কলারোয়ার চিহ্নিত মামলাবাজ মফিজুরের হাত থেকে রক্ষা পেতে সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার কলারোয়ার চিহ্নিত মামলাবাজ, সুদখোর, নারী লোভী ও জামায়াতের অর্থদাতা শেখ মফিজুরের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে উক্ত সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন, উপজেলার মদনপুর গ্রামের মৃত ইয়াকুব আলী সরদারের ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহাঙ্গীর আলম।
তিনি তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, একই এলাকার সাবেক শিবির ক্যাডার, চিহ্নিত মামলাবাজ, সুদখোর মৃত ইছাক আলী সরদারের পুত্র শেখ আমানুল্লাহ কলেজের শিক্ষক মফিজুরের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে এলাকার সর্বস্তরের মানুষ। তার হাত থেকে রক্ষা পাইনি যুবলীগ নেতাকর্মীরাও। সম্প্রতি তার অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় ৭ যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন। স্বনামে ও বেনামে তিনি আদালতে ৩০ টির অধিক মামলা পরিচালনা করেন। সুদের ব্যবসা ও শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি নামে, বেনামে ৪টি সারের ডিলারের ব্যবসাও পরিচালনা করেন। সার ও ডিজেল পাচারের অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তিনি আটকও হন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া তুচ্ছ ঘটনায় ওই কলেজের ৬ জন শিক্ষক-কর্মচারীর বিরুদ্ধে তিনি আদালতে মিথ্যা মামলাও দায়ের করেন। তিনি তার এলাকার অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন, ব্যাংক কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম, হোমিও প্যাথিক ডাক্তার মমতাজুল হকসহ অনেকের বিরুদ্ধে সুদের টাকা নিয়ে গোলযোগের এক পর্যায়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এছাড়া হিজলদী গ্রামের দরিদ্র কৃষক মুজিবুর রহমান ২ লাখ ৭০ হাজার টাকার কীটনাশক তার দোকান থেকে বাকীতে নেন। ওই কীটনাশকের টাকা পর্যায়ক্রমে পরিশোধের পর মাত্র ১৮ হাজার টাকা বাকী থাকা অবস্থায় এক বছর পর এই টাকার সুদ হিসাবে ৯০ হাজার টাকা পরিশোধের জন্য হালখাতার কার্ড দেন। তিনি এই টাকা দিতে রাজি না হলে তাকে খুন জখমের হুমকি ধামকি প্রদর্শন করেন এবং কৌশলে সাদা কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নেন। এছাড়া অনেক কৃষকের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তিনি চক্রবৃদ্ধি সুদের কারবার পরিচালনা করেন। তিনি আরো বলেন, শিক্ষক নামের কলঙ্ক মফিজুর নানা অপকর্মের হোতা। তার বিরুদ্ধে কথা বললেই মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হয়। বিগত সময়ে তিনি ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। বর্তমানে তিনি জামায়াতের অর্থদাতা। সুদের কারবার ও নিয়ম বহির্ভূতভাবে সারের ব্যবসা পরিচালনা করে তিনি লক্ষ লক্ষ টাকার মালিক হয়েছেন। তার ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে মিথ্যা মামলার বোঝা মাথায় নিয়ে অনেকেই এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এমতাবস্থায় তিনি এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে উক্ত মামলাবাজ, সুদখোর মফিজুরের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ সংশি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Related posts