শ্রীরামপুরে ৩০ বছরের ভোগদখলীয় সম্পত্তি দখলের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার শ্রীরামপুরে ভূয়া দলিল সৃষ্টি করে ভাড়াটিয়া বাহিনী দিয়ে ৩০ বছরের ভোগদখলীয় সম্পত্তি দখলের জন্য হুমকিÑধামকি দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন, সদর উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের মৃত গোলাম বারি বিশ্বাসের ছেলে রুহুল কুদ্দুস।
তিনি তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, আমরা পৈত্রিক সূত্রে ৯৯৯ খতিয়ানে শ্রীরামপুর মৌজায় ৫২৯২ দাগে বসতবাড়ি, দোকানপাট নির্মাণ করে দীর্ঘ ৩০ বছর যাবত শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছিলাম। বিগত ২০০০ সালে একই মৌজায় আমরা বজলুর রহমানের কাছ থেকে ৫২৯১ দাগে ৯ শতক সম্পত্তি ক্রয় করি। এরপর গত ২০০৫ সালে ওই দাগ হতে ৮ শতক সম্পত্তি বজলুর রহমানকে আবার ফেরত দেই। ফেরত দেওয়ার সময় শুধুমাত্র জমির দাগ নাম্বারটি ভুলক্রমে ৫২৯১ এর স্থলে ৫২৯২ পড়ে যায়। পরবর্তীতে বিষয়টি অবগত হয়ে পুনরায় ওই সম্পত্তি আমরা ফেরত নেয়। এরই মধ্যে ভূয়া দলিল সৃষ্টি করে একই এলাকার মৃত তোফাজেল মোড়লের পুত্র কুচক্রী পরসম্পদ লোভী নেছারুল আল মামুন উক্ত সম্পত্তি বজলুর রহমানের কাছ থেকে হেবা দলিলের মাধ্যমে ক্রয় করেছেন মর্মে দাবি করেন। যা রক্তের সম্পর্কের ব্যক্তির মধ্যে ছাড়া হয় না। অথচ বজলুর রহমানের সাথে তার কোন রক্তের সম্পর্ক নেই। এ ঘটনায় আমি কোন উপায় না পেয়ে উচ্চ আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করি। এছাড়া উক্ত সম্পত্তির উপর ১৪৫ ধারায় মামলাও দায়ের করি। আদালত উক্ত সম্পত্তির উপর ১৪৫ ধারা জারি পূর্বক শান্তি-শৃংখলা বজায় রাখতে সদর থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন। উক্ত নির্দেশ পেয়ে সদর থানার এ.এস. আই(নিঃ) শামীম হোসেন উভয় পক্ষকে ১৪৫ ধারার বিষয়টি অবগত করেন। কিন্তু পরসম্পদ লোভী নেছারুল আল মামুন আদালতের সেই নির্দেশ অমান্য করে আমার দীর্ঘদিনের দখলীয় সম্পত্তি ও দোকানপাট, ঘরবাড়ি তার ভাড়াটিয়া বাহিনী দিয়ে ভাংচুর, বাড়িতে মাদক দ্রব্য, অবৈধ অস্ত্র রেখে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেবে এবং নাশকতা মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ধামকি প্রদর্শন করে যাচ্ছেন। সম্প্রতি আমাদের দোকানে তালাও লাগিয়ে দিয়েছেন। এছাড়া আমার ফুফাতো ভাই বজলুকে একটি কক্ষে তারা ৩ ঘন্টা আটকে রেখে তার কাছ জোর পূর্বক বিভিন্ন কথা রেকর্ড করে নেন। এমতাবস্থায় আমি আশংকা করছি উক্ত নেছারুল আল মামুন যে কোন সময় তার ভাড়াটিয়া বাহিনী দিয়ে আমার দীর্ঘ ৩০ বছর দখলীয় বাড়ি এবং দোকানপাট দখল করে নিতে পারে। তিনি আরো বলেন, উক্ত নেছারুল আল মামুন ভূয়া দলিল সৃষ্টি করে শুধু আমাদের সম্পত্তিই নয় এলাকার অনেক নিরিহ মানুষের সম্পত্তি কৌশলে দখল করে নিয়েছেন। প্রচুর টাকার মালিক ও প্রভাবশালী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস কেউ পায়না। অথচ এক সময় তার মাতা ভারত থেকে চোরাইপথে ফেন্সিডিল পাচার করে সংসার চালাতেন। ভাড়াটিয়া দোকানে দর্জির কাজ করা নেছারুল আল মামুন বর্তমানে অনেক সম্পত্তির মালিক। জনশ্রুতি আছে তিনি চোরাকারবারি ব্যবসার সাথে জড়িত এবং বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে অল্প জমি ক্রয় করে লিখে নেওয়ার সময় কৌশলে বেশি লিখে নেন। উক্ত পরসম্পদ লোভী কুচক্রী নেছারুল আল মামুনের ষড়যন্ত্রে আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছি। এমতাবস্থায় তিনি (রুহুল কুদ্দুস) উক্ত নেছারুল আল মামুনের কবল থেকে তার ৩০ বছর দখলীয় সম্পত্তি রক্ষা এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ সংশি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ সময় তার সাথে আরো উপস্থিত ছিলেন, তার স্ত্রী হালিমা খাতুন ও ফুফাতো ভাই বজলুর রহমান।

Related posts