কালিগঞ্জে থামছে না সরকারি খাল দখলের মহোৎসব !


মোঃ আরাফাত আলী: কালিগঞ্জ উপজেলার ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের বাঁশঝাড়িয়া বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন গেল্লের খাল প্রশাসনের ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সহযোগিতায় কতিপয় ব্যাক্তি করছে খাল দখলের মহা উৎসব। গত ৪ ফ্রেরুয়ারি ডেইলি সাতক্ষীরা অনলাইন পত্রিকায় কালিগঞ্জে ৮০ হাজার টাকা করে সরকারি খালের পজিশন বিক্রি করছেন কাদের শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর নড়েচরে বসে প্রশাসন। দুই চার দিন দখলকারীরা কাজ বন্ধ রেখে বর্তমানে আবারও তৎপর দখলবাজরা।
তৎকালীন বিষয়টি সর্ম্পকে জানতে চাইলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুর আহম্মেদ মাছুম বলেন, খাল দখলকারীদের স্থাপনা সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে এছাড়া নতুন করে স্থাপনা বন্ধ রাখার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে পরবর্তীতে আইননুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কিন্তু দখলদাররা উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমির কথা অমান্য করে সেখানে বসতবাড়ি নির্মাণসহ ১ একর জমি দখল করে অবৈধ স্থপনা গড়ে তুলছে ধলবাড়ীয়া ইউনিয়নের বাজুয়াগড় গ্রামের মৃত মোনতেজ গাজীর ছেলে গোলাম গাজী, শুকচান গাজীর ছেলে গোলাম গাজী ও একই এলাকার উচ্ছেপাড়া গ্রামের মৃত সেফাত উল্ল্যাহ গাজীর ছেলে কাশেম গাজী। অবধৈভাবে খাল দখলকারী গোলাম গাজী, কাশেম গাজী ও গোলাম গাজী জানান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাদেরকে নোটিশ করে যেতে বলেন গত ৭ ফ্রেরুয়ারি তারা উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমির অফিসে হাজির হলে তিনি তাদেরকে খালে পানি সরবরাহের পথ রেখে কাজ চালিয়ে যেতে বলেছেন বলে জানান দখলকারীরা। এছাড়া যদি কোন ব্যাক্তি দখল সর্ম্পকে কোন তথ্য নিতে আসে তাহলে ধলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তথ্য গ্রাহীতাদের তার সাথে কথা বলার জন্য বলেছেন এমনটাই জানান তারা । উল্লেখ্য যে গত ১ মাস যাবৎ ড্রেজার দিয়ে খাল খনন করে মাটি তুলে দখল নিয়ে ৮০ হাজার টাকা করে পজিশন বিক্রি করেছেন কাটুনিয়া রাজবাড়ী ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত প্রভাষক আব্দুল কাদের। সরেজমিনে যেয়ে দেখা যায় উপজেলার ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের বাঁশঝাড়িয়া বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন গেল্লের খাল বাজুয়াগড় গ্রামের মৃত পঁচলা শেখের ছেলে আব্দুল কাদের তার বসত বাড়ীর সামনে অবস্থিত ড্রেজার দিয়ে খাল থেকে মাটি খনন করে ১ একর জমি দখল করে ৩ পরিবারের নিকট থেকে মোট ২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন বলে জানা যায়। বর্তমানে গেল্লের খালের উপর বসত বাড়ী গড়ে তুলেছে ধলবাড়ীয়া ইউনিয়নের বাজুয়াগড় গ্রামের গোলাম গাজী, গোলাম গাজী (২) ও একই এলাকার উচ্ছেপাড়া গ্রামের কাশেম গাজী।
স্থানীয় অনেকেই বলেন এই খাল দিয়ে বাঁশঝাড়ীয়া, নৈহাটী, হরিখালী, বাহাদুরপুর, বাজুয়াগড়, পিরোজপুর, মহেশ্বরপুর, গান্ধুলিয়া, উচ্ছেপাড়া ও বদরকাটী গ্রামের পানি সরবরাহের এক মাত্র মাধ্যম। তাছাড়া পানি সেচসহ এলাকার কৃষি মৎস্যচাষের জন্য প্রায় ১ হাজার চাষী এই খালের উপর নির্ভরশীল। খাল দখল করে বিক্রি করার কারণ জানার জন্য মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদেরের বাড়িতে না থাকায় তার দেখা মেলেনি তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য ধলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব গাজী শওকত হোসেনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন (০১৭৪৩৯১৬৫০৮) নাম্বারে একাধীক বার চেষ্টা করলেও নাম্বার বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। বিষয়টি সর্ম্পকে জানতে চাইলে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি নুর আহম্মেদ মাছুম বলেন দখলকারীদের কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিলাম এবং তাদেরকে বলে হয়েছে খালের জায়গা ছেড়ে দিয়ে কাজ করার জন্য বলা হয়েছে তারা না শুনলে পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে রেগুলার মামলা করা হবে। উপজেলা প্রশাসনকে অবগত করার পরও সরকারি খাল ভেকু দিয়ে মাটি ভরাট করে অবৈধ স্থপনা গড়ে ওঠায় দখল হতবাক হয়েছে এলাকাবাসী অতি দ্রুত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ দখলকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য জেলা প্রশাসকের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছে উপজেলার সর্বসাধারণ।

Related posts