সর্বশেষ সংবাদ-
তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ফেসবুক পোস্ট ঘিরে বিতর্ক, নিন্দা সাংবাদিকদেরইছামতীতে নেই সেই মিলনমেলা : শান্তিতেই শেষ দেবহাটার বিজয়া দশমীদেবহাটায় দুর্গাপূজার নবমীতে বিভিন্ন মণ্ডপ পরিদর্শনে পুলিশ সুপার আশরাফুল আলমআশাশুনিতে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজসাতক্ষীরায় বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করলেন সাবেক মেয়র চিশতিউপকূল পুনরুদ্ধারে ১০ লক্ষ বীজ রোপণ: চারা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগের অঙ্গীকারপ্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত মানতে পারছেন না শ্যামনগরের বিএনপি নেতা আদম আলীএখানে সকল ধর্মের মানুষের সমান অধিকার রয়েছে– এড.সৈয়দ ইফতেখার আলীসাতক্ষীরায় মিষ্টি পানির ছোঁয়া: শ্যামনগরে ঘুচল হাজারো মানুষের পানিকষ্টসাতক্ষীরায় শহরে দুর্গা মন্দির পরিদর্শনে প্রশাসক হাবিব

সাতক্ষীরায় বিবাহের প্রতিশ্রুতিতে শারিরীক সম্পর্ক : প্রতারক মেসবাউল কারাগারে

নিজস্ব প্রতিনিধি : প্রথমে বিবাহের প্রতিশ্রুতিতে একাধিক নারীকে ফুশলিয়ে শারিরীক সম্পর্ক স্থাপন। পরে বিয়ের ভূয়া কাগজপত্র সৃষ্টি করে প্রতারণার ঘটনায় এক যুবককে কারাগারে প্রেরণ করে আদালত। ২৩ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরা আমলী ৮ নং আদালত ওই লম্পট মেসবাউল আলমকে কারাগারে প্রেরণ করে।

মেসবাউল আলম আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর এলাকার আব্দুল মজিদের পুত্র মেসবাউল আলম। সে বুধহাটা বাজারে ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকির শাখা অফিস পরিচালনা করে আসছেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, মেসবাউল আলম বুধহাটা বাজারে ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকির শাখা অফিস পরিচালনার সুবাদে বুধহাটা এলাকার মালেক ঢালীর কন্যা শামীমা ইয়াসমিনের সাথে পরিচয় হয়। একপর্যায়ে পূর্বের স্ত্রী সন্তান থাকার কথা গোপন করে মেসবাউল তার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। কিছুদিন পর বিবাহের প্রতিশ্রুতিতে তার সাথে শারিরীক সম্পর্ক গড়ে তোলে প্রতারক মেসবাউল আলম এবং খুলনায় নিয়ে কিছু কাগজপত্রে স্বাক্ষর করিয়ে বিবাহের নাটক করে। পরে শামীমা তাকে বাড়িতে তোলার জন্য চাপ দিলে সে বিবাহের কথা অস্বীকার করে এবং শামীমাকে পাগল বলে উপহাস করে। এঘটনায় উপায়ন্তর করে ভুক্তভোগী শামীমা ইয়াসমিন আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় মেসবাউল আলম ২৩ সেপ্টেম্বর আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে আদালত তার জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ করেন।
এদিকে একই ভাবে প্রতারক মেসবাউল আশাশুনির শোভনালীর আ: মজিদ পাড়ের কন্যা শরিফাতুন্নেছার সাথেও বিবাহের নাটক করে তার সাথে শারিরীক সম্পর্ক করে। পরবর্তীতে অস্বীকার করে হাকিয়ে দেয়। এঘটনায় উপায়ন্তর হয়ে শরিফাতুন্নেছাও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেন।
এঘটনায় ভুক্তভোগীরা ওই প্রতারক মেসবাউলের কঠোর শাস্তির দাবি করেছেন। যাতে মেসবাউলের মত প্রতারকদের কাছে আর কোন মেয়ে প্রতারিত না হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আন্তর্জাতিক ইশারা ভাষা দিবস ও বধির সপ্তাহ উপলক্ষে সাতক্ষীরায় আলোচনা

