আশাশুনিতে পাওনা টাকা চাওয়ায় ইটভাটা শ্রমিককে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি

নিজস্ব প্রতিনিধি :
পাওনা টাকা চাওয়ায় ইটভাটা সর্দার কর্তৃক বিভিন্ন থানায় মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন, সাতক্ষীরার আশাশুনির মির্জাপুর গ্রামের রজব আলী সানার পুত্র ইটভাটা শ্রমিক শফিকুল ইসলাম।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি একজন অসহায় ইটভাটা শ্রমিক। মৌসুম চুক্তিতে বিভিন্ন ভাটায় শ্রমিকের কাজ করে অতিষ্ট কষ্টে জীবিকা নির্বাহ করি। গত ২০১৫ সালের শ্যামনগর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামে মহব্বত সরদার (ইটভাটা সরদার) এর সাথে শ্রমিকের কাজে যাওয়ার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। চুক্তিমোতাবেক সে মৌসুমে তার সাথে কাজ করি। কাজের মাঝে মধ্যে অল্প অল্প টাকা আমাকে দেয়। মৌসুম শেষে হিসাব করে ইটভাটা সর্দার মহব্বতের কাছে ৩০ হাজার টাকা পাওয়া হয়। আমি পাওনা টাকা দ্রুত পরিশোধ করতে বললে সে টাকা না দিয়ে বিভিন্ন অজুহাত দেখাতে থাকে।
তিনি আরো বলেন, ইতোমধ্যে সে আবার আমাকে তার সাথে ভাটায় যাওয়ার জন্য বলেন। তখন আমি বলি পূর্বের টাকা পরিশোধ করতে। এতে মহব্বত সরদার আমার প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে হয়রানি করার হীন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। এর জেরে ফরিদপুর, সাতক্ষীরা, ভোলা জেলা আদালতে মিথ্যা মামলায় আমার নাম জড়িয়ে দেয়। মামলার খবর পেয়ে ফরিদপুর ও ভোলায় গিয়ে ওই মামলার কোন বাদীকে খুজে পাওয়া যায়নি। এরপর সাতক্ষীরার মামলার বাদী কালিগঞ্জের মৃত আক্কাজ আলীর পুত্র আব্দুর রশিদের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, মহব্বত সরদার আমাকে দিয়ে মামলা করিয়েছে।
এবছরও মহব্বত নাকি আমার বিরুদ্ধে কৌশলে বিভিন্ন থানায় আরো মিথ্যা মামলা দায়ের করবে বলে বেড়াছে। মহব্বত কোন মামলার বাদী সে নিজে হয়নি। যদিও মামলাগুলোর মধ্যে ফরিদপুরের মামলা খারিজ হয়েছে। ভোলার মামলাও বাদীকেও খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। তারপরও আমি গরিব মানুষ দেশের বিভিন্ন আদালতে এভাবে হাজিরা দিতে গিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছি।
এব্যাপারে তিনি প্রতারক ইটভাটার সর্দার মহব্বতের ষড়যন্ত্রের হাত থেকে রক্ষা পেতে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Related posts