দেবহাটা প্রতিনিধি:
বসন্তের বাতাস ছাপিয়ে এখন দেবহাটা উপজেলার অলিতে-গলিতে শোনা যাচ্ছে সেলাই মেশিনের খটখট শব্দ। দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর, আর সেই উৎসবের আনন্দকে কাপড়ের ভাঁজে রূপ দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় দর্জিরা।
ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে উপজেলার বিভিন্ন দর্জিপাড়া ও টেইলার্স দোকানগুলোতে বেড়েছে কাজের চাপ। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে পোশাক তৈরির ব্যস্ততা। কেউ কাপড় কাটছেন, কেউ সেলাই করছেন, আবার কেউ পোশাকের শেষ মুহূর্তের ফিনিশিংয়ে ব্যস্ত।
ঈদগাহ বাজারের দর্জি আবুল বাশার, আনোয়ার হোসেনসহ অনেকেই জানান, ঈদকে সামনে রেখে পাঞ্জাবি, থ্রি-পিস, শার্ট, ফ্রকসহ নানা ধরনের পোশাক তৈরির অর্ডার বেড়েছে কয়েকগুণ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্ডার সরবরাহ করতে অনেকেই রাত জেগে কাজ করছেন।
দেবহাটার আবুল বাশার দর্জি বলেন, “ঈদের আগে কাজের চাপ অনেক বেশি থাকে। এখন প্রতিদিনই গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে, যাতে ক্রেতারা সময়মতো তাদের পোশাক পেয়ে যান।”
অন্যদিকে ক্রেতারাও পছন্দের ডিজাইন নিয়ে ভিড় করছেন দর্জি দোকানগুলোতে। অনেকেই আগেভাগেই অর্ডার দিয়ে রাখছেন, যাতে ঈদের আগে নতুন পোশাক হাতে পাওয়া যায়।
সব মিলিয়ে ঈদকে ঘিরে দেবহাটা উপজেলার দর্জিপাড়াগুলোতে এখন চলছে কর্মচাঞ্চল্য। সেলাই মেশিনের ছন্দ আর ব্যস্ততায় মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। বাজারে যেমন তৈরি পোশাকের ভিড়, তেমনি ফিটিং আর নিজস্ব পছন্দের তাগিদে দর্জিবাড়িতেও উপচে পড়া ভিড়। তবে উৎসবের এই জোয়ারে খানিকটা ভাটা ফেলছে বাড়তি মজুরি। থ্রি-পিস ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, শার্ট ২০০ থেকে ৩০০ টাকা এবং প্যান্ট ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা।
কেনাকাটা করতে আসা সাধারণ ক্রেতাদের কণ্ঠে ফুটে উঠছে টানাপোড়েনের সুর। এক ক্রেতা আক্ষেপ করে বললেন, “পোশাকের দাম আর মজুরি দুটোই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে, কিন্তু আমাদের আয় তো সেই আগের জায়গাতেই থমকে আছে।” তবুও উৎসব বলে কথা! সাধ্য আর সাধের এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয় হচ্ছে নতুন পোশাকের

