নিজস্ব প্রতিনিধি : পরিবেশগত মানবাধিকার লংঘনের ফলে স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও জীব বৈচিত্রের উপর এর প্রভাব, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলা এবং পরিবেশগত মানবাধিকার সুরক্ষায় স্থানীয় সাংবাদিকদের ভূমিকা জোরদার করার লক্ষ্যে সাতক্ষীরায় দুই দিনব্যাপী পরিবেশবাদী সাংবাদিক প্রশিণের উদ্বোধন করা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে ও নেটজ বাংলাদেশের সহায়তায় এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বারসিক এর উদ্যোগে সোমবার সকালে শহরের ম্যানগ্রোভ সভা ঘরে এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।
উদ্বোধনী সেশনে প্রশিক্ষণের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও কার্যসুচি তুলে ধরেন প্রোজেক্ট কোঅর্ডিনেটর কুমারেশ চন্দ্র বাউলিয়া। পরিবেশগত ক্ষতি এবং উন্নয়ন মূলক কর্মকা-ের ফলে উদ্ভূত পরিবেশগত মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলো দায়িত্বশীল ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে গণমাধ্যমে তুলে ধরাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
দিনব্যাপী বিভিন্ন সেশনে প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বরসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী শাহিন ইসলাম, টেনিক্যাল অফিসার সুপর্ণা মিত্র, নেটস প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোঃ মনিরুজ্জান, এরিয়া অফিসার রোকসানা পারভিন, ফিল্ড ফ্যসিলিটেট রাসেদুল হাসান প্রমুখ। এসময় সেখানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, দৈনিক দক্ষিণের মশালের সম্পাদক আশেক-ই-এলাহি, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাশেম, সাধারন সম্পাদক আসাদুজ্জামান, যুগ্নসাধারন সম্পাদক এম বেলাল হোসাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক এম শাহীন গোলদারসহ অন্যান্যরা।
কর্মশালার প্রথমদিনে আশাশুনি থেকে ৫ জন, শ্যামনগর থেকে ৫ জন এবং সাতক্ষীরা সদরের ১৪ জনসহ মোট ২৪ জন স্থানীয় সাংবাদিক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালায় পরিবেশগত মানবাধিকারের ধারণা, মানবাধিকার লঙ্ঘন, এবং জলবায়ুপরিবর্তন ও অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে স্থানীয় প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও জীববৈচিত্রের ওপর সৃষ্ট প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। প্রশিক্ষণে অংশ নিয়ে সাংবাদিকরা স্থানীয় প্রেক্ষাপটে পরিবেশগত মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণ সমূহ চিহ্নিত করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে নিজস্ব মতামত ও প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।
আয়োজক সংস্থার প্রতিনিধিরা জানান, প্রশিক্ষণ শেষে সাংবাদিকরা তাঁদের অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে উপকূলীয় অঞ্চলের জলবায়ু সংকট, স্থানীয় পরিবেশীয় সমস্যা, সিএসও ও স্টুডেন্ট ফোরামের ইতিবাচক পরিবেশীয় উদ্যোগ এবং অভিযোজন কৌশল নিয়ে গভীর ও প্রভাব বিস্তারকারী সংবাদ প্রকাশে সমর্থ হবেন, যা নীতি নির্ধারকদের নীতি নির্ধারণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
আগামীকাল প্রশিক্ষণের দ্বিতীয় দিনে বাস্তব ভিত্তিক বিষয় নির্বাচন, প্রতিবেদন প্রস্তুত করণের কৌশল, ডিজিটাল নৈতিকতা এবং ব্যক্তিগত ও পেশাগত কর্মপরিকল্পনা তৈরির মাধ্যমে দুই দিনব্যাপী এই আয়োজন শেষ হবে।###

