সর্বশেষ সংবাদ-
সাতক্ষীরায় পৌর ও সদর উপজেলা তাঁতীদল এর সাংগঠনিক আলোচনা সভাকলারোয়া রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি মোস্তাক- সম্পাদক ফারুকীসাতক্ষীরা সদরের ৫ নং শিবপুর ইউনিয়নে কৃষক দলের কর্মীসভা অনুষ্ঠিতশ্যামনগরে চেয়ারম্যান প্রার্থী গাজী শাহ আলমের ব্যানার কেটে নষ্ট করার অভিযোগসাতক্ষীরা- খুলনা মহাসড়কের আঠারো মাইলে ঝরলো ৬ প্রাণতালা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ফেসবুক পোস্ট ঘিরে বিতর্ক, নিন্দা সাংবাদিকদেরইছামতীতে নেই সেই মিলনমেলা : শান্তিতেই শেষ দেবহাটার বিজয়া দশমীদেবহাটায় দুর্গাপূজার নবমীতে বিভিন্ন মণ্ডপ পরিদর্শনে পুলিশ সুপার আশরাফুল আলমআশাশুনিতে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজসাতক্ষীরায় বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করলেন সাবেক মেয়র চিশতি

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির নেতৃত্বে মিছিল

নিজস্ব প্রতিনিধি : দীর্ঘদিন করোনা পরিস্থিতিতে থেমে ছিল সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। রোববার ১২ সেপ্টেম্বর সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আংশিক ভাবে খুলেছে। দীর্ঘদিন পর সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা কে ধন্যবাদ জানিয়ে আনন্দ মিছিল করেন সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এস এম আশিকুর রহমান।

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ ক্যাম্পাস ছাত্রলীগের জয়ধ্বনি তে উৎসবমুখর। সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এস এম আশিকুর রহমান বলেন সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ সহ সাতক্ষীরায় যত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে সকল শিক্ষার্থীদের পাশে সবসময় থাকব যেকোন ধরণের সমস্যায়। এসো নবীন ভয় নেই, ছাত্রলীগে সন্ত্রাস নেই।

এসময় কলেজের অধ্যক্ষ, শিক্ষার্থী এবং কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে কলেজের সার্বিক খোঁজ খবর নেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মাহির গোপন বিয়ের গুঞ্জন

বিনোদন সংবাদ : আলোচনায় ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি। সিনে পর্দা নয়, আলোচনায় তাঁর ব্যক্তিগত জীবন। অন্তর্জালে জোর গুঞ্জন, ফের বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন এ চিত্রনায়িকা। সেই গুঞ্জনে ঘি ঢালছে রাকিব সরকার নামের গাড়ি ব্যবসায়ী এবং গাজীপুরের রাজনীতিকের সঙ্গে মাহির বেশ কিছু ছবি ও মন্তব্য।

আলোচনার শুরু চলতি বছরের জুনে। বিচ্ছেদের খবর জানানোর কয়েক দিন পরেই ১১ জুন রাতে মেহেদিরাঙা হাতে লাল কাতান শাড়িতে মাহি ‘আলহামদুলিল্লাহ’ ক্যাপশন জুড়ে সামাজিক পাতায় ছবি আপলোড করেন। সে সময় গণমাধ্যমে দ্বিতীয় বিয়ের খবর প্রকাশিত হলে মাহির ভাষ্য ছিল এমন, ‘এ সব গুঞ্জন। রাকিব ও আমি ভালো বন্ধু। আমাদের একটা সার্কেল তৈরি হয়েছে। আরেকটা অনুরোধ, এসব বাজে কথা বা গুঞ্জন ছড়াবেন না। আমি ও আমার বন্ধুরা এতে খুব বিব্রত হই।’