আন্তর্জাতিক ইশারা ভাষা দিবস ও বধির সপ্তাহ উপলক্ষে সাতক্ষীরায় আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১ বেলা ১১টায় সাতক্ষীরা জেলা বধির কল্যাণ সংঘের নিজস্ব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন, সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শেখ আফজাল হোসেন।
প্রধান অতিথি ছিলেন, সাতক্ষীরা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো: রোকনুজ্জামান।
উপস্থিত ছিলেন, সাতক্ষীরা জেলা বধির কল্যাণ সংঘের সাধারণ সম্পাদক সুভাষ হালদার, কোষাধ্যক্ষ মো: আলমগীর হোসেন, সাতক্ষীরা বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা আয়েশা আক্তার প্রমুখ।

সভায় বক্তারা বলেন, বর্তমান সরকার প্রতিবন্ধীদের শতভাগ ভাতা প্রদান করে যাচ্ছেন। বধিরদের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি করেছেন। তারা এখন আর সমাজের বোঝা নয়। তারা সম্পদে পরিণত হয়েছে। তাদের আরো এগিয়ে নিতে সরকার বদ্ধ পরিকর। সুতরাং প্রতিবন্ধীদের সমাজিক মর্যাদা নিশ্চিতে কাজ করতে হবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় অসংক্রামক রোগের নিয়ন্ত্রনে স্মারকলিপি প্রদান

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় সেন্টার ফর ল এন্ড পলিসিএফেয়ার্স-সিএলপিএ সহযোগিতায় উন্নয়ন মূলক প্রতিষ্ঠান মৌমাছি, মিডা,সুন্দরবন ফাউন্ডেশন,মৃত্তিকা,প্রভা,সবুজ ফাউন্ডেশনও নারীকন্ঠ’র যৌথ আয়োজনে
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো: নুরুল ইসলাম,জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা,সাতক্ষীরা ক্রিড়া সংস্থার চেয়ারম্যান এর সাথে অসংক্রামক রোগের নিয়ন্ত্রনে স্মারকলিপি জমাদেন এবং সুপারিশ গুলো বাস্তবায়নের জন্য অনুরোধ করেন। বর্তমান সময়ে অতিরিক্ত স্থুলতা,ওজন এবং অপুষ্টি এ সবই অসংক্রামক রোগের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যান্সারের মতো অসংক্রামক রোগগুলো দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। অসংক্রামক রোগ বিশ্বে প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুর অন্যতম কারণ। বর্তমানে বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর ৬৭%-এর কারণ অসংক্রামক রোগজনিত রোগ,জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা,অস্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণের অভ্যাস,তাজাশাক-সবজি-ফল-মূল কম খাওয়া, শরীরচর্চা, ব্যায়াম বা পর্যাপ্ত শারীরিক পরিশ্রমের অভাব,মাদক সেবন এবং ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার,পরিবেশ দূষণ অসংক্রামক রোগ সৃষ্টির অন্যতমকারণ। বাংলাদেশ বিশে^র অন্যতম সবজি এবং ফলমুল উৎপাদনকারী দেশ। সবজি উৎপাদনে তৃতীয় আর মাছ উৎপাদনে বাংলাদশে এখন বিশে^ চর্তুথ অবস্থান। আর এ বাস্তবতায় বাংলাদেশে মানুষের মাঝে ফল ও সবজি কম গ্রহণের প্রবণতা একটি বিস্ময়ের বিষয়।

এসময় মৌমাছি’র নির্বাহী পরিচালক সুশান্ত মল্লিক, মিডা’র নির্বাহীপরিচালক দুলাল চন্দ্র দাশ, সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শেখ আফজাল হোসেন, প্রভা’র নির্বাহী পরিচালক শাম্মী আক্তার কুমকুম,সবুজ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক আয়শা খাতুন,মৃত্তিকা’র নির্বাহী পরিচালক আব্দুস সালাম ও নারী কন্ঠ’র ফিল্ড কোডিনেটর নজিফা খাতুন উপস্থিত ছিলেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

দেশের খবর : করোনাভাইরাস মোকাবিলায় এক কোটির বেশি লোককে একসঙ্গে টিকা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক। বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর হোটেল রেডিসনে জাতীয় পুষ্টি পরিষদ আয়োজিত মুজিব বর্ষ উপলক্ষে বিশেষ প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন এবং ডিজিটাল এম অ্যান্ড ই সিস্টেমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।

