সর্বশেষ সংবাদ-
সাতক্ষীরায় কৃষকের ছেলে সহকারী সিভিল জজ, আনন্দে ভাসছে পরিবার ও গ্রামঝাউডাঙ্গা কলেজে একাদশ শ্রেণির নবাগত শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ৫০তম জাতীয় দাবা ‘বি’ বাছাই না করিয়ে খেলোয়াড় পাঠানোর পায়তারা: সাতক্ষীরায় সংবাদ সম্মেলনসাতক্ষীরায় প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দের সাথে জেলা যুবদলের নবগঠিত কমিটির শুভেচ্ছা বিনিময়৬ লাখ মানুষের জলাবদ্ধতা নিরসনে টিআরএম চান সাতক্ষীরার যুবরাসাতক্ষীরায় এবি পার্টির আহ্বায়ক কমিটি গঠন: আহ্বায়ক শাকিল, সদস্য সচিব শাহীনসাতক্ষীরায় রিইবের সিএসও’র ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিতসাতক্ষীরায় চাঁদা না পেয়ে নির্মাণাধীন বাড়ি ভাংচুর ও মারপিট: গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলনআশাশুনিতে পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে ইজিবাইকের ওপর: অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন পথচারীসাতক্ষীরায় উপজেলা পর্যায়ে তৃণমূল জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি সমাবেশ

শেষ মুহূর্তেও পরিবর্তন হতে পারে আ.লীগের প্রার্থী তালিকা

রাজনীতির খবর: শেষ মুহূর্তেও পরিবর্তন হতে পারে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনোনয়ন তালিকা। ইতোমধ্যেই দলটি প্রার্থী মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছে। এখন জোট, মহাজোটের আসন নিয়ে হিসাবনিকাশ চলছে।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কয়েকজন নেতা এবং সংসদীয় বোর্ডের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিত করতে যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি। দলের প্রার্থী ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে মনোনয়ন চূড়ান্ত করার পরও কোনো কোনো আসন বা প্রার্থী নিয়ে নানা হিসাবনিকাশ করতে হচ্ছে। এমনকি দলের পাশাপাশি নির্বাচনে প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী মনোনয়নের দিকেও নজর রাখা হচ্ছে।

আওয়ামী লীগ যে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করেছে সে তালিকায় বর্তমান এমপিদের মধ্যে থেকে ২০/২৫ জন বাদ পড়েছেন বলে জানা গেছে। বাদ পড়াদের মধ্যে কয়েকজন মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ নেতারাও রয়েছেন। বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে করা জরিপে এদের জনপ্রিয়তার ঘাটতি উঠে আসায় তাদের বাদ দিয়ে নতুন জনপ্রিয় প্রার্থীদের আনা হয়েছে। দলের সংসদীয় বোর্ড কয়েকটি ধারাবাহিক সভা করে প্রার্থী মনোনয়ন চূড়ান্ত করে। তবে জোট মহাজোটের সমীকরণ ও হিসাবনিকাশে এই চূড়ান্ত তালিকায়ও শেষ মুহূর্তে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে।

আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানায়, মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির সঙ্গে আসন ভাগাভাগির বিষয়টি এখনও ঝুলে আছে। জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে সর্বশেষ ৫০টি আসন দাবি করে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে প্রার্থীদের নামের তালিকা পাঠানো হয়েছে। তবে আওয়ামী লীগ ৪০ থেকে ৪৫টি আসন জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিতে চায়।

এ ব্যাপারে জাতীয় পার্টির সঙ্গে দুই-একদিনের মধ্যে বৈঠকের কথা রয়েছে। শেষ পর্যন্ত জাতীয় পার্টিকে কতটি আসন ছাড় দিতে হবে সেটা এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি আওয়ামী লীগ। জাতীয় পার্টির সঙ্গে আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত হওয়ার পরও আওয়ামী লীগের এ তালিকায় পরিবর্তন আসতে পারে।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন আরেক জোট ১৪ দলের সঙ্গেও আসন ভাগাভাগি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এ জোটকে নিয়েও নানা হিসাব করছে দলটি। এর বাইরে মহাজোটের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতা হচ্ছে বিকল্পধারা, জাকের পার্টিসহ কয়েকটি ইসলামি দলের সঙ্গেও। এসব দলকেও দুই-একটি করে আসন ছেড়ে দেওয়ার আলোচনা চলছে। ১৪ দলসহ এসব দলকে ১৫ থেকে ২০টি আসন ছেড়ে দেওয়া হতে পারে।

