তবে দীর্ঘদিনের এই কষ্টের চিত্রে এখন আশার আলো ফুটতে শুরু করেছে। বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান আবুল খায়ের গ্রুপ-এর অর্থায়নে গ্রাম দুটিতে বসানো হয়েছে দুটি আধুনিক রিভার্স অসমোসিস আরও পানি শোধনাগার। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে চালু হওয়া প্ল্যান্ট দুটির একটি খাগড়াঘাটের নূরউদ্দীনের বাড়ির সামনে এবং অন্যটি কৈখালির আলাউদ্দিন মল্লিকের বাড়ির সামনে স্থাপন করা হয়।
খাগড়াঘাটের গৃহবধূ রহিমা বেগম (৪৫) আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “এখন কল টিপলেই মিষ্টি পানি বের হয়। এই প্রযুক্তি আমাদের জীবন বাঁচিয়ে দিল। আগে শুধু বর্ষার কয়েক মাস বৃষ্টির পানি খেতে পারতাম, বাকি সময় বাধ্য হয়ে লোনা পানি পান করে ছেলেমেয়েদের পেটের রোগ লেগে থাকত।”
খাগড়াঘাট: পানির টিডিএস ৪,০৮১ মিলিগ্রাম থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৯২ মিলিগ্রামে।
পানির অপচয় রোধে নেওয়া হয়েছে স্মার্ট ব্যবস্থাপনা। প্রতিটি গ্রাহককে দেওয়া হয়েছে ডিজিটাল কার্ড। ঢাকার স্মার্ট ওয়াসা ব্যবস্থার মতো কলের সামনে কার্ড ধরলে পানি পড়ে, সরালেই বন্ধ হয়ে যায়। দরিদ্র মানুষের সুবিধার জন্য এটি সম্পূর্ণ ক্যাশলেস করা হয়েছে। প্রতি লিটার পানির ব্যবস্থাপনা খরচ ধরা হয়েছে নামমাত্র ৫০ পয়সা, যা স্থানীয় বাজারের (৮০ পয়সা/লিটার) চেয়ে অনেক সাশ্রয়ী।
এ প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় তরুণদের কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হওয়ার পথ সুগম হয়েছে। শ্যামনগরের তরুণদের সামাজিক সংগঠন ‘শরুব ইয়ুথ ক্লাব’-এর সদস্যরা এ শোধনাগার দুটি পরিচালনা ও বিতরণ ব্যবস্থা দেখাশোনা করছেন, যা স্থানীয় বেকারত্ব দূর করতে ভূমিকা রাখছে।