জাহিদ মালেক বলেন, প্রায় আড়াই কোটি লোককে আমরা ইতিমধ্যে ভ্যাকসিন দিয়ে ফেলেছি। দেড় কোটিরও বেশি মানুষকে ২ ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন মজুদ রয়েছে। ২২ সেপ্টেম্বরও চীন থেকে ৫০ লাখ ভ্যাকসিন দেশে এসেছে।

তিনি বলেন, দুইদিন আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছ থেকে আমরা প্রতিশ্রুতি পেয়েছি ফাইজারের আরো ৭১ লাখ টিকা পাওয়ার। আগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া ৬০ লাখ টিকার মধ্যে ১০ লাখ আমরা পেয়েছি। নতুন করে আরো ৭১ লক্ষ টিকা বাংলাদেশে আসবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, পাঁচ থেকে ছয় দিনের মধ্যেই আমরা বড় আকারের টিকা দানের কার্যক্রম গ্রহণ করেছি। সেখানে আমরা কয়েক দিনের মধ্যে এক কোটিরও অধিক লোককে একসঙ্গে ভ্যাকসিন দিয়ে দেবো। আর নিয়মিত ভ্যাকসিন কার্যক্রম তো চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, যারা বিদেশে কাজ করেন, তাদেরকে আমরা বিশেষ ব্যবস্থায় টিকা দিয়েছি। প্রবাসীদের জন্য ভ্যাকসিন কর্নার তৈরি করা হয়েছিলো। প্রয়োজন অনুযায়ী তাদেরকে ফাইজারের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। আজ সন্ধ্যা থেকে এয়ারপোর্টে করোনা পরীক্ষার ল্যাবও বসানো হবে।

এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে দেশের মানুষের জন্য ভেজাল মুক্ত এবং পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

বিনোদন ডেস্ক : কারাবাসের পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে কথা বলবেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। শুক্রবার এফডিসির জহির রায়হান কালার ল্যাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে ‘প্রীতিলতা’ সিনেমার টিম। এতে উপস্থিত থাকবেন আলোচিত এ চিত্রনায়িকা পরীমনি।

মাদক মামলায় ২৭ দিন কাশিমপুরের মহিলা কারাগারে ছিলেন। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে এই প্রথম কোনো সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিতে যাচ্ছেন পরীমনি। ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রথম নারী শহীদ বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার। তাকে নিয়ে নির্মিত হচ্ছে ‘প্রীতিলতা’ সিনেমা। এতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করছেন পরীমনি। মূলত সিনেমাটির বিষয় নিয়েই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

রাশিদ পলাশ পরিচালিত এই সিনেমার শুটিং এখনো বাকি রয়েছে বলে জানা গেছে। গত বছরের শেষের দিকে সিনেমাটির দৃশ্যধারণের কাজ শুরু হয়। সিনেমাটির চিত্রনাট্য ও সংলাপ রচনা করেছেন গোলাম রাব্বানী। এর পাণ্ডুলিপি উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। কস্টিউম ডিজাইনার হিসেবে রয়েছেন বিবি রাসেল।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
রোহিঙ্গা সংকট প্রশ্নে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর নিষ্ক্রিয়তায় বাংলাদেশ মর্মাহত : প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিকর খবর : ‘অতি জরুরি’ ভিত্তিতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন জোরদার করার দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এ সংকট প্রশ্নে প্রধান আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর নিষ্ক্রিয়তা বাংলাদেশকে মর্মাহত করেছে। অথচ, সীমিত সম্পদ সত্ত্বেও মানবিক দিক বিবেচনা করে বাংলাদেশ শরনার্থীদের আশ্রয় দিয়েছিল।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশনের ফাঁকে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের উচ্চ পর্যায়ের এক আলোচনায় তিনি বলেন, ‘আমি বারবার বলেছি, তারা (রোহিঙ্গারা) মিয়ানমারের নাগরিক। সুতরাং, তাদেরকে অবশ্যই নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিয়ে তাদের জন্মভূমি মিয়ানমারেই ফিরে যেতে হবে।’