এর পর সব চুপচাপ। সম্প্রতি মাহি ফেসবুকে জানান, ১৩ সেপ্টেম্বর ভক্ত ও দর্শককে সারপ্রাইজ দেবেন। সেই সারপ্রাইজ কী, সেই আলোচনায় উঠে আসে রাকিব সরকারের সঙ্গে বেশ কিছু ছবি ও বিয়ে প্রসঙ্গ। দেশের একাধিক গণমাধ্যমে খবরও প্রকাশিত হয়েছে বিয়ের খবর দিয়ে মাহি সারপ্রাইজ দিচ্ছেন কি না, তা নিয়ে।

এ সব আলোচনার মাঝে রোববার সকালে মাহিয়া মাহির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কুশল বিনিময়ের পর বিয়ের প্রসঙ্গ তুললে মাহি জানান, তিনি গাড়ি পার্ক করছেন। সেটা করে নিজেই এই প্রতিবেদকের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মাহির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও সাড়া দেননি তিনি।

এদিকে, যাঁকে ঘিরে মাহিকে নিয়ে বিয়ের গুঞ্জন, সেই রাকিব সরকারের ফেসবুক আইডি ঘুরে মাহির সঙ্গে একাধিক ছবি দেখা গেছে। যদিও বেশির ভাগ ছবিতে মাহিকে সরাসরি বা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না। একটি স্ট্যাটাসে রাকিব সরকার মাহির ছবির নিচে মন্তব্য করেছেন, ‘কে তুমি?’ মাহি উত্তরে লিখেছেন, ‘বউ’।

এ সব প্রসঙ্গে রাকিব সরকারের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও সাড়া দেননি তিনি।

চলতি বছরের ২৩ মে স্বামী পারভেজ মাহমুদ অপুর সঙ্গে পাঁচ বছরের সংসারজীবনের ইতি টানছেন বলে ফেসবুকে জানান মাহি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
চলন্ত লঞ্চ থেকে চারটি শিশুকে নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক : পুলিশ বলছে, ঢাকাগামী একটি লঞ্চ থেকে চারটি শিশুকে ছুঁড়ে মেঘনা নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে মুন্সীগঞ্জ লঞ্চঘাটের কাছে।

এদের মধ্যে দুটি শিশুকে পুলিশই নদী থেকে উদ্ধার করেছে। পরে তাদেরকে তাদের অভিভাবকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের সাথে থাকা আরো দুটি শিশুও উদ্ধার পেয়েছে বলেও পুলিশ জানতে পেরেছে বলে জানাচ্ছে।

নৌপুলিশ বলছেন, তারা লঞ্চটিকে ও এটির ক্রুদের আটকের জন্য অভিযান চালাচ্ছে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অবশ্য পুলিশ লঞ্চটির কোন হদিস পায়নি বলে জানিয়েছে।

গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রইছ উদ্দিন বলেন, শনিবার মুন্সীগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল থেকে কিছু দূরে মেঘনা নদীর মাঝখান থেকে ভাসমান অবস্থায় দুই শিশুকে উদ্ধার করেন তিনি ও তার সহকর্মীরা।

তাদেরকে একটি লঞ্চ থেকে ছুঁড়ে পানিতে ফেলে দেয়া হয় বলে শিশুদুটির বক্তব্যের বরাত দিয়ে বলেন মি.উদ্দিন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় বাস-ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষ : আহত ১০

নিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরা খুলনা মহাসড়কের তালা উপজেলার পাটকেলঘাটায় বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের ৬ জনকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল ও অন্যদের বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
রোববার দুপুর ১২টায় পাটকেলঘাটা পেট্রোল পাম্পের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। বাসটি খুলনা অভিমুখে যাচ্ছিল। বিপরীত দিক থেকে আসা ট্রাকের সাথে তার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনার পরপরই পুরো সড়কে দুই পাশে বিপলু সংখ্যক গাড়ি আটকা পড়ে। খুলনা থেকে সাতক্ষীরার দিকে আসা কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক সহ তার গাড়িবহর এই জটে আটকে যায়। পরে পুলিশ ও ফায়ার ব্রিগেডের সহায়তায় যানবাহন চলাচল শুরু করে। দুর্ঘটনায় আহত ৬ জনের নাম পাওয়া গেছে। এরা হলেন নির্মল বিশ^াস(৪৫), মজিদ গাজী(২৮), লুৎফর রহমান, দীপ্ত সাহা(২৬), রেজাউল গাজী(৫৫), জাহাঙ্গীর(৩৫)।
পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হাসান জানান, এখন যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। আহতদের সাতক্ষীরা সদর হাসপাতলে ভর্তি করা হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ভোমরা সীমান্তের ঘোজাডাঙ্গায় বিজিবি’র চাপে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিল বিএসএফ

নিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্তের বিপরীতে ভারতের ঘোজাডাঙ্গায় বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) নির্মিত অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ করে দিয়েছে বিজিবি। আন্তর্জাতিক সীমানা আইন লঙ্ঘন করে শুন্য লাইন থেকে মাত্র ২৫ গজ দুরে বিএসএফ’র চৌকি নির্মিত হচ্ছিল। প্রতিবাদের পরেও নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখেনি বিএসএফ। পরে বিজিবি’র কড়া প্রতিক্রিয়ায় স্থাপনার সমস্ত মালামাল সরিয়ে নিতে বাধ্য হয় তারা।
ভোমরা বিজিবি’র বিওপি কমান্ডার সুবেদার হারুণ-অর-রশিদ জানান,শনিবার সকাল ৯টার দিকে শুন্য লাইনের কাছেই নির্মাণ করা হচ্ছিল একটি স্থাপনা। স্থাপনাটি বিএসএফ’র প্রহরা চৌকি টাইপের হবে। যদিও বৈঠকে তারা জানিয়েছে,স্থানীয়রা ফুটবল খেলার মাঠের পাশে গাড়ি পার্কিংয়ের স্থাপনা নির্মাণ করছিল।

সুবেদার হারুণ আরও জানান, ঘোজাডাঙ্গা বিএসএফ’র সহকারি কমিশনার শহিদুল হকের সাথে তিনি বৈঠক করেছেন। সকাল এগারটার বৈঠকে এসি শহিদুল তাকে আশ^স্ত করেছিলেন,দ্রুতই তারা স্থাপনা সরিয়ে নেবেন। তবে তা না নেওয়ায় আমরা অস্ত্র তাক করে পজিশনে চলে যাই। পরবর্তীতে দুপুর একটার দিকে তারা স্থাপনা ভেঙে সব মালামাল সরিয়ে নেয়।
সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি’র অধিনায়ক লে. কর্নেল আল মাহমুদ জানান,সকাল ৯টার দিকে তারা নির্মাণ কাজ শুরু করে। জানতে পেরে আমরা সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকি। পরে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে যোগাযোগ করলে বিজিবিকে জানানো হয়,খেলার মাঠে পার্কিং স্থাপনা নির্মাণ করছে স্থানীয়রা। তবে এগারটার মধ্যে স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার কথা বললেও তারা কথা রাখেননি। পরে ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানানোর পর তারা নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়। পরে স্থাপনার সমগ্র সামগ্রী সরিয়ে ফেলতে বাধ্য হয় তারা। #

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

রাজনীতির খবর : বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিত করে দেওয়া মুক্তির মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ছে। দণ্ড স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানোর এই মতামত দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। খালেদা জিয়ার পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ প্রস্তাব করেছিল।

শনিবার রাতে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী আনিসুল হক এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী গণমাধ্যমকে বলেন, এ বিষয়ে আমরা আমাদের মতামত দিয়ে দিয়েছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য মতামতসহ প্রস্তাব আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছি। আমরা ওনার (খালেদা জিয়া) দণ্ড আরও ছয় মাস স্থগিতের জন্য মতামত দিয়েছি।

আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর তার দণ্ড স্থগিতের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এই অবস্থায় খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য মুক্তি চেয়ে চলতি মাসের শুরুর দিকে তার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে মতামতের জন্য আবেদনটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে ৫৪৪ দিন পর

