সংবাদ সম্মেলনে ফারজানার মা আরও জানান, পরে সহপাঠীদের সূত্রে তাঁরা জানতে পারেন যে ফারজানা পাশ্ববর্তী সুমাইয়া নামের এক নারীর দোকানে ঝালমুড়ি কিনতে গিয়েছিল। এর পর থেকে তাকে আর পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও ফারজানার স্বজনরা সুমাইয়ার কাছে জানতে চাইলে সে অসংলগ্ন আচরণ শুরু করে। এতে উপস্থিত জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে সুমাইয়ার ঘর তল্লাশি করে ড্রয়ারের ভেতর থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় শিশু ফারজানার মরদেহ উদ্ধার করে।
একদিকে সন্তানকে হারানোর ভয়াবহ শোক, অন্যদিকে অসুস্থ হয়ে পড়া স্বামীকে সামলাতে গিয়ে সে সময় পরিবারের কারোরই উত্তেজিত জনতাকে ঠেকানোর মতো পরিস্থিতি ছিল না।
এ ঘটনায় নিহত ফারজানার বাবা এনামুল হক বাদী হয়ে সুমাইয়ার ভাই আবদুল্লাহ আল মামুনসহ অজ্ঞাতদের আসামি করে কালিগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলায় আবদুল্লাহ আল মামুন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
তবে ঘটনার পর নিহত সুমাইয়ার স্বামী আমিরুল ইসলাম ও তার বাবা আবদুল লতিফ বাদী হয়ে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করেন। এর মধ্যে আবদুল লতিফের মামলায় ফারজানার পরিবারের দুই সদস্যসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে। নাজমা খাতুনের অভিযোগ, সন্তানহারা পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা হত্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, একটি স্বার্থান্বেষী মহল ‘মামলা বাণিজ্য’ করার উদ্দেশ্যে ঘটনার দিন এলাকায় উপস্থিত না থাকা এবং ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানে না—এমন নিরপরাধ মানুষকে অজ্ঞাত আসামি দেখিয়ে আটক করাচ্ছে। এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে পুলিশের দায়িত্বজ্ঞানহীন ভূমিকা ও অসৎ সম্পৃক্ততার সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলন থেকে শিশু ফারজানা হত্যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন, জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং কোনো নিরপরাধ মানুষ বা সন্তানহারা পরিবার যাতে হয়রানির শিকার না হয়, সে জন্য সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