শেখ হাসিনা দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, রোহিঙ্গা সংকট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতএব, এ ব্যাপারে জরুরি প্রস্তাব গ্রহণ করা প্রয়োজন এবং আমি জোরদিয়ে বলতে চাই, এক্ষেত্রে আমরা বাংলাদেশে যা কিছু করছি তা সম্পূর্ণরূপে অস্থায়ী ভিত্তিতে করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের তাদের জন্মভূমিতে ফিরে যাওয়া নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যা কিছু করা সম্ভব তা অবশ্যই করতে হবে। এদিকে, তারা নিজেরাও তাদের নিজ দেশে ফিরে যেতে চায়। একইসঙ্গে, ন্যায় বিচার এবং দেশে প্রত্যাবর্তনে ভুক্তভোগি জনগোষ্ঠীর মধ্যে দৃঢ় আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা সম্প্রদায়কে নিপীড়নের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রচারণা চালানোর ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেন।

আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেয়ার কথা রয়েছে। তাঁর এ ভাষণের পাক্কালে বাংলাদেশের পৃষ্ঠপোষকতায় ‘হাই-লেভেল সাইড ইভেন্ট অন ফরসিবলি ডিসপ্লেস মিয়ানমার ন্যাশনালস (রোহিঙ্গা) ক্রাইসিস : ইম্পারেটিভ ফর এ সাস্টেইনাবল সল্যুশন’ শীর্ষক ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ইউএজিএ’র গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ আলোচনায় এ সংকট তুলে ধরতে ঢাকার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গারা দলে দলে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার পর থেকেই এ সংকটের একটি স্থায়ী সমাধানের জন্য একেবারে ধারাবাহিকভাবে ইউএনজিএ’র অধিবেশনে তিনি সুনির্দিষ্ট বিভিন্ন প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। এ ব্যাপারে আমাদের সরকার মিয়ানমারের সাথে দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগ বজায় রেখেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আঞ্চলিক ক্ষেত্রে, আমরা চীন ও ভারতসহ প্রধান শক্তিগুলোকে এ সংকট সমাধানে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করেছি। আমরা সার্বক্ষণিকভাবে আসিয়ানকে আরো সক্রিয় রাখার চেষ্টা চালিয়েছি। বহুপাক্ষিক ক্ষেত্রে, আমরা বিশ্বেও গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দেশ ও জাতিসংঘ সংস্থাগুলোর মনোযোগ আকর্ষণ করে জাতিসংঘ প্রস্তাবের মাধ্যমে বিষয়টি আলোচনার টেবিলে ধরে রেখেছি। তবে, দুঃখজনকভাবে দুর্ভাগা, গৃহহীন হয়ে পড়া মিয়ানমারের নাগরিকদের দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য চালানো আমাদের প্রচেষ্টা এখন পর্যন্ত কোন আলোর মুখ দেখেনি।’

তিনি বলেন, আজ পর্যন্ত তাদের একজনও তাদের জন্মভূমিতে ফিরে যেতে পারেনি। বিগত চার বছর ধরে বাংলাদেশ অনেক আশা নিয়ে অপেক্ষা করে রয়েছে যে বাস্তুহারা এসব মানুষ নিরাপদে এবং মর্যদাসহকারে তাদের নিজের দেশ মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারবে। তা সত্ত্বেও, আমাদের আহ্বান অবহেলিত রয়ে গেছে এবং আমাদের প্রত্যাশা অসম্পূর্ণ রয়েছে। এ সংকটের পঞ্চম বছর চলছে। এখনো, আমরা রোহিঙ্গা সংকটের একটি স্থায়ী সমাধানের আশা রাখছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেখা দেয়া এই মানবিক সংকট সমাধান করা ছিল একটি সম্মিলিত দায়িত্ব এবং বিভিন্ন সীমান্তে এর প্রভাব পড়ছে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এ ব্যাপারে অতি দ্রুত কিছু করতে ব্যর্থ হলে আমাদের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা মহা বিপদে পড়বে। প্রত্যাবাসনের অগ্রগতির ঘাটতির কারণে হতাশা বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের অনেকে অপরাধমূলক কর্মকা-ে জড়িয়ে পড়ছে এবং তারা অতি সহজে জঙ্গিবাদী মতাদর্শেও শিকার হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকা- পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী এই সংকট সমাধানে পাঁচ দফা আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন। এক্ষেত্রে প্রথমত, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ‘আমাদের সকলের জোরালো প্রচেষ্টা’ চালানো প্রয়োজন। তিনি বলেন, দ্বিতীয়ত, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার অনিশ্চয়তা দূর করতে মিয়ানমারে রাজনৈতিক দৃশ্যপটের পরিবর্তন ঘটানো এবং এই সংকট সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার একটি সংশোধন প্রয়োজন।