শিক্ষা ডেস্ক : আবার শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হচ্ছে সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। স্বাস্থ্যবিধি মেনে আজ ১২ সেপ্টেম্বর খুলছে দেশের স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা। ৫৪৪ দিন পর শিক্ষার্থীরা ফিরছে ক্লাসে। প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় সোয়া তিন কোটি ছাত্রছাত্রী আছে। সরাসরি পাঠদানের লক্ষ্যে বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে বন্যা কবলিত এলাকা এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক প্রতিষ্ঠান এখনও পুরোপুরি প্রস্তুত হয়নি।

প্রতিষ্ঠান খোলার ক্ষেত্রে করোনাসংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্দেশিকা অনুসরণ করা হচ্ছে। পাঠদান চলাকালে স্বাস্থ্য সুরক্ষাসংক্রান্ত নিয়মাবলি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি দুই স্তরে তা মনিটরিং করা হবে। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেই দৈনিক আসবে আলাদা দুটি মনিটরিং প্রতিবেদন। এছাড়া শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে অন্তত ৮০ শতাংশকে অন্তত এক ডোজ টিকা নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হয়। শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় শুরুর সার্বিক কাজ তদারকির জন্য ছুটির দিনেও আজ শিক্ষা মন্ত্রণালয় খোলা রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে প্রায় ৬৬ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। এগুলো অভিন্ন ক্লাস রুটিনে চলবে। প্রায় অর্ধলক্ষ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে। এগুলো অবশ্য নিজ নিজ রুটিন অনুসরণ করবে। এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য আলাদাভাবে দফায় দফায় নির্দেশিকা পাঠিয়েছে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। তাতে শিক্ষার্থী, প্রতিষ্ঠান প্রধান, সাধারণ শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটিসহ সংশ্লিষ্ট ৯ স্তরের জন্য আলাদা করণীয় উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত অনুাযায়ী, ১০টি মূলনীতি অনুসরণ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালনা করতে বলা হয়েছে। আর দৈনন্দিন লেখাপড়া ও মূল্যায়নে অনুসরণ করা হবে ৮টি নীতি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন শুক্রবার বলেন, সরকারের কাছে মূল অগ্রাধিকার ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা। সেটিকে সামনে রেখে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় পুনরায় লেখাপড়া শুরুর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। করোনাসংক্রমণ থেকে সুরক্ষায় নির্দেশিত পন্থায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন, বসানোর ক্ষেত্রে শারীরিক দূরত্ব ইত্যাদি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে। এ সংক্রান্ত বিভিন্ন নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। ৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রস্তুত করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি নির্দেশনা অনুসৃত হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিতে শিক্ষার মাঠপ্রশাসন কাজ করছে। কেন্দ্রীয়ভাবেও সবকিছু তদারকি করা হচ্ছে। আমরা আশা করছি, সবাই প্রস্তুত। এরপরও কাল (আজ) সবশেষ পরিদর্শন করবেন মাঠপর্যায়ের শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

