বিমানে পেঁয়াজ, সরকারের আশ্বাস, মন্ত্রীদের বৈঠক সবই ব্যর্থ করে কেজি ২৫০ টাকা!

দেশের খবর: পেঁয়াজের বাজার সহনীয় করতে গত রবিবার ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই বাণিজ্য ও খাদ্য মন্ত্রীর উপস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সব স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে বৈঠকে বসে। এ সময় আমদানিকারকরা জানান, দ্রুত জাহাজে করে বড় চালানে পেঁয়াজ আসবে। বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি জানান, এসব পেঁয়াজ এ সপ্তাহেই চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছবে। বন্দর পর্যন্ত দাম পড়বে কেজি প্রতি ৩২ টাকা। আর তা ভোক্তারা ৬০ থেকে ৭০ টাকায় কিনতে পারবে। যদিও ব্যবসায়ীরা তখন এসব পেঁয়াজের দাম আরো কম হওয়ার কথা জানান। এমন ইতিবাচক আশ্বাসের এক দিন পরই পেঁয়াজের বাজারে আবারও লাগামহীন অস্থিরতা দেখা দেয়। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পণ্যটির দাম ২৫০ টাকায় উঠে যাওয়ার খবর আসে।

কিন্তু সব প্রচেষ্টা আর আশ্বাসে পানি ঢেলে পেঁয়াজের কেজি আবারও ২৫০ টাকা। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ মুহূর্তে বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি করতে হবে। না হলে সুযোগ সন্ধানী ব্যবসায়ীরা সংকট থেকে মুনাফা করতেই থাকবেন। সরকারের নানা পদক্ষেপ ব্যর্থ করে দিয়ে সহজলভ্যতার বদলে এটি ক্রমেই যে আরো অধরা হয়ে পড়ছে। এফবিসিসিআইয়ের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মন্ত্রীদের বৈঠক, নানা আশ্বাসবাণী, শুল্ক গোয়েন্দায় শীর্ষস্থানীয় আমদানিকারকদের তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ, বিদেশ থেকে উড়োজাহাজে করে আনাসহ নানা পদক্ষেপের পরও চোখের পলকেই দাম বাড়ছে পণ্যটির।

গতকাল সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, দেশি পেঁয়াজের দাম আড়াই শ টাকা ছুঁয়েছে। গেল কয়েক দিন ধরে এই পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছিল ১৮০, ২০০ থেকে ২১০ টাকা। চীন, মিয়ানমার তুরস্ক, মিসর, পাকিস্তান থেকে যে পেঁয়াজ আসছে সেগুলো চাহিদার তুলনায় কম বলে বাজারে এর প্রভাব খুবই সামান্য।

ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ যেকোনো সময়ের তুলনায় কম। ভারত থেকে আনা পেঁয়াজের ঘাটতি অন্যদেশ থেকে আমদানি করে কিছুতেই পূরণ করা যাচ্ছে না। আগে শ্যামবাজার আড়তে প্রতিদিন ১০০ ট্রাক আসত, এখন আসছে ১৫ থেকে ২০ ট্রাক পেঁয়াজ। ফলে সরকারের শত চেষ্টার পরও বাজারে পেঁয়াজের দাম কমছে না। বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির দেওয়া আশ্বাস ১০ দিনের মধ্যে পেঁয়াজের দাম ৬০ থেকে ৭০ টাকায় নেমে আসবে—এটাই এখন শেষ ভরসা।

এদিকে প্রায় প্রতিদিনই উড়োজাহাজে করে বিদেশ থেকে পেঁয়াজের চালান আসছে। পরিমাণে কম হলেও সরকার আশা করেছিল এসব পেঁয়াজ আসায় বাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। দাম কমে আসবে। হয়েছে উল্টোটা। দাম তো কমছেই না, বরং বাড়ছে।

এদিকে পেঁয়াজের বাজারে কারসাজি করে বাড়তি মুনাফা তুলে নেওয়ার অভিযোগে দেশের শীর্ষস্থানীয় আমদানিকারকদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। গতকাল কাকরাইলে সংস্থার কার্যালয়ে প্রথম দিন মোট ৪৭ শীর্ষ আমদানিকারকের মধ্যে ১৩ জনকে তলব করা হয়। তাঁদের মধ্যে উপস্থিত হন ৯ জন। বাকিরা অসুস্থতার জন্য আসতে পারেননি। আর আজকে যাঁদের আসার কথা তাঁদের চারজনও গতকাল হাজির হয়েছেন। বাকিদের আজ শুল্ক গোয়েন্দায় হাজির হয়ে আমদানি ও মজুদদারির তথ্য দেওয়ার কথা রয়েছে।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. শহিদুল ইসলাম পরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করছি। তারই অংশ হিসেবে এনবিআরের নির্দেশে শীর্ষস্থানীয় আমদানিকারকদের ডেকেছি। আপাতত তাঁরা কার কার কাছে কী দামে পেঁয়াজ বিক্রি করেছেন, কতটুকু এখন মজুদ আছে ইত্যাদি জানার চেষ্টা করছি। এ জন্য এখনই কাউকে শাস্তি দেওয়ার বিষয় নেই। আজও অনেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’ সার্বিক পরিস্থিতি জানার পর কারসাজির প্রমাণ পেলে তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানে সুপারিশ করা হবে বলে জানান তিনি।সূত্র:কালের কণ্ঠ

Related posts