সর্বশেষ সংবাদ-
সাতক্ষীরায় একই পরিবারের চার সদস্যকে অজ্ঞান করে সোনার গহনাসহ সাত লাখ টাকার মালামাল চুরিজাকারিয়া হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন: এক সপ্তাহের আলটিমেটামশনিবার নিউমার্কেট চত্বরে মানববন্ধন : জাকারিয়া হত্যার বিচার বাস্তবায়ন কমিটির সভাসব ইউনিয়নে খেলার মাঠ তৈরির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীরসাতক্ষীরায় কলেজ ছাত্র জাকারিয়া হত্যায় গ্রেপ্তারকৃত নাহিদ ও শিপন ৫ দিনের রিমাণ্ডেএবিপার্টি সাতক্ষীরা জেলা শাখার মাসিক মতবিনিময় সভাআশাশুনিতে সুদ কারবারির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনআশাশুনিতে পুলিশের বিশেষ অভিযান ৭ আসামি গ্রেপ্তারদেবহাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী-স্বজনদের ডেঙ্গু বিষয়ে স্বাস্থ্য শিক্ষাসাতক্ষীরায় ডিবি পুলিশের অভিযানে অনলাইন জুয়াচক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার : ৬টি মোবাইল জব্দ

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সাতক্ষীরা সিটি কলেজের অধ্যক্ষ আবু সাঈদসহ ৪ প্রভাষকের নামে দুদকের মামলা

নিজস্ব প্রতিনিধি : প্রতারণা ও জালজালিয়াতির মাধ্যমে কাগজপত্র তৈরি করে চার প্রভাষককে এমপিওভুক্তিকরণের মাধ্যমে ২০ লক্ষাধিক সরকারি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাতক্ষীরা সিটি কলেজের অধ্যক্ষ আবু সাঈদসহ ৪ প্রভাষকের নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত বুধবার দূর্ণীতি দমন কমিশন দুদক এর প্রধান কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক প্রবীর কুমার দাস প্রতিষ্ঠানটির খুলনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে এ মামলা দায়ের করেন।
মামলার আসামীরা হলেন, সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার উত্তর পারুলিয়া গ্রামের দেলবার মৃধার ছেলে সাতক্ষীরা সিটি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক মো: মনিরুল ইসলাম,আশাশুনি উপজেলার নাকতাড়া গ্রামের আব্দুল হামিদ সরদারের ছেলে বর্তমানে শহরের রুসলপুরের বাসিন্দা সিটি কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক এসএম আবু রায়হান,

সাতক্ষীরা সদরের নেবাখালী গ্রামের আব্দুল কাদির এর ছেলে সিটি কলেজের দর্শণ বিভাগের প্রভাষক শেখ নাসির আহমেদ, সদরের গোপীনাথপুর গ্রামের মৃত ধীরেন্দ্র নাথ সরকারের ছেলে সাতক্ষীরা সিটি কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক অরুণ কুমার সরকার এবং আশাশুনি উপজেলার কচুয়া গ্রামের মৃত নুর আলী সরদারের ছেলে বর্তমানে শহরের পলাশপোল মধুমল্যারডাঙ্গীর বাসিন্দা কলেজ শিক্ষাঙ্গনের তথ্য জালিয়াতির নায়ক সাতক্ষীরা সিটি কলেজের অধ্যক্ষ মো: আবু সাঈদ।

অনিয়ম ও দূর্ণীতির মাধ্যমে মোটা অঙ্কের আর্থিক সুবিধা নিয়ে রেজুলেশন জালিয়াতি করে সাতক্ষীরা সিটি কলেজে ২০ শিক্ষক নিয়োগ ও ২১ শিক্ষককে এমপিওভুক্ত করার অভিযোগে ২০১৯ সালের ১৫ আগষ্ট সাতক্ষীরায় এসে তদন্ত শুরু করেন দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক এর প্রধান কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক প্রবীর কুমার দাস। ২০২০ সালের ২২ ডিসেম্বর সাবেক অধ্যক্ষ এমদাদুল হক ও সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সুকুমার দাসকে সাতক্ষীরা এলজিইডি অফিসের রেষ্ট হাউজে ডেকে সিটি কলেজের দূর্ণীতি সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য অবগত হন।
অভিযুক্ত ২১ জন প্রভাষক ও অধ্যক্ষ আবু সাঈদকে গত বছরের ১৭ জানুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত কয়েক দফায় কার্যালয়ে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। নেওয়া হয় তাদের লিখিত জবানবন্দি। পরবর্তীতে
বাংলা বিভাগের প্রভাষক মোঃ মনিরুল ইসলাম, ইংরেজী বিভাগের প্রভাষক এসএম আবু রায়হান,

দর্শণ বিভাগের প্রভাষক শেখ নাসির আহম্মেদ ও হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক অরুন কুমার সরকারের কাগজপত্র জাল বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত হয়।
২০১৯ সালের ২৪ জুলাই দুদকের হটলাইনে শিক্ষক্ষ বিধান চন্দ্র দাসের অভিযোগের পর তদন্ত প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় গত বছরের বছরের ১৭ জানুয়ারি থেকে এ সকল শিক্ষককে তদন্ত কর্মকর্তাদের মুখোমুখি হতে হয়।
অভিযুক্ত চার জন প্রভাষকের অনার্স শাখায় নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য জালিয়াতি করে ডিগ্রীর তৃতীয় শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের জন্য ২০০৯ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর নাম না জানা জাতীয় দৈনিক প্রভাত ও স্থানীয় পত্রদূত পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। সে অনুযায়ি ওই বছরের ২৯ নভেম্বর নিয়োগ কমিটি গঠণ করা হয়। ৪ ডিসেম্বর এক পরিপত্রে উক্ত বোর্ডের মাউশির প্রতিনিধি হিসেবে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ থেকে ২০০৯ সালের ৮ জানুয়ারি এলপিআর এ যাওয়া অধ্যক্ষ সুকুমার দাসকে ও কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি দেখানো হয় যুদ্ধাপরাধী মামলার তৎকালিন জেলে থাকা আসামী মাওলানা আব্দুল খালেক মণ্ডলকে। ওই বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ি ওই চারজন শিক্ষককে ২০০৯ সালের ৬ ডিসেম্বর নিয়োগ চুড়ান্ত করা হয়। যদিও ২০২০ সালের ১২ ডিসেম্বর জাতীয় বিশ্ব^বিদ্যালয়ের এক পরিপত্রে উল্লেখ করা হয় যে ওই চার প্রভাষকের নিয়োগকালিন সময়ে খালেক মণ্ডল সভাপতি ছিলেন না। ২০০২ সালের ২৪ জুন থেকে ২০০৬ সালের ৩ আগষ্ট পর্যন্ত খালেক মণ্ডল সভাপতি ছিলেন।
মামলার বিবরনে জানা যায়, তৎকালিন অধ্যক্ষ মোঃ ইমদাদুল হকের সময়ে ওই চার প্রভাষকের নিয়োগ সংক্রান্ত রেজুলেশন দেখালেও শুধুমাত্র কৃষি ডিপ্লোমার শিক্ষক আবু রায়হানের ২০০৫ সালে ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। অন্য তিন জনের রেজুলেশন তার নয় বলে তদন্তে জানা যায়। ২০২০ সালের ২৮ ডিসেম্বর রুপলী ব্যাংকের সাতক্ষীরা কর্পোরেট শাখা থেকে সিটি কলেজের কর্মকর্তা/ কর্মচারির বেতন তালিকায় অধ্যক্ষ হিসেবে ইমদাদুল হক ও সভাপতি হিসেবে তৎকালিন সাংসদ এমএ জব্বারের সাক্ষর দেখা যায়।
মামলায় আরো উল্লেখ করা হয় ব্যাইনবেস এর তথ্য অনুসারে মোঃ মনিরুল ইসলামের প্রকৃত যোগদানের তারিখ ২০১১ সালের ২০ ডিসেম্বর, এসএম আবু রায়হানের যোগদান ২০০৫ সালের ১৭ মার্চ, মোঃ নাসির আহম্মেদ এর প্রকৃত যোগদানের তারিখ ২০১৬ সালের পহেলা ডিসেম্বর ও অরুন কুমার সরকারে প্রকৃত যোগদানের তারিখ ২০১১ সালের ১৫ ডিসেম্বর। ওইসব শিক্ষকদের যোগদানের তারিখ জালিয়াতি করে মনিরুল ইসলাম ও অরুন কুমার সরকারের যোগদান ২০০৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর, এসএম আবু রায়হান ও মোঃ নাসির আহম্মেদ এর যোগদান ২০০৯ সালের ১৪ ডিসেম্বর দেখানো হয়েছে। মাউশি’র ২০১৮ সালের ৬ সেপ্টেম্বরের পরিপত্রে উল্লেখ করা হয় যে ২০১০ সালের ৪ ফেব্র“য়ারির পূর্বে ডিগ্রী স্তরের নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা এমপিওভুক্ত হতে পারবেন। এই পরিপত্র জারির পরপরই অধ্যক্ষ আবু সাঈদ ওই চার শিক্ষকের তথ্য জালিয়াতি করে এমপিও ভুক্তির জন্য অফলাইনে মাউশি বরাবর আবেদন করেন। এরই আলোকে ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে তারা এমপিওভুক্ত হন। অধ্যক্ষ আবু সাঈদের যোগসাজসে ওই চারজন শিক্ষক ২০১৯ সালের পহেলা ডিসেম্বর থেকে ২০২১ সালের ২৯ আগষ্ট পর্যন্ত বেতনভাতা বাবদ ২০ লাখ ৫৭ হাজার ৩৯৬ টাকা রুপালী ব্যাংক সাতক্ষীরার করপোরেট শাখা থেকে উত্তালন করে আত্মসাৎ করেন।
সাতক্ষীরা জজ কোর্টে দুদকের মামলা পরিচালনাকারি রাষ্ট্রপক্ষের পিপি অ্যাড. আসাদুজ্জামান দিলু বলেন, মামলার কপি তিনি পেয়েছেন। পরবর্তীতে ওই মামলা যথাযথভাবে পরিচালনা করা হবে।#

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে মুদি দোকানে আগুন : ১০লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি

আসাদুজ্জামান ঃ সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে এক মুদি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে তার ১০ লক্ষাধিক টাকারমালামাল পুড়ে ছাই হয়েছে গেছে। সোমবার ভোর ৬টার দিকে উপজেলার কাঁছারীব্রীজ বাজারে শাহিনুর আলমের মুদি দোকানে এ ঘটনটি ঘটে।
দোকান মালিক শাহিনুর আলম জানান, ভোরের দিকে দোকানে আগুন লাগার খবর পেয়ে ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিলে কালিগঞ্জ অগ্নিনির্বাপক অফিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই দোকানের যাবতীয় মালামাল পুড়ে যায়। এতে তার ১০লক্ষাধিক টাকার মালামালের ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি আরো জানান।

কালিগঞ্জ ফায়ার স্টেশন অফিস ইনচার্জ (এসও) বিল্লাল হোসেন মৃধা বলেন, ঘটনাস্থলে পৌছানোর আগেই দোকানের যাবতীয় মুদি মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তিনি আরো জানান, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে এই আগুনের উৎপত্তি হয়েছে। ##

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন সাতক্ষীরার আহবায়ক কমিটি গঠন  

জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) সাতক্ষীরা জেলা শাখার আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। গতকাল মো: আবু সেলিম কে আহবায়ক ও আব্দুল্লাহ আল মিরন কে সদস্য সচিব করে ২১ সদস্য সাতক্ষীরা জেলা কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ হলেন,

যুগ্ম আহবায়ক গোলাম বারী, বিল্পব হোসেন, নাজমুল হোসাইন, সদস্য আবু তাহের, আমিরুল ইসলাম, ইমন হোসেন, মাহবুবুর রহমান বাবলু, অক্কুর গোসাই, রবিউল ইসলাম, শামীম হোসেন, এয়াদুল ইসলাম, রুস্তম বারী, সুজন হোসেন, কামরুল ইসলাম, আনজুয়ারা খাতুন,

শাহিনুর রহমান, লিটন হোসেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় নদীর পাঁড় থেকে ক্ষত-বিক্ষত এক শিশু উদ্ধার

আসাদুজ্জামান : সাতক্ষীরা সদর উপজেলার চরবালিথা এলাকায় মরিচ্চাপ নদীর পাঁড় থেকে ক্ষত-বিক্ষত এক শিশুকে মূমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করেছে স্থানীয়রা। সোমবার দুপুরে তাকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পরে সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।
শিশুটির নাম আলিফ হোসেন ফারহান (০৭)। সে চরবালিথা গ্রামের মঈনুদ্দীন সরদারের ছেলে।
উদ্ধারকারি চরবালিথা গ্রামের আশিকুজ্জামান জানান, আমি মরিচ্চাপ নদীর পাঁড় দিয়ে হেটে বাড়ি ফিরছিলাম। এসময় উপুড় হয়ে শিশুটিকে পড়ে থাকতে দেখি। পরে চিৎ করে দিতেই তাকে চিনতে পারি। তার চোখে ধারালো কিছু দিয়ে খুচিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়েছে। আর ঠোট কেটে ক্ষত-বিক্ষত করা হয়েছে।

তৎক্ষনাৎ তাকে সদর হাসপাতালে নিয়ে আসি।

শিশুটির পিতা মঈনুদ্দীন সরদার জানান, আমার প্রথম স্ত্রী শারমীন সুলতানা মারা যাওয়ার পরে শিশু পুত্র ফারহান একই গ্রামে তার নানী সকিনা খাতুনের কাছে থাকত। সৎ মায়ের অত্যাচার ছেলেটাকে যেন সইতে না হয়, সে তার জন্য নানীর কাছে রাখা হয়েছিল।

ফারহানকে হত্যার উদ্দেশ্যে কে এমন ভাবে তাকে রক্তাক্ত জখম করেছে এমন প্রশ্নের জবাবে মঈনুদ্দীন বলেন,

আন্দাজে কার নাম বলব ? তবে শুনেছি ওর মামি রাণী বেগম মাঝে মাঝে তার উপর অত্যাচার করত।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক পারভীন আক্তার জানান, আমরা আশঙ্কা করছি, ফারহানের দুটো চোখই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তার ঠোট,গলা ও গায়ের কয়েক জায়গায় কাটা দাগ রয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কবির জানান,বিষয়টি আমি শুনেছি। অভিযোগ পেলে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।##

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ডা: আ.ফ.ম রুহুল এমপিকে সাতক্ষীরা পৌর শ্রমিকলীগের শুভেচ্ছা

জাতীয় শ্রমিক লীগ সাতক্ষীরা পৌর শাখার পক্ষ থেকে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা: আ.ফ.ম রুহুল এমপিকে ফুলের শুভেচ্ছা প্রদান করা হয়েছে।

১৩ মার্চ রাতে নলতাস্থ ডা: আ.ফ.ম রুহুল এমপির নিজস্ব বাসভবনে উপস্থিত হয়ে এ শুভেচ্ছা প্রদান করেন নেতৃবৃন্দ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক,

জেলা শ্রমিক লীগের সদস্য সচিব মাহমুদুল আলম বিবিসি, পৌর শ্রমিক লীগের সদস্য সচিব মিজানুর রহমান মিজান, সদস্য রাব্বি,সাইদ হোসেন(ভ্যাদল) রুবেল, আক্তার হোসেন, মেহের, বাবু,সহ নেতৃবৃন্দ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
চাম্পাফুল হাই স্কুলে শিক্ষক কর্মচারীদের তান্ডবে সাংবাদিক আহত

আশাশুনি প্রতিনিধি : আশাশুনি উপজেলার সীমান্তে অবস্থিত চাম্পাফুল আপ্রচ মাধ্যমিক বিদ্যাপীঠে শিক্ষক-কর্মচারীদের সন্ত্রাসী তান্ডবে এক সাংবাদিক গুরুতর আহত হয়েছে। আক্রমনকারীরা তাকে রাস্তা হতে সন্ত্রাসী স্টাইলে হাই জ্যাক করে স্কুলের ভিতরে নিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে নির্মম ভাবে পিটিয়ে আহত ও নগদ টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এব্যাপারে আশাশুনি থানায় লিখিত এজাহার দাখিল করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে. চাম্পাফুল হাই স্কুল একটি সুপরিচিত, প্রতিষ্ঠিত ও শিক্ষাদানে অনন্য স্থান অধিকারী বিদ্যালয় হিসাবে সমাদৃত। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদ্যালয়টি সার্বিক দিয়ে খুবই আলোচিত, সমালোাচিত, দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ মাথায় নিয়ে খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে বলে অভিভাবক মহল,

শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিবর্গ, স্কুলের সাথে দীর্ঘদিন জড়িত গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও এলাবাসী জানান। বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে চরম ভাবে লাঞ্চিত করে অফিস কক্ষ দখল করা, প্রধান শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ মামলার পর মামলা, পাল্টা মামলা, কমিটি গঠনে নিয়ম অমান্যের ঘটনা, শিক্ষকদের বেতন ভাতা ও ক্লাশ পরিচালনা নিয়ে জটিলতা ও বালখিল্যতাসহ অসংখ্য অভিযোগের কারণে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুলের ব্যাপারে অনীহা, অনাগ্রহতা ও পারস্পরিক হীনমন্যতা বিরাজ করছে।
ফলে বিদ্যালয়টি বর্তমানে মামলা, হামলা, একে অন্যের বিরুদ্ধে বিষোদগার করা ও ক্লাসের পরিবর্তে পরচর্চা ও পরনিন্দা নিয়ে ব্যাপক আলোচনার অভিযোগ রয়েছে জনমনে। ফলে স্কুল পরিচালনার ক্ষেত্রে স্বাভাবিক ভাবে অনিয়ম ও দুর্নীতি পরায়নার অভিযোগ রয়েছে। এমনই একটি অভিযোগ বাস্তবে প্রমানিত হয়েছে, রবিবার (১৩ মার্চ)। চাম্পাফুল গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে একজন রড সিমেন্ট ব্যবসায়ী ও জাতীয় দৈনিক খুলনা জেলা প্রতিনিধি।

তিনি বাড়িতে এসেছেন কয়েকদিন। ঘটনার সময় তিনি তার শ্যালিকা (পিং আঃ লতিফ, গ্রাম ধান্যহাটি) সুরাইয়া খাতুনের এসএসসি পরীক্ষার মার্কসীটি আনতে স্কুলে গমন করেন। তখন ইয়াছিন আলি বিদ্যুৎ ৩০০ টাকা দাবী করেন। তিনি টাকা দিয়েজানতে চান কিসের জন্য টাকা নিলেন? এনিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ধর তোর টাকা লাগবে না বলে টাকা ফেরৎ দেন।

এক পর্যায়ে তিনি স্কুল থেকে গেটের বাইরে গিয়ে জনৈক সাইদ পাড়ের চায়ের দোকানের সামনে গেলে বিদ্যুৎ, সবুর গাজী, আবু হাসানসহ আরও ২/৩ জন রাস্তায় গিয়ে সাংবাদিককে জামার কলার ধরে সন্ত্রাসী স্টাইলে টানতে টানতে স্কুলের মধ্যে নিয়ে গেট বন্ধ করে দেয়। এরপর অফিস কক্ষে নিয়ে গলায় রশি দিয়ে শ্বাস আটতে হত্যার চেষ্টা, লোহার রড দিয়ে পায়ের হাটুতে আঘাত করে জখম করা, জামার পকেটে থাকা ৩০ হাজার ৫০০ টাকা ও একটি অপ্পো ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। তারাসহ অজ্ঞাতনামা আসামীদের মারপিটে তিনি চিৎকার করতে থাকলে এবং রাস্তা থেকে চরম অপমানজনক ভাবে ভিতরে নেওয়ার ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে স্বাক্ষীরা ভিতরে ঢুকে তাকে উদ্ধার করেন।
ঘটনাস্থলে গেলে চা ব্যবসায়ী সাইদ পাড়, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি মনিরুল ইসলামসহ স্থানীয় বহু মানুষ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বিস্তারিত তথ্য সাংবাদিকদের কাছে জানান। এব্যাপারে প্রধান শিক্ষক আঃ হামিকসহ স্কুলের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে মোবাইলে কথা বলা হলে তারা বর্তমানে বাইরে আছেন, পরে কথা বলবেন বলে জানান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
নিত্যপণ্যের দাম রোজার আগেই লাগামহীন

অর্থনীতির খবর: ‘একে তো নাচনি বুড়ি তার ওপর ঢাকের বাড়ি’ প্রবাদটি যেন এখন নিত্যপণ্যের দামের ক্ষেত্রে পুরোপুরি মানানসই। করোনার অজুহাতে দীর্ঘদিন ধরেই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে চাল, ডাল, তেল, চিনিসহ নিত্যপণ্য। এর সঙ্গে এখন যুক্ত হয়েছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। এ অবস্থায় আসছে রমজান উপলক্ষে নতুন করে বেড়েছে আলু, ছোলা, খেজুর, আদা, রসুনসহ বিভিন্ন মসলার দাম, যা স্বল্প আয়ের মানুষদের ভোগান্তি আরও বাড়াবে বলেই আশঙ্কা।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেকদিন ধরেই চাল, তেল, চিনির দাম বাড়তি। পাশাপাশি আটা, ময়দার দামও বেড়েছে সম্প্রতি। রোজার মাসে যেসব পণ্য বেশি ব্যবহৃত হয়, গত ১৫ দিনে সবগুলোর দাম বেড়েছে। সামনে দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে রোজার মাসে ক্রেতাদের কিছুটা স্বস্তি দেওয়ার লক্ষ্যে সয়াবিন তেল, চিনি ও ছোলা আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। পাশাপাশি রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সহনীয় রাখতে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে তেল, চিনি, ছোলা ও মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

এর মধ্যে এক কোটি ৭১ লাখ ১৫ হাজার ৬৫২ লিটার সয়াবিন তেল, ১৪ হাজার টন চিনি, ১০ হাজার টন ছোলা এবং ১৯ হাজার ৫০০ টন মসুর ডাল ক্রয়ের চারটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৯১ কোটি ১১ লাখ ৭৯ হাজার ৫৩৬ টাকা।

তবে সরকারের এ উদ্যোগ রোজার মাসে ক্রেতাদের কতটা স্বস্তি দিতে পারবে তা এখন দেখার বিষয়। কারণ সরকারি প্রতিষ্ঠান টিসিবির তথ্যে উঠে এসেছে গত এক সপ্তাহে চাল, আটা, ময়দা, পাম অয়েল, মসুর ডাল, ছোলা, আলু, শুকনা মরিচ, আদা, দারুচিনিসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রোজায় বহুল ব্যবহৃত পণ্য খেজুর ও ছোলার দাম গত কয়েকদিনে বেড়েছে। খুচরা পর্যায়ে ছোলার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকা, যা কয়েকদিন আগে ছিল ৭০-৭৫ টাকা। অর্থাৎ ছোলার দাম এরই মধ্যে কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে।

এ বিষয়ে মালিবাগ হাজীপাড়ার ব্যবসায়ী মো. আফজাল বলেন, রোজা উপলক্ষে এরই মধ্যে সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। গত কয়েকদিনে ছোলার দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। আমাদের ধারণা শবে বরাতের পর পরই ছোলার দাম আরও বাড়তে পারে।

ছোলার দামের বিষয়ে রাজধানীর মৌলভীবাজারের ব্যবসায়ী শফি মাহমুদ বলেন, আমাদের দেশে ছোলাসহ যেসব ডাল ব্যবহার করা হয়, তার বেশিরভাগই আমদানি করা। দেশের ভেতরে খুবই সামান্য পরিমাণ উৎপাদন হয়। সম্প্রতি ছোলাসহ বিভিন্ন ডালের আমদানি ব্যয় বেড়ে গেছে। এ কারণে দাম একটু বেড়েছে।

তিনি বলেন, ছোলাসহ অন্যান্য ডালের দাম বাড়ার ক্ষেত্রে আমাদের কোনো হাত নেই। কারণ অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, নেপাল, মিয়ানমার, তুরস্ক ও ভারত থেকে আমদানি করা ছোলাসহ অন্যান্য ডাল চট্টগ্রাম বন্দর থেকে খালাস হয়ে প্রথমে খাতুনগঞ্জ বাজারে যায়। সেখান থেকে আসে মৌলভীবাজারের ব্যবসায়ীদের কাছে। খাতুনগঞ্জ দাম বাড়ালে আমাদের এখানে অটোমেটিক দাম বাড়ে। একইভাবে খাতুনগঞ্জে দাম কমলে ঢাকার বাজারেও কমে যাবে।

এদিকে কয়েকদিন আগে খুচরা পর্যায়ে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা বিক্রি হওয়া নিম্নমানের খেজুরের দাম বেড়ে এখন ২০০ থেকে ২৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি মানের খেজুর বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি, যা কিছুদিন আগে ছিল ২২০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে। আর ভালো মানের খেজুরের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ থেকে ৮০০ টাকা। কিছুদিন আগে এই খেজুরের দাম ছিল ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকার মধ্যে।

খেজুরের দামের বিষয়ে খিলগাঁওয়ের ব্যবসায়ী মো. মিলন বলেন, আমরা সারাবছর খেজুর বিক্রি করি। খেজুরের দাম প্রায় এক বছর ধরে কম ছিল। তবে এখন বাড়তে শুরু করেছে। কিছুদিন আগে আমরা যে খেজুর ৪০০ টাকা বিক্রি করেছি, তা এখন ৫৫০ টাকা বিক্রি করতে হচ্ছে। কারণ আড়তে খেজুরের দাম বেড়ে গেছে। রোজাকেন্দ্রিক খেজুর এখনো বিক্রি শুরু হয়নি, কিন্তু এখনই দাম বেড়ে গেছে। সামনে বিক্রি বাড়লে দাম আরও বাড়বে এটাই স্বাভাবিক।

এ বিষয়ে বাদামতলী ফলের আড়তের ব্যবসায়ী মো. সুমন বলেন, আমরা ছোট ব্যবসায়ী। এখানে খেজুরের দাম নির্ভর করে কিছু বড় ব্যবসায়ীদের ওপর। তারাই খেজুর আমদানি করেন। আমরা তাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করি। তবে শুধু খেজুর না, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে এখন আমদানি করা সব পণ্যের দাম বেশি। রমজানে দাম আরও বাড়তে পারে। কারণ আমদানি করা যেসব পণ্য রমজানে আমাদের বাজারে এসে পৌঁছাবে, তার সবগুলোর আমদানি খরচ বেশি পড়বে।

ছোলা, খেজুরের পাশাপাশি দাম বাড়ার তালিকায় রয়েছে রসুন, আদা, হলুদসহ বিভিন্ন মসলা। কিছুদিন আগে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া দেশি রসুনের দাম বেড়ে এখন ৬০ থেকে ৭০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আমদানি করা রসুনের দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা, যা কয়েকদিন আগে ছিল ১০০ থেকে ১২০ টাকা।

একইভাবে দেশি আদার কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৩০ টাকা, যা কয়েকদিন আগে ছিল ৬০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে। জিরার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, যা কিছুদিন আগে ছিল ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে। হলুদ গুঁড়ার (খোলা) কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৪০ টাকা, যা আগে ছিল ১৫০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে। কিছুদিন আগে ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া শুকনা মরিচের দাম বেড়ে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

দাম বাড়ার এ তালিকায় রয়েছে আলুও। কিছুদিন আগে ১৫ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া আলুর দাম বেড়ে এখন ২০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া তেল ও চিনি আগে থেকেই বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। এক কেজি চিনি কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ৮৫ টাকা। খোলা সয়াবিন তেলের কেজি ১৯০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না।

রোজা উপলক্ষে কারওয়ানবাজারে কেনাকাটা করতে আসা মো. আসাদুল ইসলাম বলেন, এখনই সবকিছুর দাম বাড়তি। রোজার আগে আরও দাম বাড়বে এমন আশঙ্কায় আছি। তাই একটু আগেই রোজার কেনাকাটা করে রাখছি। কারণ আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা তো ভালো না। এর আগে দেখেছি মুনাফালোভী এক শ্রেণির ব্যবসায়ী রোজা উপলক্ষে বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়িয়েছেন। এবারও সেসব পণ্যের দাম আরও বাড়বে না, সেই নিশ্চয়তা কে দেবে?

তিনি বলেন, জিনিসপত্রের যে দাম তাতে কেউ স্বস্তিতে নেই। চাল, ডাল, তেল, চিনির যে দাম তাতে অধিকাংশ মানুষ সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। উচ্চবিত্ত ছাড়া কোনো শ্রেণি-পেশার মানুষ ভালো নেই। টিসিবির ট্রাকের দিকে তাকালেই বোঝা যায় মানুষ কত কষ্টে আছে। হাজার হাজার মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে টিসিবির পণ্য কিনছে। কষ্টে না থাকলে কেউ এভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে পণ্য কিনতো না।

মতিঝিলে কথা হয় রিকশা চালক মো. জয়নালের সঙ্গে। তিনি বলেন, এখন আমাদের জন্য কোনোরকম খেয়ে-পরে বেঁচে থাকাই বড় বিষয় হয়ে দেখা দিয়েছে। রোজা নিয়ে ভাবার সময় কোথায়। এখন দু’বেলার বেশি খাই না। রমজানেও কোনো রকমে সেহরি খেয়ে রোজা রাখবো। আর ছোলা-মুড়ি দিয়ে ইফতারি সেরে নেবো।

চাল, আটার দাম আরও বেড়েছে দীর্ঘদিন ধরেই চড়া দামে বিক্রি হওয়া চাল ও আটার দাম নতুন করে আরও বেড়েছে। গত এক সপ্তাহে চালের দাম কেজিতে তিন থেকে ছয় টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এক সপ্তাহ আগে ৬২ থেকে ৬৪ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া চিকন চালের দাম বেড়ে এখন ৬৬ থেকে ৭০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। মোটা চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৪ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৪৮ থেকে ৫০ টাকা। আর মাঝারি মানের চালের দাম বেড়ে ৫৬ থেকে ৬০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৫৪ থেকে ৫৬ টাকার মধ্যে।

অপরদিকে খোলা আটার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪২ টাকা। যা কিছুদিন আগে ছিল ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা। আর ৪২ থেকে ৪৫ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া খোলা ময়দার দাম বেড়ে এখন ৫০ থেকে ৫২ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

চাল, আটা ও ময়দার দাম বাড়ার এ চিত্র উঠে এসেছে সরকারি প্রতিষ্ঠান টিসিবির তথ্যেও। টিসিবি জানিয়েছে, গেলো এক সপ্তাহে চিকন চালের দাম বেড়েছে এক দশমিক ৫৪ শতাংশ। এছাড়াও মাঝারি মানের চালের দাম তিন দশমিক ৭৭ শতাংশ এবং মোটা চালের দাম দুই দশমিক ১৩ শতাংশ বেড়েছে। খোলা আটার দাম বেড়েছে সাত দশমিক ১৪ শতাংশ। একই সঙ্গে খোলা ময়দার দাম এক দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ বেড়েছে।

মধ্য বাড্ডার ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী বলেন, গত কয়েকদিন সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে। রশিদের চাল বস্তায় বেড়েছে ৩০০ টাকা। এভাবে সব কোম্পানির চালের দাম বস্তায় ২০০ থেকে ৩০০ টাকা করে বেড়েছে। এছাড়া আটা, ময়দার দামও গত কয়েকদিনে বেড়েছে। এবছর রমজানে জিনিপত্রের দাম কোথায় গিয়ে ঠেকবে তা জানি না। জিনিপত্রের দাম বাড়ায় শুধু ক্রেতারা নয়, আমরাও কষ্টে আছি। একদিকে আমাদের লাভ কম হচ্ছে, অন্যদিকে বিক্রি কমে যাচ্ছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
রাতারাতি সাতক্ষীরা পৌর ৭ নং ওয়ার্ড আ’লীগ অফিস বিলীন!

নিজস্ব প্রতিনিধি: রাতারাতি শহরের ৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের অফিস বিলীন হয়ে গেছে। শনিবার সকালে হঠাৎ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীরা শহরের ইটাগাছা চিত্ত মোড়ে গিয়ে আ’লীগ অফিসের কোন অস্তিত্ব খুঁজে পায়না। অফিসটি এখন মাটির সাথে মিশে গেছে। ৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা জানায়, শুক্রবার রাত ১টার দিকে চিত্ত মোড়ে ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের অফিস নেতাকর্মীরা দেখতে পায়।

ফজরের নামাজের সময় পার্শ্ববর্তী মসজিদের মুসল্লীরা বের হয়ে দেখে আওয়ামী লীগ অফিস বিলীন হয়ে গেছে।

পরে কর্মীরা ওই স্থানে আসলে আ’লীগ অফিসের কোন অস্তিত্বই খুজে পায়না। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন নেতাদের নির্দেশে থানায় এজাহার দায়ের করেছেন ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কর্মী আসাদুজ্জামান লাভলু।
এবিষয়ে ৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম জানান, শহরের ইটাগাছা চিত্ত মোড়স্থ ৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের একটি দলীয় অফিস ছিল। এ অফিসে নেতাকর্মীদের নিয়ে দলীয় কার্যক্রম সহ দলীয় সকল কার্যক্রম আমরা এখানে পরিচালনা করি। গত শনিবার এখানে এসে নেতাকর্মীদের নিয়ে এখানে আমাদের দলীয় অফিস নিশ্চিহ্ন দেখে হতবাগ হয়ে পরি।

পরবর্তীতে নেতাকর্মীরা বিভিন্ন খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারে পৌরসভার কর্মচারীরা এ অফিস ভাঙচুর করে কে বা কার নির্দেশে কোথায় নিয়ে গেছে। স্থানীয়রা জানায়, ৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি তার বাসায় মালামাল গুলো নিয়ে রেখেছে। বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের জন্য জেলা আওয়ামী লীগ, পৌর আওয়ামী লীগ সহ সকল নেতৃবৃন্দের কাছে আহবান জানিয়েছেন। ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সুব্রত বিশ্বাস জানান, শহরের ৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের বেহাল দশা দীর্ঘদিন ধরে শুনে আসছি। ৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের আবার সুসংগঠিত করার লক্ষে আমি আওয়ামীলীগের সভাপতি পদে ঘোষণা দিয়েছি। তবে দলীয় অফিস কারা ভেঙেছে কেন ভেঙেছে তা তদন্ত করে পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রশীদ জানান, শনিবার রাত ১টা পর্যন্ত ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম সহ ৮/১০ জন নেতাকর্মী অফিসে ছিলাম। তখনো অফিস ঠিক ছিলো।

সকালে এসে দেখি অফিসের কোন অস্তিত্ব নেই। এ বিষয়ে ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন কালু জানান, ৪/৫বছর পূর্বে বাঁশ খুটি দিয়ে আমি কার্যালয়টি নির্মান করি। জায়গাটি রোডসের। রোডস কর্তৃক স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার মাইকিং করলে কার্যালয়টি অন্যত্র স্থানান্তরিত করার জন্য আমি নিজ দায়িত্বে অফিসটি সরিয়ে নিয়েছি। তবে পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ নাসেরুল হক ও সাধারণ সম্পাদক সাহাদাৎ হোসেন জানান, ‘এটি একটি স্পর্শকাতর বিষয়। এ বিষয়ে আমরা এজাহার দায়ের করেছি। এ চক্রান্তের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest