আজ দেবহাটা পাক হানাদারমুক্ত দিবস

কেএম রেজাউল করিম/আরাফাত হোসেন লিটন : আজ ৬ই ডিসেম্বর সাতক্ষীরার দেবহাটা হানাদারমুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে সম্পূর্র্ণরূপে পাক হানাদার মুক্ত হয় গোটা দেবহাটা। দীর্ঘ দিনের যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের তীব্র প্রতিরোধের মুখে অবশেষে এই দিনেই দেবহাটা ছেড়ে পিছু হটে যায় পাক সেনারা।
বিশ্ব মানচিত্রে তখনও লালসবুজের পতাকা খচিত স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটেনি কিন্তু সাতক্ষীরার বীর জনতা, মুক্তিপাগল বীর মুক্তিযোদ্ধারা বর্বর পাক হানাদার বাহিনীর সদস্যদেরকে সাতক্ষীরার পবিত্র মাটি হতে বিতাড়িত করে বিজয় উল্লাসে মেতে ওঠে। সাতক্ষীরার বিভিন্ন মফস্বল এলাকাগুলো হতে একে একে পাক হানাদার বাহিনীর সদস্যরা বিতাড়িত হতে থাকে। মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ের কারনে অত্যাচারী পাক বাহিনী শ্যামনগর, কালিগঞ্জ, আশাশুনী এবং দেবহাটা হতে বিতাড়িত হতে থাকে। ধীরে ধীরে পরাজিত হয়ে, জীবন হানী, অস্ত্র হারিয়ে জেলাশহরে পৌছাতে থাকে। বঙ্গবন্ধুর ডাকে পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে সেদিন সাতক্ষীরার শত সহ¯্র মুক্তিযোদ্ধা দেশ স্বাধীন করার দৃপ্ত সপথে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। পাক বাহিনী আস্তে আস্তে পালিয়ে যাওয়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও বিজয় উল্লাসে মেতে ওঠে।
স্বাধীনতা সংগ্রামের তৎকালীন ৯নং সেক্টরের সাব সেক্টর কমান্ডার প্রয়াত ক্যাপ্টেন শাহাজান মাষ্টারের নের্তৃত্বে সম্মূখ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো দেবহাটার মুক্তিকামী মানুষ। একের পর এক যুদ্ধে পরাস্থ হয়ে সেদিন দেবহাটা ছাড়তে বাধ্য হয় পাক বাহিনী ও তাদের দোষররা। সাতক্ষীরা কোর্ট চত্বরের ট্রেজারীর ৪শত রাইফেল লুট করে তৎকালীন সময়ে আব্দুল গফুর, এম এল এ আয়ুব হোসেন ও ক্যাপ্টেন শাহাজান মাষ্টার জীবন বাজি রেখে পরবর্তীতে ৯ নং সেক্টর গঠন করে। একাত্তরের নভেম্বর মাসের শেষ ও ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের প্রতিটি দিন অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে ক্রমেই পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা পিছু হটতে থাকে। যাওয়ার সময় তারা মানুষের ঘরবাড়িতে আগুন ধরিয়ে এবং পারুলিয়া, কুলিয়া, বিনেরপোতা ব্রীজ গ্রেনেড দিয়ে উড়িয়ে দিয়ে যায়। পাক হানাদার বাহিনী দেবহাটার মাটি ছেড়ে যাওয়ার সময় মাটিতে পুতে রাখা এপি মাইন অপসারনকালে দেবহাটার কোঁড়া গ্রামের অব্দুল ওহাবের দেহটি মাইনের বিষ্ফরনে ছিন্ন বিছিন্ন হয়ে যায়। সেদিন এই বীর শহিদের ছিন্ন দেহটির প্রতি মাষ্টার শাহাজানের নেতৃত্বাধীন সকল মুক্তিযোদ্ধারা তাদের হাতিয়ার উচিয়ে শেষ সম্মান জানিয়েছিল। অবশেষে তার দেহটি ভারতের টাকী সাজারু বাগানে সমাহিত করা হয়। সর্বশেষে পাক সেনাদের সুরক্ষিত পুষ্পকাটি ইটের ভাটা ঘাঁটি পতনের জয়লাভের মধ্য দিয়ে ৬ই ডিসেম্বর সমগ্র দেবহাটা থানা এলাকা স্বাধীন হয়ে সম্পূর্ণ হানাদার মুক্ত হয়। তখন মুক্তিযোদ্ধা জনতা উল্লাসে ফেটে পড়ে। মূহুর্মুহু জয় বাংলা শ্লোগানে তাৎক্ষণিকভাবে বিজয়ের উল্লাস ছড়িয়ে পড়ে গোটা দেবহাটা জুড়ে।

Related posts