শেখ হাসিনা বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষিতে আসিয়ানের জোরদার প্রচেষ্টা দেখতে চান এবং আমরা বিশ্বাস করি যে এক্ষেত্রে আসিয়ানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় তাদের পদক্ষেপ মিয়ানমারকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়ী মুক্ত দিবস উপলক্ষে আলোচনাসভা ও র‌্যালি

গণপরিবহনে ও হেঁটে চলি, ব্যক্তিগত গাড়ী সীমিত করি শ্লোগানে সাতক্ষীরায় বিশ^ ব্যক্তিগত গাড়ী মুক্ত দিবস উপলক্ষে আলোচনাসভা ও র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার উন্নয়ন মূলক প্রতিষ্ঠান মৌমাছি, মিডা,সুন্দরবন ফাউন্ডেশন, মৃত্তিকা, প্রভা,সবুজ ফাউন্ডেশনও নারীকন্ঠ’র যৌথ আয়োজনে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক চত্বর থেকে একটি র‌্যালি শুরু হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শেষ।
সকাল ১১ টায় র‌্যালির শুভ উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কাজী আরিফুর রহমান।
র‌্যালি শেষে সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনাসভায় সভাপতিত্ব করেন, মৃত্তিকার নির্বাহী পরিচালক মো: আব্দুস সালাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন, সিডিপি’র প্রকল্প সমন্বয়কারী খোকন শিকদার।
উপস্থিত ছিলেন, সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শেখ আফজাল হোসেন, মিডা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক দুলাল চন্দ্র দাস, মৌমাছি’র নির্বাহী পরিচালক সুশান্ত মল্লিক, প্রভা’র নির্বাহী পরিচালক শাম্মী আক্তার কুমকুম, নারী কন্ঠ’র ফিল্ড কোডিনেটর নজিফা খাতুন প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, এ দিবসটির উৎপত্তি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত সাংবাদিক ও লেখক ইয়ান জ্যাকবস তার দি ডেথ অ্যান্ড লাইফ অব গ্রেট আমেরিকান সিটিস বইয়ে ব্যক্তিগত গাড়ী নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে় প্রথম ধারণা দেন। এটি নগর পরিকল্পনায় দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ১৯৬২ সাল থেকে ডেনমার্কের কোপেনহেগেন শহরে সড়কে গাড়ী চল বন্ধ করে শুধুমাত্র পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। তারা এই ধারা অব্যাহত রেখেছে। এরপর ইউরোপে এই ধারণাটির প্রসার ঘটতে শুরু করে।

ব্যক্তিগত গাড়ী নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি আরও ব্যাপকতা লাভ করে ৭০ দশকে জ্বালানি সংকটের সময়। ১৯৭৪ সালে সুইজারল্যান্ডে গাড়িমুক্ত দিবস পালন করা হয়। নব্বই এর দশকে এই উদ্যোগের আরও প্রসার ঘটে। যেমন বিশ্বব্যাপী কারফ্রি সিটি নেটওয়ার্ক গড়ে় ওঠে। এরপর ১৯৯৮ সালের ২২ সেপ্টেম্বর ফ্রান্সে জাতীয়ভাবে ৩৪টি শহরে গাড়িমুক্ত দিবস পালিত হয়।

‘যান্ত্রিক বাহনকে নিয়ন্ত্রণ করা গেলে যে বায়ু দূষণরোধ করা সম্ভব, তা এ সময় প্রতিয়মান হয়েছে। এজন্যই সারাবিশ্বে এখন পরিবেশবান্ধব নগর যাতায়াতকে প্রধান্য দিয়ে হাঁটা ও সাইকেলকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ঢাকা শহরে স্বতঃস্ফুর্তভাবে ভূমির মিশ্র ব্যবহার হচ্ছে। পরিকল্পিতভাবে এই মিশ্র এলাকাগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার মধ্য দিয়ে শৃঙ্খলা ও বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। ঢাকা শহরে ভূমির এই মিশ্র ব্যবহার স্বল্প দূরত্বে মানুষের প্রয়োজন মেটাতে সাহায্য করছে। বর্তমানে ঢাকায় প্রায় ৮০ শতাংশ যাতায়াত ৫ কিমি এর মধ্যে, যার অর্ধেক যাতায়াত আবার ২ কিমি এর মধ্যে হয়ে থাকে। এই স্বল্প দূরত্বের যাতায়াতের জন্য সাইকেলে ও হেঁটে নিরাপদে চলাচলের পরিবেশ তৈরি করা এবং অধিক দূরত্বের জন্য গণপরিবহন নিশ্চিত করা গেলে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।’ প্রেস বিজ্ঞপ্তি

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
পানি থৈ থৈ সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পরিষদ চত্বর, ভোগান্তিতে জনসাধরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক : গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে সাতক্ষীরার নিন্মাঞ্চল। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে জেলার লক্ষ-লক্ষ মানুষ। পানিবন্দি এসব মানুষ জলবদ্ধতার কবল থেকে মুক্তির জন্য আবেদন নিয়ে যে উপজেলা পরিষদে আসবেন সে উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরেও পানিতে নিমজ্জিত হয়ে গেছে। ফলে ভোগান্তির শেষ নেই উপজেলাবাসীর।

সরেজমিনে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, সমগ্র উপজেলা চত্ত্বর পানিতে থইথই করছে। বৃষ্টির পানি আর নালা-নর্দমার নোংরা পানি মিলেমিশে একাকার হয়ে যাচ্ছেতাই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলায় প্রবেশের প্রধান পথেই হাঁটু পানি। উপজেলা চত্ত্বরে থাকা প্রায় দুই ডজন সরকারি অফিসে আসা সেবাপ্রার্থীরা কোনো রকমে পানি-কাদা মেখে গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছেন। কেউ কেউ পোশাক গুটিয়ে জুতা হাতে নিয়ে কোনো রকমে গন্তব্যস্থলে পৌঁছাচ্ছেন তো কেউ উপজেলায় প্রবেশের সামান্য পথটুকু পাড়ি দিতে ভ্যান অথবা অন্য যানবহনের সহযোগিতা নিচ্ছেন। তবে সব থেকে বেশি বিপাকে পড়ছেন নারী-শিশুরা। পুরুষেরা কোনো রকমে পোষাক গুটিয়ে গন্তব্যে পৌঁছালেও নারীরা তা করতে পারছেন না।

ছোট্ট সন্তানকে টিকা দিতে উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে অবস্থিত আনন্দ টিকাকেন্দ্রে এসেছেন পাপিয়া নামের এক গৃহবধূ। উপজেলা পরিষদের প্রবেশপথে এসেই পড়েন বিপদে। সন্তানকে নিয়ে কোনোরকমে পানি-কাদা মেখে টিকা কেন্দ্রে পৌঁছালেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গণমাধ্যমের কাছে।

তিনি বলেন, বাচ্চাকে টিকা দিতে নিয়ে এসেছি। এসে দেখি উপজেলায় প্রবেশের পথই পানিতে তলিয়ে গেছে। কোনোরকমে ভিজে-পুড়ে রাস্তা অতিক্রম করলাম। টিকাকেন্দ্র পর্যন্ত আসতেই খুব কষ্ট হয়েছে। এখন এই নোংরা পানি মেখে আবার কোনো রোগবালাই হয় কি-না সে চিন্তায় আছি।

উপজেলা পরিষদে জন্মনিবন্ধন ডিজিটাল করতে আসা উত্তম সাহা নামে এক ব্যক্তি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কাগজপত্র নিয়ে উপজেলায় এসেছি জন্মনিবন্ধন ডিজিটাল করতে। আগে দুইদিন এসেছি কাজ সম্পন্ন হয়নি, তাই আজ আবার এলাম। এসে অস্বস্তিকর পরিবেশে পড়েছি। হাঁটু পানিতে পোষাক গুটিয়ে, জুতা হাতে নিয়ে কোনোরকমে উপজেলায় পৌঁছালাম।

এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অবিলম্বে উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরের পানি নিষ্কাশনের দাবি জানান।

উপজেলা চত্ত্বরে পানি জমে থাকার বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা-তুজ-জোহরা বলেন, উপজেলা পরিষদের সামনের রাস্তাটা অনেক নিচু এ জন্য তলিয়ে গেছে। পেছনের রাস্তাটা উঁচু আছে, সবাই ওই পথ দিয়ে আসতে পারছে। সেবাপ্রার্থীদের কোনো অসুবিধা হচ্ছে না। তারপরও আমরা সম্মুখ পথের পানিটা পাম্প করে প্রাণসায়র খালে ফেলা যায় কি-না দেখছি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest