সর্বশেষ সংবাদ-
সাতক্ষীরায় কৃষকের ছেলে সহকারী সিভিল জজ, আনন্দে ভাসছে পরিবার ও গ্রামঝাউডাঙ্গা কলেজে একাদশ শ্রেণির নবাগত শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ৫০তম জাতীয় দাবা ‘বি’ বাছাই না করিয়ে খেলোয়াড় পাঠানোর পায়তারা: সাতক্ষীরায় সংবাদ সম্মেলনসাতক্ষীরায় প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দের সাথে জেলা যুবদলের নবগঠিত কমিটির শুভেচ্ছা বিনিময়৬ লাখ মানুষের জলাবদ্ধতা নিরসনে টিআরএম চান সাতক্ষীরার যুবরাসাতক্ষীরায় এবি পার্টির আহ্বায়ক কমিটি গঠন: আহ্বায়ক শাকিল, সদস্য সচিব শাহীনসাতক্ষীরায় রিইবের সিএসও’র ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিতসাতক্ষীরায় চাঁদা না পেয়ে নির্মাণাধীন বাড়ি ভাংচুর ও মারপিট: গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলনআশাশুনিতে পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে ইজিবাইকের ওপর: অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন পথচারীসাতক্ষীরায় উপজেলা পর্যায়ে তৃণমূল জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি সমাবেশ

মাশরাফির যে কয়টা খেলা আছে সবগুলো খেলবে: পাপন

অনলাইন ডেস্ক: বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন জানিয়েছেন, সবকিছু ঠিক থাকলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজটিতে মাশরাফি খেলবেন বলেই তার বিশ্বাস। শনিবার এশিয়ান ক্রিকেট কাউ্ন্সিলের (এসিসি) সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মঙ্গলবার রাতে দেশে ফেরার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংবাদ মাধ্যমকে তিনি একথা জানান।

এসময় তিনি বলেন, “আমার সাথে তার যে কথা হয়েছে, তাতে তার যখন খেলা থাকবে সে খেলবে। ওর কাছে এখনো ক্রিকেটই আগে এবং আমাদের কাছেও। আমি আগে যা বলে দিচ্ছি এটা যে হুবহু হবেই সেটা ঠিক না। ও নিজেও বলছে খেলবে। হয়তো একটা ম্যাচ খেলতে পারবে না। তবে আমরা মনে প্রাণে বিশ্বাস করি ওর যে কয়টা খেলা আছে সবগুলো খেলবে। এটাই হলো আমাদের বিশ্বাস। এরপর সামনে কি হয় দেখা যাবে।”

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে মাঠে গড়াচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্ট। এরপর ঢাকায় দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট ম্যাচটি হবে ৩০ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর। তারপরেই শুরু হবে ওয়ানডে যুদ্ধ।

কিন্তু দরজায় কড়া নাড়ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনও। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নড়াইল ২ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার লক্ষ্যে মনোনয়ন সংগ্রহের পর মিরপুর হোম অব ক্রিকেটে দেখা যায়নি টাইগার ওয়ানডে দলপতি মাশরাফি বিন মুর্তজাকে। বিগত দিনে সিরিজ শুরুর আগে ব্যক্তিগত অনুশীলনে ব্যস্ত সময় কাটাতে মাশরাফিকে দেখা গেলেও এবার এখন পর্যন্ত অনুশীলনে ঘাম ঝড়াচ্ছেন না তিনি। যার ফলেই প্রশ্ন উঠছে, ক্যারিবীয়ানদের বিপক্ষে ৯ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া ওয়ানডে সিরিজে মাশরাফি নামছেন কিনা?

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ঝিনাইদহের জঙ্গি আস্তানায় অভিযান সমাপ্ত, আটক ১

দেশের খবর: ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের কালুহাটি গ্রামের জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালিয়ে একজনকে আটক করেছে র‌্যাব। তার নাম আখতারুজ্জামান সাগর (২০)। তিনি জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সদস্য।
এসময় একটি ডামি বন্দুক ও কিছু জিহাদি বই উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
বুধবার ভোর সাড়ে চারটা থেকে সদর উপজেলার ওই বাড়িটি ঘিরে রাখে র‌্যাব। পরে সেখানে অভিযান চালানো হয়। সকাল পৌনে ৯টার দিকে অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করেন খুলনা র‌্যাব-৬ এর অধিনায়ক হাসান ইমন আল রাজিব।
তিনি জানান, কালুহাটি গ্রামে সরাফত হোসেনের বাড়িতে অভিযান চালায় র‍্যাব সদস্যরা। সেখান থেকে সাগরকে আটক করা হয়। সে দুই বছর আগে জেএমবির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
জাবি অধ্যাপকের কাণ্ড, ছাত্রীকে ৩০ নম্বরে দিয়েছেন শূন্য

অনলাইন ডেস্ক: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) গণিত বিভাগের অধ্যাপক জেসমীন আখতার এক ছাত্রীর প্রতি রাগ করে তাকে ‘টিউটোরিয়াল পরীক্ষা ও ক্লাস উপস্থিতিতে শূন্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ভূক্তভোগী ছাত্রী স্নাতক (সম্মান) চতুর্থ বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছেন। ভূক্তভোগী ওই ছাত্রীর নাম মুক্তা বিশ্বাস।

বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ নভেম্বর বিভাগটির ৪৩তম ব্যাচের (২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষ) স্নাতক (সম্মান) চতুর্থ বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়। কিন্তু প্রকাশিত ফলাফলে মুক্তা বিশ্বাস ‘টিউটোরিয়াল পরীক্ষা ও ক্লাস উপস্থিতির ৩০ নম্বরের মধ্যে শূন্য পেয়েছেন।

জানা যায়, ৪৩ ব্যাচের স্নাতক (সম্মান) চতুর্থ বর্ষে ৮টি কোর্স ছিল। এর মধ্যে ৭টি কোর্সে অনেক শিক্ষার্থী ক্লাসে উপস্থিতিতে (একটি কোর্সে উপস্থিতিতে ১০ নম্বর করে) পূর্ণ নম্বর পেয়েছেন। তবে ফ্লুইড মেকানিক্স কোর্সে শতভাগ উপস্থিতি থাকা সত্বেও কেউই উপস্থিতিতে পূর্ণ নম্বর পাননি। এছাড়া ভালো পরীক্ষা দিয়েও অন্যান্য কোর্সের তুলনায় এই কোর্সটিতে প্রায় সব শিক্ষার্থী টিউটোরিয়ালে কম নম্বর পেয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের দাবি, কোর্স শিক্ষক অধ্যাপক জেসমীন আখতার ‘ব্যক্তিগত ক্ষোভ’ থেকে সবার নম্বর কমিয়ে দিয়েছেন। এমনকি তিনি এ কারণে মুক্তা বিশ্বাসকে টিউটোরিয়াল পরীক্ষায় ও ক্লাসে উপস্থিতিতে মোট ৩০ নম্বরের মধ্যে শূন্য দিয়েছেন। যে কারণে মুক্তা বিশ্বাস স্নাতক (সম্মান) চতুর্থ বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অন্যান্য কোর্সে কৃতকার্য হলেও এই কোর্সটিতে অকৃতকার্য হয়েছেন।

এদিকে ওই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে বিভাগটির আরও কয়েক ব্যাচের শিক্ষার্থীরাও উপস্থিতির ক্ষেত্রে ও টিউটোরিয়াল পরীক্ষায় ‘ইচ্ছাকৃতভাবে’ নম্বর কমিয়ে দেয়ার অভিযোগ করেছেন।
এসব বিষয়ে অধ্যাপক জেসমীন আখতারের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘এটা একটা মিসটেক। আমি ইতিমধ্যে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকে সংশোধনী পাঠিয়ে দিয়েছি। আশা করছি সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’
নাম্বার কম দেয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে এর আগে কখন নম্বর কম দেয়ার অভিযোগ শুনি নাই। এই প্রথম এমন অভিযোগ শুনলাম। আমি বরাবরই বেশি নম্বর দিয়ে থাকি।’
মুক্তা বিশ্বাসের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘সে ক্লাসে অন্যের হয়ে উপস্থিতি দিয়ে দেয়। আমি এ ধরনের অন্যায় সহ্য করতে পারি না। তারপরও তো শিক্ষার্থীরা অন্যের হয়ে উপস্থিতি দিয়ে দেয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকে ফলাফল জমা দেয়ার পর মুক্তা আমার সাথে যোগাযোগ করে। তাই এমন ভুল হয়েছে।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ঐক্যফ্রন্টের হয়ে নির্বাচনে আসছেন সুশীলরা!

দেশের খবর: জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের হয়ে নির্বাচনে সুশীলদের অংশ নেয়ার ব্যাপারে অধিক সতর্ক অবস্থানে গণফোরাম। সুশীল ও নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ গণফোরামে অংশ নিচ্ছে- এমন প্রচার রয়েছে রাজনীতি ও গণমাধ্যমে। নির্বাচনে সুশীলদের মধ্যে কে কে অংশ নিতে পারেন, তা আপাতত গোপন রাখতে চাইছে দলটি।

এ প্রসঙ্গে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফা মহসিন মন্টু বলেন, ‘আমরা পরিবর্তনের প্রতিজ্ঞা করে জোট করেছি। আমরা চাই সমাজের অধিক জনপ্রিয় ও ক্লিন ইমেজের ব্যক্তিরা আমাদের আহ্বানে সাড়া দিক। তবে সুশীলদের বিষয়ে বিস্তারিত বলার সময় এখনও আসেনি।’

সম্প্রতি ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়া। তিনি হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হতে চান। অপরদিকে সোমবার গণফোরামে যোগ দেন সাবেক ১০ সেনা কর্মকর্তা। এরপর সুশীলদের নির্বাচনে আসার বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়।

তবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সুশীলদের নাম জুড়ে দেয়ার বিষয়টি সরকারের কৌশল হতে পারে- এমনটি মনে করছেন কেউ কেউ। বিশেষ মুহূর্তে নির্বাচনকালীন সরকারে যাতে সুশীলরা ভূমিকা রাখতে না পারেন অথবা ঐক্যফ্রন্টের হয়ে কোনো ভূমিকা রাখতে না পারেন- সেজন্য এমন পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে, এমন অভিযোগও কারও কারও।

সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী রিজওয়ানা হাসান, এমন গুঞ্জনও তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে কথা হয় তার সঙ্গে। বলেন, ‘যেকোনো ব্যক্তিকে নিয়ে অন্য কেউ অভিপ্রায় ব্যক্ত করতেই পারেন। আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করি, তা কেউ প্রত্যাশা করতেই পারেন। কিন্তু নির্বাচনে অংশ নেব কি নেব না, তা আমার অভিপ্রায়।’
তিনি বলেন, ‘আমি কখনও নির্বাচন করার ইচ্ছা পোষণ করিনি। আমার কাছে কোনো সংগঠনের পক্ষ থেকেও নির্বাচন করার প্রস্তাব আসেনি। নির্বাচন নিয়ে আমার নাম প্রচার পাওয়া রহস্যই মনে হচ্ছে।’

নির্বাচনে অংশ নিতে কোনো দল থেকে প্রস্তাব আসলে সাড়া দেবেন কিনা- জবাবে রিজওয়ানা বলেন, ‘নির্বাচনে অংশ নেয়ার ক্ষেত্রে আমার কোনো আগ্রহ নেই।’
এবারের নির্বাচনে সুশীলদের পাশে চাইছেন ড. কামাল হোসেন। তাদের মধ্যে কারাবন্দি ঐক্যফ্রন্ট নেতা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন, ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান, অ্যাডভোকেট শাহদীন মালিক, মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, সাবেক সেনাপ্রধান হাসান মশহুদ চৌধুরী, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলী খান রয়েছেন।

তবে গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফা মহসিন মন্টু সুশীলদের কারও নাম উল্লেখ না করে বলেন, ‘সরকার নানাভাবে বিতর্ক ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে চাইছে। এ কারণেই আমাদের অধিক সর্তক থেকে এগোতে হচ্ছে। প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করতে আমাদের আরও সময় নিতে হচ্ছে।’
‘তবে গণফোরামের প্রার্থী তালিকায় অবশ্যই চমক থাকবে’- যোগ করেন তিনি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ঝিনাইদহে ‘জঙ্গি আস্তানায়’ র‌্যাবের অভিযান

দেশের খবর: ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের কালুহাটি গ্রামে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে নব্য জেএমবির এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৬। অভিযানে কয়েকটি জিহাদি বই ও একটি রাইফেল উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার সকাল ৮টার দিকে শরাফত হোসেনের বাড়িতে এ অভিযান শুরু করে পৌনে ৯টার দিকে শেষ করা হয়। এর আগে ভোর ৫টা থেকে বাড়িটি ঘিরে রাখে র‌্যাব সদস্যরা।
গ্রেফতার আখতার হোসেন সাগর বাড়ির মালিক শরাফত হোসেনের ছেলে। সে স্থানীয় কালুহাটী দাখিল মাদরাসার এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী।

ঝিনাইদহ র‌্যাব কমান্ডার মাসুদ আলম জানান, তারা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন ঝিনাইদহ সদরের গান্না ইউনিয়নে শরাফত হোসেনের বাড়িতে জঙ্গিরা অবস্থান করছে এমন খবরে ভোরে র‌্যাব বাড়িটি ঘিরে ফেলে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে ৬৬৪ উসকানিদাতা শনাক্ত

দেশের খবর: চলতি বছরের জুলাই-আগস্ট মাসে রাজধানীতে আলোচিত ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলন নিয়ে একটি গোপন প্রতিবেদন তৈরি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এতে ৬৬৪ উসকানিদাতাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৭১ জন শিক্ষক, ৩৪৭ জন শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত ২৪৫ জন রয়েছেন। উসকানিদাতা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত, ছাত্রলীগ, ছাত্রদল এবং ছাত্রশিবিরের নেতা বা এসব দলের মনোভাবাপন্নরা রয়েছেন।

গত ১২ নভেম্বর এই গোপন প্রতিবেদনের একটি কপি সংযুক্ত করে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, চিঠিতে জড়িতদের বিষয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থাসহ বদলির সুপারিশ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ওই চিঠিতে আছে বেশকিছু প্রতিষ্ঠানের নামও। ওসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে চিঠিতে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব সোহরাব হোসাইন বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটা গোপন প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। তবে অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই গোপন প্রতিবেদনে যে ৩৪৭ শিক্ষার্থীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, অন্য দল এবং সাধারণ শিক্ষার্থীও রয়েছেন। এতে বলা হয়, সারাদেশে ছাত্রলীগের ৩৫জন, ছাত্রদলের ৯৭ জন, ছাত্রশিবিরের ৪৯ জন, অন্যান্য দলের ৫৭ জন এবং সাধারণ শিক্ষার্থী ১১৯ জন জড়িত ছিলেন।

প্রতিবেদনে ৭২ শিক্ষকের মধ্যে সারাদেশে আওয়ামী লীগ পন্থী সাতজন, বিএনপির ২৭ জন, জামায়াতের ১৭ জন, অন্যান্য দলের ৯ জন এবং ১২ জন সাধারণ শিক্ষকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত ২৪৫ জনের মধ্যে আওয়ামী লীগের ১২ জন, বিএনপির ১৬০ জন, জামায়াতের ৩৩ জন, অন্যান্য দলের ২১ জন এবং ১৯ জন সাধারণ ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, আন্দোলনে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জড়িত ছিল। এ আন্দোলন যতটুকু না নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছিল, তার চাইতে বেশি ছিল সরকারের পতনের আন্দোলন। গণবিক্ষোভে রূপ দেয়ার নেপথ্যে ছিল ইন্ধন ও উসকানি।

জানা গেছে, আন্দোলন-গণবিক্ষোভের কারণ অনুসন্ধানে এবং কারা জড়িত, কেন জড়িত, এর নেপথ্যে কারা সক্রিয় ছিল ইত্যাদি নিয়ে সরকারের একটি নিরাপত্তা সংস্থা একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রণয়ন করে। প্রতিবেদনটিতে ওই আন্দোলন-গণবিক্ষোভের আদ্যোপান্ত তুলে ধরা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া ওই প্রতিবেদনে, আন্দোলন-গণবিক্ষোভের নেপথ্যে কারা ছিল, তারা কীভাবে ইন্ধন দিয়েছিল, কারা নেতৃত্বে ছিল, কারা গুজব ছড়িয়ে শিক্ষার্থীদের রাজপথে নামিয়েছিল, কারা অর্থ দিয়ে আন্দোলনে সহায়তা করেছিল, তা চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের সুপারিশের আলোকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে বেশকিছু পদক্ষেপ নিলেও শিক্ষার্থী-শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। কিছু শিক্ষার্থীকে শুরুতেই গ্রেফতার করা হলেও পরে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। তবে, তাদের চিহ্নিত ও নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তাদের গতিবিধি লক্ষ্য করা হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা যেহেতু এ আন্দোলনে জড়িত ছিল, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে, প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক যেসব ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে, এর মধ্যে রয়েছে, সরকারবিরোধী বা বিএনপি-জামায়াত মনোভাবাপন্ন শিক্ষকদের সতর্ক করা, অনত্র বদলি করা এবং বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া।
প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যেসব সুপারিশ করা হয়েছে, তার মধ্যে সারাদেশে বিএনপি-জামায়াত নিয়ন্ত্রিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করা এবং প্রাপ্য সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা বন্ধ করা।
এ ব্যাপারে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব সোহবার হোসাইন বলেন, কিছু মহালের উসকানিতেই সারাদেশে এমন আন্দোলন শুরু হয় বলে কয়েকটি সংস্থার তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, আন্দোলনের উসকানিদাতা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে তার আগে আমাদের মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আবারও তদন্ত করা হবে। তদন্তে বিষয়টি প্রমাণিত হলে অপরাধ অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, রাজধানীর শহীদ রমিজ উদ্দিন কলেজের দুই শিক্ষার্থী বাস চাপায় নিহত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৯ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত এই আন্দোলন হয়। রাজধানীতে শুরু হওয়া এ আন্দোলন পর্যায়ক্রমে দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার মুহূর্তে সরকার শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবি মেনে নেয়।

পরবর্তীতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বা পুলিশ ৯৯ জনকে গ্রেফতার করে। এ আন্দোলন নিয়ে দেশব্যাপীই শুধু তোলপাড় হয়নি, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও ওই ৯-১০ দিনের ঘটনাপ্রবাহ বেশ গুরুত্ব দিয়ে প্রচারিত হয়েছিল।
ওই আন্দোলনের পর পুলিশি ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বেশকিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত ও পরিচিত আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়। তিন পাস ১৫ দিন কারাভোগের পর মঙ্গলবার জামিনে মুক্তি পেয়েছেন তিনি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
৬৪ আসনে মনোনয়ন তুলেছে জামায়াত

দেশের খবর: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে এখন পর্যন্ত ৬৪টি আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে জামায়াত।
মঙ্গলবার (২০ নভেম্বর) জামায়াতে ইসলামীর ঢাকার একটি ইউনিটে দায়িত্বপ্রাপ্ত ও ছাত্র শিবিবের সাবেক এক সভাপতি (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) এ তথ্য জানিয়েছেন। জামায়াতের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে কথা বলেও একই তথ্য জানা গেছে।

জামায়াতের মনোনয়ন ফরম তুলেছেন যারা
ঠাকুরগাঁও-২ মাওলানা আবদুল হাকিম, দিনাজপুর-১ মাওলানা মোহাম্মদ হানিফ, দিনাজপুর-৪ মাওলানা আফতাব উদ্দিন মোল্লা, দিনাজপুর-৬ মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম, নীলফামারী-১ মাওলানা আবদুস সাত্তার, নীলফামারী-২ মুক্তিযুদ্ধা মনিরুজ্জামান মন্টু, নীলফামারী-৩ মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম, লালমনিরহাট-১ আবু হেনা মো. এরশাদ হোসেন সাজু, রংপুর-৫ অধ্যাপক গোলাম রব্বানী, কুড়িগ্রাম-৪ আলহাজ মোস্তাফিজুর রহমান, গাইবান্ধা-১ মাজেদুর রহমান সরকার, গাইবান্ধা -২ মাওলানা মো. আবদুল করিম, গাইবান্ধা-৩ মাওলানা নজরুল ইসলাম লেবু, গাইবান্ধা-৪ ডাক্তার আবদুর রহিম সরকার।

জয়পুরহাট-১ ডা. ফজলুর রহমান সাঈদ, বগুড়া-২ অধ্যক্ষ মাওলানা শাহাদাতুজ্জামান, বগুড়া-৪ মাওলানা তায়েব আলী, বগুড়া-৫ আলহাজ দবিবুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ ড. কেরামত আলী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ অধ্যাপক ইয়াহিয়া খালেদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ নুরুল ইসলাম বুলবুল, নওগাঁ- ২ মঈন উদ্দীন, নওগাঁ-৪ খ ম আব্দুর রাকিব, রাজশাহী-১ অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, রাজশাহী-৩ অধ্যাপক মাজিদুর রহমান, নাটোর-১ অধ্যাপক তাসনিম আলম, নাটোর-৪ অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন খান, সিরাজগঞ্জ-৪ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, সিরাজগঞ্জ-৫ অধ্যক্ষ আলী আলম, পাবনা-১ ডা. আবদুল বাসেত, পাবনা-৪ অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল, পাবনা-৫ মাওলানা ইকবাল হুসাইন।

মেহেরপুর-১ মাওলানা তাজ উদ্দীন আহমদ, কুষ্টিয়া-২ আলহাজ আব্দুল গফুর, চুয়াডাঙ্গা-২ মাওলানা রুহুল আমিন, ঝিনাইদহ-৩ অধ্যাপক মতিয়ার রহমান, যশোর-১ মাওলানা আজিজুর রহমান, যশোর-২ আবু সাইদ মুহাম্মদ সাদাত হোসাইন, যশোর-৫ অ্যাড. গাজী এনামুল হক, যশোর-৬ অধ্যাপক মুক্তার আলী, বাগেরহাট-৩ অ্যাডভোকেট আবদুল ওয়াদুদ, বাগেরহাট-৪ অধ্যাপক আবদুল আলীম, খুলনা-৫ অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, খুলনা-৬ মাওলানা আবুল কালাম আযাদ, সাতক্ষীরা-১ অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ, সাতক্ষীরা-২ মুহাদ্দিস আবদুল খালেক, সাতক্ষীরা-৩ মুফতি রবিউল বাশার, সাতক্ষীরা-৪ গাজী নজরুল ইসলাম, পটুয়াখালী-২ ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, পিরোজপুর-১ – আলহাজ শামীম সাঈদী, ময়মনসিংহ-৬ অধ্যাপক জসিম উদ্দিন সরকার, ঢাকা-১৫ ডা. শফিকুর রহমান, মৌলভীবাজার – ১ মাওলানা আমিনুল ইসলাম, সিলেট-৫ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী, সিলেট-৬ মাওলানা হাবিবুর রহমান, কুমিল্লা-৯ এ এফ এম সোলায়মান চৌধুরী, কুমিল্লা-১১ ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের, ফেনী-৩ ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, লক্ষ্মীপুর-২ মাস্টার রুহুল আমিন, লক্ষ্মীপুর-৩ ডা. আনোয়ারুল আজীম, চট্টগ্রাম-১০ আলহাজ শাহজাহান চৌধুরী, চট্টগ্রাম ১৫ আনম শামসুল ইসলাম, চট্টগ্রাম-১৬ মাওলানা জহিরুল ইসলাম, কক্সবাজার-২ হামিদুর রহমান আযাদ।

জামায়াতের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা জানিয়েছেন, দল ও জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জোটবদ্ধ থেকেই নির্বাচনে অংশ নেবেন তারা। শুধু প্রতীকের বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সময় নেয়া হচ্ছে। শিগগিরই দলীয় সর্বোচ্চ ফোরামের বৈঠক হবে। সেখানেই এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ২২২ আসনে প্রার্থী দিয়েছিল। জয়ী হয়েছিল ১৮ প্রার্থী। তবে জামায়াতের জনপ্রিয়তা আগের তুলনায় বেড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, প্রেক্ষাপট বদলেছে। সারাদেশে ৩০০ আসনেই নির্বাচন করার মতো যোগ্য প্রার্থী আমাদের রয়েছে। তবে জাতীয় স্বার্থে এবার আমরা ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারকে হটাতে জোটগতভাবে ঐক্যবদ্ধ থেকে নির্বাচনের অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। জোটগতভাবে নির্বাচন করার কারণে আমরা ছাড়ও দিচ্ছি অধিকাংশ আসনেই। ৬০ আসনে জেতার সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা বিএনপিকে দেয়া হয়েছে। এবার এ নিয়ে আলোচনা হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মহাজোটের প্রার্থী ঘোষণা রবিবারের মধ্যে

দেশের খবর: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে মহাজোটের একক প্রার্থীর নাম আগামী রবিবার বা ২৫ নভেম্বরের মধ্যেই ঘোষণা করা হবে। ইতোমধ্যে ২৩০ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। এখন জোটের শরীক দলগুলোর সঙ্গে আসন ভাগাভাগির বিষয়ে আলোচনা এবং শেষ মুহূর্তের দর কষাকষি চলছে। জানা গেছে, এবার জোট শরিকদের আসন বণ্টন করতে গিয়ে অনেকটা হিমশিম খেতে হচ্ছে আওয়ামী লীগের। ২১টি আসনে আওয়ামী লীগের ও জোট শরিকদের প্রার্থী রয়েছেন। কার প্রার্থী থাকবে, কার প্রার্থী বাদ যাবে— তা নিয়ে এখন শেষ সময়ের হিসাব-নিকাশ চলছে।
২০০৮ সালের মতোই মহাজোট করে এবার নির্বাচনে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। তবে ওই বছরের তুলনায় এবার জোটের আকার অনেক বড়। ১৪ দলীয় জোটের পাশাপাশি জাতীয় পার্টি (জাপা) আছে জোটে। এছাড়া সাবেক রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর যুক্তফ্রন্ট, বিএনপির সাবেক নেতা ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার তৃণমূল বিএনপি, বিএনপির সাবেক শরিক ইসলামী ঐক্যজোটসহ আরও কিছু ধর্মভিত্তিক দলও যুক্ত হচ্ছে আওয়ামী লীগ জোটে। আওয়ামী লীগ প্রার্থী চূড়ান্ত করলেও এখনো দেওয়া হয়নি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। ৬৫ থেকে ৭০টি আসন জোট শরিকদের জন্য ছেড়ে দেওয়া হবে। নতুন দল-জোট শরিকে যুক্ত হওয়ায় আসনের দাবিদার যেমন বেড়েছে, তেমনি দলের নেতারাও যারা নির্দিষ্ট কিছু আসনে কয়েক বছর ধরে তত্পর, সেগুলো ছেড়ে দিতে রাজি হচ্ছেন না। ফলে এসব আসন নিয়ে বারবার আলোচনায় বসতে হচ্ছে। তবে সবাই তাকিয়ে আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের সিদ্ধান্তের ওপর।

সিলেট-৬ আসন থেকে মহাজোটের মনোনয়ন চান বিকল্পধারার নেতা শমসের মবিন চৌধুরী। এ আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হলেন শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ। ময়মনসিংহ-৪ আসনে বর্তমান ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমান নাকি বিরোধী দলীয় নেতা জাতীয় পার্টির (জাপা) রওশন এরশাদকে প্রার্থী করবে মহাজোট— এই প্রশ্ন এখন বড় হয়ে উঠেছে। ২০০৮ সালে বিজয়ী আওয়ামী লীগ আর রওশনকে ছাড় দিতে চাইছে না। আবার রওশনও এই আসন থেকে নিজের শক্তিতে জিতেছেন ১৯৯৬ সালে। সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া চট্টগ্রাম-১ আসনের মনোনয়ন চাইছেন। এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোশাররফ হোসেন বর্তমান সংসদ সদস্য। চট্টগ্রাম-৯ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির (জাপা) জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু। এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের হয়ে নির্বাচন করতে চান চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র প্রয়াত মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। ঢাকা-১৮ আসনে গত দুইবারের সংসদ সদস্য সাহারা খাতুন এবারও ভোটের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে জাতীয় পার্টি (জাপা) আসনটি দলের কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের জন্য চায়।

মহাজোটের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ ঢাকা-১৭ আসন চান। তিনি নিজেই এ আসন থেকে নির্বাচনে লড়তে চান। এ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য মহাজোটের আরেক শরিক বিএনএফের আবুল কালাম আজাদ। এছাড়া এখান থেকেই আবার প্রার্থী হতে চান চলচ্চিত্রের মিষ্টি মেয়েখ্যাত সারাহ বেগম কবরী। লক্ষ্মীপুর-২ আসনে গত নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জাতীয় পার্টি (জাপা) থেকে বিজয়ী হন মোহাম্মদ নোমান। তিনি এবার মহাজোটের প্রার্থী হতে চান। তবে সেখানে আছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক হারুনুর রশিদ। তিনি ওই আসনের সাবেক সংসদ সদস্যও। নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে গত নির্বাচনে জাতীয় পার্টির (জাপা) লিয়াকত হোসেন খোকার বিপরীতে প্রার্থী দেয়নি আওয়ামী লীগ। তবে এবার আসনটি চাইছেন দলের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্য এ এইচ এম মাসুদ দুলাল। সাবেক সংসদ সদস্য কায়সার হাসনাতও সেখানে মনোনয়ন চান।

ঢাকা-৪ (শ্যামপুর-কদমতলী) আসনে জাতীয় পার্টির (জাপা) বর্তমান এমপি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা। ২০০৮ সালে জয়ী সানজিদা খানম এবং প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সহকারী সচিব আওলাদ হোসেন এ আসনে অওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী। ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনে জাতীয় পার্টির (জাপা) এমপি সালমা ইসলাম। প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুল মান্নান খানও এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে আগ্রহী। গত নির্বাচনে আব্দুল মান্নান খানকে হারিয়ে নির্বাচিত হন সালমা ইসলাম। এবারও তিনি জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী হতে চান। তার ছেলে শামীম ইসলাম নৌকা প্রতীকে প্রার্থী হতে মনোনয়ন ফরম ক্রয় করেছেন ঢাকা-১১ আসন থেকে। ঢাকা-৮ (রমনা-মতিঝিল-পল্টন) আসনে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননকে ২০০৮ সাল থেকেই ছাড় দিয়ে আসছে আওয়ামী লীগ। এবার এ আসনে মনোনয়ন চান আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাউছার। নোয়াখালী-৪ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী। তিনি সংগঠন ও জনগণের কাছে বেশ জনপ্রিয়। এ আসন থেকে মহাজোটের মনোনয়ন পেতে চান বিকল্পধারার মহাসচিব আব্দুল মান্নান। ২০০৮ সালের নির্বাচনে মান্নান নোয়াখালীর ওই আসন ছাড়াও ঢাকা-১২ ও লক্ষ্মীপুর-৪ আসন থেকেও ভোট করেন। তবে বিজয়ী হতে পারেননি একটিতেও।

বিকল্পধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি চৌধুরী মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে নির্বাচন করতে চান। এখানে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সুকুমার রঞ্জন ঘোষ। মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে আছেন আরও বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা। নড়াইল-১ আসন থেকে বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া নৌকা প্রতীক চাচ্ছেন। এখানে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য কবিরুল হক মুক্তি। নড়াইল-২ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হিসেবে বাছাই করেছে ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মুর্তজাকে। এই আসনটি গতবার ছাড় দেওয়া হয়েছিল ওয়ার্কার্স পার্টিকে। এবার মাশরাফিকে দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে শরিক দল ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী সেক্রিফাইস করেছেন জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, কথাবার্তা বলেই আমরা দিয়েছি। নেত্রকোনা-৫ আসনে মহাজোটের প্রার্থী হতে চাইছেন জাসদের সহ-সভাপতি লুত্ফা তাহের। এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সংসদ সদস্য ওয়ারেস হোসেন বেলাল। তিনি লুত্ফা তাহেরের দেবর। গত নির্বাচনে ময়মনসিংহ-৮ আসনে ছাড় দেওয়া হয় জাতীয় পার্টির (জাপা) ফখরুল ইমামকে। তাই তার দল আসনটি আবার চাইছে। তবে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুস সাত্তার এবার এ আসনে মনোনয়ন চান। গাজীপুর-৪ আসনে মনোনয়ন চান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি ও গণতন্ত্রী পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক ডা. শহিদুল্লাহ শিকদার। বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় চার নেতার অন্যতম তাজউদ্দীন আহমদ কন্যা সিমিন হোসেন রিমি এ আসনের আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য। তিনি এবারও মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র ক্রয় করেছেন। সাতক্ষীরা-১ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য ওয়ার্কার্স পার্টির মুস্তফা লুত্ফুল্লাহ। এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান। এছাড়া জাতীয় পার্টির (জাপা) শক্তিশালী অবস্থান থাকা রংপুর, গাইবান্ধা, নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রামেও আওয়ামী লীগের একাধিক সংসদ সদস্য জিতে এসেছেন লড়াই করে। কিন্তু সেগুলো জাপা এবার চায়।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মহাজোট মনোনীত প্রার্থীর নাম ২৪ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যেই ঘোষণা করা হবে। দলীয়ভাবে কিছু ঘোষণা হবে না। আগে দলীয়ভাবে ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত ছিল। পরে ১৪ দল, যুক্তফ্রন্ট, জাতীয় পার্টি (জাপা)সহ আমাদের জোট শরিকদের অনুরোধে আমরা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছি। জোটগতভাবে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হবে।’ তিনি বলেন, জোটের শরীকদের ৬৫ থেকে ৭০ টি আসন ছেড়ে দেয়া হবে। এর বাইরে আমরা যাব না।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest