জেনেবুঝেই সরকার দেশকে বড় ক্ষতির মুখে ফেলছে -টিআইবি

দেশের খবর: পরিবেশ-প্রতিবেশ ধ্বংস করে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে সরকারের মাদকতা তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

তিনি বলেন, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারণে বাংলাদেশ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জেনেবুঝেই সরকার দেশকে দীর্ঘমেয়াদে বড় ক্ষতির মুখে ফেলছে।

বৃহস্পতিবার ধানমণ্ডির মাইডাস সেন্টারে আয়োজিত টিআইবির সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। স্পেনের মাদ্রিদে আসন্ন কপ-২৫ জলবায়ু সম্মেলনে জলবায়ু অর্থায়নে দূষণকারী শিল্পোন্নত দেশগুলোর প্রতিশ্র“তির বাস্তব অগ্রগতি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ১১ দফা দাবিতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

ড. ইফতেখার আরও বলেন, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্ভরতা থেকে সরে এসে ইউনেস্কোর সুপারিশ অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে ৫০ শতাংশ নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুপারিশ বাস্তবায়নের পথে হাঁটা শুরু করতে হবে। আর এখনই রামপাল, তালতলী ও কলাপাড়ার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করে দেয়া উচিত।

তিনি বলেন, দেশের প্রত্যন্ত এলাকার ঝুঁকি বিবেচনায় ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে প্রাধান্য দিয়ে জেলা ও উপজেলাভিত্তিক জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা চ‚ড়ান্ত করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় একটি কাঠামো প্রণয়নসহ মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় সামাজিক সুরক্ষা বেষ্টনী গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে শিল্পোন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে কার্যকর কূটনৈতিক সম্পর্কের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ আদায় করে নিতে হবে। সেজন্য বাংলাদেশকে নানাভাবে তৎপরতা চালাতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত ইস্যুতে বাংলাদেশের তৎপরতা ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক প্রশংসা লাভ করেছে। এটাকে আরও জোরদার করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত জাতিসংঘের ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন ক্লাইমেট চেঞ্জের (ইউএনএফসিসি) আওতায় ২০১৫ সালে প্যারিস চুক্তি সম্পাদিত হয়। ২০২০ সাল থেকে এটির বাস্তবায়ন শুরু হওয়ার কথা। শিল্পোন্নত দেশগুলোর মাত্রাতিরিক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপাদনে উন্নয়নশীল দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত ইস্যুতে বিভিন্নভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী উন্নত দেশগুলো ২০২০ সাল থেকে উন্নয়নশীল ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার চুক্তি করে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে ওই চুক্তি থেকে সরে দাঁড়িয়েছে প্রভাবশালী ও দূষণে দুই নম্বরে থাকা আমেরিকা। তবে দূষণে এক নম্বরে থাকা চীন ও তিন নম্বরে থাকা ভারত এখনও প্যারিস চুক্তির আওতায় রয়েছে। আসন্ন কপ-২৫ জলবায়ু সম্মেলনে অংশগ্রহণ করবে ২০০টি দেশ। সম্মেলনে অংশ নেয়া ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে নিয়ে একটি ‘ককাস’ গঠন করে ন্যায্য অধিকার আদায়ের ব্যবস্থা করা।

এতে আরও বলা হয়, ক্ষতিপূরণ দেয়া থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সরে দাঁড়ানো কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। তারা এখন বীমার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করতে চায়। আসন্ন সম্মেলনে ক্ষতিপূরণ আদায়ের ব্যাপারে সচেষ্ট হতে হবে। কোনো কারণে না পারা গেলে বীমার পাশাপাশি ক্ষতিপূরণও আদায়ের চেষ্টা চালাতে হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, একদিকে জাপান জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বিশ্বসভায় নানা কথা বলছে। অন্যদিকে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরিতে জাপানি সাহায্য সংস্থা (জাইকা) ঋণ সহায়তা দিচ্ছে। তাদের স্ববিরোধী অবস্থান ঘৃণ্য মানসিকতার পরিচয় ফুটে ওঠে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দূষণে বাংলাদেশ দায়ী না হলেও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি হলে দেশের ভয়াবহ ক্ষতি হবে। যেসব মোকাবেলা করতে যে খরচ হবে; সেসব হিসাব করলে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয়বহুল চিত্র ফুটে উঠবে।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির উপদেষ্টা-নির্বাহী ব্যবস্থাপনা অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের, সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার এম জাকির হোসেন খান ও প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. মাহফুজুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Related posts