সৌদিতে বাংলাদেশি নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে কালিগঞ্জে মানববন্ধন

কালিগঞ্জ প্রতিনিধি : নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে একটি বাংলাদেশী নারী শ্রমিক মধ্য প্রচ্যের কোন দেশে পাঠানো যাবে না। আর যারা আছে তাদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে সোমবার সকাল ১০ টায় কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে একটি প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশটি আয়োজন করেন বিন্দু নারী উন্নয়ন সংগঠন, লির্ডাস, দুর্জয় নারী উন্নয়ন সংগঠন, যুব সংগঠন বিএসআইএফ।
সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন সংবাদিক সুকুমার দাস বাচ্চু, আনোয়ার হোসেন, আহমাদুল্লাহ বাচ্চু, যুবউন্নয়ন কর্মকর্তা কামরুল ইসলামসহ সকল স্তরের মানুষ। বক্তারা বলেন, সৌদি থেকে অর্থ আমাদের নারী শ্রমিকরা পাঠাচ্ছে তাদের টাকায় দেশের উন্নয়ন হচ্ছে তাহলে তারা কেন শতভাগ নিরাপত্তা পাবেনা। নিরাপত্তা না দিতে পারলে শ্রমিক পাঠানো বন্ধ করার দাবি জানান। আরো বলেন এদেশের একটি নারীর যৌন নির্যাতন সহ্য করা হবে না,তা দেশের ভিতর বা বাইরে। যতক্ষন না এই দাবী মানা হবে আমাদের সংগ্রাম চলবে।
সম্প্রতি সৌদি আরবে নারী শ্রমিক সুমীর কান্না জড়িত ভিডিও সোস্যাল মিডিয়াতে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে তার উপর পাশবিক নির্যাতনের বর্ননা দেন তারপর সর্বস্তরে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। গত কয়েক বছর ধরে সৌদি থেকে ফিরে আসানারীদের এবং অবস্থানরত নারীরা তাদের প্রতি নির্যাতনের কথা বলে আসছে। কিন্তু এটি বন্ধের জন্য এখনো সরকার বা দায়িত্বপ্রাপ্ত দপ্তর থেকে কোন ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। দেশকে উন্নত করতে দেশে নারীদের শত ভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিতকরা দায়িত্ব রাষ্ট্রের এমন কথাবলছেন সুশীল সমাজ। আর যদি তা না পারে তবে দেশের নারীদের সৌদি সহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশে প্রেরণ বন্ধ করা হোক এই দাবি সকলের।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে ২০০৮ পর বাংলাদেশ থেকে নারী শ্রমিক যাওয়া অনেকটাই বন্ধ হয়ে যায়। ২০০৯ সালে ৩৮৬ জন, ২০১০ সালে ৪৪ জন, ২০১১ সালে ১৬৬ জন, ২০১২ সালে ৪৮৪ জন, ২০১৩ সালে ১৬৭ জন ও২০১৪ সালে ১৩ জন নারী শ্রমিক সৌদি আরবে যান। ২০১৫ সালথেকে বাংলাদেশী নারী শ্রমিকদের জন্য সৌদি আরবের শ্রমবাজার আবার খুরে যায়। এই বছরই ২০ হাজার ৯৫২ জননারী সৌদি আরবে যান। ২০১৬ সালে আগের বছরের চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেড়ে ৬৮ হাজার ২৮৬ জন, ২০১৭ সালে ৮৩ হাজার ৩৫৪ জন নারী শ্রমিক সৌদি আরবে যান। চলতি বছরের শুরুরচার মাসে বাংলাদেশ থেকে ৩০ হাজার ১০২ জন নারী সৌদি আরবে গেছেন এই ধারাবাহিকতাঅব্যাহত থাকরে এই বছর বাকী আট মাসে আরো ৬০ হাজার নারী সৌদি যাবেন। সৌদিতে নারী শ্রমিকদের যাওয়ার হার যেমন বাড়ছে তেমনি নির্যাতনের পরিমাণ ও বাড়ছে। গত ২১ মে সৌদি থেকে ২১ জন নারী দেশে ফিরে ভয়ঙ্কার নির্যাতনের তথ্য জানিয়েছেন। এছাড়া বিবিসির একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বলছে কুয়েতে ইন্টার নেটে নারী গৃহকর্মীর দাস হিসেবে ব্যবসার তথ্য পাওয়া গেছে।যা এই শতকে একটা বর্বর দৃশ্য সকলে সামনে আসছে এবং বাংলাদেশী নারীদের নিয়ে শঙ্কা আরো বেড়ে যাচ্ছে।

Related posts