নিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের দত্তবাগ এলাকায় আজিজুলের চায়ের দোকানকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে মাদকসেবী ও সন্দেহভাজন মাদক কারবারীদের আড্ডা বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, এই চা দোকানের আড্ডাকে ঘিরে এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও অন্যান্য অপরাধ উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গেছে। বিশেষ করে মাদকসেবীদের চুরিতে অতীষ্ঠ হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা জানান, দত্তবাগ গ্রামের আজিজুলের চায়ের দোকানে প্রতিদিন বিকেল থেকে গভীর রাত, কখনো কখনো রাত ২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত মাদকসেবীদের আনাগোনা থাকে। দত্তবাগ ছাড়াও আখড়াখোলা, ছাতিয়ানতলা, দেবনগর, রাজনগর, বল্লীসহ আশপাশের আরও কয়েকটি গ্রামের যুবকেরা সেখানে নিয়মিত জড়ো হয়ে মাদক সেবন ও বিক্রি করে।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিকেলের পর থেকেই দোকানটিতে কয়েকজন ব্যক্তি অবস্থান নেয়। এরপর ধীরে ধীরে আরও অনেকে সেখানে এসে মাদক সেবন ও কেনাবেচায় অংশ নেয়। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এ কার্যক্রম চললেও গ্রামের ভেতরে প্রশাসনের নজরদারি তুলনামূলক কম থাকায় বিষয়টি প্রকাশ্যে আসেনি।
জানা গেছে- দত্তবাগ গ্রামের চা দোকানদার আজিজুল, ইসমাইলের ছেলে সাদ্দাম, ধ্রুপোর ছেলে প্রদীপ বাইরে থেকে গাঁজা, ইয়াবা কিনে এনে ওই দোকানে গভীর রাত পর্যন্ত অবস্থান করে কারবারী চালায়।
এলাকাবাসী জানায় মাদকের অর্থ জোগাতে একশ্রেণির যুবক চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। সম্প্রতি রনির দোকান থেকে মালামাল চুরি, মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মুসল্লির সাইকেল চুরি, এম এ হান্নানের এতিমখানার বাউন্ডারির ভেতর থেকে মোটর চুরি, মসজিদের ব্যাটারি চুরি, শফি মেম্বারের সাইকেল চুরি, মনো’র ভ্যান চুরি, বিধান শীলের তামার তার চুরি, আশু কালার নাতির ভ্যানের ব্যাটারি চুরি এবং সিরাজের দোকান থেকে মালামাল চুরির মতো একাধিক ঘটনার কথা উল্লেখ করছেন স্থানীয়রা।
এরই মধ্যে শনিবার (১ আগস্ট) গভীর রাতে বাস টার্মিনাল এলাকার হিরা খাতুন নামে এক নারীর গলায় থাকা সোনার চেইন ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে এক মাদক কারবারীর দ্বারা। খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ফিরে যান। তবে ঘটনার তদন্তে কী অগ্রগতি হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি।
স্থানীয়দের বলেন, সাতক্ষীরা জেলায় মাদকবিরোধী সপ্তাহ পালন করা হলেও গ্রামের ভেতরে চিহ্নিত বলে দাবি করা মাদকের আড্ডাগুলোতে কার্যকর অভিযান দেখা যাচ্ছে না। এ কারণে মাদকবিরোধী অভিযানের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
গ্রামের একাধিক বাসিন্দা বলেন, মাদকের আড্ডা বন্ধ না হলে চুরি-ছিনতাইও বন্ধ হবে না। প্রশাসন যদি প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালায়, তাহলে এলাকার মানুষ স্বস্তি ফিরে পাবে।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহা. মাসুদুর রহমান বলেন, আমার টিম খুব শীঘ্রই ওখানে পৌঁছে যাবে। আশা করছি ভালো ফলাফল আসবে।
এলাকাবাসীর দাবি, দত্তবাগ ও আশপাশের এলাকায় দ্রুত গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান এবং সাম্প্রতিক চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হোক। তবেই এলাকায় স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ফিরে আসবে।

