আর প্রতিটি দিনের শেষে আছে বাবা-মাকে নিয়ে বেঁচে থাকার ছোট্ট স্বপ্ন।

হয়তো তার হাতে দামি মোবাইল নেই, নেই বড় কোনো ব্যবসা কিংবা চাকরির পরিচয়। কিন্তু আছে পরিশ্রম করার সাহস, বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং হাল না ছাড়ার মানসিকতা।

রূপসী ম্যানগ্রোভে যারা বেড়াতে আসেন, তারা হয়তো প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হয়ে ফিরে যান। কিন্তু আকাশের মতো মানুষগুলো প্রতিদিন সেই সৌন্দর্যের মাঝেই নিজেদের জীবনের কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকেন।

তার গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়—
জীবনে বড় হতে বড় কিছু প্রয়োজন হয় না; প্রয়োজন হয় সৎভাবে বেঁচে থাকার চেষ্টা আর পরিবারের জন্য নিরলস পরিশ্রম করার মানসিকতা।

আকাশ হয়তো কফি বিক্রি করেন, কিন্তু তার প্রতিটি কফির কাপে মিশে থাকে একজন সন্তানের দায়িত্ব, একজন মানুষের আত্মসম্মান এবং একটি পরিবারের বেঁচে থাকার স্বপ্ন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শ্যামনগরে খোলপেটুয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন : ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নে খোলপেটুয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অপরাধে মোকছেদ গাজী নামে এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের চকবারা এলাকায় খোলপেটুয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসন। শ্যামনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাশেদ হোসাইনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে বালুভর্তি একটি বোট জব্দ করা হয়। এ সময় বালু উত্তোলনের অভিযোগে মোকছেদ গাজীকে আটক করা হয়।

পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে ‘বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০’-এর ১৫(১) ধারায় তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নদী ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। সরকারি বিধিনিষেধ অমান্য করে কেউ নদী থেকে বালু উত্তোলন করলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দেবহাটায় বিভিন্ন বাজার ও স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা প্রচারাভিযান

দেবহাটা প্রতিনিধি : দেবহাটা উপজেলার দেবহাটা সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রচারাভিযান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার  দুপুর সাড়ে ১২টায় দেবহাটা সদর ইউনিয়ন পরিষদ চত্বর থেকে এ প্রচারাভিযানের উদ্বোধন করা হয়। দেবহাটা সদর ইউনিয়ন পরিষদের আয়োজনে এবং সুশীলন ও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের সহযোগিতায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেবহাটা সদর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন বকুল, দেবহাটা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি আর.কে. বাপ্পা, সাংগঠনিক সম্পাদক কে.এম. রেজাউল করিম, ইউপি সদস্য আজগার আলী, ইউপি সদস্যা রেহেনা পারভিন, সুশীলনের কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অফিসার মিজানুর রহমান, গ্রাম কমিটির সভাপতি ফিরোজ হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
পরে ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণ, টাউনশ্রীপুর বাজারসহ ইউনিয়নের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে প্রচারাভিযান পরিচালনা করা হয়।
এসময় আয়োজকরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখতে জনসাধারণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি বাজার ও জনসমাগমস্থলে ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা এবং নিজ নিজ এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সাতক্ষীরায় ঝালমুড়ি বিক্রেতার মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ইউনুছ আলী (৪২) নামের এক ঝালমুড়ি বিক্রেতার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রোববার সকালে শহরের কামালনগর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ইউনুছ আলী ওই এলাকার মৃত রহমত আলীর ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো রোববার সকালেও জীবিকার তাগিদে ঝালমুড়ি বিক্রির উদ্দেশ্যে ভ্যানগাড়ি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হচ্ছিলেন ইউনুছ আলী। বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় পাশের একটি মুরগির খামারের টিনের চালের সাথে তার ভ্যানগাড়ির স্পর্শ লাগে। টিনের চালটি আগে থেকেই অসাবধানতাবশত বিদ্যুতায়িত হয়ে থাকায় ভ্যানগাড়িটি স্পর্শ করার সাথে সাথেই তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

নিহত ইউনুছ আলী দীর্ঘদিন ধরে শহরের সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে ঝালমুড়ি বিক্রি করে সংসার চালিয়ে আসছিলেন। তার এই আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্থানীয়দের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুর রহমান জানান, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
৩ মাস ২৫ দিন পর দেশে ফিরল লেবাননে নিহত শুভ দাসের মরদেহ

নিজস্ব প্রতিনিধি:

ভাগ্য বদলের আশায় স্বজনদের মুখে হাসি ফোটাতে সুদূর লেবাননে পাড়ি জমিয়েছিলেন তরুণ শুভ দাস। কিন্তু প্রিয় সন্তান আর জীবিত ফিরলেন না; দীর্ঘ ৩ মাস ২৫ দিন পর কফিনবন্দি হয়ে নিথর দেহে ফিরতে হলো তাঁকে।

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত সাতক্ষীরার তিন প্রবাসীর মধ্যে কলারোয়ার শুভ দাসের (২৩) মরদেহ অবশেষে দেশে পৌঁছেছে।

রোববার সকালে মরদেহ তাঁর নিজ গ্রাম কলারোয়া উপজেলার কয়লা ইউনিয়নের শ্রীপতিপুরে পৌঁছালে স্বজন ও স্থানীয়দের কান্নায় বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া। শুভ দাস ওই গ্রামের দরিদ্র ভ্যানচালক সুরঞ্জন দাস ও ধানচাতাল শ্রমিক শিখা দাসের মেজো ছেলে। চার ভাই-বোনের মধ্যে শুভকে নিয়েই পরিবারটির ছিল সবচেয়ে বড় আশা।

গত ১২ মে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের নাবাতিয়েহ জেলার জেবদিন এলাকায় একটি রুটি বহনকারী গাড়িতে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান একই এলাকায় কর্মরত তিন বাংলাদেশি কর্মী—সাতক্ষীরা সদর উপজেলার শফিকুল ইসলাম, আশাশুনি উপজেলার নাহিদুল ইসলাম নাহিদ এবং কলারোয়ার শুভ দাস।

অন্য দুই প্রবাসীর মরদেহ গত ২৭ জুন দেশে আনা সম্ভব হলেও নানা প্রশাসনিক জটিলতায় শুভ দাসের মরদেহ ফেরানো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। দীর্ঘ তিন মাস ২৫ দিন পর অবশেষে তাঁর মরদেহ নিজ মাতৃভূমিতে আনা হলো।

স্বজনরা জানান, প্রায় তিন বছর আগে পরিবারের অভাব-অনটন দূর করতে জমি ও গবাদিপশু বিক্রি এবং ধারদেনা করে শুভকে লেবাননে পাঠায় তাঁর পরিবার। বাবার ভ্যান চালানোর টানাপোড়েনের সংসার আর মায়ের ধানচাতালের হাড়ভাঙা খাটুনি থেকে মুক্তি দেওয়াই ছিল শুভর একমাত্র লক্ষ্য। কিন্তু ভাগ্য বদলের সেই স্বপ্ন তছনছ করে দিল যুদ্ধবিধ্বস্ত লেবাননের একটি মর্মান্তিক ড্রোন হামলা।

শুভ দাসের মৃত্যুতে শ্রীপতিপুর গ্রামে এখন শুধু কান্নার রোল। ধারদেনা পরিশোধের চিন্তা আর উপার্জনক্ষম একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে তাঁর নিঃস্ব পরিবারটি।

কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলাম বলেন, লাশ বহনের জন্য ৩৫ হাজার টাকা এবং যুদ্ধের মারা যাওয়ার কারনে ৫০ হাজার টাকা সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় ৯৬ বছরের বাকপ্রতিবন্ধী বৃদ্ধ নিখোঁজ

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রাম থেকে মোঃ ইফাজউদ্দীন (৯৬) নামের এক বাকপ্রতিবন্ধী বৃদ্ধ নিখোঁজ হয়েছেন। গত বুধবার ৮ জুলাই সকালে তিনি পরিবারের সকলের অজান্তে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি।

নিখোঁজ বৃদ্ধের সন্ধান না পেয়ে তাঁর ছেলে মোঃ আব্দুল আলীম (৪৯) সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং: ৭৪৪, রবিবার ১২ জুলাই ২০২৬ সংক্রান্ত আবেদন করেছেন। জিডি ট্র্যাকিং নম্বর QFBU2D।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নিখোঁজ ইফাজউদ্দীন বাকপ্রতিবন্ধী। তাঁর উচ্চতা আনুমানিক ৫ ফুট ২ ইঞ্চি, শারীরিক গঠন মাঝারি এবং গায়ের রং উজ্জ্বল শ্যামলা। নিখোঁজের সময় তাঁর পরনে ছিল সবুজ রঙের জামা ও সাদা লুঙ্গি। নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে আত্মীয়-স্বজন ও সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

থানা পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, নিখোঁজ বৃদ্ধকে খুঁজে বের করতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

যদি কোনো সহৃদয় ব্যক্তি উক্ত ব্যক্তির সন্ধান পেয়ে থাকেন, তবে নিকটস্থ থানা অথবা পরিবারের সাথে ০১৭৬৭৪০৫৭৭৯ বা ০১৭২৯৬৬৮১৮৮ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আশাশুনির মহিষকুড় মৎস সেট সংলগ্ন সংযোগ সড়কের সংস্কার কাজের উদ্বোধন

০৫ সেপ্টেম্বর আশাশুনি টু ঘোলা সড়কের মহিষকুড়ের সেট সংলগ্ন বাঁশতলা টু মহিষকুড়ের সংযোগের জলাবদ্ধ ও অসহনীয় ভাঙ্গাচুরা রাস্তার সংস্কারের কাজ উদ্বোধন করা হয়েছে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা তাঁতীদল এর সভাপতি হাসান শাহরিয়ার রিপন, ০৭ নং শ্রীউলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ রফিকুজ্জামান ছোট্টু, আশাশুনি সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাকির হোসেন প্রিন্স, বিএনপি নেতা মোঃ আবুল কালাম মোল্লাসহ স্থানীয় বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং মহিষকুড় গ্রামের সর্ব সাধারণ।

উল্লেখ্য, সাতক্ষীরা টু শ্যামনগরের রাস্তায় ৪ লেনের কাজ চলমান থাকায় শ্যামনগর এবং কালীগঞ্জ উপজেলার বেশিরভাগ মানুষ বাঁশতলা উপর দিয়ে এসে মহিষকুড় হয়ে সাতক্ষীরা টু কোলাঘোলা রাস্তা দিয়ে সাতক্ষীরা, খুলনা, যশোর সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাওয়ার জন্য চলাচল করে। অর্থাৎ প্রতিদিন অন্তত দুই থেকে তিন হাজার যান বহন এই সংযোগ সড়ক দিয়ে চলাচল করে। উল্লেখ্য বিভিন্ন সময় দেখা যায় যে, উক্ত যানবাহনের মধ্যে বেশ কিছু ট্রাক, পিকআপ ওভারলোড নিয়ে এ রাস্তা দিয়েই চলাচল করে। যে কারণে রাস্তার ধারণক্ষমতার চেয়েও অধিক ওজন হওয়ায় রাস্তাটা দ্রুত নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। অন্য দিকে এই রাস্তার দুই ধারে পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকাও রাস্তা ভাঙ্গার অন্যতম কারণ।
উল্লেখ্য যে, রাস্তার ভাঙাচোরা জায়গাটি মহিষকুড় নিবাসী আবুল কালাম মোল্লার বাড়ি সংলগ্ন হওয়ায় উনার উদ্যোগে এবং উক্ত মহল্লার সাধারণ জনগণ একত্রিত হয়ে নিজেদের অর্থায়নে ইতিপূর্বে এই রাস্তা সংস্কারক করা হয়েছিলো।
কিন্তু জলাবদ্ধতার কারণে এবং ওভারলোডের যানবাহন অধিকার হারে চলাচল করায় সেই সংস্কারযুক্ত রাস্তা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। যার ফলে বিগত কয়েক মাস যাবৎ এই রাস্তা দিয়ে চলাচলের যানবাহন সহ সাধারণ মানুষ অসহ্য যন্ত্রণা ভোগ করে আসছে।
গত মাস খানেক পূর্বে আবুল কালাম মোল্লা, মালয়েশিয়া প্রবাসী মাসুদুল আলম কাজল মোল্লা বিএনপির জেলা, উপজেলা ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দদের সাথে নিয়ে সাতক্ষীরা সদর ৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী আলহাজ্জ কাজী আলাউদ্দিন এর সহযোগিতায় আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং এলজিইডি জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর দৃষ্টিগোচর করেন। নেতৃবৃন্দ এবং এলজিইডি প্রকৌশলী ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর সম্মিলিত আন্তরিকতায় রাস্তাটির সংস্কারের কাজ দ্রুত সম্ভব হয়েছে।
এ সময় বক্তারা তাদের বক্তব্যে এলজিইডি প্রকৌশলী ও আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
বক্তারা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আরো বলেন যে, এই রাস্তা দ্রুত স্থায়ীভাবে নির্মাণ করণ ও পানি নিষ্কাশনের জন্য দ্রুত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং ওভারলোডের যানবাহন যাতে চলতে না পারে। তার জোর দাবি জানান। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest