দেবহাটা প্রতিনিধি : দেবহাটায় শিশুশ্রমমুক্ত ও শিক্ষা থেকে পিছিয়ে পড়ামুক্ত ইউনিয়ন ঘোষণা ও উদযাপন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (২৩ আগস্ট) সকাল ১১টায় উপজেলার পারুলিয়া সীমান্ত ট্রেড স্কুল চত্বরে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের অর্থায়নে এবং সুশীলন দেবহাটা এরিয়া প্রোগ্রামের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পারুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক বাবু। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেবহাটা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাসরিন জাহান।
সুশীলনের সিভিও কমিটির সভাপতি ও সাংবাদিক লিটন ঘোষ বাপীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেবহাটা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার মিজানুর রহমান, দেবহাটা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি আর.কে. বাপ্পা, দেবহাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি মীর খায়রুল আলম, ইছামতি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আহসানুছ সালেহীন, রিপোর্টার্স ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক কে.এম. রেজাউল করিম, পারুলিয়া ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য নুর বানু কাদেরী, হাছিনা খাতুন ও রেহেনা পারভিন।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সুশীলনের কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অফিসার আসাদুজ্জামান রিপন, সুফলভোগী আল আমিন হোসেন ও পিংকি রানী মুক্তাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিশুশ্রম থেকে ফিরে আসা শিশুদের অভিভাবক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, পারুলিয়া ইউনিয়নে মোট ৩৬ জন শিশু শিশুশ্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। তাদের মধ্যে মোটিভেশন, সহযোগিতা ও বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে ৩০ জন শিশুকে পুনরায় পড়াশোনায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। বাকি ৬ জন শিশুকেও শিক্ষার মূলধারায় ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
অনুষ্ঠানে শিশুশ্রমের ক্ষতিকর দিক, শিশুদের শিক্ষার অধিকার এবং তাদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়।
পরে অনুষ্ঠানের সভাপতি পারুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক বাবু পারুলিয়া ইউনিয়নকে শিশুশ্রমমুক্ত ও শিক্ষা থেকে পিছিয়ে পড়ামুক্ত ইউনিয়ন হিসেবে ঘোষণা করেন।
এ সময় বক্তারা বলেন, শিশুশ্রম বন্ধ করে প্রতিটি শিশুকে বিদ্যালয়মুখী করা গেলে একটি শিক্ষিত, দক্ষ ও সুন্দর সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। এ উদ্যোগ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ঝরে পড়া শিশুদের শিক্ষার মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠান শেষে শিশুশ্রমমুক্ত হওয়া শিশু ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আয়োজক ও অতিথিরা মতবিনিময় করেন।

