নিজস্ব প্রতিনিধি :
আশাশুনির শ্রীউলায় মৎস্যঘের দখল ও চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ছট্টু এবং যুবদল নেতার দ্বীন মোহাম্মাদের বিরুদ্ধে।
এঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে জেলা বিএনপির সভাপতি-সম্পাদক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মহিলা দল নেত্রী আম্বিয়া খাতুন।
অভিযোগটি গ্রহণ করে সত্যতা যাছাইয়ের জন্য গঠিত তদন্ত কমিটির কাছে পাঠিয়েছেন বলে জানিয়েছেন জেলা বিএনপির আহবায়ক।
অভিযোগে জানা গেছে, মহিলাদল নেত্রী আম্বিয়া খাতুনের জামাতা আব্দুল্লাহ আল মামুন আশাশুনি শ্রীউলা ইউনিয়ন কাকড়াবুনিয়া গ্রামে ৩০ বিঘা জমিতে দীর্ঘদিন ধরে মৎস্যঘের পরিচালনা করে আসছিলেন। কিন্তু ৫ আগস্টে ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানের পর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি রফিকুজ্জামান ছট্টু ও ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দ্বীন মোহাম্মাদ দেড় লক্ষ টাকা চাঁদাদাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ২৩ ফেব্রুয়ারী রফিকুজ্জামান ছট্টুর নেতৃত্বে আওয়ামীগ নেতা মোস্তাক, জহুরুলসহ একদল সন্ত্রাসী আল মামুনের ঘেরের বাসায় গিয়ে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দেওয়ায় তাকে পিঠ মোড়া দিয়ে বেধে আওয়ামীলীগের দোসর আখ্যা দিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দেয়। অথচ জামায়াত আল মামুন কখনো আওয়ামীলীগ করেনি বরং বিএনপি সমর্থিক মর্মে দাবি করেন অভিযোগকারী আম্বিয়া।
ওই অভিযোগে তিনি আরো উল্লেখ করেছেন, ছট্টু সাতক্ষীরা শহরের মুন্সিপাড়ায় বসবাস করেন। গত পৌরসভা নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীর বিরোধীতা করায় দলথেকে তাকে বহিস্কার করা হয়। এছাড়া আওয়ামীলীগের সাংসদ ডা: রুহুল হকের পক্ষে ভোট করে এবং যুবলীগ নেতা লাকি বাহিনীর প্রধান লাকিসহ আওয়ামীলীগ নেতা দিপংকার বাছাড় দিপুকে ফুলের মালা দিয়ে বরন করার ছবিও ভাইরাল হয়।
এবিষয়ে অভিযুক্ত বিএনপির রফিকুজ্জামান ছট্টুর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি এধরনের কোন কাজের সাথে জড়িত নয়। মূলত আম্বিয়ার জামায়াত আল মামুন আওয়ামীলীগ পরিবারের সদস্য। আওয়ামীলীগের দাপটে তারা দীর্ঘদিন সরকারি খাস সম্পত্তি দখল করে মৎস্যঘের পরিচালনা করত। ৫ আগষ্টের পর স্থানীয় সাধারণ মানুষ সেটি দখলমুক্ত করেন। আমি শুধুমাত্র সাধারণ মানুষের পক্ষে অবস্থান নিয়েছি। যে কারণে আমার এবং আমার সহযোগীদের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করে যাচ্ছে মহিলা দল নেত্রী কেয়া এবং আম্বিয়া।
সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির আহবায়ক রাহামাতুল্লাহ পলাশের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তদন্তের জন্য তাদের কাছে পাঠিয়েছি।
তদন্ত কমিটির সদস্য আবুল হাসান হাদী বলেন, তদন্ত কার্যক্রম এখনো শুরু করতে পারিনি। তদন্ত না করে কিছু বলা যাবে না।