ভোমরা বন্দরে ফল আমদানিতে ৪৪ কোটি টাকা রাজস্ব কমেছে চার মাসে

অনলাইন ডেস্ক: সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় ফল আমদানি কমে গেছে। গত অর্থবছরের প্রথম চার মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের (২০১৯-২০) একই সময় ফল আমদানি অন্তত ৩০ শতাংশ কমে যাওয়ায় কমেছে রাজস্ব আহরণও। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অসম প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে না পেরে ভোমরা স্থলবন্দর ব্যবহার করে ফল আমদানি কমে যাওয়ায় এমনটা হয়েছে।

ভোমরা স্থলবন্দরের রাজস্ব শাখার তথ্যানুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে এ স্থলবন্দর দিয়ে বিভিন্ন প্রকার ফল আমদানি হয়েছে ৩২ হাজার ১৩৩ দশমিক ৪৩৪ টন। এর মধ্যে জুলাইয়ে ৩ হাজার ২৯৫ টন, আগস্টে ৮ হাজার ৩৯১, সেপ্টেম্বরে ১০ হাজার ৮৮২ ও অক্টোবরে ৯ হাজার ৫৬৫ দশমিক ৪৩৪ টন। অন্যদিকে গত অর্থবছরের একই সময়ে এ স্থলবন্দর দিয়ে ফল আমদানি হয় ৪৫ হাজার ৭৯৩ টন, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় ১৩ হাজার ৬৫৯ দশমিক ৫৬৬ টন বেশি।

সূত্র জানায়, গত অর্থবছরের প্রথম চার মাসে ফল আমদানিতে সরকারের রাজস্ব আহরণ হয় ১৫১ কোটি ৬০ লাখ টাকা। সেখানে চলতি অর্থবছরের গত চার মাসে ফল আমদানিতে রাজস্ব আহরণ হয়েছে ১০৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় ফল আমদানি থেকে রাজস্ব আয় কমেছে ৪৪ কোটি টাকা।

ভোমরা স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স রোহিত ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী রামকৃঞ্চ চক্রবর্তী জানান, ভোমরা স্থলবন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীরা অসম প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হওয়ায় ভারতীয় ফল আমদানিতে ধস নেমেছে। অন্যান্য বন্দরে ফল আমদানিতে ব্যবসায়ীরা যেসব সুযোগ-সুবিধা পান, ভোমরা স্থলবন্দরে তার কিছুই পান না।

তিনি আরো বলেন, অন্য স্থলবন্দরে প্রতি ট্রাক আনার ফল আমদানি করলে কার্টন বা বাক্সের মূল ওজন বাদ দিয়ে দেড় টন পর্যন্ত ওজনের বিপরীতে শুল্ক ছাড় দেয়া হয়। সমপরিমাণ ছাড় সুবিধা রয়েছে আপেল ও কমলা আমদানিতেও। কিন্তু ভোমরা স্থলবন্দরে সব ধরনের ফল আমদানিতে কার্টন বা বাক্সের মূল ওজন ছাড়া বাড়তি কোনো ছাড় পান না ব্যবসায়ীরা। এতে এ স্থলবন্দর দিয়ে আনা ফল আমদানি খরচ তুলনামূলকভাবে বেশি পড়ে। এ কারণে ফল আমদানিকারক ব্যবসায়ীরা ভোমরা স্থলবন্দর ত্যাগ করে অন্য স্থলবন্দরের দিকে ঝুঁকছেন।

ভোমরা স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান নাসিম জানান, ফল একটি পচনশীল পণ্য। আমদানির সময় পচনসহ নানাভাবে ফল নষ্ট হয়। এজন্য অন্যান্য স্থলবন্দরে বাড়তি টিআর ওয়েট বা মোড়কসামগ্রী ওজন বাবদ ছাড় দেয়া হয়। কিন্তু ভোমরা স্থলবন্দরে এ সুবিধা ব্যবসায়ীদের দেয়া হয় না। ফলে অতিরিক্ত ব্যয়ভার বহন করতে হয় এ স্থলবন্দর ব্যবহারকারী ফল আমদানিকারকদের। এ কারণে ব্যবসায়ীরা অন্য স্থলবন্দরের দিকে ঝুঁকছেন। এছাড়া সম্প্রতি বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ফল আমদানি শুরু হয়েছে, যার প্রভাবও ভোমরা স্থলবন্দরে পড়েছে।

ভোমরা শুল্ক স্টেশনের দায়িত্বরত কাস্টমসের বিভাগীয় সহকারী কমিশনার মো. রেজাউল করিম জানান, বন্দরে যেকোনো পণ্য চাহিদার ওপর ভিত্তি করে আমদানি কম-বেশি হয়। এখানকার ব্যবসায়ীরা যে পরিমাণ এলসি করবেন, তার বিপরীতে পণ্য আসবে সে পরিমাণ। তবে সম্প্রতি ফল আমদানি কিছুটা কমেছে। আগামীতে বাড়তেও পারে। সূত্র: বণিক বার্তা

Related posts