ডেস্ক রিপোর্ট : সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দুর্নীতি সংক্রান্ত হাইকোর্টের নির্দেশনা অমান্য করায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল-এর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
বিগত ২৯ জুন ২০২৬ তারিখে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি মো: আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ এই রুল জারি করেন। রুলে আগামী ৪ সপ্তাহের মধ্যে মাউশি মহাপরিচালককে শোকজের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
মামলা ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সুন্দরবন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কম্পিউটার শিক্ষক আরিফা এদিব চৌধুরীর কম্পিউটার সনদটি জাল প্রমাণিত হওয়ায় বিগত ২০ এপ্রিল ২০২২ তারিখে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি তাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করে। এর আগে, ২০২১ সালের শেষদিকে জেলা শিক্ষা অফিসার সনদটি জাতীয় কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও গবেষণা একাডেমীতে (নেকটার/সাবেক নট্রামস) যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হলে প্রতিষ্ঠানটি লিখিতভাবে জানায় যে সনদপত্রটি জাল ও ভূয়া।
তৎকালিন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেন উক্ত শিক্ষকের নাম এমপিও থেকে কর্তনের জন্য মাউশি মহাপরিচালক বরাবর আবেদনও করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে, প্রধান শিক্ষক অনৈতিক সুবিধার নিয়ে বিগত ২০ আগস্ট ২০২৫ তারিখে উক্ত বিতর্কিত শিক্ষককে পুনরায় নিয়োগ দান করেন। এরপর স্থানীয় সাংবাদিক মাহফুজুর রহমান বিগত ৯ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে মাউশি মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। মাউশি অধিদপ্তর কর্তৃক এসব গুরুতর অভিযোগের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়ায়, মাহফুজুর রহমান হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন (নং- ২০৬১৪/২৫) দাখিল করেন। আদালত ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে এক আদেশে মাউশি ডিজি এবং সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসককে ৩০ দিনের মধ্যে আবেদনটি নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বাদী ও জেলা প্রশাসক পৃথকভাবে মাউশি মহাপরিচালককে অনুরোধ জানালেও মাউশির সংশ্লিষ্ট আইন কর্মকর্তা ও শিক্ষা কর্মকর্তার উদাসীনতায় কোনো প্রতিকার মেলেনি। দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর আইনি বাধ্যবাধকতা পূরণে বাদী গত ৬ মে ২০২৬ তারিখে মাউশি মহাপরিচালককে ১০ দিনের সময় দিয়ে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠান।
নোটিশের জবাব না পেয়ে হাইকোর্টে ২১৯/২৬ নম্বর অবমাননা (কনটেম্পট) মামলা দায়ের করা হয়। যার প্রেক্ষিতে গত ২৯ জুন আদালত মাউশি ডিজির বিরুদ্ধে এই রুল জারি করেন।
সুন্দরবন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি ঠিক না। আরিফা এদিব চৌধুরী আদালতের রায় এবং ডিজির রায় নিয়ে আসায় তাকে বহাল করা হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও শিক্ষানুরাগীরা উচ্চ আদালতের এই কঠোর হস্তক্ষেপে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও অনিয়মের অবসান ঘটবে বলে মনে করেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও শিক্ষানুরাগীরা উচ্চ আদালতের এই কঠোর হস্তক্ষেপে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও অনিয়মের অবসান ঘটবে বলে মনে করেন।