৩ সেপ্টেম্বর শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেন। ওই ঘোষণায় ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে এক প্রকার হিল্লোল বয়ে গেছে। প্রায় সব শিক্ষার্থী অপেক্ষা করছে কখন স্কুলে যাবে। পাশাপাশি গত কয়েকদিন ধরে দেখা গেছে তাদের প্রস্তুতি। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার বাজার ও বিপণিবিতানগুলোতে শিক্ষাসামগ্রী বিশেষ করে জুতা-মোজা, ব্যাগ এবং স্কুল ড্রেস কিনতে দেখা গেছে। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানাতে শিক্ষকরাও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। শিক্ষকরা এ কদিন ব্যস্ত ছিলেন পুনরায় শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি নিয়ে। একদিকে তারা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালান। আরেকদিকে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক রুটিন তৈরির পাশাপাশি ক্লাসরুমে শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করে বসানো, হাত ধোয়া, অসুস্থ হলে বিশেষ কক্ষে পরিচর্যা ইত্যাদি প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক কামরুন নাহার বলেন, সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক ওয়াশ ব্লক প্রস্তুত, ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন, বসানোর ব্যবস্থাসহ সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া সম্পন্ন হয়েছে। আমরা ছাত্রছাত্রীদের রোববার আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে বরণ করে নেব। আর উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ জহুরা বেগম বলেন, শ্রেণি কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্যে আমরা ইতোমধ্যে রুটিন তৈরি করেছি। শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেওয়া হবে। আমাদের বেশিরভাগ শিক্ষক ও কর্মচারী টিকা নিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের পরিচ্ছন্নতার সুবিধার্থে প্রতিটি ভবনে ওয়াশ ব্লকে আমরা লিকুইড সাবান রাখার ব্যবস্থা করেছি। এছাড়া প্রতিটি ভবনের প্রবেশদ্বারে বেসিন ও সাবান থাকবে। স্কুলের তিনটি গেটকে আলাদাভাবে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য ব্যবহার করা হবে। অভিভাবকরা গেটের অদূরে অবস্থান করবেন। তাদের জন্য সীমানা নির্দিষ্ট করা হয়েছে। ছোট ক্লাসের ছাত্রছাত্রীদের সেখান থেকে শিক্ষকরা গ্রহণ করবেন। এছাড়া স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ে অভিভাবক-শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে ব্যানার ও ফেস্টুন তৈরি করা হয়েছে।

দশ বিষয় বাধ্যতামূলক : চেকলিস্টের মাধ্যমে দৈনিক তদারকি করা হবে প্রতিষ্ঠান, এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন পাঠাতে হবে ঢাকায়; শিক্ষার্থীদের দৈনিক সচেতন করা হবে; বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক ব্যবহার; হাত ধোয়ার ব্যবস্থা; দৈনিক প্রত্যেকের শরীরের তাপমাত্রা যাচাই- এজন্য গেটে ৩০ মিনিট সময় বরাদ্দ; প্রয়োজনে পিসিআর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা; লক্ষণ থাকলে শিক্ষার্থীকে অনুপস্থিত হিসাবে বিবেচনা না করা; স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে ক্লাসরুমে বসানো; স্কুলে সমাবেশ না করা, তবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাসরুমে যার যার সিটে রেখে হালকা শারীরিক কসরত; পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা; হোস্টেলে বিশেষ নির্দেশনা অনুসরণ।

পাঠ ও মূল্যায়ন নীতি : পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্কুল খোলার পর এসএসসি ও এইচএসসি এবং পিইসি পরীক্ষার্থীদের ক্লাস সপ্তাহে ৬ দিন হবে। প্রথম থেকে চতুর্থ এবং ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির ক্লাস হবে সপ্তাহে একদিন। এবারের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হলে নবম শ্রেণির পাঠদানের দিন সংখ্যা বাড়বে। আর পরিস্থিতি বিবেচনায় অন্য শ্রেণির পাঠদানের দিন সংখ্যাও বাড়বে। পাশাপাশি পরিস্থিতি বিবেচনায় জেএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সিদ্ধান্ত হবে। একই নীতি হবে পিইসি পরীক্ষার ব্যাপারে। প্রাক-প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থীদের সশরীরে ক্লাস আপাতত বন্ধ থাকবে। কোনো শিক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকলে সেই তালিকা তৈরির পাশাপাশি এর কারণ অনুসন্ধান করতে হবে। শিখন ফল ঘাটতি চিহ্নিত ও তা পূরণে ব্যবস্থা গ্রহণ।

দৈনিক মনিটরিং : দুই স্তরে হবে মনিটরিং। প্রথম স্তরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানই সবদিকে নজর রাখবেন। যে কোনো সমস্যাসহ সার্বিক দিক তিনি দৈনিকই বেলা ৩টার মধ্যে মাউশিকে জানাবেন। একইভাবে উপজেলা ও থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তারাও মনিটরিং করে প্রতিবেদন প্রতিদিন বিকাল ৪টার মধ্যে মাউশিতে জানাবেন।

