নিজস্ব প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরার দেবহাটায় দলীয় প্রভাব খাটিয়ে কোটি টাকা মূল্যের পৈতৃক সম্পত্তি অবৈধভাবে দখলে রাখার অভিযোগে জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের বিতর্কিত সাংগঠনিক সম্পাদক রওশন আরা রুবি ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী এক প্রবাসী।
সোমবার (৩ আগস্ট, ২০২৬) দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সুলতানপুর এলাকার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে শরিফুল ইসলাম।
লিখিত বক্তব্যে শরিফুল ইসলাম অভিযোগ করেন বলেন, দেবহাটা থানার বালিথা মৌজার ‘ধাপার ঘের’ এলাকায় তাদের ৮.১৫ একর পৈতৃক ও রেকর্ডীয় সম্পত্তি রয়েছে (যার এসএ খতিয়ান নং- ৭৯, ৮০ এবং বিআরএস খতিয়ান নং- ৫৩০, ১৬৯, ১১০)। তিনি বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত থাকার সুযোগে ২০১৮ সালে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে রওশন আরা রুবি, তার ছেলে জায়েদ বিন কাদের ও তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী ওই জমি জবরদখল করে মৎস্য চাষ শুরু করে। ক্ষমতার দাপট ও ভয়ে এতদিন তারা মুখ খুলতে পারেননি।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী আরও জানান, গত ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর তিনি দেশে ফেরেন। গত ৩ জুলাই ২০২৬ সকালে পৈতৃক জমিতে গেলে রওশন আরা রুবি, তার ছেলে জায়েদ বিন কাদের, মাহাফুজ সরদার, বনি আমিন ও আব্দুল আলিমসহ ১০-১৫ জনের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী তাদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেয়।
পরবর্তীতে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হলে দেবহাটা থানাকে বিষয়টি মীমাংসার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে অভিযুক্ত রুবি থানায় উপস্থিত না হয়ে উল্টো হুমকি-ধামকি দিতে থাকেন। এর পর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক, সদস্য সচিব এবং সাতক্ষীরা আদালতের জিপির উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠক ডাকা হলেও সেখানে রুবি চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করে বৈঠক ত্যাগ করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, রওশন আরা রুবি একাধিক বিয়ের মাধ্যমে এবং দলীয় পদ ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তির সম্পদ দখল করে আসছেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও রুবির সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও অবৈধ দখলদারিত্ব এখনো বজায় রয়েছে।
আইন- আদালত ও তোয়াক্কা না করা এই আওয়ামী লীগ নেত্রীর হাত থেকে পৈতৃক সম্পত্তি উদ্ধার এবং তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ও প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারটি।