তবে দলগুলোর আসন ছাড় ১৫টির মধ্যে সীমাবব্ধ রাখার চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ। সেক্ষেত্রে বর্তমানে ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাসদের যেসব আসনে এমপি রয়েছেন তার থেকে এক-দুইজন বাদ পড়তে পারেন। গত নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেওয়ায় আওয়ামী লীগ যে আসনগুলো ১৪ দলের শরিকদের ছেড়ে দেয় এর বাইরেও প্রার্থী হয়ে ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাসদ থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবার সেই অবস্থা নেই। এ কারণে এই দুই দলের আসন কমতেও পারে। তবে দলগুলোর সঙ্গে আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত হওয়ার পর বাড়া-কমা হলে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন তালিকায়ও পরিবর্তন আসতে পারে বলে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সূত্র জানায়।

এবারের নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেওয়ায় এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে মাঠে নামায় নির্বাচন অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে বলে মনে করছে আওয়ামী লীগ। একারণে জোটের ঐক্য ধরে রাখা এবং মহাজোটগতভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। জোটের স্বার্থে সর্বোচ্চ ছাড় দেওয়ার প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা জানান, সারা দেশের ৩০০ আসনের প্রতিটিতেই আওয়ামী লীগ বা জোটের প্রার্থীর কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীর সঙ্গে। ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী তালিকা কেমন হবে, কোন আসনে কাকে মনোনয়ন দিচ্ছে সেটিও পর্যবেক্ষণের বিষয় রয়েছে। এই সার্বিক বিষয় বিচার বিশ্লেষণ এবং পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী শেষ মুহূর্তেও কোনো কোনো আসনে পরিবর্তন আসতে পারে। চূড়ান্ত তালিকা থেকে কেউ কেউ বাদও পড়তে পারেন বা যারা বাদ পড়েছেন তাদের মধ্যে থেকেও কেউ কেউ ফেরত আসতে পারেন। এ কারণেই দলীয় প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হয়নি।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ২৯ নভেম্বর। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ ডিসেম্বর।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আসন ভাগাভাগি নিয়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে বি চৌধুরীর বৈঠক

রাজনীতির খবর: প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিকল্পধারার প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী।

মঙ্গলবার রাত সোয়া ৮টার দিকে বি চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাড়ি গণভবনে ঢোকেন। তিনি সোয়া এক ঘণ্টার মতো ছিলেন সেখানে।

বি চৌধুরীর সঙ্গে ছেলে মাহি বি চৌধুরী ও বিকল্প ধারার মহাসচিব আবদুল মান্নানও ছিলেন।

তবে আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বি চৌধুরী একাই ছিলেন বলে বিকল্প ধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহি জানিয়েছেন।

একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে জোটের নানা মেরুকরণের মধ্যে এই বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে বিকল্প ধারা কিংবা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মাহি সোমবার বলেছিলেন, “মহাজোটের সঙ্গে ঐক্য নিয়ে আমাদের আলোচনা চলছে। হ্যাঁ, আমরা নিশ্চয়ই নির্বাচনে জয়ী হবেন, এমন প্রার্থী তালিকা নিয়েই আওয়ামী লীগের সঙ্গে আলোচনা করব।”

জিয়াউর রহমান বিএনপি গঠনের সময় এই দলের মহাসচিব ছিলেন আওয়ামী লীগের নেতা কফিল উদ্দিন চৌধুরীর ছেলে ডা. বি চৌধুরী।

২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসার পর রাষ্ট্রপতি হন তিনি। এরপর দলে মতদ্বন্দ্বের কারণে তাকে রাষ্ট্রপতির পদ হারাতে হয়েছিল। পরে তিনি বিকল্পধারা বাংলাদেশ নামে নতুন দল গঠন করেন।

রাজনৈতিক মেরুকরণে বিকল্প ধারার পাল্লা এতদিন বিএনপিমনাদের দিকেই ঝুঁকে ছিল। বিএনপিকে নিয়ে কামাল হোসেনের উদ্যোগে গঠিত জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের প্রক্রিয়ায়ও ছিলেন তিনি।

কিন্তু শেষ মুহূর্তে বি চৌধুরী জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন; এরপর আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট থেকে নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়া হয় তার দলের পক্ষ থেকে।

কদিন আগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এক সভায় বলেছিলেন, মহাজোটের শরিকদের ৬৫ থেকে ৭০টি আসন ছেড়ে দিতে পারেন তারা। সেখানে জোটের যোগ্য প্রার্থী থাকলেও আওয়ামী লীগ তাদের দলের নেতাদের মনোনয়ন দেবে না।

এরপর বিকল্প ধারা নিজেদের ‘উইনেবল ক্যান্ডিডেট’র তালিকা তৈরি করছে বলে দলটির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়। এরপরই শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে গেলেন বি চৌধুরী।

বিকল্প ধারা ইতোমধ্যে ২৫ জন প্রার্থীর একটি তালিকা তৈরি করেছে বলে খবর মিলেছে দলটির সভাপতিমণ্ডলীর এক সদস্যের কথায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুত ওই নেতা বলেন, “২৫ জন প্রার্থী থেকে কমপক্ষে ১৫ জনের মনোনয়ন পেতে দর কষাকষি করবে যুক্তফ্রন্ট।”

মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার

বিকল্পধারা ও যুক্তফ্রন্টের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ মঙ্গলবার শুরু করেছেন বি চৌধুরী।

মধ্যবাড্ডায় ট্রপিক্যাল মোল্লা টাওয়ারে বিকল্পধারা ও যুক্তফ্রন্টের অস্থায়ী নির্বাচনী কার্যালয়ে চলছে এই সাক্ষাৎকার গ্রহণ পর্ব।

যুক্তফ্রন্ট জানিয়েছে, মঙ্গলবার পর্যন্ত ১৫৫টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে। তার মধ্য থেকে প্রথম দিনে ২০ জনের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

এদিকে বি চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা আশা করি নির্বাচন  সুন্দর ও সুষ্ঠু হবে। মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে।

“জনগণ নির্বাচন চায়, তারা নির্বাচনমুখী হয়ে গেছে। সেটাকে প্রতিহত বা বাধা দেওয়ার চেষ্টা যদি করে কেউ, সেটা কিন্তু জনবিরোধিতা হবে।”

ইসির উদ্দেশে তিনি বলেন, “সংবিধানে নির্বাচন কমিশনের যে দায়িত্ব দেওয়া আছে, তা বিশাল। আমরা আশা করব, নির্বাচনের দায়িত্ব সম্পর্কে ইলেকশন কমিশন পুরোপুরিভাবে সচেতন। আশা করব, তারা তাদের সেই অধিকার ১০০ ভাগ প্রয়োগ করবেন।”

 

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
তিমির পেটে কাপ, বোতল ও ব্যাগ

বিদেশের খবর: ইন্দোনেশিয়ার ন্যাশনাল পার্কের কাছের উপকূলে ভেসে আসা তিমির পেট থেকে ৬ কেজি প্লাস্টিক বর্জ্য উদ্ধার করা হয়েছে। বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, উদ্ধার করা বর্জ্যের মধ্যে আছে কাপ, বোতল ও ব্যাগ।

সোমবার রাতে ইন্দোনেশিয়ার উপকূলে ভেসে আসে ৩১ ফুট লম্বা একটি তিমি। ঢেউয়ে ভেসে আসা মৃত তিমির পেটে স্যান্ডেল, পানির কাপসহ প্লাস্টিকের বিশাল স্তূপ পাওয়া গেছে। ইন্দোনেশিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ সুলাওয়েসির ওয়াকাতবি ন্যাশনাল পার্কের কাছ থেকে সাড়ে নয় মিটার লম্বা মৃত তিমিটি উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিয়ে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্লাস্টিক দূষণকারী দেশটির পরিবেশবিদ ও সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার এক কর্মকর্তা বলেন, ‘তিমিটির মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া না গেলেও আমরা যা দেখলাম তা সত্যিই উদ্বেগজনক।’

পার্কটির প্রধান হেরি স্যানটোসো বলেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ গ্রুপ ডব্লিউডব্লিউএফ এবং পার্কের সংরক্ষণ অ্যাকাডেমি তিমিটির পেট থেকে পাঁচ দশমিক নয় কেজি প্লাস্টিকের বিভিন্ন জিনিস বের করে। এর মধ্যে ছিল ১১৫টি প্লাস্টিকের কাপ, চারটি প্লাস্টিকের বোতল, ২৫টি প্লাস্টিকের ব্যাগ, দুটি স্যান্ডেল, একটি নাইলনের ব্যাগ। এ ছাড়া হরেক রকম সহস্রাধিক প্লাস্টিকের টুকরাও পাওয়া যায়।

ডব্লিউডব্লিউএফ-ইন্দোনেশিয়ার সমন্বয়ক দাউই সুপ্রাপ্তি বলেন, আমরা তিমিটির মৃত্যুর কারণ শনাক্ত করতে পারছি না। কিন্তু যে বিষয়টি দেখা গেছে, তা খুবই ভয়াবহ। যদি এর মৃত্যুর কারণ এই প্লাস্টিকই হয়, তাহলে কোনোভাবেই এটি উপেক্ষা করা যাবে না।

এ বছরের জানুয়ারিতে সায়েন্স নামক এক জার্নালে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৬ কোটি মানুষের দেশ ইন্দোনেশিয়া চীনের পর বিশ্বে দ্বিতীয় শীর্ষ প্লাস্টিক দূষণকারী দেশ। প্রতিবেদনে বলা হয়, অব্যবস্থাপনার কারণে প্রতি বছর দেশটিতে ৩২ লাখ টন প্লাস্টিক বর্জ্য জমা হয়, যার প্রায় ১৩ লাখ টনের শেষ জায়গা হয় সাগর।

গত মাসে সুইজারল্যান্ডের বেসরকারি দাতব্য সংস্থা দ্য ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ফান্ড ফর ন্যাচারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মানুষের ব্যবহৃত পণ্য ও বর্জ্য নিঃসরণের কারণে ভয়াবহ হুমকির মুখে রয়েছে প্রাণিজগৎ। বিজ্ঞানীদের দাবি ১৯৭০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত শুধু এই কারণেই ৬০ শতাংশ প্রাণী বিলুপ্ত হয়েছে।

গত জুনেও থাইল্যান্ড উপকূলে ভেসে আসা মৃত একটি তিমিরর পেট থেকে ৮০টি প্লাস্টিক ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছিল।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়ালের মুখে মরিচের গুড়া নিক্ষেপ

বিদেশের খবর: দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের পা ছুয়ে প্রণাম করছিলেন ৪০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। আকস্মিক হাতে লুকিয়ে রাখা মরিচের গুড়া কেজরিওয়ালের মুখে ছুড়ে মারেন তিনি। মঙ্গলবার দিল্লি শহরের সবচেয়ে সুরক্ষিত ভবনগুলোর একটি দিল্লি সচিবালয়ে এ ঘটনা ঘটে। খবর এনডিটিভির।

হামলাকারীর নাম অনিল কুমার শর্মা। তাকে ঘটনার পরপরই গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কী কারণে মুখ্যমন্ত্রীর ওপর তিনি মরিচ ছিটিয়েছেন তা জানতে অনিলকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

আম-আদমি পার্টির বিধায়ক অলকা লম্বা জানান, ঘটনার সময় কেজরিওয়াল কেজরিওয়াল একটি বৈঠক শেষ করে দুপুরের খাবার খেতে বের হচ্ছিলেন।

তিনি বলেন, বিজেপির কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন দিল্লির পুলিশের ব্যর্থতার কারণেই এটি ঘটেছে। মুখ্যমন্ত্রী নিরাপত্তা দিতে তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ।

‘বিজেপির নির্দেশে এসব অসামাজিক লোকদেরকে সচিবালয়ে ঢুকতে দিচ্ছে পুলিশ’, অভিযোগ তার।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম গ্রেপ্তার

দেশের খবর: দুর্নীতির মামলায় তিন বছরের কারাদণ্ড পাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সাদা পোশাকের পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া।

সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর বাংলামোটর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে ইউএনবিকে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান। তিনি বলেন, দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি হওয়ায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এর আগে আজ ঢাকার ৬ নম্বর বিশেষ জজ আদালত সম্পদের তথ্য জমা না দেওয়ার মামলায় রফিকুল ইসলামকে তিন বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেন। রফিকুলের আইনজীবীর সময় চেয়ে দায়ের করা আবেদন খারিজ করে দিয়ে আদালতের বিচারক শেখ গোলাম মাহবুব এ আদেশ দেন।

