নিজস্ব প্রতিনিধি : পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা। তারা বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য ও সবুজ পৃথিবী গড়ে তুলতে এখন থেকেই সবাইকে গাছ লাগানোর আন্দোলনে সম্পৃক্ত হতে হবে।
ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড জাস্টিস ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে কলারোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শুক্রবার সকালে উপজেলা ব্যাপী ৫ হাজার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড জাস্টিস ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান আরিফুজ্জামান মামুন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী পরিচালক ও ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড জাস্টিস ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি আলমগীর কবির। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নর্দান ইউনিভার্সিটির ভিসি ড. মিজানুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন কলারোয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র ও সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আক্তারুল ইসলাম, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার শেখ রেজাউল করিম, আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট সিজিএম আসাদুজ্জামান মিলন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুজিবুর রহমান, সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শেখ ফারুক হোসেন, সাবেক ছাত্রনেতা আতিকুজ্জামান রিপন, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব তানজিদ আহমেদ শাওন, রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি মোস্তাক আহমেদ, বিআরডিবি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার নিত্যনান্দ পাল, আইনজীবী শিহাব মাসুদ সাচ্চু, শিক্ষক শাহাজাহান আলী শাহীন, যুবনেতা আব্দুল মজিদ, মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক, লিটন, বাবলু, রিগ্যান, রাজস্ব কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামান বিগ্যান ও ডাক্তার হাবিবুর রহমান হাবিব। প্রধান অতিথির বক্তব্যে নর্দান ইউনিভার্সিটির ভিসি ড. মিজানুর রহমান বলেন, আজ যে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন হলো এর সুফল সুদূরপ্রসারী। জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করতে হলে বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে। শুধু সরকার নয়, সমাজের প্রতিটি মানুষকে পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে। বর্তমান সময়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বায়ুদূষণ আমাদের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। একটি গাছ শুধু অক্সিজেনই দেয় না, এটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং মানবজীবনকে নিরাপদ রাখে।
কলারোয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র ও সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আক্তারুল ইসলাম বলেন, “বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। তাই পরিবেশ রক্ষায় সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড জাস্টিস ফাউন্ডেশন যে উদ্যোগ নিয়েছে তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে গাছ লাগালেই হবে না, সেগুলো পরিচর্যার দায়িত্বও নিতে হবে। প্রতিটি পরিবার যদি বছরে অন্তত কয়েকটি গাছ লাগায়, তাহলে পরিবেশের বড় পরিবর্তন সম্ভব। তরুণ সমাজকে পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনে সম্পৃক্ত করতে হবে। আমাদের সন্তানদের সুস্থ ভবিষ্যতের জন্য আজ থেকেই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড জাস্টিস ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান আরিফুজ্জামান মামুন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। উপকূলীয় অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পরিবেশ বিপর্যয়ের ঝুঁকি বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে জনসচেতনতা সৃষ্টি ও পরিবেশ রক্ষায় সামাজিক উদ্যোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের সংগঠন শুধু বৃক্ষরোপণ করে না, জলবায়ু ন্যায্যতা ও পরিবেশ সচেতনতা নিয়ে কাজ করছে। আজকের এই কর্মসূচির মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৫ হাজার গাছের চারা রোপণ করা হবে। আমরা চাই নতুন প্রজন্ম পরিবেশবান্ধব চিন্তাধারা নিয়ে বড় হোক এবং প্রকৃতি রক্ষায় এগিয়ে আসুক। শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার শেখ রেজাউল করিম বলেন, কৃষি ও পরিবেশ একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। গাছপালা কমে যাওয়ায় পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং কৃষি উৎপাদনও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ বেশি করে লাগাতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করবে। গাছ মানুষের বন্ধু, এটি মাটি রক্ষা করে, বৃষ্টিপাত বাড়াতে সহায়তা করে এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ভূমিকা রাখে। পরিবেশ রক্ষায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি ও সামাজিক সংগঠনগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে। আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট সিজিএম আসাদুজ্জামান মিলন বলেন, পরিবেশ রক্ষা এখন শুধু সামাজিক দায়বদ্ধতা নয়, এটি মানবতার জন্য অপরিহার্য দায়িত্ব। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবী আজ নানা সংকটের মুখোমুখি। তাই বৃক্ষরোপণের মতো ইতিবাচক উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করতে হবে। করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকেও সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণমূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে হবে। তরুণদের মাঝে পরিবেশ সচেতনতা তৈরি করা গেলে আগামী দিনে একটি সবুজ ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। আজকের এই আয়োজন নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে।

