গোলাপি বলের টেস্টে বাংলাদেশের লজ্জ্বাজনক পরাজয়

খেলার খবর: কলকাতায় ভারতের বিপক্ষে ঐতিহাসিক দিবা-রাত্রির টেস্টেও ইনিংসে হেরেছে বাংলাদেশ। সফরকারীরা দ্বিতীয় ইনিংসে থেমেছে ১৯৫ রানে। তাতে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট এক ইনিংস ও ৪৬ রানে জিতেছে ভারত। দুই টেস্টই ইনিংস ও তিন দিনের ব্যবধানে জিতেছে স্বাগতিকরা।

লাল বল বা গোলাপি; কোনো বলেই ব্যাটসম্যানরা ধৈর্য্যের পরীক্ষা দিতে পারেননি। প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর ভারত প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেছিল ৯ উইকেটে ৩৪৭ রানে। অথচ দ্বিতীয় ইনিংসে সেই রানও পূরণ করতে পারেনি বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দিন শেষ বলে বিদায় নেন তাইজুল। মাহমুদউল্লাহ রিটায়ার্ড হার্ট হওয়ায় তৃতীয় দিনও মাঠে নামতে পারেননি।
মুশফিকের সঙ্গী হয়ে মাঠে নেমেছিলেন পেসার এবাদত। তাকে দিনের তৃতীয় ওভারে বিদায় দিয়েছেন উমেশ যাদব। ডান কাঁধ বরাবর ছোঁড়া বাউন্সার ঠিকমতো সামলাতে পারেননি এবাদত। ব্যাটের হ্যান্ডেলে লেগে জমা পড়ে তৃতীয় স্লিপে দাঁড়ানো কোহলির হাতে।

মুশফিকুর রহিম অবশ্য অপরপ্রান্ত আগলে খেলেছেন বেশ কিছুটা সময়। কিছুক্ষণ খেলার পর মনোযোগের ব্যাঘাত ঘটেছে তারও। স্পিনার রবীন্দ্র জাদেজাকে পেয়ে বেশ কিছু বাউন্ডারি মারেন রানের চাকা সচল রাখতে। এই বাউন্ডারি মারার তাড়াতেই করে বসেন ভুল। উমেশ যাদবের স্লো বলে দ্রুত ব্যাট চালিয়ে ফেলেন। কভারে জাদেজা তার ক্যাচ তুলে নিয়ে মূল প্রতিরোধ ভেঙে দেন যাদব। মুশফিক ফেরেন সর্বোচ্চ ৭৪ রানে।
মুশফিকের বিদায়ে দুই দলের প্রথম গোলাপি বলের টেস্টে প্রতিপক্ষকে আবার ব্যাটিংয়ে পাঠানোর সুযোগটাও হয়ে যায় হাতছাড়া। আগের দিন খুঁড়িয়ে মাঠ ছাড়া মাহমুদউল্লাহ আজকে আর ব্যাটিংয়ে নামতে পারেননি। তার বদলে শেষ উইকেট হিসেবে নামেন আবু জায়েদ রাহী। তার নামার পর লেজ ছেঁটে দিতে খুব বেশি সময় লাগেনি ভারতের। উমেশ যাদব বিদায় দেন আল আমিনকে। তাকে ফেরানোর সঙ্গে সঙ্গে প্রথম সেশন শেষ হওয়ার আগেই দ্বিতীয় ইনিংসে ১৯৫ রানে থামে বাংলাদেশ। প্রথম দিবা-রাত্রির টেস্ট জিতে এ নিয়ে টানা ৭টি টেস্ট জয়ের কীর্তি গড়লো স্বাগতিকরা।
৫৩ রানে সর্বোচ্চ ৫ উইকেট নিয়েছেন উমেশ। ৫৬ রানে ৪টি উইকেট ইশান্ত শর্মার। এই প্রথম ভারতের কোনো টেস্ট জয়ে সবগুলো উইকেট নিলো পেসাররা। ম্যাচ ও সিরিজ সেরার পুরস্কার নিয়েছেন ইশান্ত শর্মা।

Related posts