মুখে ঘা হওয়ার কারণ ও প্রতিকার


আমাদের মুখে অনেক সময়ই লাল ছোট ছোট গর্তের মত হয়ে যায়। সাধারণত মুখে ভেতরের অংশে বা জিহ্বায় ঘা হয় অথবা কারণে কেটে যায় তখন এ সমস্যা গুলো হয়। আবার শক্ত ব্রাশ দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করলেও এ সমস্যা দেখা দেয় অনেকেরই।

খুব গরম পানীয় পান করলে বা কিছু চিবাতে গিয়ে গালের ভেতরে কামড় লাগলেও এ ঘা হতে পারে। এতে করে খুব ব্যাথা ও জ্বালাপোড়া হয় ঐ স্থানে। আস্তে আস্তে ব্যাথা বেড়ে তীব্র হয়ে অংশটি সাদা রঙ ধারণ করে,পরে ৬-৭ দিনের মাঝেই সেরে যায়।

মুখের ঘা বিভিন্ন ধরনের হয়। যেমন: মাইনর এপটাস আলসার, মেজর এপটাস আলসার হারপেটিফরম এপটাস আলসার,মাইনর এপটাস আলসার ইত্যাদি।

আসুন জেনে নেই মুখে ঘা হওয়ার কারণসমূহ:

১। ভিটামিন ও আয়রনের স্বল্পতার কারণে। যেমন ভিটামিন বি৬, ভিটামিন বি১২ অথবা অন্য কোন ভিটামিন।

২। ঠাণ্ডা লাগলে মুখে ঘা হতে পারে।

৩। মুখের মাড়ি আঘাতগ্রস্ত হয়ে ও অনেক সময় এই ঘা হয়। জোরে জোরে দাঁত ব্রাশ করলেও এ ঘা হয়।

৪। ধূমপান, নেশা জাতীয় জিনিস, পান, মদ খেলেও মুখে ঘা হয়।

৫। যাদের এইডস, ডায়াবেটিস, ক্যান্সার এমন রোগ আছে তাদের এ ঘা হয়।

৬। রাতে ঘুম না হলে অথবা দেরি করে ঘুমালে, পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম না হলে অনেক বেশি দুশ্চিন্তা করলেও মুখে ঘা হতে পারে।

৭। বংশগত কারণেও মুখের ভিতর আলসার হয়।

৮। মুখে অ্যালার্জি থাকলে ও ঘা হতে পারে।

কিভাবে মুখের ঘা থেকে প্রতিকার সম্ভব:

১। রাস্তা-ঘাট কিংবা ঘরের বাইরের পানি না খাওয়া।

২। রাতে কমপক্ষে ৮ ঘন্টা ঘুমান।

৩। ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট নেওয়া।

৪। নরম ব্রাশ ব্যবহার করা যাতে চাপ বা ঘষা না লাগে।

৫। সাধারণত ৭ দিনের মধ্যে এই ঘা ভালো হয়ে যায়। আর যদি তা না হয় তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া। মাউথ ওয়াশ মুখের ব্যথা দূর করতে সাহায্য করে। এটিও ব্যবহার করা যেতে পারে।

৬। ঘরে বসে গরম পানিতে লবন অথবা বেকিং সোডা দিয়ে কুলি করলে আরাম পাবেন। তাছাড়া ১ চিমটি বেকিং সোডা আর একটু পানি নিয়ে মিশিয়ে ঘা এর উপর লাগিয়ে রাখতে পারেন। ঘা এর উপর পিয়াজ দিলে খুব তাড়াতাড়ি উপকার পাবেন, কিন্তু অনেক ব্যথা বাড়বে। ভিটামিন ই ক্যাপসুল ঘা এর উপর ভেঙ্গে দিন। অথবা টি ব্যাগ ঘা এর উপর রেখে দিন। এতেও দ্রুত নিরাময় হয় ঘা।

৭। মিল্ক অফ মেগ্নেসিয়া ঘা এর উপর দিলে অনেক ভালো হয়। এটি মুখের ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে।

৮। প্রতিদিন টক দই খান।

৯। মসলা যুক্ত খাবার পরিহার করুন।

Related posts