মামুনুর রশিদ সুমন :
জাপান সরকারের অর্থায়নে বিশ্বখাদ্য কর্মসূচি (WFP)-এর প্রকল্পের আওতায় সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসছে। WFP-এর কারিগরি ও সার্বিক সহযোগীতায় এবং সুশীলন কর্তৃক বাস্তবায়ীত উপজেলার দুর্যোগপ্রবণ প্রতাপনগর ইউনিয়নে গুরুত্বপূর্ণ সড়কের উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে।
এর মধ্যে এপিএস কলেজ থেকে কল্যাণপুর খেয়াঘাট পর্যন্ত ২০২২ মিটার দৈর্ঘ্যের ওয়াবদা সড়ক নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ১ কোটি ৯ লক্ষ ৩৩ হাজার ৫ শত ৮৮ টাকা। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়ক টি প্রায় ৯৫ শতাংশ উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করেছে।
এপিএস কলেজ থেকে কল্যাণপুর খেয়াঘাট পর্যন্ত সড়কটির উন্নয়ন কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেছেন সাতক্ষীরা জেলার মাননীয় জেলা প্রশাসক মিজ্ আফরোজা আখতার ও আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইদুজ্জামান হিমু। উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হলে উপজেলা ও জেলার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী উপজেলার হাটবাজার, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ ও মন্দিরে যাতায়াত এবং নদী পারাপার সহজ হবে। একই সঙ্গে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হওয়া ও মানুষের জীবনমান উন্নত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
প্রতাপনগর ইউনিয়নের এক পাশে খোলপেটুয়া নদী এবং অন্য পাশে কপোতাক্ষ নদী সংলগ্ন হওয়ায় প্রতিবছর বিভিন্ন দুর্যোগে ইউনিয়নটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আধুনিক জনজীবনের দিক থেকে এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে এই ইউনিয়ন। এখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক হওয়ায় মানুষের জীবনমানের তেমন উন্নতি হয়নি। অধিকাংশ সড়ক চলাচলের অনুপযোগী থাকায় যাতায়াতে চরম ভোগান্তির শিকার হন স্থানীয় বাসিন্দারা। জেলার দুর্যোগঝুঁকিপূর্ণ ইউনিয়নগুলোর মধ্যে প্রতাপনগর অন্যতম।
জাপান সরকারের অর্থায়নে, বিশ্বখাদ্য কর্মসূচি (WFP)-এর কারিগরি ও সার্বিক সহযোগীতায় এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সুশীলন এর বাস্তবায়নে পরিচালিত “দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস (ডিআরআর) প্রকল্প”-এর আওতায় ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
এদিকে উন্নয়ন কাজের শেষ পর্যায়ের অগ্রগতি পরিদর্শন করতে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ্ আফরোজা আখতার ও আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইদুজ্জামান হিমু সরকারি কর্মকর্তা ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিয়ে সোমবার (২৭ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুরে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করেন।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন সুশীলন এর উপ-পরিচালক জি এম মনিরুজ্জামান, প্রকল্প সমন্বয়কারী মো: ইমরান হোসেন, মিল কো-অর্ডিনেটর খালিদ মাহমুদ উপজেলা কো- অডিনেটর নিখিল রঞ্জন, স্থানীয় উপকার ভোগী সহ পিইসি কমিটির সদস্যরা।

