ভেঙে গেল কর্নেল অলির এলডিপি

রাজনীতির খবর: এক যুগ পর ভেঙে গেল ২০ দলীয় জোটের শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)। সোমবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন এলডিপি থেকে বেরিয়ে এসে পৃথক দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন সংগঠনটির কয়েক সাবেক নেতা।

তবে জাতীয় প্রেসক্লাবে পৃথক এক সংবাদ সম্মেলনে কর্নেল অলি জানিয়েছেন, এলডিপি তার নামে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল। তিনি এর সভাপতি। তিনি ছাড়া এর কর্তৃত্ব নেওয়ার আইনগত অধিকার কারও নেই।

সকালের সংবাদ সম্মেলনে দলের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল করিম আব্বাসীকে সভাপতি এবং সাবেক সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিমকে সদস্য সচিব করে এলডিপির পৃথক সমন্বয় কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়। এ সময় সদস্য সচিব শাহাদাত বলেন, ২০০৬ সালে বিএনপি থেকে বেরিয়ে এসে এলডিপি করা অন্যায় ও পাপ হয়েছে। আশা করি, বিএনপি প্রায়শ্চিত্ত করার সুযোগ দেবে।

সদস্য সচিব বলেন, জাতীয় মুক্তিমঞ্চ করে অলি আহমেদ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে এবং বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনকে বিভ্রান্ত করছেন। জাতীয়তাবাদী শক্তিকে শক্তিশালী করতে মুক্তিমঞ্চ করার প্রয়োজনীয়তা নেই। বিএনপি ও এর নেতৃত্বাধীন ২০ দলের সঙ্গে অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি তাদের স্বীকৃতি জানাবে।

পৃথক এলডিপির সমন্বয় কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন এলডিপির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক সাংসদ আবদুল গণি, তিন সাংগঠনিক সম্পাদক এম এ বাশার, সৈয়দ ইব্রাহিম রওনক ও তৌহিদুর রহমান এবং দপ্তর সম্পাদক কাজী মতিউর রহমান।

এলডিপি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গে শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, অলি আহমদের সঙ্গে রাজনীতি করা আর সম্ভব নয়। তিনি এলডিপিকে তার পৈতৃক সম্পত্তিতে পরিণত করেছেন। তিনি যেভাবে জামায়াতে ইসলামীকে সমর্থন দিচ্ছেন, সার্টিফিকেট দিচ্ছেন, সেটার সঙ্গে তাদের দ্বিমত আছে।

শাহাদাত হোসেন বলেন, এলডিপিতে প্রতিষ্ঠাকালীন নেতাদের বেশিরভাগই আর নেই। প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের একজনও অলি আহমদের সঙ্গে নেই। গত ৯ নভেম্বর ঘোষিত ১৭ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলীর মাত্র চারজনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তাদের কেউ অতীতে এলডিপি করতেন না।

আবদুল করিম আব্বাসী বলেন, কর্নেল অলি নিজের স্বার্থ ছাড়া আর কোনো চিন্তা করেন না। তার প্রতি অনাস্থা আছে বলেই তাকে বাদ দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করছি। বর্ধিত সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তাকে বহিষ্কার করা হবে কিনা।

অন্যদিকে বিকেলে পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে জাতীয় মুক্তিমঞ্চ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কর্নেল অলি জানান, তারা (আবদুল করীম আব্বাসী ও শাহাদাত হোসেন সেলিম) তার দলের সদস্য। সন্তানতুল্য ভাইয়ের মতো। তাদের বিরুদ্ধে তার কোনো বক্তব্য নেই।

সংবাদ সম্মেলনে কল্যাণ পার্টির সভাপতি সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, এলডিপির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ, জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা, জাগপার সভাপতি সহসভাপতি রাশেদ প্রধান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাও অতিথি আসনে কিছুক্ষণ বসে ছিলেন। তবে অলির বক্তব্য শেষ হওয়ার আগেই চলে যান তিনি।

Related posts