প্রাথমিকে মৌলিক রুটিন : প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর স্কুলগুলোতে অনুসরণের জন্য মৌলিক রুটিন তৈরি করেছে। এটি ইতোমধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে দেখা গেছে, প্রতিদিন পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস হবে। সঙ্গে একেক দিন এক একটি শ্রেণির ক্লাস হবে। যেসব স্কুলে শিক্ষার্থী বেশি সেখানে প্রয়োজনে দুই শিফটে ক্লাস নেওয়া যাবে। প্রথম শিফট সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে শুরু হয়ে ৩টা ঘণ্টা চলবে। দুপুরে ৩০ মিনিটের বিরতি থাকবে। এরপর ক্লাস শুরু হয়ে বেলা ৩টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিনই ক্লাস শুরুর আগে ১০ মিনিট করে কোভিড-১৯ স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতনতামূলক আলোচনা করতে হবে। এর আগে ৩০ মিনিট থাকবে শিক্ষার্থীদের স্কুলে প্রবেশের জন্য। একসঙ্গে প্রবেশ ও বের হওয়া যাবে না। বুধ ও বৃহস্পতিবার শুধু পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা স্কুলে যাবে। অন্য ৪ দিন তাদের সঙ্গে আরেকটি শ্রেণির ক্লাস হবে। সে ক্ষেত্রে শনিবার চতুর্থ, রোববার তৃতীয়, সোমবার দ্বিতীয় এবং মঙ্গলবার প্রথম শ্রেণির ক্লাস হবে। এ চার শ্রেণির শুধু বাংলা, গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে পাঠদান হবে। আর পঞ্চম শ্রেণির সব বিষয়েই পাঠদান চলবে।

‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর’ (এসওপি) : শিক্ষার উভয় মন্ত্রণালয়ই অনুসরণের জন্য নির্দেশিকা পাঠিয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। এর মধ্যে মাধ্যমিক স্তরের নির্দেশিকায় সংশ্লিষ্টদের ৯ ভাগ করা হয়েছে। এরা হলেন- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান, শিক্ষার্থী, সাধারণ শিক্ষক, অভিভাবক, প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটি এবং উপজেলা, জেলা ও আঞ্চলিক প্রশাসন।

আর প্রাথমিক স্তরের নির্দেশিকায় বিদ্যালয় প্রস্তুতকরণ, স্বাস্থ্য তথ্য সংগ্রহ ও মনিটরিং, স্কুলে আগমন ও বহির্গমন এবং আসন ব্যবস্থা ও শ্রেণি কার্যক্রমসংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে শারীরিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধিসংক্রান্ত নির্দেশনার পাশাপাশি বলা হয়, করোনা পরিস্থিতির কারণে প্রয়োজনে কোনো উপজেলায় বিপৎসীমা অতিক্রম করলে উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি সঙ্গে সঙ্গে সেখানকার পাঠদান সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে বিষয়টি কমিটি জেলা প্রশাসন ও ডিপিইকে অবহিত করবে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্টরা টিকা নেবেন। তাদের পরিবারের সদস্যদেরও উৎসাহিত করতে হবে।

এদিকে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সারা দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে শেষ মুহূর্তের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে। শহরাঞ্চলের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। তবে প্রত্যন্ত এলাকার অনেক স্কুল-কলেজে শুক্রবারও ধোয়ামোছার কাজ করতে দেখা গেছে। কোনো কোনো স্কুলের সামনে এখনও আগাছা ও জলাবদ্ধতা দেখা যায়।

বরিশাল বিভাগে তিন শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন শিক্ষক ও অভিভাবকরা। খুলনায় ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় আটটি বিদ্যালয়ের ক্লাস হবে পার্শ্ববর্তী প্রতিষ্ঠানে। চট্টগ্রাম বিভাগে সাড়ে ১১ হাজার বিদ্যালয় পাঠদানের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া যশোরে প্রায় আড়াই হাজার প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বুধহাটায় কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণে প্রভাবশালীদের বাঁধা!

নিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার ২নং বুধহাটা ইউনিয়নের ‘শেখ আব্দুস সোবহান কমিউনিটি ক্লিনিক’ নির্মাণে বাধা দিচ্ছেন স্থানীয় প্রভাবশালী একটি পরিবার।

জানা গেছে, ওই স্থানে গ্রামীণ দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্য সেবার জন্য সাংবাদিক ড. শেখ মেহেদী হাসানের উদ্যোগে ২৮ জুলাই ২০২০ তারিখে ক্লিনিক প্রতিষ্ঠার সরকারি অনুমোদন পায়। চলতি বছর ১৬ আগস্ট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ক্লিনিকের জন্য দানকৃত জমির দাতা চিহ্নিত করার সময় বেউলা গ্রামের প্রভাবশালী কার্তিক মুখার্জির পরিবারের সদস্য সৃষ্টিধর ওরফে সুমন মুখার্জি (বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন সাতক্ষীরা জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক) ও পয়াসর মুখার্জি তাতে বাধা দেন।

মি. মুখার্জি তার প্রতিবেশি মৃত বলাই কৃষ্ণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলে সুকুমার ব্যানার্জির সমস্ত সম্পত্তি নিয়ে সাতক্ষীরা বিজ্ঞ যুগ্ম জজ আদালত-২ এ দেওয়ানি মামলা করেছেন।

সূত্র জানায়, ক্লিনিকের জন্য দানকৃত জমি ওই প্রতিবেশির কাছ থেকে ১৯৯৬ সালে কেনা। জমির দলিল, এসএ রেকর্ড, বিএস রেকর্ড, খাজনা পরিশোধের সব বৈধ কাগজপত্র আছে। মোট ৩৩শতাংশ জমির পশ্চিম পাশে কিয়ামুদ্দীন শেখ ও তাঁর স্ত্রী ছায়রা বিবির কবর আছে।

কার্তিক মুখার্জি সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডা. মো. হুসাইন শাফায়াত ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুদেষ্ণা সরকার বরাবর ‘অবৈধভাবে কমিউিনিটি ক্লিনিক নির্মাণ প্রসঙ্গে’ শিরোনামে একটি লিখিত আবেদন করেছেন। জনস্বার্থবিরোধী এ আবেদনপত্রের তদবির ও তদারকি করেন তার পুত্র সুমন মুখার্জি ও কন্যা চৈতালী মুখার্জি।

এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সিভিল সার্জন ২৯ নভেম্বর ২০২০-এ সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং সাব-রেজিস্ট্রার, আশাশুনির কাছে সংশ্লিষ্ট জমির বৈধতা যাচাইয়ের জন্য চিঠি দেন। উভয় অফিস দানকৃত জমির বৈধতা নিশ্চিত করে। সাব-রেজিস্ট্রার অফিস ৭ ডিসেম্বর ২০২০ (স্মারক নং ৪৫১) এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ‘উপরিউক্ত বিষয় ও সূত্রোক্ত স্মারকপত্রের প্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, সাব-রেজিস্ট্রার অফিস আশাশুনি, সাতক্ষীরার ক্রমিক নং-১৮৯৯ বহি নং-১ দলিল নং ১৮৯৮ দানপত্র দলিলের গ্রহীতা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে মাননীয় সচিব স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় বুধহাটা ইউনিয়নের বেউলা গ্রামের শেখপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিক, উপজেলা আশাশুনি, জেলা সাতক্ষীরা দানপত্র দাতা-১. মো. ছালাম শেখ, ২. আকিমুদ্দীন শেখ, উভয় পিতা মৃতু কিয়ামুদ্দীন শেখ মাতার নাম মৃতঃ ছায়রা বিবি সর্ব সাং বেউলা, উপজেলা- আশাশুনি, জেলা-সাতক্ষীরা মৌজা-বেউলা, জেএলনং ৫৫, হাল ৩১ নং এসএ ৮৫৫ নং খতিয়ানের রেকর্ডীয় মালিক বলাই কৃষ্ণ বন্দ্যোপাধ্যায় এর নিকট হইতে ০৮/০৬/১৯৯৬ খ্রিঃ তারিখ অত্রাফিসের ২৩২৭ নং রেজিস্ট্রিকৃত কোবলা দলিলমূলে দাতাদ্বয়ের পিতা কেয়ামুদ্দীন শেখ ও মাতা ছায়রা বিবি একত্রে ৩৩ শতক জমি খরিদ করিয়া বর্তমান জরিপে চূড়ান্ত প্রকাশিত বিএস ১২৮১নং খতিয়ানে ১৮১৭ দাগে বাড়ি ৮ শতক রেকর্ড সৃষ্টি করিয়া দাখিলা প্রাপ্ত হন। তৎপর তাহাদের মৃত্যান্তে চেয়ারম্যান কর্তৃক ওয়ারেশান সার্টিফিকেট হিসাবে পৈত্রিক ও মাতৃক ওয়ারেশসূত্রে প্রাপ্ত হইয়া দলিল লেখক কৃষ্ণপদ মন্ডল সনদ নং ১০/২০১৯ কর্তৃক লিখিত ও শেখ মিজানুর রহমান পিতা বদরউদ্দীন দ্বারা শনাক্তকৃত হইয়া গ্রামবাসীর সুচিকিৎসা পাওয়ার সুবিধার্থে দাতাদ্বয় উক্ত শেখপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিক বরাবর ৮ শতক জমি দান করেন।’

সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডা. মো. হুসাইন শাফায়াত বলেন, কাগজপত্র অনুযায়ী শেখ আব্দুস সোবহান কমিউনিটি ক্লিনিকের নামে প্রকৃত মালিকরাই ৮শতক জমি দান করেছেন। জমিটি বৈধ। অকারণে আদালতে একটি মামলা করায় ক্লিনিক প্রতিষ্ঠায় সমস্যা দেখা দিয়েছে।

অন্যদিকে কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণে বাধা দেওয়ায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয়রা বলছেন, সিভিল সার্জনের তদন্ত প্রতিবেদনে জমির বৈধতা নিশ্চিত হয়েছে। তাহলে কার প্রশ্রয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ১০টি বিশেষ উন্নয়ন উদ্যোগের অন্যতম কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণে বাঁধা দেওয়া, তারা এর প্রতিকার চায়। ষড়যন্ত্রমূলক একটি মামলায় জন্য দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্য সেবার মতো উন্নয়ন প্রকল্প বন্ধ হতে পারে না। এজন্য আদালতের অনুগ্রহ হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

এদিকে, একটি বিশ^স্ত সূত্র জানিয়েছে, মি. মুখার্জির বাড়িতে ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১ গভীর রাতে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত-শিবির এবং নাশকতা মামলার আসামিদের নিয়ে এক সভা হয়। ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন আশাশুনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলনে শীর্ষ পদ পাওয়া এক নেতাসহ জামায়াতের অর্ধশত নেতাকর্মী। বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের নাম ভাঙিয়ে তারা ধারাবাহিকভাবে এসব অপকর্ম করছেন।

ইতোপূর্বে বেউলা শ্যামা মন্দিরের জমির দলিল জাল করে স্থানীয় জোবায়ের-এর কাছে বিক্রির চেষ্টা করেন। এজন্য মন্দিরের পুরোহিত পদ থেকে তাকে অব্যহতি দেওয়া হয়। এসব নিয়ে জানতে চাইলে কার্তিক মুখার্জি বলেন, উক্ত জমি নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন। মামলার রায় যাদের পক্ষে যাবে নিয়মানুযায়ী তারাই জমির প্রকৃত মালিক। এসব নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে অনীহা প্রকাশ করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest