সর্বশেষ সংবাদ-
নক্ষত্রের অভিবাদন: শ্যামনগরে ১০ গুণী ব্যক্তিকে সংবর্ধনাসাংবাদিক পুত্র কাজী ফাহিমের অতুলনীয় সাফল্য : প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের অভিনন্দনসাতক্ষীরায় জলবায়ু-বাস্তুচ্যুত মানুষের আবাসন, খাদ্য ও পুষ্টি অধিকার নিশ্চিতে ১১ দফা দাবিসাতক্ষীরার সাংবাদিকপুত্র কাজী ফাইম আব্দুল্লাহর এইচএসসিতে গোল্ডেন এ-প্লাস অর্জনসাতক্ষীরায় নির্মাণাধীন ভবনের সাব-কন্টাক্টরের কাছে চাঁদা দাবি : থানায় অভিযোগতালায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা: সার সংকট, মাটি কাটা ও বালু উত্তোলন বন্ধে গুরুত্বারোপদেবহাটায় শিশুদের প্রারম্ভিক বিকাশে খেলাভিত্তিক সেশন পরিদর্শনসাতক্ষীরায় আবাসিক হোটেল-রেস্তোরাঁ – বেকারি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক মতবিনিময়সাতক্ষীরায় মোজাম্মেল মিস্ত্রী হ%ত্যা মামলার দুই প্রধান আসামি সিলেটে গ্রেফতারশ্যামনগরে সুন্দরবনের বনদস্যু নির্মূলে মানববন্ধন

নক্ষত্রের অভিবাদন: শ্যামনগরে ১০ গুণী ব্যক্তিকে সংবর্ধনা

শ্যামনগর প্রতিনিধি : একজন শিক্ষক ১৯৫৫ সাল থেকে পড়িয়েছেন, লিখেছেন নিজের এলাকার ইতিহাস। একজন মুক্তিযোদ্ধা ১৯৭১ সালে সম্মুখযুদ্ধে পায়ে গুলি খেয়েছেন। একজন চাকরি না পেয়ে গ্রামে গ্রামে শাঁখা বিক্রি করেছেন, পরে সবজি চাষ করে পুরো গ্রামকে পথ দেখিয়েছেন। এই মানুষদের সম্মানে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে শনিবার (৩১ অক্টোবর) বসেছিল ‘নক্ষত্রের অভিবাদন’।

‘গুণীজনের আলোয় আলোকিত হোক সমাজ’ প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাব। সাহিত্য, শিক্ষা, সাংবাদিকতা, মুক্তিযুদ্ধ, জনসেবা, কৃষি, ক্রীড়া, সংগীত ও সমাজসেবায় বিশেষ অবদান রাখায় গুণীজনদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। একই অনুষ্ঠানে মেধা ও মননের স্বাক্ষর রাখা কয়েকজন ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীকেও সম্মাননা জানানো হয়।

শ্যামনগর উপজেলা অডিটোরিয়াম হলে বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত চলে প্রথম পর্ব, অর্থাৎ গুণীজন সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা। এরপর একই স্থানে শুরু হয় দ্বিতীয় পর্ব, গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী জারি গান ও সাংস্কৃতকি অনুষ্ঠান।

প্রেসক্লাবের সভাপতি সামিউল মনিরের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান লিটনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুজ্জাহান কনক। বিশেষ অতিথি ছিলেন শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সোলায়মান কবীর, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির সহকারী অধ্যাপক ফজলুল হক, সাতক্ষীরার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জি এবং শ্যামনগর সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ লিয়াকত আলী বাবু। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সাহিত্যে অবদানের জন্য সংবর্ধনা পান অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. কেরামত উল্লাহ। ১৯৩৫ সালে জন্ম নেওয়া এই গুণী মানুষ নকিপুর জমিদারবাড়ির পাঠশালায় শিক্ষাজীবন শুরু করেন। ১৯৫৩ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পাসের পর ১৯৫৫ সালে শিক্ষকতায় যোগ দেন। লিখেছেন ছড়া, কবিতা, গল্প ও প্রবন্ধ। তাঁর বইয়ের মধ্যে রয়েছে ‘লাল সংকেত’, ‘স্রোতস্বিনী’, ‘শ্যামনগরের ইতিহাস’ ও ‘শ্যামনগরের দর্পণ’।

শিক্ষায় অবদানের জন্য সংবর্ধিত হন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক স্বপন কুমার মুখার্জি। নকিপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০ বছর ও হায়বাতপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৬ বছর শিক্ষকতা করেছেন তিনি। দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আর্থিক সহযোগিতা দিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধেও ভূমিকা রেখেছেন।

মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য সংবর্ধনা পান বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম মিজানুর রহমান। ১৯৭১ সালে শ্যামনগরে তিনি ছিলেন যুদ্ধকালীন ইউনিট কমান্ডার। সম্মুখযুদ্ধে পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে যশোরের মনিরামপুর উপজেলার প্রথম ইউএনও এবং ১৯৯৪ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত দুর্নীতি দমন ব্যুরোর পরিচালক ছিলেন।

কৃষিতে স্বীকৃতি পেয়েছেন মনোতোষ মণ্ডল। উচ্চশিক্ষা শেষ করেও চাকরি না পেয়ে একসময় গ্রামে গ্রামে শাঁখা বিক্রি করতেন তিনি। নব্বইয়ের দশকে মাত্র ১৫ শতক জমিতে পুকুর খনন ও নিচু জমি ভরাট করে সবজি চাষ শুরু করেন। তাঁর দেখানো পথে হাটছালা গ্রামের অন্য কৃষকেরাও এখন স্থানীয় হাটবাজারের পাশাপাশি রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে সবজি সরবরাহ করছেন।

শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় সংবর্ধিত হন আলহাজ মো. আরশাদ আলী মোড়ল। ১৯৭০ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত রমজাননগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। পাতড়াখোলা আরশাদ আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ভৈরবনগর দারুল উলুম বালিকা দাখিল মাদ্রাসা ও রমজাননগর ইউনিয়ন তোফাজ্জল বিদ্যাপীঠসহ একাধিক প্রতিষ্ঠান গড়ায় ভূমিকা রেখেছেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য জমি দান করেছেন। ৮১ বছর বয়সেও সপ্তাহে তিন-চার দিন এসব প্রতিষ্ঠানে গিয়ে খোঁজখবর নেন তিনি।

সমাজসেবায় সংবর্ধনা পান আলহাজ আবুল কালাম বাবলা। আইলা, সিডরসহ বিভিন্ন দুর্যোগে উপকূলীয় এলাকার অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। প্রচারের আড়ালে থেকে কাজ করাই তাঁর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

ক্রীড়ায় সংবর্ধিত হন এস এম ফিরোজ হোসেন। ১৯৭৫ সালে সাতক্ষীরা পিকে ক্লাবে খেলা শুরু করে পরে খুলনা শিপইয়ার্ড ও ঢাকা সাধারণ বীমা ক্লাবেও খেলেছেন তিনি।

অনুষ্ঠানে মরণোত্তর সংবর্ধনা ও সম্মাননা দেওয়া হয় তিনজনকে। সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য সংবর্ধনা পান ১৯৮৫ সালে শ্যামনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি আনোয়ার হোসেন মল্লিক, যিনি সাধারণ মানুষের পক্ষে কথা বলা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থানের জন্য স্থানীয়ভাবে পরিচিত ছিলেন।

জনসেবায় সম্মাননা দেওয়া হয় বাবু বিশ্বনাথ দাসকে, যিনি জনপ্রতিনিধি হিসেবে সদর ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ সড়কসহ নানা উন্নয়নকাজে ভূমিকা রেখেছেন এবং নিপীড়িত মানুষের পক্ষে প্রতিবাদী ছিলেন। সংগীতে সংবর্ধনা পান গীতিকার ও সুরকার অনিমেষ ব্যানার্জি। কলকাতায় পণ্ডিত নিখিল ব্যানার্জির কাছে সেতার শিখেছিলেন তিনি। খুলনা বেতারে প্রচারিত হয়েছে তাঁর লেখা ও সুর করা অনেক গান।

ঐতিহাসিক শাহী মসজিদ আশরাফিয়া দাওরা হাদিস মাদ্রাসায় অর্ধশতাব্দী ধরে নিবেদিতভাবে দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশেষ সংবর্ধনা পান হাফেজ মো. আব্দুল আলী। সম্মাননা দেওয়া হয় বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মজিদ ও মুক্তিযোদ্ধা চিকিৎসক জিহাদ আলীকেও।

নতুন প্রজন্মকেও সম্মান জানানো হয় অনুষ্ঠানে। একাগ্রতা, মেধা ও মননের সমন্বয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্য বিশেষ সম্মাননা পান সাথী মুন্ডা, শারমীন আক্তার, খাদিজা খাতুন, রেহানা খাতুন, আসাদুল মোল্যা, আমীর হোসেন, কামরুজ্জামান, মো. মাসুম বিল্লাহ, আনিকা তাবাসসুম, জেবা তাসনিয়া, হাফেজ মুহাম্মদ রিয়াসাত আলী ও হাফিজুর রহমান (হাফিজ)। শ্যামনগর মডার্ন স্কুলের ১০ জন শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেওয়া হয় বই উপহার।

গুণীজনদের সম্মাননার পাশাপাশি প্রেসক্লাবের সংবাদকর্মীদের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মূল্যায়ন করা হয়। অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে প্রকাশিত হয় প্রেসক্লাবের নিজস্ব ম্যাগাজিন ‘আত্মপ্রকাশ’। আয়োজকেরা মনে করছেন, স্থানীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা ব্যক্তিদের কর্ম ও জীবনের কথা নতুন প্রজন্মকে জানাতে এই আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। #

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাংবাদিক পুত্র কাজী ফাহিমের অতুলনীয় সাফল্য : প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের অভিনন্দন

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : সাতক্ষীরার সিনিয়র সাংবাদিক কাজী জামালউদ্দিন মামুন ও শারমিন আক্তার কাকলির ছেলে কাজী ফাহিম আব্দুল্লাহ এইচএসসিতে গোল্ডেন এ+ পেয়েছে।

ঢাকার নটরডেম কলেজ থেকে সে চলতি বছর বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় ইংরেজি ভার্সনে অংশ নেয়। তার  প্রাপ্ত নম্বর ১১৬৪ । এসএসসিতেও ফাহিম সাতক্ষীরার পিএন বিয়াম স্কুল থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়।

সাংবাদিক পুত্রের অতুলনীয় সাফল্যে অভিনন্দন জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাসেম, সহ-সভাপতি আবুল কালাম, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক এম বেলাল হোসাইন,

সাংগঠনিক সম্পাদক এম. শাহীন গোলদার, অর্থ সম্পাদক শেখ ফরিদ আহমেদ ময়না, সাহিত্য,সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক আকরামুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক মাসুদুজ্জামান সুমন, নির্বাহী সদস্য যথাক্রমে এড. খায়রুল বদিউজ্জামান, আবু তালেব, কাজী জামালউদ্দিন মামুন, আব্দুস সামাদ, আসাদুজ্জামান সরদার। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় জলবায়ু-বাস্তুচ্যুত মানুষের আবাসন, খাদ্য ও পুষ্টি অধিকার নিশ্চিতে ১১ দফা দাবি

নিজস্ব প্রতিনিধি :  সাতক্ষীরা: জলবায়ু-বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য সরকারি খাসজমিতে স্থায়ী আবাসন, খাদ্য ও পুষ্টির অধিকার নিশ্চিতকরণসহ ১১ দফা দাবি জানিয়েছে সাতক্ষীরা জেলা জলবায়ু বাস্তুচ্যুত মানুষের অধিকার ও উন্নয়ন ফোরাম।

শনিবার (৩০ অক্টোবর) সাতক্ষীরার একটি হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়।

এতে বলা হয়, জলবায়ু-বাস্তুচ্যুত নারী-পুরুষ ও তরুণদের জন্য শ্রমবাজারের উপযোগী দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, সহজ শর্তে ঋণ ও আর্থিক সেবার সুযোগ এবং শোভন আয়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ফোরামের সভাপতি ফাতেমা বেগম। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফোরামের সদস্যসচিব সোনিয়া খাতুন।

স্থানীয় উন্নয়ন সংগঠন স্বদেশের নির্বাহী পরিচালক মাধব দত্ত সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ বিশেষজ্ঞ ও জাতীয় দুর্যোগ ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা গওহার নঈম ওয়ারা, পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড নেটওয়ার্ক (প্রান)-এর প্রধান নির্বাহী নুরুল আলম মশাররফ এবং সিইপিআর-এর প্রধান নির্বাহী গোরাঙ্গ নন্দীসহ নাগরিক সমাজ, অধিকারকর্মী ও জলবায়ু-বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিবৃন্দ।

সংবাদ সম্মলনে বলা হয়, বন্যা, জলাবদ্ধতা, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন ও লবণাক্ততার কারণে ঘরবাড়ি, জমি ও জীবিকা হারিয়ে বহু পরিবার সাতক্ষীরা শহরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। সাতক্ষীরা পৌরসভার ৪৭টি বসতিতে আনুমানিক ৭ হাজার ৫৭৩টি বাস্তুচ্যুত পরিবার বসবাস করছে; তাদের বাস্তুচ্যুতি দীর্ঘস্থায়ী মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংকটে রূপ নিয়েছে।

স্থায়ী আবাসন ও শোভন জীবিকার পাশাপাশি ঘোষণাপত্রে জরুরি খাদ্যসহায়তা, ন্যায্যমূল্যের খাদ্য ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্তি, শিশু ও মাতৃত্বকালীন পুষ্টিসেবা, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন, নগর ও জলবায়ু অভিযোজন পরিকল্পনায় বাস্তুচ্যুত মানুষের স্বীকৃতি ও অংশগ্রহণ, পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ বন্ধ, বসতির মানোন্নয়ন ও আইনি নিরাপত্তা, জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার নিবন্ধন, শিশুদের শিক্ষা, ভ্রাম্যমাণ স্বাস্থ্যসেবা এবং বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর পরিস্থিতি বিবেচনায় তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা ও বাজেট প্রণয়নের দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বলা হয়, জলবায়ু-বাস্তুচ্যুত মানুষ কেবল ত্রাণ বা সহায়তার গ্রহীতা নন; তাঁরা এ দেশের নাগরিক ও অধিকারধারী। নিরাপদ ও স্থায়ী আবাসন, জীবিকা, শোভন আয়, খাদ্য ও পুষ্টি, পানি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা তাঁদের অধিকার। #

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরার সাংবাদিকপুত্র কাজী ফাইম আব্দুল্লাহর এইচএসসিতে গোল্ডেন এ-প্লাস অর্জন

প্রেস বিজ্ঞপ্তি :  সাতক্ষীরার বিশিষ্ট ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক কাজী জামালউদ্দিন মামুন এবং শারমিন আক্তার কাকলি দম্পতির একমাত্র ছেলে কাজী ফাইম আব্দুল্লাহ উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে ‘গোল্ডেন এ-প্লাস’ (সকল বিষয়ে জিপিএ-৫) অর্জন করেছেন।

চলতি বছর ঢাকার ঐতিহ্যবাহী নটরডেম কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগ ও ইংরেজি ভার্সনে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে তিনি এই অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেন। পরীক্ষায় তাঁর মোট প্রাপ্ত নম্বর ১১৬৪।

এর আগে কাজী ফাইম সাতক্ষীরার পিএন বিয়াম স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে মাধ্যমিক (এসএসসি) পরীক্ষাতেও জিপিএ-৫ পেয়ে সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ও মননশীল এই শিক্ষার্থী পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের লক্ষ্য অর্জনে সবসময় অবিচল ছিলেন।

ভবিষ্যতে তিনি প্রকৌশলী (ইঞ্জিনিয়ার) হিসেবে দেশ ও জাতির সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চান। তাঁর এই সাফল্যে তাঁর পরিবার, শিক্ষকবৃন্দসহ সাতক্ষীরার সাংবাদিক সমাজ এবং শুভানুধ্যায়ীরা অত্যন্ত আনন্দিত। তাঁরা ফাইমের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ এবং জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে সাফল্য কামনা করেছেন।##

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় নির্মাণাধীন ভবনের সাব-কন্টাক্টরের কাছে চাঁদা দাবি : থানায় অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরা শহরের পলাশপোল ইসলামী হাসপাতালের সামনে একটি ১০ তলা ভবনের নির্মাণকাজে নিয়োজিত সাব-কন্টাক্টরের নিকট ৫ লাখ টাকা চাঁদার দাবিতে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাব-কন্টাক্টর মো. শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০/১৫ জনকে আসামি করে সাতক্ষীরা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মাছখোলা গ্রামের মুক্তার আলী সরদারের পুত্র সাব-কন্টাক্টর মো. শহিদুল ইসলাম। দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সাথে বিভিন্ন নির্মাণকাজ পরিচালনা করে আসছেন। বর্তমানে তিনি পলাশপোল ইসলামী হাসপাতালের সামনে একটি ১০ তলা ভবন নির্মাণের সাইটে সাব-কন্টাক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন আব্দুল্লাহ সরদার (৪৬), পিতা-ছামছুদ্দীন সরদার, সাং-কাটিয়া, মো. শহিদুল ইসলাম (৩৮), পিতা-জমাত বাজুমদার, সাং-মাছখোলা, আছাদুল ইসলাম (৪৫), পিতা-সবিল উদ্দীন মোল্যা, সাং-মাছখোলা শিবতলা, মো. শামছুর আলী (৪৪), পিতা-অজ্ঞাত, সাং-পলাশপোল, মামুন (৩৫), পিতা-অজ্ঞাত, সাং-পলাশপোল খুলনা রোড মোড়, এবং তফুর আলী (৪৮), পিতা-নুর আলী সরদার, সাং-পলাশপোল উত্তর, সর্ব থানা ও জেলা-সাতক্ষীরা। এছাড়া মামলায় আরও ১০/১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কায়দায় হুমকি দিয়ে আসছিলেন এবং গত ২৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ বেলা আনুমানিক ৩টার দিকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র—লোহার রড ও চাইনিজ কুড়াল নিয়ে নির্মাণাধীন সাইটে প্রবেশ করেন। সেখানে তারা ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। সাব-কন্টাক্টর শহিদুল ইসলাম টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে বিবাদীরা ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং তাকে ও তার শ্রমিকদের ওপর চড়াও হন। এ সময় অস্ত্র উঁচিয়ে হুমকি দেওয়া হয় যে, চাঁদার টাকা না দিলে পরবর্তী সময়ে কাজে আসলে হাত-পা ভেঙে পঙ্গু করে দেওয়া হবে এবং প্রাণনাশের ব্যবস্থা করা হবে।

এই ঘটনার পর থেকে নিরাপত্তাহীনতার কারণে ওই নির্মাণাধীন সাইটের কাজ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে এবং শ্রমিকরা আতঙ্কে কাজে আসতে চাচ্ছেন না।

স্থানীয় সাক্ষীদের মধ্যে রেজাউল ইসলাম, মিজানুর রহমান ও ওহাব আলীসহ অনেকেই ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে অবগত রয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা থানার এ এস আই নাছির উদ্দীন বলে এঘটনায় দুপক্ষের দুটো অভিযোগ পেয়েছি। উভয় পক্ষ কে নিয়ে বসাবসির জন্য প্রস্তাব দেওয়া হলেও শহিদুল ইসলামের পক্ষ হাজির হলেও অপর পক্ষ হাজির হয় না। যে কারনে সমাধান করা যাচ্ছে না।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
তালায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা: সার সংকট, মাটি কাটা ও বালু উত্তোলন বন্ধে গুরুত্বারোপ

তালা প্রতিনিধি :  সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় সার সংকট নিরসন, ইটভাটার জন্য মাটি কাটা ও পরিবহন, রাস্তার পাশ থেকে গাছ কাটা এবং অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে মাদক, অনলাইন জুয়া ও চুরি প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এবং উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণার সভাপতিত্বে সভাটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান।

সভায় বক্তারা বলেন, কৃষকদের জন্য সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা জরুরি। পাশাপাশি অবৈধভাবে মাটি কাটা, বালু উত্তোলন ও রাস্তার পাশের গাছ কাটা বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। মাদক, অনলাইন জুয়া ও চুরি প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সক্রিয় হওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজায় উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় সন্তোষ প্রকাশ করা হয়।

সভায় বক্তব্য দেন পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জেল হোসেন, তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলীম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাজিরা খাতুন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মৃণাল কান্তি রায়, সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মো. শফিকুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ইদ্রিস আলী, জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম. মফিদুল হক (লিটু), ইসলামকাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক গোলাম ফারুক, তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম, খলিলনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রণব ঘোষ বাবলু, সরুলিয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শেখ মাসুদ রানা, তালা সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রাজ্জাক, খেশরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম (লাল্টু) ও কুমিরা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মফিদুল ইসলাম, তালা প্রেসক্লাবের সভাপতি সেলিম হায়দার, তালা রিপোর্টার্স ক্লাবের আহ্বায়ক নারায়ণ চন্দ্র মজুমদার, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইদুর রহমান, সাংবাদিক আকবার হোসেনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দেবহাটায় শিশুদের প্রারম্ভিক বিকাশে খেলাভিত্তিক সেশন পরিদর্শন
 দেবহাটা প্রতিনিধি :  সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার ঈদগাহ কমিউনিটি ক্লিনিকে শিশুদের প্রারম্ভিক বিকাশ উন্নয়নের লক্ষ্যে খেলাভিত্তিক সেশন পরিদর্শন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে এ পরিদর্শন করা হয়।
ইউনিসেফের অর্থায়নে ইসিসিডি (Early Childhood Care and Development) প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত খেলাভিত্তিক এ সেশনের মাধ্যমে শিশুদের শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে সহায়তা করার বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করা হয়।
এ সময় সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মী ও সেশন পরিচালনাকারীদের কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হয় এবং শিশুদের প্রারম্ভিক বিকাশে খেলাধুলাভিত্তিক শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় আবাসিক হোটেল-রেস্তোরাঁ – বেকারি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক মতবিনিময়

নিজস্ব প্রতিনিধি : আবাসিক হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বেকারি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ্ কাউসার আজিজ এর সভাপতিত্বে উক্ত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আবুল হাসেম, পরিবেশ অধিদপ্তর সাতক্ষীরার সহকারী পরিচালক সৌমেন মৈত্র, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ সাতক্ষীরা জেলা কার্যালয়ের নিরাপদ খাদ্য অফিসার দীপঙ্কর দত্ত, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সাতক্ষীরা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ মেহেদী হাসান তানভীর, সাতক্ষীরা ফায়ার সার্ভিসের ওয়ার হাউজ ইন্সপেক্টর মোঃ ইলিয়াস,
বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি সাতক্ষীরা জেলা শাখার সভাপতি মো. শাহ আলম, সাধারণ সম্পাদক শেখ আবুল কালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রেজাউল ইসলাম, কোষাধক্ষ্য মিহির সাহা, লেকভিউ প্রতিনিধি মোঃ রাজু আহমেদ, পানসী রেস্তোরাঁর প্রতিনিধি মোঃ আব্দুস সামাদ, হোটেল টাইগার প্লাস ও রয়েল প্লাসের মীর তাজুল ইসলাম রিপন, অরজিনাল সাগর সুইটসের শেখ মেহেদী হাসান, মাওয়া চাইনিজ রেস্তোরাঁর সৌমেন ঘোষ, ঠিকানা হোটেলের সৈয়দ রাজিব হাসান, জয়হুন ডেইরী ফার্মের মোঃ আব্দুল কাইয়ুম, অগ্রগতি রিসোর্টের নাহিদ হাসান, হোটেল বৈশাখীর মোঃ মিজানুর রহমান, শাহিন বেকারির মোঃ আমানুল ইসলাম, দক্ষিণা রেস্টুরেন্টের কাজী মুনতাসির আহমেদ, কাচ্চি ডাইনের জয়নাল আবেদীন, মুজাফফর গার্ডেন এন্ড রিসোর্ট এর প্রতিনিধি মোঃ আতিকুল আলম (আতিক) প্রমূখ। এসময় সাতক্ষীরা জেলার আবাসিক হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বেকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest