প্রেস বিজ্ঞপ্তি : আশাশুনিতে বিএনপির সাবেক আহবায়কের নেতৃত্বে সরকারি ইজারাকৃত জলমহল অবৈধভাবে দখলের অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগীরা।
মঙ্গলবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ আশাশুনি উপজেলার মৃত করিম শেখের পুত্র নজির উদ্দিন শেখ।
লিখিত অভিযোগে তিনি বলেন, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে আশাশুনি নাটানা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিঃ যার রেজিঃ নং ১৫ এর সভাপতি সঞ্জয় কুমার মন্ডল এর নামে আশাশুনি উপজেলা কোদন্ডা মৌজার হাড়িয়া নদী জলমহাল ১নং খতিয়ানের ৩২৪ ,৩২৬,৩২৮,৪১১,৪১৯,৫৬৫,৫৬৭ দাগের ৩৫ বিঘা ও একই মৌজার সলুয়া নদীর বাংলাদেশ সরকারের ১ নং খতিয়ানের ৬৭২,২১২২,২২২,২২৬ দাগের ৩২ বিঘা জলমহালটি ইজারা দেয়। পরবর্তীতে আশাশুনি সহকারী কমিশনার ভূমি ,রাশেদ হোসাইন ও উপজেলা জলমহল ব্যবস্থাপনা কমিটি সদস্য সচিব কয়েকটি চুক্তি ও শর্ত অনুযায়ী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর নির্দেশনায় ৩ বছর মেয়াদে এজারাকৃত টাকা পরিশোধ করে বাংলা ১৪৩২ সনের পহেলা বৈশাখ হইতে বাংলা ১৪৩৪ সনের ৩০ চৈত্র পর্যন্ত ইজারাকৃত জল মহলটি দখল বুঝিয়ে দেন। সমিতির সভাপতিসহ ২৫ থেকে ২২জন ব্যক্তি ওই জলমহলটিতে মৎস্যচাষ করে ভোগদখল করে আসছিলাম। কিন্তু আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে আশাশুনি উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক হেদায়েতুল ইসলামের নেতৃত্বে তার পুত্র বিএনপি নেতা সরোয়ার আলম লিটন, হাফিজুল ইসলাম এর পুত্র জুয়েল, শাহানুর মিস্ত্রি এর পুত্র পলাশ, করিম মোড়ল এর পুত্র মোখলেছুর রহমান, হাবিবুল্লাহ (হাবিল), আজিজ মোড়ল এর পুত্র নুর ইসলাম, সুবাহান সানা এর পুত্র শফিকুল সানা, আরশাদ গাজী এর পুত্র তুহিন গাজীসহ কতিপয় ভূমিদস্যু রা ১৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বেআইনিভাবে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সলুয়া ও হাড়িয়া নদীর নেট পাটা কেটে ও বাসা ভাঙচুর করা সহ বিভিন্ন প্রজাতের মাছ ধরিয়া লুটপাট করে আনুমানিক ১৫ লক্ষ অধিক টাকার ক্ষতি সাধন করে।
সেখানে থাকা আমাদের লোকজনদের খুন জখমের হুমকি প্রদর্শন করে তাড়িয়ে দিয়ে তারা দখল নেয়। এরপর থেকে উল্লেখিত ব্যক্তিরা প্রতিনিয়ত জাল টানা দিয়ে মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। এঘটনায় আমি বাদী হয়ে ২৭ এপ্রিল আশাশুনি থানায় একটি এজাহার জমা দেওয়া হলেও এখনো পর্যন্ত মামলা রেকর্ড না করে তাল বাহানা করে যাচ্ছে পুলিশ। ইতোমধ্যে দুই মাস অতিবাহিত হয়েছে। এদিকে উল্লেখিত ব্যক্তিরা প্রতিদিন হাজার হাজার টাকার মাছ ধরে বিক্রি করে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, আমরাও জাতীয়তাবাদীদলের আদর্শের রাজনীতির সাথে জড়িত। সরকার বাহাদুরের কাছ থেকে বৈধভাবে ইজারা নিয়ে চাষাবাদ করছিলাম। কিন্তু আমাদের দলেরই কিছু ভুমিদস্যু শ্রেণির ব্যক্তির অবৈধ লোভের কারনে আমরা পথে বসার উপক্রম হয়ে পড়েছি। আমরা ধার দেনা করে জল মহলটি ইজারা নিয়ে মাছ ছেড়েছিলাম। সেখান থেকে কোন মাছ ধরতে পারেনি। ফলে ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছি। আমাদের সমিতিভুক্ত কয়েকজন অন্ধ এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিও রয়েছে। তারা সমিতির পক্ষ থেকে ওই ভূমিদস্যুদের কবল থেকে জল মহলটি উদ্ধার পূর্বক আমাদের উপর হামলা ও মারপিটের তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।##

