প্রধান বিচারকের সাথে তর্কে জড়ালেন ট্রাম্প

বিদেশের খবর: ক্ষমতায় বসার পর থেকে নেতিবাচক খবরের শিরোনাম থেকে যেন কোনোভাবেই বের হয়ে আসতে পারছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিছু দিন আগে এক সাংবাদিকের সাথে রূঢ় আচরণ করে সংবাদের শিরোনাম হয়েছিলেন ট্রাম্প। এবার নিজ দেশের প্রধান বিচারকের সাথে তর্কে জড়ালেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অভিবাসীদের অনুপ্রবেশ ঠেকানোর আদেশ স্থগিত করা নিয়ে তর্কের সূত্রপাত। দেশটির শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম সিএনএন বলছে, গত ৯ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অভিবাসীদের অনুপ্রবেশ ঠেকানোর ঘোষণাপত্রে সঁই করেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু ট্রাম্পের এই আদেশে প্রশাসনিক ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘিত হয় উল্লেখ করে মামলা করে বেশ কয়েকটি নাগরিক অধিকার সংস্থা।

গত সোমবার সানফ্রান্সিসকোর ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জজ জন টিগার প্রেসিডেন্টের আদেশটি স্থগিত করেন। রুলে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা থাকলেও তিনি কোনও একটি শর্ত আরোপ করার জন্য অভিবাসন আইন সংশোধন করতে পারেন না। কংগ্রেসও এটি স্পষ্টভাবে নিষেধ করেছে।
এরপর বারাক ওবামার আমলে নিয়োগ পাওয়া এই বিচারককে ‘ওবামার বিচারক’ বলে সমালোচনা করেন ট্রাম্প।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের জবাবে এক বিবৃতিতে প্রধান বিচারপতি বলেন, আমাদের মধ্যে কেউ ওবামার বিচারক বা ট্রাম্পের বিচারক, বুশের বিচারক বা ক্লিনটনের বিচারক নন। এসব নিবেদিত বিচারকদের কাছে যারা সমান অধিকারের দাবি নিয়ে হাজির হয়, তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন তারা। এসব বিচারপতি স্বাধীন এবং তাদের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞ থাকা উচিত।
জবাবে ট্রাম্প এক টুইট বার্তায় লেখেন, স্যরি প্রধান বিচারপতি জন রবার্ট, কিন্তু আপনাদের মধ্যে ‘ওবামার বিচারপতিরা’ আছেন। যারা আমাদের দেশের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত, তাদের সঙ্গে অনেক মতপার্থক্য আছে এসব বিচারকদের। তারা সত্যিই ‘স্বাধীন বিচারপতি’ হয়ে থাকলে ভালো।

কিছুক্ষণ পরের টুইট বার্তায় ট্রাম্প বলেন, কিন্তু দয়া করে খোঁজ নিয়ে দেখুন যে তাদের কাছে সীমান্ত ও নিরাপত্তা বিরোধী কত মামলা হয়েছে। আমাদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা প্রয়োজন। এসব বিচারকের রুল আমাদের দেশকে অনিরাপদ করে তুলেছে। খুবই বিপজ্জনক ও অপরিণামদর্শী।

Related posts