রোববার স্পেন যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

দেশের খবর: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী রোববার স্পেন সফরে যাচ্ছেন। স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনে অংশ নিতেই তার এ সফর। সম্মেলনে উন্নত এবং স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য প্যারিস চুক্তির মাধ্যমে জলবায়ু অর্থায়ন নীতি বাস্তবায়নে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানাবেন প্রধানমন্ত্রী।

বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে তিনি সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের মিয়ানমার সফরকে দেশের জন্য মঙ্গলজনক বলে মন্তব্য করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সম্মেলনে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে ওয়ারশ ইন্টারন্যাশনাল ম্যাকানিজম ম্যান্ডেটকে আরও শক্তিশালী করার মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে জলবায়ু সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানাবেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের বিরুদ্ধে গৃহীত পদক্ষেপে বাংলাদেশের সাফল্য ও অর্জন তুলে ধরবেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে জলবায়ু আলোচনার মধ্যস্থতায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বলতর হবে।

সম্মেলনে বাংলাদেশ বিশ্বনেতাদের অবহিত করবে যে, রোহিঙ্গাদের কারণে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কক্সবাজারের সমগ্র এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সেখানে একটি দুর্যোগের মতো অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনে যোগদানের পাশাপাশি ২ ডিসেম্বর স্পেনের প্রেসিডেন্ট পেড্রো সানহেজের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। বৈঠকে বাংলাদেশের বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তুলে ধরে এদেশের জ্বালানি, যোগাযোগ ও স্বাস্থ্য খাতে স্প্যানিশ বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হবে। বাংলাদেশের উন্নয়ন অংশীদার দেশগুলোর মধ্যে স্পেন একটি এবং বাংলাদেশি পণ্যের চতুর্থ আমদানিকারক দেশ। এ বৈঠকের ফলে দু’দেশের মধ্যকার সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী একই দিনে ডাচ প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুটের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় ইস্যু, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ নিয়ে দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩ ডিসেম্বর দেশে ফিরে আসবেন বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের মিয়ানমার সফর খুবই ইতিবাচক। এ সফরের মধ্য দিয়ে দেশের মঙ্গল হবে।

তিনি বলেন মিয়ানমার শত্রু নয়, আমাদের বন্ধু দেশ। এ কারণেই বাংলাদেশ আলোচনার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। বিভিন্ন কর্মপন্থা ও দূতিয়ালি করা হচ্ছে যেন রোহিঙ্গারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিজের দেশে ফেরত যায়। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে সেনাপ্রধানের মিয়ানমার সফরের মধ্য দিয়ে আরও একটি ‘লাইন অব নেগোসিয়েশন’ (আলোচনার পথ) চালু হবে। এ সফরকে অবশ্যই সাধুবাদ জানাই।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমার ডাঁহা মিথ্যা কথা বলছে। মিয়ানমার প্রস্তুত, আর বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের যেতে দিচ্ছে না- এটা শতভাগ মিথ্যা তথ্য। হিটলারের সময় জার্মানির নাৎসিরা মনে করত একটি মিথ্যা ১০০ বার বললে সেটি সত্যে পরিণত হয়। মিয়ানমারও সে ধরনের মনোভাব পোষণ করছে বলে মনে হচ্ছে।

Related posts