শ্যামনগরে মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের কাছে চাঁদা দাবীর অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার শ্যানগরের সাংবাদিক পরিচয়ে এবার এক মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কাছে চাঁদাদাবীর অভিযোগ উঠেছে। আর এই চাঁদাবাজি ও মিথ্যা হয়রানি থেকে মুক্তি পেতে এবং এর প্রতিবাদ জানিয়ে রবিবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করেন, উপজেলার ভেটখালী গ্রামের মৃত বীরমুক্তিযোদ্ধা মোহর আলী গাজীর ভাইপো ও কাদের গাজীর ছেলে ভুক্তভোগী রুহুল কুদ্দুস।
তিনি তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, শ্যামনগরের ভেটখালী গ্রামের আল মামুনসহ তার দুই পুত্র আব্রাহাম লিংকন ও আশিকুজ্জামান লিমন ৫ম শ্রেনি পর্যন্ত লেখাপড়া করে তারা তাদের পরিবারের তিন জনই সাংবাদিক পরিচয়ে এলাকায় চাঁদাবাজী করে সংসার চালাচ্ছেন। তারা এলাকার বিভিন্ন নিরীহ মানুষের কাছে প্রতিনিয়ত চাঁদাদাবী করে তাদের হয়রানি করছেন। তিনি বলেন, বিগত ২০১৮ সালের জানুয়ারী মাসে আমি দিনমজুরের কাজ করে রাতে ঘুমাচ্ছিলাম। এমন সময় সাংবাদিক পরিচয়দানকারী আব্রাহাম লিংকন থানা থেকে পুলিশ নিয়ে আমাকে আটক করিয়ে দেন। থানা পুলিশ আমাকে আটক করে জানতে চায় আমার বাড়ীতে কোন জামায়াতের বৈঠক হচ্ছিল কিনা ? অথচ আমি নিজে বা আমার পরিবারের কেউ জামায়াতের রাজনীতির সাথে জড়িত নই। তবে, আমি ৫ ওয়াক্ত নামাজসহ দাড়ি, টুপি পরে সুন্নতি কায়দার চলাফেরা করি। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বিষয়টি নিয়ে আমার পক্ষে সুপারিশ করলে থানা পুলিশ আমাকে সসম্মানে কোন প্রকার টাকা পয়সা না নিয়েই ছেড়ে দেন। অথচ ওই সময় আব্রাহাম লিংকন শ্যামনগর থানার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা নিউজ করেন। সেখানে বলা হয়েছে তারা নাকি আমার কাছ থেকে টাকা নিয়ে আমাকে ছেড়ে দিয়েছেন। এরপর সাংবাদিক পরিচয়দানকারী আব্রাহাম লিংকন ভেটখালী বাজার থেকে আমার কাছ থেকে ২ হাজার টাকা চাঁদা নেন। এর কয়েকদিন পর আব্রাহাম লিংকনের ছোট ভাই আশিকুজ্জামান লিমন আমাকে ডেকে বলেন, আমার নিখোঁজ হওয়া ছেলের সাথে তার ভারতে দেখা হলে সে নাকি তার কাছ টাকা নিয়েছে। অথচ বিষয়টি আমি মোটেও জানিনা। তারপরও লিমন আমার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবী করেন। আমি এ সময় তার কাছে আমার অসহায়ত্বের কথা বলে আমাকে হয়রানী না করার জন্য তার কাছে অনুরোধ করি। এরপরও লিমন আমার বিরুদ্ধে শ্যামনগর থানায় একটি মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেন। শুধু তাই নয় তারা আমাকে বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় অর্ন্তভুক্ত করে হয়রানি করছেন। বর্তমানে আমি চরম দূর্বিসহ জীবন যাপন করছি। এমতাবস্থায় তিনি (রুহুল কুদ্দুস) উক্ত চাঁদাবাজ গ্রুপের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Related posts