অনলাইন ডেস্ক : দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে একটি হালকা ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। সাতক্ষীরার কলারোয়া মঙ্গলবার ভোর ৪টা ৩৬ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডে ৪.১ মাত্রার এই ভূকম্পনটি ঘটে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
বহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ভূমিকম্পের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪.১, যা হালকা ভূমিকম্প হিসেবে শ্রেণিভুক্ত।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ঢাকায় অবস্থিত ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র থেকে উৎপত্তিস্থলের দূরত্ব প্রায় ১৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউরোপিয়ান মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজি সেন্টার (ইএমএসসি) জানায়, ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল সাতক্ষীরা জেলা শহর থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে।
ভোরের দিকে ভূমিকম্প হওয়ায় অনেক মানুষ ঘুমন্ত অবস্থায় থাকলেও কিছু এলাকায় হালকা কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে ভূমিকম্পটি স্বল্প সময় স্থায়ী হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বড় ধরনের আতঙ্ক দেখা যায়নি।
বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের মধ্যে অবস্থান করায় এ ধরনের হালকা ভূমিকম্প মাঝেমধ্যেই অনুভূত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
গত কয়েক মাসে দেশে একাধিক হালকা ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও খুলনা অঞ্চলে বিভিন্ন সময় ভূকম্পন টের পাওয়া গেছে। এসব ভূমিকম্পের অধিকাংশের উৎপত্তিস্থল ছিল দেশের ভেতরে অথবা পার্শ্ববর্তী ভারত ও মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায়।
এর মধ্যে গত ২১ নভেম্বর নরসিংদীর মাধবদীতে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে ঢাকাসহ আশেপাশের জেলাগুলো। ভয়াবহ এই ভূমিকম্পে ঢাকাসহ সারা দেশে দুই শিশুসহ ১১ জন প্রাণ হারান। আহত হন কয়েকশ মানুষ।

