অনলাইন ডেস্ক : কানাডা পশ্চিম বিএনপির সাম্প্রতিক কিছু কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে প্রবাসী বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ছবি ও তথ্যকে কেন্দ্র করে সংগঠনের ভেতরে অস্বস্তি ও ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে বলে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, সম্প্রতি কানাডায় অবস্থানরত মাকসুদুল হক—যিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “ম্যাক হক” নামে রাজনৈতিক মন্তব্যের জন্য পরিচিত তাকে নিয়ে বিএনপির কানাডা পশ্চিম শাখার সভাপতি আব্দুল আহাদ খন্দকার, রনি চৌধুরীসহ কয়েকজন নেতার সঙ্গে তোলা ছবি প্রকাশিত হলে সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
বাংলা মেলার আয়োজনের প্রেক্ষাপটে এসব ছবি প্রকাশিত হলেও, অনেক সমর্থক বিষয়টিকে সংগঠনের ভাবমূর্তির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন।
প্রবাসী বিএনপির একাধিক সূত্র জানায়, মাকসুদুল হক সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের নির্বাচিত জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় মন্তব্য ও স্ট্যাটাস লিখে থাকেন, যা নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে গভীর ক্ষোভ বিরাজমান।
এই পটভূমিতে তাঁকে নিয়ে বিএনপির কিছু নেতার হাস্যোজ্জ্বল ছবি প্রকাশিত হওয়ায় সমর্থকরা আরও বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
তাঁদের মতে, দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যকারী ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা প্রদর্শন করা সংগঠনের আদর্শ ও শৃঙ্খলার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এদিকে, ক্ষুব্ধ সমর্থকরা ইতোমধ্যে স্থানীয় এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে তাঁদের উদ্বেগ জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, এর আগে কানাডা পশ্চিম বিএনপির আংশিক কমিটির সভাপতি আব্দুল আহাদ খন্দকারের বিরুদ্ধে প্রাদেশিক বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ অনাস্থা প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক জনাব আনোয়ার হোসেন খোকনের কাছে।
দলীয় সূত্র জানায়, ওই অনাস্থা প্রস্তাব এবং সাম্প্রতিক বিতর্কিত ঘটনাবলীর কারণে কেন্দ্রীয় বিএনপি পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। সম্প্রতি মেয়াদোত্তীর্ণ আংশিক কমিটির এই নেতাদের বিরুদ্ধে শীঘ্রই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানা গেছে।
প্রবাসী বিএনপির একাধিক নেতার মতে, এসব ঘটনায় সংগঠনের ভেতরে শৃঙ্খলা, সমন্বয় ও দায়িত্বশীল আচরণের প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়েছে।