পাশাপাশি বিএনপির সাবেক মন্ত্রী রফিকুল ইসলাম মিয়াকে আদালত ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরো তিন মাসের বিনাশ্রম করাদণ্ডাদেশ দেন।

রায় ঘোষণার সময় আসামি রফিকুল ইসলাম মিয়া আদালতে উপস্থিত না থাকায় বিচারক তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

২০০১ সালে দুর্নীতি দমন কমিশন বিএনপির এই প্রবীণ নেতাকে সম্পদের হিসাব বিবরণী জমা দিতে নোটিশ দিলেও তিনি তা জমা দেননি। পরবর্তীতে ২০০৪ সালের ১৫ জানুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশন কর্মকর্তা লিয়াকত হোসেন রফিকুলকে আসামি করে রাজধানীর উত্তরা থানায় একটি মামলা করেন।

ওই মামলার তদন্ত শেষে একই বছরের ৩০ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দেন দুদকের ওই কর্মকর্তা। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে ২০১৭ সালের ১৪ নভেম্বর বিচার শুরু করে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
অবশেষে আলোকচিত্রী শহিদুল আলম জামিনে মুক্ত

অনলাইন ডেস্ক: তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মামলায় কারাগারে থাকা আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলম জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। মঙ্গলবার রাত ৮টা ২৫ মিনিটের দিকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহবুবুল ইসলাম মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জামিননামায় কিছু ভুল থাকায় তা সংশোধনের জন্য আবারো সিএমএম আদালতে পাঠানো হয়। পরে সংশোধনী হাতে পেয়ে রাতে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

গত ১৫ নভেম্বর বিচারপতি শেখ আবদুল আউয়াল ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর হাইকোর্ট বেঞ্চ শহিদুল আলমের জামিন মঞ্জুর করেন।

উল্লেখ্য, নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনের সময় ৫ আগস্ট শহিদুল আলমকে বাসা থেকে নেওয়ার পর ‘উসকানিমূলক মিথ্যা’ প্রচারের অভিযোগে তথ্য-প্রযুক্তি আইনের মামলায় ৬ আগস্ট রিমান্ডে নেয় পুলিশ। এ মামলায় ৬ আগস্ট সিএমএম আদালতে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
নির্বাচনে সচিবদের মেন্টর হিসেবে নিয়োগ স্থগিত

দেশের খবর: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সচিবদেরকে মেন্টর হিসেবে নিয়োগ স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সাথে রিটার্নিং অফিসারদের সঙ্গে যে কোনো বৈঠকের বিষয়ে সরকারকে সতর্ক করে দিয়েছে ইসি।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের ডেকে বৈঠক করা হয়েছে বলে বিএনপির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারকে এ বিষয়ে সতর্ক করে ইসি।

বুধবার দুপুরে ৫টি বিষয়ে অভিযোগ নিয়ে নির্বাচন কমিশনে আসেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসের আলাল।
পল্টনের ঘটনায় ইসি সচিব হেলালুদ্দিনসহ পল্টন জোনের পুলিশ কর্মকর্মকর্তাদের শাস্তির দাবি জানিয়ে আলাল বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করার জন্য সরকার জেলাগুলোতে সচিব পদমর্যাদার যে উপদেষ্টা নিয়োগ করেছে তা বাতিল করতে হবে।
তফসিল ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে রিটার্নিং অফিসারদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে বলেও অভিযোগ তুলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব।

বেলা শেষে সামগ্রিক বিষয় নিয়ে বৈঠকে বসে ইসি। জানায় সব জেলায় উপদেষ্টা নিয়োগসহ রিটার্নিং কর্মকর্তাদের বৈঠকের বিষয়ে অবগত ছিলো না ইসি। তবে নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে ভবিষ্যতে এ ধরণের কর্মকাণ্ড না করার জন্য সরকারকে চিঠি পাঠানো হচ্ছে বলে জানান ইসি সচিব।

নির্বাচন প্রস্তুতিতে তুমুল ব্যস্ত থাকা নির্বাচন কমিশন এদিন দেশীয় পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছে। তাদের এই বলে সর্তক করে দেয়া হয়েছে যে, নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে কেউ পক্ষপাতমূলক আচরণ করলে নিবন্ধন বাতিল হবে।
এবার নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবে ১১৮টি দেশীয় পর্যবেক্ষক সংস্থা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দুটি কিডনি কেটে ফেলায় মৃত্যু: হাইকোর্টের রুল

দেশের খবর: চলচ্চিত্র নির্মাতা রফিক শিকদারের মা রওশন আরার দুটি কিডনি কেটে ফেলার পর মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারকে কেন কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেনে হাইকোর্ট।
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র এবং রফিক শিকদারের করা রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

এছাড়া রুলে চরম অবহেলা ও অপেশাদারীভাবে রওশন আরার দুটি কিডনি অপসারণ কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং অস্ত্রোপচারে মনোনীত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে পেশাগত অসদাচরণ ও চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ এনে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে কেন বিএসএমএমইউ’র কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

এছাড়াও অস্ত্রোপচার সংস্লিষ্ট চিকিৎসকের পেশাগত নিবন্ধন বা সনদ বাতিলের জন্য বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) কে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।

স্বাস্থ্য সচিব, বিএসএমএমইউ’র পক্ষে উপাচার্য, বিএসএমএমইউ’র ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক মো. হাবিবুর রহমান দুলাল, সহকারী অধ্যাপক ফারুক হোসাইন, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি), পুলিশের মহাপরিদর্শক ও ডিএমপি কমিশনারকে চার সপ্তাহের মধ্যে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আজ আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এম. আসাদুজ্জামান। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. আনিসুল হাসান ও মো. শাহীনুজ্জামান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পূরবী সাহা।

রিটের পক্ষের আইনজীবী আসাদুজ্জামান পরে সাংবাদিকদের বলেন, চিকিৎসক হাবিবুর রহমান লিখিতভাবে অপরাধ স্বীকার করে চুক্তি করেছিলেন যে, নিজ খরচে তিনি কিডনি প্রতিস্থাপন করে দেবেন। কিন্তু তিনি কালক্ষেপণ করেছেন। এবং রওশন আরাকে বিএসএমএমইউ’র আইসিইউয়ের লাইফ সাপোর্ট দিয়ে রাখা হয়। পরে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। রওশন আরার বেলায় যা হয়েছে বা যা ঘটেছে, তা এক কথায় স্বেচ্ছাচারী, অপেশাদারীত্ব ও চিকিৎসায় চরম অবহেলা। এটাকে শুধু মেডিকেল নেগলেজেন্সি বললে কম বলা হবে, দিস ইজ পিওরলি অ্য ক্রিমিনাল অফেন্স।

এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর রওশন আরার কিডনি অপসারণ নিয়ে যুগান্তর পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়। ‘বিএসএমএমইউ: একটি কিডনি ফেলতে গিয়ে দুটিই বাদ!’ শিরোনামের প্রকাশিত সে প্রতিবেদন যুক্ত করে পরে রিট করা হয়েছে। সে রিটের শুনানি নিয়ে আদালত আজ রুল জারি করলেন।

পত্রিকায় প্রকাশিত সে প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ইউরোলজি বিভাগে রওশন আরাকে ভর্তি করা হলে চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে জানতে পারেন তার একটি কিডনিতে ইনফেকশন রয়েছে। কিডনিটির অবস্থা বিবেচনা করে তারা অপারেশন করে সেটি কেটে ফেলে দেয়ার পরামর্শ দেন। সে পরামর্শ অনুযায়ী ৫ সেপ্টেম্বর তার অপারেশন হয়। অপারেশনের পর তাকে পোস্ট অপারেটিভে নেয়া হয়। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে আইসিইউতে নেয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু হাসপাতালের আইসিইউ খালি না থাকায় স্বজনরা রোগীকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান।

সেখানে ইউরোলজি বিভাগের চিকিৎসক পরীক্ষা করে দেখেন রওশন আরার শরীরে কোনো কিডনি নেই। এ কারণে সেখানে চিকিৎসা দিতে অনীহা প্রকাশ করায় তাকে পুনরায় বিএসএমএমইউর ইউরোলজি বিভাগে নেয়া হয়। একই সময়ে আরেকটি বেসরকারি হাসপাতালে রোগীর পরীক্ষা করা হয়। সেখানকার চিকিৎসকরাও জানান, রোগীর শরীরে কিডনির কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে না। এসব রিপোর্ট বিএসএমএমইউর সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের দেখানো হলে তারা বলেন, কিডনি নন ফাংশনিং হলে সেটি পরীক্ষায় ধরা নাও পড়তে পারে।

রওশন আরার ছেলে রফিক শিকদার প্রতিবেদনে বলেন, মায়ের বাম পাশের কিডনিতে ইনফেকশন ছিল। চিকিৎসকরা জানান, এটি ফেলে দিতে হবে। তার বাম পাশের কিডনিটা ফেলে দিলে তিনি সুস্থ থাকবেন। তবে মায়ের ডানপাশের কিডনি ভালো ছিল। এরপর গত ৫ সেপ্টেম্বর বিএসএমএমইউর ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমান দুলালের তত্ত্বাবধানে মায়ের বাম কিডনি অপসারণে অস্ত্রোপচার করা হয়।

‘‘অস্ত্রোপচারের পর পোস্ট অপারেটিভে মাকে নেয়ার কয়েক ঘণ্টা পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা বলেন, তাকে আইসিইউতে নিতে হবে। তখন মায়ের জ্ঞান ছিল, তিনি কথাও বলছিলেন। মাকে দেখে তো মনে হচ্ছল না আইসিইউতে নেয়ার প্রয়োজন আছে। কিন্তু চিকিৎসকরা তাকে আইসিইউতে নেয়ার জন্য চাপ দেন।’’

তিনি বলেন, বিএসএমএমইউর আইসিইউ খালি না থাকায় মাকে রাত ৩টা-৪টার দিকে মগবাজারের ইনসাফ বারাকাহ কিডনি অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে নেয়া হয়। পরদিন ওই হাসপাতালের কিডনি বিশেষজ্ঞ ডা. ফখরুল মাকে ল্যাবএইড হাসপাতালে পরীক্ষার জন্য পাঠান।

‘‘সেখানে সিটি স্ক্যান করার পর ডা. ফখরুল বলেন, আগের কাগজপত্রে দেখা যাচ্ছে তার (রওশন) বাম কিডনি কেটে ফেলা হয়েছে। কিন্তু সিটিস্ক্যান পরীক্ষার পর দেখা যাচ্ছে তার ডান পাশের কিডনিও নেই। এমনকি অপারেশনের পর থেকে তার প্রসাব হয়নি।

এরপর সব রিপোর্ট পর্যালোচনা করে ইনসাফ হাসপাতালের ডা. ফখরুল তার হাসপাতালে মাকে রাখতে অপারগতা প্রকাশ করেন।’’

রফিক শিকদার বলেন, এরপর মাকে আবার বিএসএমএমইউতে নিয়ে গেলে চিকিৎসক অধ্যাপক হাবিবুর রহমান দুলাল অন্য চিকিৎসকদের ভৎসনা করেন।

এ সময় তার কাছে দুটি কিডনি কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক দুলাল জানান, কারও কথায় কান দেবেন না। তার পেটে কিডনি আছে। কিন্তু ফাংশনাল না হওয়ায় পরীক্ষায় ধরা পড়ছে না। বিষয়টি নিয়ে এরপর অন্য চিকিৎসকদের সঙ্গে আলাপ করলে তারা বলেন, দৃশ্যমান জিনিস পেটের মধ্যে থাকলে তা অবশ্যই ধরা পড়বে।

তাই বিষয়টি নিশ্চিত হতে বিআরবি হাসপাতালে অধ্যাপক ডা. এম এ সামাদের কাছে গেলে আল্ট্রাসনোগ্রাম করে তিনিও জানান, মায়ের পেটে কোনো কিডনি নেই।
গত ১২ নভেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইউরোলজিক্যাল সার্জনস (বিএইউএস)।

ওই সংবাদ সম্মেলনে এ ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা উল্লেখ করে এর জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করে সংগঠনের নেতারা বলেন, রওশন আরার দুটো কিডনি একসঙ্গে জোড়া লাগানো থাকায় একটি অপারেশন করতে গিয়ে আরেকটি অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে অপসারণ হয়ে যায়।

‘‘এর আগেও তার কিডনিতে অপারেশন করা হয়েছিল, যার কারণে অপারেশন করতে গিয়ে স্বাভাবিকের চেয়ে বেগ পেতে হয়েছিল। ফলে অপারেশন করতে গিয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবেই ভালো কিডনিটা অপসারণ হয়ে যায়।’’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest