নিজস্ব প্রতিনিধি : আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থাতেই সাতক্ষীরায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জমি দখল করে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত পক্ষ জমিটি নিজেদের দাবি করলেও সড়ক বিভাগ স্পষ্ট জানিয়েছে—জমিটি মহাসড়কের। সরকারি খাস খতিয়ানের এই জমি কীভাবে ব্যক্তিনামে রেকর্ড ও মিউটেশন হলো, তা নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
১৮ জুলাই (শনিবার) সকালে মাগুরাগোপিনাথপুর মৌজায় বিজিবি ক্যাম্পের সামনের ওই জমিতে ভাড়াটে লোকজন নিয়ে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া শুরু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উভয় পক্ষকে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, পুলিশ চলে যাওয়ার পরপরই অভিযুক্ত মোসফেকউস সালেহীন ও তাঁর লোকজন পুনরায় পুরো জমিটি ঘিরে ফেলেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাগুরাগোপিনাথপুর মৌজায় বিজিবি ক্যাম্পের সামনে ১ নং খাস খতিয়ানের বিএস ১৪১০ দাগে ৭ শতকসহ মোট ৬৩ শতক সম্পত্তি সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাভুক্ত। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি কলেজ রোড এলাকার মৃত সুলতানুল ইসলামের পুত্র মোসফেকউস সালেহীন গং জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে সরকারি এই সম্পত্তি নিজেদের নামে রেকর্ড করিয়ে নেন। পরবর্তীতে ওই বিতর্কিত রেকর্ডের ওপর ভিত্তি করে সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) বদরুজ্জামান কোনো প্রকার সঠিক যাচাই-বাছাই ছাড়াই নামজারি (মিউটেশন) মঞ্জুর করেন। বেআইনিভাবে এই সম্পত্তি ব্যক্তিনামে রেকর্ড ও মিউটেশন হওয়ায় একদিকে যেমন সরকারের বিপুল টাকার সম্পত্তি হাতছাড়া হয়েছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের চলাচলেও প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে।
অভিযুক্ত পক্ষের দাবি, তাঁরা ১৩৩৪ নম্বর দলিলের বুনিয়াদে জমিটির মিউটেশন সম্পন্ন করেছেন। তবে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন তথ্য। নথিপত্র অনুযায়ী, অভিযুক্তদের দাবিকৃত ১৩৩৪ নম্বর দলিলটি ২০২৩ সালে সম্পাদিত হয়, যার গ্রহীতা লাবসা ইউনিয়নের কামরুন নাহার এবং দাতা আখড়াখোলার তবিবুর রহমান। ওই দলিলের মূল দাগ ও খতিয়ান নম্বরের সাথে অভিযুক্তদের দাবিকৃত জমির দাগ-খতিয়ানের কোনো মিল বা দূরতম সম্পর্ক নেই।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার পারভেজ জানান, বিতর্কিত এই জমিটি মূলত খুলনা-চুকনগর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের অংশ। জমিটি সড়ক বিভাগের মালিকানাধীন নিশ্চিত করে তিনি বলেন, “এল এ ৫৪/৫৫ নম্বর কেস মূলে অধিগ্রহণ সূত্রে এবং সড়ক ও জনপদের নকশা অনুযায়ী হাল জরিপে ১৪১০ দাগটি খাস ভুক্ত। ফলে মোসফেকউস সালেহীন গং-এর পক্ষে হওয়া নামজারি খতিয়ানটি (নম্বর: ২০২৬-১-০০০-৩৩) বাতিল করে জেলা প্রশাসকের ১নং খাস খতিয়ান হতে সড়ক ও জনপদের পক্ষে রেকর্ড সংশোধন করার জন্য ইতোমধ্যে লিখিতভাবে আদেশ ও অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আদালতের বিচারাধীন বিষয় এবং সড়ক বিভাগের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এই প্রকাশ্য জমি দখলের ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি সম্পদ রক্ষার্থে জেলা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

