পছন্দমতো চিকিৎসক পাবেন খালেদা জিয়া: হাইকোর্ট

রাজনীতির খবর: দুর্নীতির মামলায় কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নিজের পছন্দমতো চিকিৎসকদের দ্বারা নিজের চিকিৎসা করাতে পারবেন মর্মে নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার (৪ অক্টোবর) বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, বদরুদ্দোজা বাদল, এ কে এম এহসানানুর রহমান প্রমুখ।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

প্রসঙ্গত, গত ৯ সেপ্টেম্বর বিশেষায়িত হাসপাতালে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার নির্দেশনা চেয়ে উচ্চ আদালতে একটি রিট করা হয়। তবে রিটটির শুনানি বারেবারে পিছিয়ে যায়।
এদিকে ওই দিনই বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে দেখা করে কারাবন্দি খালেদা জিয়ার পছন্দ অনুযায়ী রাজধানীর কোনও বিশেষায়িত হাসপাতালে তার চিকিৎসা করানোর অনুরোধ জানায়। এরপরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় মেডিক্যাল বোর্ড গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এরপর ১৩ সেপ্টেম্বর পাঁচ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে বিএসএমএমইউ। ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল জলিল চৌধুরীকে বোর্ডের প্রধান করে গঠন করা বোর্ডের অন্য সদস্যরা হলেন, কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক হারিসুল হক, অর্থপেডিক সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু জাফর চৌধুরী বীরু, চক্ষু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. তারিক রেজা আলী ও ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বদরুন্নেসা আহমেদ।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে গঠিত এই মেডিক্যাল বোর্ডের চিকিৎসকরা ১৫ সেপ্টেম্বর বিকালে পুরনো ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরনো কারাগারের দোতলার কারাকক্ষে গিয়ে ২০ মিনিট ধরে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। পরদিন ১৬ সেপ্টেম্বর সেই পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিএসএমএমইউ। তবে এ বোর্ডের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিএনপি থেকে বারবার প্রশ্ন তোলা হয়।
বন্দি থাকা অবস্থায় তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য এর আগেও একবার মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছিল। সেসময়েও স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর মেডিক্যাল বোর্ড বলেছিল, খালেদা জিয়ার অবস্থা গুরুতর নয়। তখন চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শারীরিক পরীক্ষা করতে ৭ এপ্রিল খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল।
উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে এই বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পুরনো ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন খালেদা জিয়া।

বিস্তারিত আসছে….

Related posts