কালিগঞ্জে যুবলীগকর্মীকে শিবির কর্মী বনানোর চেষ্টা বিভ্রান্ত না হওয়ার আহবান

নিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে পরিক্ষিত এক যুবলীগ কর্মীকে শিবির কর্মী বানানোর অপচেষ্টা করছে একটি মহল। তারা বিভিন্ন পত্রিকায় মনগড়া কল্পকাহিনী লিখে ভাবমুর্তি নষ্ট করার চেষ্ট করছে। এ ঘটনায় যাতে কেউ বিভ্রান্ত না হয় সে জন্য সবাই সজাক থাকার আহবান জানিয়েছেন কুশলিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য নাসির উদ্দিন। শনিবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ আহবান জানান।
লিখিত বক্তব্য তিনি বলেন, বিগত ২০০৮ সাল থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের রাজনীতিতে প্রবেশ করি। বিশেষ করে বিগত ২০১৩ সালে সাম্প্রদায়িক জামায়াত-শিবির বাংলাদেশ থেকে সাতক্ষীরা জেলা তথা কালিগঞ্জ উপজেলা কে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করেছিল। তখনও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তৎকালীন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও বর্তমান উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ মেহেদীর নেতৃত্বে রাজপথে থেকে সহিংসতা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছি। আমার রাজনৈতিক কর্মকান্ডে সন্তোষ প্রকাশ করে ২০১৫ সালের ২৬ মে কুশুলিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য মনোনীত করেন তৎকালিন উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শেখ আনারুল কবির লিটু ও সাধারণ সম্পাদক জি এম সাইফুল ইসলাম। কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় আবারো ২০১৮ সালের আহবায়ক কমিটির সদস্য মনোনীত হই। অথচ একটি মহল আমাকে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে উপস্থাপন করে ঘোলাপানিতে মাছ শিকারের চেষ্টায়রত রয়েছেন। এছাড়া আমাকে জামায়াতের কর্মীও বলা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কালিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগ কাউন্সিল উপলক্ষ্যে গত ১৮.১০.২০১৯ তারিখে কুশুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের কাউন্সিল অধিবেশন ছিলো। সেখানে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। অথচ পরদিন সাতক্ষীরার কয়েকটি পত্র-পত্রিকায় ‘কালিগঞ্জের কুশুলিয়া ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের কাউন্সিল অধিবেশনে অনুপ্রবেশকারীদের হামলার অভিযোগ’ শিরোনামে একটি সংবাদ পরিবেশিত হয়। সেখানে আমাকে এবং বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের মেম্বর সিরাজুল ইসলামকে জামায়াত নেতা উল্লেখ করে তাদের উপর হামলা করা হয়েছে মর্মে দাবি করে। অথচ ওই ১৮ তারিখ সারাদিন আমি শ্যামনগরের ভেটখালীতে আমার ছোটভগ্নিপতি আনিসুর রহমান এর বড় ভাই মিজানুর রহমানের কন্যা মুসলিমার বিয়ের অনুষ্ঠানে ছিলাম। রাতে বাড়িতে ফিরে জানতে পেরেছি কুশুলিয়া ইউনিয়নের কাউন্সিল শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তাছাড়া ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম ২০০৬ সালে বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন।
অথচ শিবির সম্পৃক্ততার অভিযোগে সদ্য কালিগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়া বাজারগ্রাম রহিমপুর গ্রামের শেখ ইব্রাহিমের পুত্র শেখ শাওন আহমেদ সোহাগ সাংবাদিকদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে কালিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ মেহেদীর রাজনৈতিক ভাবমূর্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে সাংবাদিকদের ভুল বুঝিয়ে এধরনের মিথ্যা ভিত্তিহীন সংবাদ পরিবেশন করিয়েছে।
আমি উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ মেহেদীর ভাবমূর্তি নষ্টের চেষ্টাকারী সাবেক শিবির নেতা শাওন আহমেদ সোহাগের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ দাবিতে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারসহ উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

Related posts