নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী জাকারিয়া খান হত্যার ঘটনায় ক্ষোভ ও শোক প্রকাশ করে তার হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ মিছিল করেছে সহপাঠী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বেলা ১২টায় কলেজের প্রধান ফটকের সামনে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে জাকারিয়া হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে ফাঁসির দাবি জানানো হয়।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা ‘আমার ভাইয়ের হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’, ‘ফাঁসি চাই’, ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাইরে’ এসব স্লোগান দেন। প্রিয় সহপাঠীর হত্যার বিচার দাবিতে এ সময় কলেজের প্রধান ফটকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ পায়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আবুল হাশেম, সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক বাসুদেব বসু, সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহীন ইসলাম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সাতক্ষীরার আহ্বায়ক মো. আরাফাত হোসাইন, কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মাসুদুল আলম, নিহত জাকারিয়ার বড় ভাই মো. শাহরিয়ার খান ও ফুফাতো ভাই তামিম।
বক্তারা বলেন, জাকারিয়া ছিলেন একজন কলেজশিক্ষার্থী। তার সামনে ছিল ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন। কিন্তু সহিংসতার ঘটনায় তাকে প্রাণ হারাতে হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করে। জাকারিয়া হত্যার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
জাকারিয়া খান ২০২৬ সালে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। তার মৃত্যুর ঘটনায় কলেজের সহপাঠীদের মধ্যে শোকের পাশাপাশি ক্ষোভেরও সৃষ্টি হয়েছে।
গত ২ অক্টোবর রাত সাড়ে ১১টার দিকে সাতক্ষীরা শহরের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রধান ফটকের পাশে একটি চায়ের দোকানের সামনে বিরোধের ঘটনা ঘটে। এ সময় জাকারিয়া খান ছুরিকাঘাতের শিকার হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় জাকারিয়ার ভাই মো. শাহরিয়ার খান বাদী হয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যে মামলার প্রধান আসামি কিশোর গ্যাঙ লিডার নাহিদসহ কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।

