বিএম আলাউদ্দীন, আশাশুনি প্রতিনিধি:
আশাশুনিতে মো. মিজানুর রহমান নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে জমি দখল, জাল কাগজপত্র তৈরি করে ব্যাংক ঋণ গ্রহণ, হুমকি ও অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মো. আব্দুল হাই (৫২) নামে এক ব্যবসায়ী।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ৩টায় আশাশুনি প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন উপজেলার বুধহাটা গ্রামের মৃত মনিরুদ্দীন সরদারের ছেলে আব্দুল হাই।
লিখিত বক্তব্যে আব্দুল হাই বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বুধহাটা ইউনিয়নে সুনামের সঙ্গে অটো রাইস মিল ও চাতাল ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। পাশাপাশি গত ১০-১৫ বছর ধরে সরকারি কর পরিশোধের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের আশাশুনি শাখার খাদ্যগুদামে চাল সরবরাহ করে আসছেন। তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সহযোগিতা এবং দরিদ্র মানুষের পাশে থাকার দাবিও করেন।
আব্দুল হাই অভিযোগ করেন, তার সুনাম ক্ষুণ্ন করতে নওয়াপাড়া গ্রামের মৃত এমান আলী গাজীর ছেলে মো. মিজানুর রহমান গত ৭ অক্টোবর তার বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন’ সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
তিনি বলেন, বুধহাটা গ্রামের মৃত তোফাজ্জেল হোসেনের ছেলে মো. মোতাহার হোসেনের কাছ থেকে ৪০৬৮ নম্বর কবলা দলিলের মাধ্যমে তিনি জমি ক্রয় করেন। সংশ্লিষ্ট খারিজ খতিয়ান ২৩০৫ নম্বরের ২৭০৫, ২৭০৬ ও ২৭১০ দাগে জমির উল্লেখ রয়েছে। তার দাবি, ক্রয়কৃত জমির মধ্যে ৫.২৯ শতক জমি মিজানুর রহমান জোরপূর্বক দখল করে রেখেছেন।
আব্দুল হাই আরও অভিযোগ করেন, জমির দখল বুঝে নিতে চাইলে মিজানুর রহমান বিভিন্নভাবে তালবাহানা ও ষড়যন্ত্র করতে থাকেন। পরে দখল উদ্ধারের জন্য তিনি আদালতে ১৪৫ ধারায় মামলা করেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে পুলিশ নোটিশ জারি করে এবং ওই জমিতে পাকা স্থাপনা নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয় বলেও তিনি দাবি করেন।
তার অভিযোগ, আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মিজানুর রহমান রাতের আঁধারে লোকজন নিয়ে পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু করেন। এছাড়া জমির কাগজপত্র জাল করে ভুয়া নামজারি ও খাজনা দাখিলা তৈরি করে সোনালী ব্যাংকের বুধহাটা শাখা থেকে ৩০ লাখ টাকা ঋণ নেওয়ার অভিযোগও করেন আব্দুল হাই।
তিনি বলেন, তার ক্রয়কৃত জমিতে পাকা স্থাপনা নির্মাণে বাধা দিলে তাকে চাঁদাবাজির মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হয় এবং তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। ১৪৫ ধারার আদেশ অমান্যের অভিযোগে মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৮৮ ধারায় মামলা হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন তিনি।
এ ছাড়া অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য মো. ইউনুচ আলীর বসতভিটা ভাঙচুরের ঘটনায়ও মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বলে লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল হাই তার বিরুদ্ধে করা অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানিয়ে ক্রয়কৃত জমির দখল বুঝে পেতে এবং অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

